০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাতকে ভুয়া এনজিও অফিসে তালা: কাগজপত্র জব্ধ

  • Update Time : ০৭:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে হাসি খুশি ও ন্যাশনাল কমার্স এন্ড কনসালটেন্ট এর নামে ভুয়া একটি এনজিও  প্রতিষ্টান সিলেট বিভাগে চারটি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৮শতাধিক গ্রামে গ্রামে মসজিদ মন্দিরে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগের নামে স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে এ সুত্রে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ চারটি জেলার বিভিন্ন উপজেলার নাগরিকরা আবেদন পড়েছে প্রায় ২হাজারের বেশী।

 

 

শুক্রবার সকালে ছাতক উপজেলার স্থানীয়
গোবিন্দগঞ্জ নতুনবাজারে শাহীন মসলা মিলের উপরের ২য় তলায় সকাল ৮টা সময় এ
ঘটনা ঘটে। সকাল ৮টা থেকে নিয়োগের পরীক্ষা অংশ গ্রহনকারিদের কাছ থেকে এনজিও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রংপুর জেলার শাহীন আকন্দ নামে এক প্রতারক স্কুলের শিক্ষক নিয়োগের নামে ৫শতাধিক পুরুষ মহিলাদের কাছে প্রায় আড়াই
লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে অফিস ছেড়ে আত্মগোপনে পালিয়ে গেছে। এ নিয়োগের ঘটনাটি খরর পেয়ে ছাতক উপজেলা নিবার্হী অফিসার গোলাম কবির আহমদ গোবিন্দগঞ্জ অফিসে এসে ভুয়া এনজিও প্রতিষ্টানে কাগজপত্র অফিসের মালামালগুলো জব্দ করে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়ার নিদের্শ প্রদান করেন পুলিশকে। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ভুয়া এনজিও প্রতিষ্টানে নিয়োগপত্রের যাবতীয় কাগজপত্রাদি, কম্পিউটার, প্রিন্টার, চেয়ার, টেবিলসহ মালামাল জব্ধ করে। ন্যাশনাল কমার্স এন্ড কনসালটেন্ট এর নামে ভুয়া একটি
এনজিও চাকরি দেয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করছে চক্র। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও ভুয়া নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চক্রটি সারা দেশে
প্রতারণার জাল বিস্তার করেছে। বিভিন্ন পদে চাকরি দেয়ার নাম করে চক্রটি শিক্ষিত বেকারদের কাছ থেকে দুই হাতে টাকা হাতিয়ে নেয়ার একটি কৌশল। তাদের এক মাসের ট্রেনিং দেয়া হয়। ট্রেনিং ফি হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। এ চক্রের কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তারা এখন পুলিশের ভয়ে অফিস কাগজ পত্র রেখেই পালিয়ে গেছেন বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, ছোট চাকরির আশা দেখিয়ে বড় ফাঁদ তৈরি করে রেখেছে প্রতারকরা।

 

 

এস আই হাবিবুর রহমান পিপিএম জানান, এ
ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুরুষ মহিলাদের মাধ্যমে এলাকায় গড়ে উঠে। তাদেরকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম শাহীন আকন্দ (৪৫)। প্রতারকরা ন্যাশনাল কমার্স এন্ড কনসালটেন্ট এর নামে
ভুয়া একটি এনজিও চাকরি দেয়ার নামে সারা দেশ থেকে লোক সংগ্রহ করে আসছে। কাউকে আবার ইউনিসেফের লোগো সংবলিত পরিচয়পত্রও দেয়া হয়। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারিংসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেয়ার পর ট্রেনিং
সেন্টারে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

 

 

পুলিশ জানায়, ন্যাশনাল কমার্স এন্ড কনসালটেন্ট এর নামে ভুয়া একটি এনজিও  প্রতিষ্টান সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে শাখা খুলে নানা ধরনের প্রতারণা করে আসছে।
ন্যাশনাল কমার্স এন্ড কনসালটেন্ট এর নামে প্রতিষ্টান দোয়ারাবাজার হেলাল মাকেট, ছাতক বাজার, গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে ছোয়াব আলী মাকেট ও গোবিন্দগঞ্জ নতুনবাজারে শাহীন মসলা মিলের ২ তলায় অফিস করে প্রতারনা ফাদ
সৃষ্টি করে আসছে।

 

 

সূত্র জানায়, চাকরি দেয়ার নামে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে নার্সিং, কারিগরি, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে, কোম্পানীর খরচে নিরাপদে বিদেশ প্রেরণ, কোম্পীর রেজিষ্ট্রেশন, মসজিদ, মন্দির, স্কুল, কলেজ প্রতিষ্ঠা, কর্মচারী, সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ। এছাড়াও রয়েছে ইমাম প্রশিক্ষণ, হজ্জ, ওমরা হজ্জ এয়ার টিকেট, রিজারভেশন সেবা’র নামেই চলছে প্রতারনা। শুক্রবার সকালে  ছাতক উপজেলা নিবার্হী অফিসার গোলাম কবির আহমদ মোবাইল মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনার স্থলে এসে সিলেট বিভাগের ৮শতাধিক নারী
পুরুষ প্রতারনা ফাদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম কবির আহমদ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ছাতকে ভুয়া এনজিও অফিসে তালা: কাগজপত্র জব্ধ

Update Time : ০৭:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯

ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে হাসি খুশি ও ন্যাশনাল কমার্স এন্ড কনসালটেন্ট এর নামে ভুয়া একটি এনজিও  প্রতিষ্টান সিলেট বিভাগে চারটি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৮শতাধিক গ্রামে গ্রামে মসজিদ মন্দিরে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগের নামে স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে এ সুত্রে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ চারটি জেলার বিভিন্ন উপজেলার নাগরিকরা আবেদন পড়েছে প্রায় ২হাজারের বেশী।

 

 

শুক্রবার সকালে ছাতক উপজেলার স্থানীয়
গোবিন্দগঞ্জ নতুনবাজারে শাহীন মসলা মিলের উপরের ২য় তলায় সকাল ৮টা সময় এ
ঘটনা ঘটে। সকাল ৮টা থেকে নিয়োগের পরীক্ষা অংশ গ্রহনকারিদের কাছ থেকে এনজিও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রংপুর জেলার শাহীন আকন্দ নামে এক প্রতারক স্কুলের শিক্ষক নিয়োগের নামে ৫শতাধিক পুরুষ মহিলাদের কাছে প্রায় আড়াই
লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে অফিস ছেড়ে আত্মগোপনে পালিয়ে গেছে। এ নিয়োগের ঘটনাটি খরর পেয়ে ছাতক উপজেলা নিবার্হী অফিসার গোলাম কবির আহমদ গোবিন্দগঞ্জ অফিসে এসে ভুয়া এনজিও প্রতিষ্টানে কাগজপত্র অফিসের মালামালগুলো জব্দ করে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়ার নিদের্শ প্রদান করেন পুলিশকে। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ভুয়া এনজিও প্রতিষ্টানে নিয়োগপত্রের যাবতীয় কাগজপত্রাদি, কম্পিউটার, প্রিন্টার, চেয়ার, টেবিলসহ মালামাল জব্ধ করে। ন্যাশনাল কমার্স এন্ড কনসালটেন্ট এর নামে ভুয়া একটি
এনজিও চাকরি দেয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করছে চক্র। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও ভুয়া নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চক্রটি সারা দেশে
প্রতারণার জাল বিস্তার করেছে। বিভিন্ন পদে চাকরি দেয়ার নাম করে চক্রটি শিক্ষিত বেকারদের কাছ থেকে দুই হাতে টাকা হাতিয়ে নেয়ার একটি কৌশল। তাদের এক মাসের ট্রেনিং দেয়া হয়। ট্রেনিং ফি হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। এ চক্রের কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তারা এখন পুলিশের ভয়ে অফিস কাগজ পত্র রেখেই পালিয়ে গেছেন বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, ছোট চাকরির আশা দেখিয়ে বড় ফাঁদ তৈরি করে রেখেছে প্রতারকরা।

 

 

এস আই হাবিবুর রহমান পিপিএম জানান, এ
ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুরুষ মহিলাদের মাধ্যমে এলাকায় গড়ে উঠে। তাদেরকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম শাহীন আকন্দ (৪৫)। প্রতারকরা ন্যাশনাল কমার্স এন্ড কনসালটেন্ট এর নামে
ভুয়া একটি এনজিও চাকরি দেয়ার নামে সারা দেশ থেকে লোক সংগ্রহ করে আসছে। কাউকে আবার ইউনিসেফের লোগো সংবলিত পরিচয়পত্রও দেয়া হয়। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারিংসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেয়ার পর ট্রেনিং
সেন্টারে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

 

 

পুলিশ জানায়, ন্যাশনাল কমার্স এন্ড কনসালটেন্ট এর নামে ভুয়া একটি এনজিও  প্রতিষ্টান সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে শাখা খুলে নানা ধরনের প্রতারণা করে আসছে।
ন্যাশনাল কমার্স এন্ড কনসালটেন্ট এর নামে প্রতিষ্টান দোয়ারাবাজার হেলাল মাকেট, ছাতক বাজার, গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে ছোয়াব আলী মাকেট ও গোবিন্দগঞ্জ নতুনবাজারে শাহীন মসলা মিলের ২ তলায় অফিস করে প্রতারনা ফাদ
সৃষ্টি করে আসছে।

 

 

সূত্র জানায়, চাকরি দেয়ার নামে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে নার্সিং, কারিগরি, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে, কোম্পানীর খরচে নিরাপদে বিদেশ প্রেরণ, কোম্পীর রেজিষ্ট্রেশন, মসজিদ, মন্দির, স্কুল, কলেজ প্রতিষ্ঠা, কর্মচারী, সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ। এছাড়াও রয়েছে ইমাম প্রশিক্ষণ, হজ্জ, ওমরা হজ্জ এয়ার টিকেট, রিজারভেশন সেবা’র নামেই চলছে প্রতারনা। শুক্রবার সকালে  ছাতক উপজেলা নিবার্হী অফিসার গোলাম কবির আহমদ মোবাইল মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনার স্থলে এসে সিলেট বিভাগের ৮শতাধিক নারী
পুরুষ প্রতারনা ফাদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম কবির আহমদ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ