দোয়ারাবাজার আওয়ামীলীগ এখন অনুপ্রবেশ কারী সুবিধা-ভোগীদের হাতে
- Update Time : ০১:১৭:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
হারুন-অর-রশিদ, দোয়ারাবাজার থেকে ::
আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে যে সুদ্ধি-অভিযান চলছে তা মানছেনা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা ইউনিয়নও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ। ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন হচ্ছে জামাত-বিএনপি অনুপ্রবেশ কারীদের নিয়ে ঘরের কোণে বা হোটেল রেস্তূরায় বসে ব্যাক্তিগত পকেট কমিটি তৈরী করা হচ্ছে। যারা ছাত্রলীগ থেকে আওয়ামীলীগে শ্রমঘাম দিয়ে আসছে তারা অবমুল্যায়ন ও বঞ্চিত রয়েছে।
‘আওয়ামীলীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, আওয়ামীলীগ একটি অনুভূতির নাম। জাতির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্ত জড়িয়ে আছে দলটিতে। আছে জাতীয় চার নেতাসহ লাখো নেতা-কর্মীর রক্ত’।
সেই স্থানে অনুপ্রবেশ কারীরা দখল নিচ্ছে দোয়ারাবাজার আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড কমিটিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ত্যাগী আওয়ামীলীগ ও সাবেক ছাত্রলীগের নেতারা প্রশ্ন তুলেছে কে সেই নাটের গুরু আওয়ামীলীগ দলটিকে বারবার বির্তকিত করছে। এসব অনুপ্রবেশ কারীদের আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড কমিটিতে প্রবেশ করে নিজেকে মহান নেতা ভাবছে। যেসব
অনুপ্রবেশ কারিরা নব্য ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সম্পাদক হচ্ছেন তারা বঙ্গবন্ধু ও তার পারিবারিক ইতিহাসই জানে না, আওয়ামীলীগই চিনেন না, দলটি ব্যপারে দু একটি প্রশ্ন করেন বঙ্গবন্ধু কে আওয়ামীলীগ কি কিছুই জবাব নেই তাদের মুখে অথচ তারা কি ভাবে আওয়ামীলীগের সভাপতি সেক্রেটারী হচ্ছে এমনটাই ভাবছে স্থানীয় ত্যাগী নেতা কর্মিরা।
আওয়ামীলীগ এই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী গৌরবের ইতিহাস বহন করা একটি রাজনৈতিক দল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের নানা ঘাত প্রতিঘাতের ভিতর দিয়ে অন্ধকার দুঃসময়ে অতিক্রম করে দলটি বিকশিত ও জনপ্রিয় দলেই পরিণত হয়নি একটি গণমুখী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবারের আবরণে তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তৃণমূল পর্যন্ত।
বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এই দেশে স্বাধিকার স্বাধীনতার সাফাল্যে গৌরব অর্জন করে গোটা জাতিকে এক মোহনায় মিলিত করে গণরায় নিয়ে সুমহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে। পঁচাত্তরের পনেরো আগস্ট পরিবার-পরিজনসহ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুতই করা হয়নি হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে দেশান্তরী ও কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। আজ সেই সব দল থেকে ছুটে আসা অনুপ্রবেশ কারীরাই দোয়ারাবাজার আওয়ামীলীগে
দাপটের সহিত কমিটিতে অন্তভুক্ত হচ্ছে।
বিগত দশ বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে সুযোগ সন্ধানী এসব আশ্রিতরা চাটুকারিতা মোসাহেবি ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের মধ্য দিয়ে নিজেদের আখের গোছানো ছাড়া কিছু বোঝে না। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যথার্থই বলেছিলেন মূল বা ত্যাগী আওয়ামী লীগাররা অভিমানী হয় বেইমানি করে না। আর এই সুবিধাভোগী নানা শ্রেণি-পেশার যে নব্য আওয়ামীলীগারে ঐতিহ্যবাহী অনুভূতি প্রবণ দলটিতে গত দশ বছরে ভরে গেছে তারা কেবল নিজেদের লাভ-লোকসানের পাল্লাই বোঝে।
পঁচাত্তরের পর দেশে আওয়ামীলীগ খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ গোটা দেশ যেন আওয়ামীলীগ আর আওয়ামীলীগ। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে এই নষ্টরা ওখানেই ভিড় করেছিল। কেন্দ্রের নেতারা যাদের বসন্তের কোকিল বা কাউয়া বলে বিদ্রুপ করেছিলেন তাদের এখন দূরে সরাবার সময়। না হয় নকলের ভিড়ে আসল হারিয়ে গেলে দলকে চড়া মূল্যই দিতে হবে।



















