০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যাঁরা আল্লাহর মেহমান : ফখরুল ইসলাম খান

  • Update Time : ১২:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আল্লাহ পাক মুমিনদের জন্য যে কয়টি বুনিয়াদি ইবাদত অত্যাবশ্যক করেছেন তার একটি হচ্ছে হজ্জ। হজ্জ এক দিকে দৈহিক ইবাদত, অন্য দিকে অর্থনৈতিক ইবাদত। হজ্জ করতে হলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। শুধু অর্থ হলে হয় না, প্রয়োজন ব্যক্তির দৈহিক শক্তির। হাজীদেরকে আল্লাহ তাঁর মেহমান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এ জন্যই আল্লাহ পাকের দিকনির্দেশনা মেনে নিয়ে মানুষ এই পৃথিবীর জীবনে যত কাজ করবে সে সবকে ইবাদতের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তবে কতগুলো কাজ বুনিয়াদি ইবাদত হিসেবে গণ্য। সালাত, সওম ও জাকাতের মতো হজ্জ অন্যতম বুনিয়াদি ইবাদাত।

 

হজ্জের পদ্ধতি : হজ্জের নিয়ম হলো, ইহরাম বাঁধার জন্য গোসলের পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। এ অবস্থায় সেলাই করা কাপড় পরা যাবে না। নফল নামাজ পড়ার পর ইহরাম বাঁধা মুস্তাহাব। অতঃপর উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করবেন। ইহরাম বাঁধার পর যাবতীয় নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

বায়তুল্লাহ শরিফে পৌঁছার পর হজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) প্রদক্ষিণ করার মাধ্যমে হজের কার্যক্রম শুরু করতে হবে। কাবা শরিফকে বাম হাতে রেখে তাওয়াফ করতে হবে। অতঃপর সম্ভব হলে কালো পাথর চুম্বন করবেন। চুম্বন করা সম্ভব না হলে এ দিকে ইঙ্গিত করলেই চলবে। উদ্বোধনী তাওয়াফের ক্ষেত্রে প্রথম তিন তাওয়াফে রমলসহ সাত তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন এবং শেষ চার তাওয়াফে স্বাভাবিক নিয়মে হাঁটবেন। কালো পাথর ও রুকনে ইয়ামানির মাঝে পৌঁছামাত্র এ দোয়া পড়বেন- ‘আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ ওয়া ফিল আখিরাতে হাসানাহ ওয়া কিনা আজাবান নার।’
তাওয়াফ শেষে সম্ভব হলে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়তে হবে। আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে যেকোনো স্থানে নামাজ আদায় করলেই চলবে।
এরপর সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে দৌড়াতে হবে। সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে কেবলামুখী হয়ে তিনবার তাকবির বলবেন এবং তিনবার দোয়া পড়বেন। তারপর হাঁটার জায়গায় হেঁটে যেতে হবে এবং দৌড়ানোর জায়গায় দৌড়াতে হবে। সাফা থেকে শুরু করে মারওয়া গিয়ে শেষ করবেন এবং সাতবার আসা-যাওয়া করবেন। এর মাঝে খুব বেশি জিকর ও দোয়া পড়বেন।

 

মুহরিম ব্যক্তি যদি তামাত্তু হজ করতে চান, তাহলে এ পর্যায়ে এসে মাথা মু-ন করে বা চুল ছোট করে ইহরাম ভেঙে ফেলবেন, যাতে তিনি তাকবিয়ার দিনে, অর্থাৎ জিলহজ মাসের আট তারিখ হজের ইহরাম বাঁধতে পারেন। আর যদি তিনি ইফরাদ বা কিরান হজের নিয়ত করে থাকেন তাহলে হজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকবেন। আট তারিখে সম্ভব হলে সূর্য ঢলে পড়ার আগেই মিনা গমন করতে হবে, যাতে সেখানে গিয়ে তিনি জোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরের নামাজ পড়তে পারেন। এ অবস্থায় চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ কসর করে দুই রাকাত আদায় করবেন, তবে দুই সময়ের নামাজ একত্র করে পড়তে পারবেন না। মিনায় রাতযাপন শেষে সূর্যোদয়ের পর আরাফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার পর জোহর ও আসরের নামাজ সংক্ষিপ্ত (সম্ভব হলে জামায়াতের সাথে) করে এ ক্ষেত্রে সম্পন্ন করবেন। ‘বাতনে উরানাহ’ নামক জায়গা ব্যতীত সমগ্র আরাফায় অবস্থানস্থল এবং আরাফার দিবসে সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে কোরবানির দিন ফজর পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করার সময়। আর যিনি আরাফার ময়দানে দিনের বেলায় অবস্থান করেছেন, তিনি যেন সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান ভঙ্গ না করেন।

 

সূর্যাস্তের পর ধীরস্থিরভাবে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছে তাবু স্থাপনের আগেই মাগরিব ও এশার নামাজ একসাথে আদায় করবেন এবং এখানে রাতযাপন অবধারিত। তবে দুর্বল ও অক্ষম ব্যক্তিরা মধ্যরাতের পর সেখান থেকে প্রস্থান করতে পারবেন। এরপর ফজরের নামাজ পড়ে মাশয়ারুল হারামের কাছে আল্লাহর জিকর করবেন। পূর্ব আকাশ পরিষ্কার হলে সূর্যোদয়ের আগে আবার মিনায় গমন করবেন। যদি সম্ভব না হয়, মুজদালিফা থেকেই নিক্ষেপের পাথর সংগ্রহ করবেন এবং এটাই উত্তম। তবে মিনা বা অন্য জায়গা থেকেও সংগ্রহ করলে চলবে। এ পাথরগুলো অবশ্যই ছোলাবুটের চেয়ে বড় এবং বুনদুক ফলের চেয়েও ছোট হতে হবে।
অতঃপর মিনায় পৌঁছে প্রথমে জুমরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ শুরু করবেন এবং এখানে একে একে সাতটি করে পাথর ছুড়তে হবে। যদি তিনি তামাত্তু বা কিরান হজের নিয়ত করে থাকেন, তাহলে তখন পশু কোরবানি করবেন। এরপর মাথা মু-ন করবেন বা মাথার চুল ছোট করবেন, তবে মাথা মু-ন করাই উত্তম। মহিলাদের জন্য মাথা মু-ন বৈধ নয়, বরং তাদেরকে চুলের গোছা থেকে আঙুলের অগ্রভাগের পরিমাণ চুল কেটে ফেলতে হবে। অতঃপর মক্কায় গিয়ে তাওয়াফ করবেন এবং এ তাওয়াফ যেহেতু হজের রুকন তাই তা বাদ দিলে হজ শুদ্ধ হবে না। এরপর তামাত্তু হজের নিয়তকারীর পক্ষে সাফা ও মারওয়ার মাঝে দৌড়াদৌড়ি করা ওয়াজিব। প্রারম্ভিক তাওয়াফের সময় সায়ি না করে থাকলে কারিন ও মুফরাদ হাজীর পক্ষেও এ সময় সায়ি করা ওয়াজিব। এরপর মিনায় ফিরে গিয়ে দ্রুত হজ পালনেচ্ছুক ব্যক্তি দুই রাত এবং বিলম্বে হজ পালনেচ্ছুক ব্যক্তি তিন রাত অবস্থান করবেন।

 

ঋতুবতী নারী অন্যদের মতোই হজের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করবেন, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ থেকে বিরত থাকবেন। কোনো হাজীর পক্ষে বিদায়ী তাওয়াফ না করা পর্যন্ত মক্কা ত্যাগ ঠিক নয়। কেননা, এটাই বায়তুল্লাহ শরিফে তার শেষ প্রতিশ্রুতি, যা থেকে কেবল ঋতুবতী নারী ছাড়া আর কারো বিরত থাকা ঠিক নয়। কেবল ঋতুবতী নারীই তা ত্যাগ করতে পারেন। কোনো ব্যক্তি যদি তাওয়াফে ইফাদা বিলম্ব করে মক্কা ত্যাগের সময় তা আদায় করেন, তাহলে তার বিদায়ী তাওয়াফের প্রয়োজন নেই। কেননা, এর মাধ্যমেই বিদায়ী তাওয়াফের উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছে। হজের কার্যাবলি সম্পন্ন হলে মসজিদে নববীতে গমন করে নফল নামাজ পড়া এবং রাসূল সা:-এর প্রতি সালাম পাঠানো মুস্তাহাব। সেখানে গিয়ে প্রথমে রাসূল সা: ও তাঁর সাহাবায়ে কেরামের প্রতি সালাম পেশ করতে হবে। এ সময় রাসূল সা:-এর প্রতি এমন ভক্তি ও ভয় পোষণ করতে হবে, যেন রাসূল সা: স্বয়ং তাকে দেখছেন। তবে মসজিদে নববীর জিয়ারত হজের কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত নয়।

 

লাখ লাখ হজ পালনকারী সমবেত হন পবিত্র কাবাঘর মক্কায়। পরনে একখ- সাদা কাপড়। আরেক খ- কাপড় তাদের গায়ে। একেবারেই সাদামাটাভাবে তারা উপস্থিত হন আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য। কাবাকে ঘিরে চলতে থাকে মানুষের ¯্রােত। মিনায় তাঁবুজীবন যাপন করে ৯ জিলহজ তারা সমবেত হন আরাফার বিশাল ময়দানে। আবার সেই দিনই সন্ধ্যায় তারা এসে পৌঁছেন মুজদালিফায়। উন্মুক্ত আকাশের নিচে নির্বিঘ্নে রাত কাটান লাখো নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী। সকালে আবার ছুটে যান মিনায়। ছুটে যান জামরাতে অভিশপ্ত শয়তানের মূর্তিতে পাথর টুকরো নিক্ষেপ করতে। সর্বত্রই আল্লাহ প্রেমিক মানুষের ঢল। সবার কণ্ঠে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে উচ্চারিত হয় : ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা লাকা ওয়াল মুলকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক।’ ‘উপস্থিত হে আল্লাহ!, আমি আপনার দরবারে হাজির…
প্রচ- উত্তাপে ঘাম ঝরে পড়ে মানুষের শরীর থেকে। ভ্রক্ষেপ নেই কারো সেই দিকে, চোখ থেকে গাল বেয়ে ঝরে পড়ে পানি। হৃদয়জুড়ে কান্না আর প্রার্থনা। যার ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছেন তারা তিনি যেন তাদেরকে তাঁর প্রিয়জন হিসেবে কবুল করেন, এই প্রত্যাশায়।

 

লেখক : সভাপতি, বিশ্বনাথ কেন্দ্রীয় সাহিত্য সংসদ, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

যাঁরা আল্লাহর মেহমান : ফখরুল ইসলাম খান

Update Time : ১২:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯

আল্লাহ পাক মুমিনদের জন্য যে কয়টি বুনিয়াদি ইবাদত অত্যাবশ্যক করেছেন তার একটি হচ্ছে হজ্জ। হজ্জ এক দিকে দৈহিক ইবাদত, অন্য দিকে অর্থনৈতিক ইবাদত। হজ্জ করতে হলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। শুধু অর্থ হলে হয় না, প্রয়োজন ব্যক্তির দৈহিক শক্তির। হাজীদেরকে আল্লাহ তাঁর মেহমান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এ জন্যই আল্লাহ পাকের দিকনির্দেশনা মেনে নিয়ে মানুষ এই পৃথিবীর জীবনে যত কাজ করবে সে সবকে ইবাদতের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তবে কতগুলো কাজ বুনিয়াদি ইবাদত হিসেবে গণ্য। সালাত, সওম ও জাকাতের মতো হজ্জ অন্যতম বুনিয়াদি ইবাদাত।

 

হজ্জের পদ্ধতি : হজ্জের নিয়ম হলো, ইহরাম বাঁধার জন্য গোসলের পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। এ অবস্থায় সেলাই করা কাপড় পরা যাবে না। নফল নামাজ পড়ার পর ইহরাম বাঁধা মুস্তাহাব। অতঃপর উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করবেন। ইহরাম বাঁধার পর যাবতীয় নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

বায়তুল্লাহ শরিফে পৌঁছার পর হজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) প্রদক্ষিণ করার মাধ্যমে হজের কার্যক্রম শুরু করতে হবে। কাবা শরিফকে বাম হাতে রেখে তাওয়াফ করতে হবে। অতঃপর সম্ভব হলে কালো পাথর চুম্বন করবেন। চুম্বন করা সম্ভব না হলে এ দিকে ইঙ্গিত করলেই চলবে। উদ্বোধনী তাওয়াফের ক্ষেত্রে প্রথম তিন তাওয়াফে রমলসহ সাত তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন এবং শেষ চার তাওয়াফে স্বাভাবিক নিয়মে হাঁটবেন। কালো পাথর ও রুকনে ইয়ামানির মাঝে পৌঁছামাত্র এ দোয়া পড়বেন- ‘আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ ওয়া ফিল আখিরাতে হাসানাহ ওয়া কিনা আজাবান নার।’
তাওয়াফ শেষে সম্ভব হলে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়তে হবে। আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে যেকোনো স্থানে নামাজ আদায় করলেই চলবে।
এরপর সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে দৌড়াতে হবে। সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে কেবলামুখী হয়ে তিনবার তাকবির বলবেন এবং তিনবার দোয়া পড়বেন। তারপর হাঁটার জায়গায় হেঁটে যেতে হবে এবং দৌড়ানোর জায়গায় দৌড়াতে হবে। সাফা থেকে শুরু করে মারওয়া গিয়ে শেষ করবেন এবং সাতবার আসা-যাওয়া করবেন। এর মাঝে খুব বেশি জিকর ও দোয়া পড়বেন।

 

মুহরিম ব্যক্তি যদি তামাত্তু হজ করতে চান, তাহলে এ পর্যায়ে এসে মাথা মু-ন করে বা চুল ছোট করে ইহরাম ভেঙে ফেলবেন, যাতে তিনি তাকবিয়ার দিনে, অর্থাৎ জিলহজ মাসের আট তারিখ হজের ইহরাম বাঁধতে পারেন। আর যদি তিনি ইফরাদ বা কিরান হজের নিয়ত করে থাকেন তাহলে হজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকবেন। আট তারিখে সম্ভব হলে সূর্য ঢলে পড়ার আগেই মিনা গমন করতে হবে, যাতে সেখানে গিয়ে তিনি জোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরের নামাজ পড়তে পারেন। এ অবস্থায় চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ কসর করে দুই রাকাত আদায় করবেন, তবে দুই সময়ের নামাজ একত্র করে পড়তে পারবেন না। মিনায় রাতযাপন শেষে সূর্যোদয়ের পর আরাফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার পর জোহর ও আসরের নামাজ সংক্ষিপ্ত (সম্ভব হলে জামায়াতের সাথে) করে এ ক্ষেত্রে সম্পন্ন করবেন। ‘বাতনে উরানাহ’ নামক জায়গা ব্যতীত সমগ্র আরাফায় অবস্থানস্থল এবং আরাফার দিবসে সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে কোরবানির দিন ফজর পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করার সময়। আর যিনি আরাফার ময়দানে দিনের বেলায় অবস্থান করেছেন, তিনি যেন সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান ভঙ্গ না করেন।

 

সূর্যাস্তের পর ধীরস্থিরভাবে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছে তাবু স্থাপনের আগেই মাগরিব ও এশার নামাজ একসাথে আদায় করবেন এবং এখানে রাতযাপন অবধারিত। তবে দুর্বল ও অক্ষম ব্যক্তিরা মধ্যরাতের পর সেখান থেকে প্রস্থান করতে পারবেন। এরপর ফজরের নামাজ পড়ে মাশয়ারুল হারামের কাছে আল্লাহর জিকর করবেন। পূর্ব আকাশ পরিষ্কার হলে সূর্যোদয়ের আগে আবার মিনায় গমন করবেন। যদি সম্ভব না হয়, মুজদালিফা থেকেই নিক্ষেপের পাথর সংগ্রহ করবেন এবং এটাই উত্তম। তবে মিনা বা অন্য জায়গা থেকেও সংগ্রহ করলে চলবে। এ পাথরগুলো অবশ্যই ছোলাবুটের চেয়ে বড় এবং বুনদুক ফলের চেয়েও ছোট হতে হবে।
অতঃপর মিনায় পৌঁছে প্রথমে জুমরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ শুরু করবেন এবং এখানে একে একে সাতটি করে পাথর ছুড়তে হবে। যদি তিনি তামাত্তু বা কিরান হজের নিয়ত করে থাকেন, তাহলে তখন পশু কোরবানি করবেন। এরপর মাথা মু-ন করবেন বা মাথার চুল ছোট করবেন, তবে মাথা মু-ন করাই উত্তম। মহিলাদের জন্য মাথা মু-ন বৈধ নয়, বরং তাদেরকে চুলের গোছা থেকে আঙুলের অগ্রভাগের পরিমাণ চুল কেটে ফেলতে হবে। অতঃপর মক্কায় গিয়ে তাওয়াফ করবেন এবং এ তাওয়াফ যেহেতু হজের রুকন তাই তা বাদ দিলে হজ শুদ্ধ হবে না। এরপর তামাত্তু হজের নিয়তকারীর পক্ষে সাফা ও মারওয়ার মাঝে দৌড়াদৌড়ি করা ওয়াজিব। প্রারম্ভিক তাওয়াফের সময় সায়ি না করে থাকলে কারিন ও মুফরাদ হাজীর পক্ষেও এ সময় সায়ি করা ওয়াজিব। এরপর মিনায় ফিরে গিয়ে দ্রুত হজ পালনেচ্ছুক ব্যক্তি দুই রাত এবং বিলম্বে হজ পালনেচ্ছুক ব্যক্তি তিন রাত অবস্থান করবেন।

 

ঋতুবতী নারী অন্যদের মতোই হজের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করবেন, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ থেকে বিরত থাকবেন। কোনো হাজীর পক্ষে বিদায়ী তাওয়াফ না করা পর্যন্ত মক্কা ত্যাগ ঠিক নয়। কেননা, এটাই বায়তুল্লাহ শরিফে তার শেষ প্রতিশ্রুতি, যা থেকে কেবল ঋতুবতী নারী ছাড়া আর কারো বিরত থাকা ঠিক নয়। কেবল ঋতুবতী নারীই তা ত্যাগ করতে পারেন। কোনো ব্যক্তি যদি তাওয়াফে ইফাদা বিলম্ব করে মক্কা ত্যাগের সময় তা আদায় করেন, তাহলে তার বিদায়ী তাওয়াফের প্রয়োজন নেই। কেননা, এর মাধ্যমেই বিদায়ী তাওয়াফের উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছে। হজের কার্যাবলি সম্পন্ন হলে মসজিদে নববীতে গমন করে নফল নামাজ পড়া এবং রাসূল সা:-এর প্রতি সালাম পাঠানো মুস্তাহাব। সেখানে গিয়ে প্রথমে রাসূল সা: ও তাঁর সাহাবায়ে কেরামের প্রতি সালাম পেশ করতে হবে। এ সময় রাসূল সা:-এর প্রতি এমন ভক্তি ও ভয় পোষণ করতে হবে, যেন রাসূল সা: স্বয়ং তাকে দেখছেন। তবে মসজিদে নববীর জিয়ারত হজের কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত নয়।

 

লাখ লাখ হজ পালনকারী সমবেত হন পবিত্র কাবাঘর মক্কায়। পরনে একখ- সাদা কাপড়। আরেক খ- কাপড় তাদের গায়ে। একেবারেই সাদামাটাভাবে তারা উপস্থিত হন আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য। কাবাকে ঘিরে চলতে থাকে মানুষের ¯্রােত। মিনায় তাঁবুজীবন যাপন করে ৯ জিলহজ তারা সমবেত হন আরাফার বিশাল ময়দানে। আবার সেই দিনই সন্ধ্যায় তারা এসে পৌঁছেন মুজদালিফায়। উন্মুক্ত আকাশের নিচে নির্বিঘ্নে রাত কাটান লাখো নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী। সকালে আবার ছুটে যান মিনায়। ছুটে যান জামরাতে অভিশপ্ত শয়তানের মূর্তিতে পাথর টুকরো নিক্ষেপ করতে। সর্বত্রই আল্লাহ প্রেমিক মানুষের ঢল। সবার কণ্ঠে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে উচ্চারিত হয় : ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা লাকা ওয়াল মুলকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক।’ ‘উপস্থিত হে আল্লাহ!, আমি আপনার দরবারে হাজির…
প্রচ- উত্তাপে ঘাম ঝরে পড়ে মানুষের শরীর থেকে। ভ্রক্ষেপ নেই কারো সেই দিকে, চোখ থেকে গাল বেয়ে ঝরে পড়ে পানি। হৃদয়জুড়ে কান্না আর প্রার্থনা। যার ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছেন তারা তিনি যেন তাদেরকে তাঁর প্রিয়জন হিসেবে কবুল করেন, এই প্রত্যাশায়।

 

লেখক : সভাপতি, বিশ্বনাথ কেন্দ্রীয় সাহিত্য সংসদ, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ