০৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুর উপজেলা সহ পাঁচ উপজেলায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি

  • Update Time : ০৪:২৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০১৯
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: পঞ্চম উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রভাবশালীদের চাপে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। জোর করে জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় সৃষ্টি হয়েছে ক্ষত। স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের কারণে সহিংস হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। সহিংসতায় প্রাণ ঝরেছে বেশ কয়েকজনের। সরকারের উপরের মহল এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) মাঠ প্রশাসনকে সুষ্ঠু ভোটের জন্য কঠোর বার্তা দিলেও তা বিফলে যাচ্ছে। প্রভাব বিস্তারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বাধ্য হয়ে পাঁচ উপজেলার ভোট স্থগিত করেছে ইসি। উপজেলাগুলো হলো-পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, নেত্রকোনার পূর্বধলা, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, লালমনিরহাটের আদিতমারি এবং কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি। ব্যালট ছিনতাই ও ভোট কারচুপির কারণে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়।

 

নির্বাচনী সহিংসতা ও প্রভাব বিস্তার রোধে ‘ওপেন ফায়ারের’ নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, কোন অবস্থাতেই প্রশ্নবিদ্ধ এবং গ্রহণযোগ্য নয় এমন কোন নির্বাচন করতে চাই না। উপজেলা নির্বাচনে যদি কোন কর্মকর্তা অনিয়ম করেন তাহলে তাকে জেলে পাঠানো হবে। নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিনতাই কিংবা জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই ‘ওপেন ফায়ার করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদরে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি একথা বলেন। পঞ্চম উপজেলা নির্বাচন এবার পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরইমধ্যে প্রথম ধাপে ১০ মার্চ ৭৮ উপজেলায়, দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ ১১৬ উপজেলায় এবং ২৪ মার্চ ১১৬ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপে এবং আগামী ১৮ জুন পঞ্চম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপিসহ সরকার বিরোধী অংশ এবারের উপজেলা নির্বাচন বর্জন করেছে। ফলে বেশিরভাগ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগই।

 

ইসির তথ্যমতে, প্রভাবশালীরা বদলি, লাঞ্ছিত ও ভয়ভীতি এবং আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে নিজেদের কব্জায় রেখেছে। প্রভাবশালীদের চাপের কারণে সহিংসতার আশঙ্কায় ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন না ভোটাররা। প্রশাসনকে সব ধরণের চাপমুক্ত থাকার জন্য ইসি নির্দেশ দিলেও স্থানীয়ভাবে তা মানা হচ্ছে না। একপ্রকার নিরুপায় হয়ে নির্বাচন স্থগিত করছে কমিশন।

 

সর্বশেষ চতুর্থধাপের অনুষ্ঠিতব্য পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের উপসচিব আতিয়ার রহমান ইত্তেফাককে বলেন, পাল্টাপাল্টি হামলায় একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মঠবাড়িয়ার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার এবং মঠবাড়িয়ার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও সংশ্লিষ্ট উপজেলা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

 

জানা গেছে, বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতা এবং অনিয়ম এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন। আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মারমুখী অবস্থানের কারণে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৪ দলের শরীকরাও কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। ৩০ উপজেলায় কোন ভোট হচ্ছে না। আড়াই শতাধিক প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার ভোটে অনেক জায়গায় সহিংসতা হয়েছে। সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন।

 

গত ১০ মার্চ মাঠ পর্যায় থেকে ইসির কাছে পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিলমারা, ব্যালট পেপার ছিনতাই, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিধিবর্হিভূত কার্যক্রমে জড়িত থাকা, ভোটকেন্দ্র সংঘর্ষের ঘটনায় ২৮টি কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হয়। ১৮ মার্চ অনিয়ম ও ত্রুটির কারণে আরো ৮টি কেন্দ্রের ভোট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা স্থগিত করেন। ২৪ মার্চ ১৪টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়।

 

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভোটে প্রভাব বিস্তারের কারণে এ পর্যন্ত প্রায় চার ডজন এমপিকে এলাকা ছাড়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভোটে এমপিদের নিয়ন্ত্রণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজে স্পিকারকে চিঠি দেন। অনেক উপজেলায় প্রভাবশালীরা আইনবিধি ভঙ্গ করে একটি পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করছে। এতে করে স্থানীয়ভাবে ক্ষমতাসীনরা বিভক্ত হয়ে সহিংসতায় জড়াচ্ছে। দুই পক্ষই জয়ী হওয়ার জন্য প্রশাসনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

 

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, আমরা কঠোর অবস্থানে। ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন ও নির্বাহী হাকিম মোতায়েন করা হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত করতে সংসদ সদস্যদের সতর্কতা বার্তা দেওয়া হয়েছে। কোন প্রকার ভয়ভীতি ও প্রভাব বা চাপের উর্ধ্বে থেকে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট গ্রহণ করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। সুত্র: ইত্তেফাক

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জগন্নাথপুর উপজেলা সহ পাঁচ উপজেলায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি

Update Time : ০৪:২৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০১৯

ডেস্ক রিপোর্ট :: পঞ্চম উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রভাবশালীদের চাপে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। জোর করে জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় সৃষ্টি হয়েছে ক্ষত। স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের কারণে সহিংস হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। সহিংসতায় প্রাণ ঝরেছে বেশ কয়েকজনের। সরকারের উপরের মহল এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) মাঠ প্রশাসনকে সুষ্ঠু ভোটের জন্য কঠোর বার্তা দিলেও তা বিফলে যাচ্ছে। প্রভাব বিস্তারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বাধ্য হয়ে পাঁচ উপজেলার ভোট স্থগিত করেছে ইসি। উপজেলাগুলো হলো-পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, নেত্রকোনার পূর্বধলা, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, লালমনিরহাটের আদিতমারি এবং কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি। ব্যালট ছিনতাই ও ভোট কারচুপির কারণে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়।

 

নির্বাচনী সহিংসতা ও প্রভাব বিস্তার রোধে ‘ওপেন ফায়ারের’ নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, কোন অবস্থাতেই প্রশ্নবিদ্ধ এবং গ্রহণযোগ্য নয় এমন কোন নির্বাচন করতে চাই না। উপজেলা নির্বাচনে যদি কোন কর্মকর্তা অনিয়ম করেন তাহলে তাকে জেলে পাঠানো হবে। নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিনতাই কিংবা জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই ‘ওপেন ফায়ার করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদরে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি একথা বলেন। পঞ্চম উপজেলা নির্বাচন এবার পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরইমধ্যে প্রথম ধাপে ১০ মার্চ ৭৮ উপজেলায়, দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ ১১৬ উপজেলায় এবং ২৪ মার্চ ১১৬ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপে এবং আগামী ১৮ জুন পঞ্চম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপিসহ সরকার বিরোধী অংশ এবারের উপজেলা নির্বাচন বর্জন করেছে। ফলে বেশিরভাগ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগই।

 

ইসির তথ্যমতে, প্রভাবশালীরা বদলি, লাঞ্ছিত ও ভয়ভীতি এবং আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে নিজেদের কব্জায় রেখেছে। প্রভাবশালীদের চাপের কারণে সহিংসতার আশঙ্কায় ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন না ভোটাররা। প্রশাসনকে সব ধরণের চাপমুক্ত থাকার জন্য ইসি নির্দেশ দিলেও স্থানীয়ভাবে তা মানা হচ্ছে না। একপ্রকার নিরুপায় হয়ে নির্বাচন স্থগিত করছে কমিশন।

 

সর্বশেষ চতুর্থধাপের অনুষ্ঠিতব্য পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের উপসচিব আতিয়ার রহমান ইত্তেফাককে বলেন, পাল্টাপাল্টি হামলায় একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মঠবাড়িয়ার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার এবং মঠবাড়িয়ার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও সংশ্লিষ্ট উপজেলা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

 

জানা গেছে, বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতা এবং অনিয়ম এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন। আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মারমুখী অবস্থানের কারণে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৪ দলের শরীকরাও কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। ৩০ উপজেলায় কোন ভোট হচ্ছে না। আড়াই শতাধিক প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার ভোটে অনেক জায়গায় সহিংসতা হয়েছে। সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন।

 

গত ১০ মার্চ মাঠ পর্যায় থেকে ইসির কাছে পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিলমারা, ব্যালট পেপার ছিনতাই, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিধিবর্হিভূত কার্যক্রমে জড়িত থাকা, ভোটকেন্দ্র সংঘর্ষের ঘটনায় ২৮টি কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হয়। ১৮ মার্চ অনিয়ম ও ত্রুটির কারণে আরো ৮টি কেন্দ্রের ভোট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা স্থগিত করেন। ২৪ মার্চ ১৪টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়।

 

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভোটে প্রভাব বিস্তারের কারণে এ পর্যন্ত প্রায় চার ডজন এমপিকে এলাকা ছাড়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভোটে এমপিদের নিয়ন্ত্রণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজে স্পিকারকে চিঠি দেন। অনেক উপজেলায় প্রভাবশালীরা আইনবিধি ভঙ্গ করে একটি পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করছে। এতে করে স্থানীয়ভাবে ক্ষমতাসীনরা বিভক্ত হয়ে সহিংসতায় জড়াচ্ছে। দুই পক্ষই জয়ী হওয়ার জন্য প্রশাসনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

 

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, আমরা কঠোর অবস্থানে। ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন ও নির্বাহী হাকিম মোতায়েন করা হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত করতে সংসদ সদস্যদের সতর্কতা বার্তা দেওয়া হয়েছে। কোন প্রকার ভয়ভীতি ও প্রভাব বা চাপের উর্ধ্বে থেকে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট গ্রহণ করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। সুত্র: ইত্তেফাক

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ