০৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নবজাতক সন্তাননকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি : হাসপাতালে ক্রেতা আটক ১

  • Update Time : ০৭:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০১৯
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: হোটেলে হোটেলে পানি টানেন জোছনা বেগম কমলাপুর রেলস্টেশনে। টানাটানির সংসার, এর মধ্যেই আবার আসছে নতুন অতিথি। তিনি যখন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন পরিচয় হয় এক নারীর সঙ্গে। অনাগত সন্তানকে সেই নারীর কাছে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন জোছনা। কথা হয়, ছেলে বা মেয়ে যা-ই হোক, প্রসবের পর ওই নারীর হাতে তুলে দেওয়া হবে নবজাতককে। এর পর প্রায়ই জোছনা ও তার গর্ভস্থ সন্তানের খোঁজখবর নিতেন তিনি। প্রসূতির চিকিৎসা চলাকালে একবার ৩ হাজার টাকাও দেন। যথাসময়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি হন জোছনা। মঙ্গলবার তিনি একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন। নবজাতকের নাম রাখা হয় মুসা। এদিকে পূর্বনির্ধারিত শর্ত মোতাবেক নবজাতকের ক্রেতা হাজির হন হাসপাতালে; কিন্তু দুদিনের নাড়ি ছেড়া ধনের প্রতি তার যে নাড়ির টান গড়ে ওঠে, সে টান কিছুতেই এড়াতে পারেন না তিনি। ওই নারীকে বলেন, সন্তানকে বিক্রি করা বাবদ যে টাকা নিয়েছেন, তা ফেরত দেবেন; কিন্তু সন্তানকে কোলছাড়া করতে পারবেন না। এ নিয়ে চলে দুজনের কথা কাটাকাটি। এর মধ্যে জোছনার স্বামী গিয়ে খবর দেন হাসপাতালে কর্মরত আনসার সদস্যদের। তারা এসে শিশুটির ক্রেতা ওই নারীকে আটক করে থানাপুলিশে দেন। গতকাল সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। আটক নারী নিঃসন্তান বলে জানা গেছে। তার বয়স প্রায় ২৮ বছর। তাকে শাহবাগ পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক নারী জানান, পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে তাদের বাসা। সেখানে জোছনা এক সময় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। সংসারের টানাটানিসহ নানা কারণে তিনি গর্ভের সন্তানকে বিক্রি করে দেবেন বলে তখন জানান। তার সম্মতিতেই আমি তার গর্ভের সন্তানকে কিনেছিলাম। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, থানাপুলিশে ক্রেতা নারীকে সোপর্দ করেছি। তারাই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

নবজাতক সন্তাননকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি : হাসপাতালে ক্রেতা আটক ১

Update Time : ০৭:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০১৯

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: হোটেলে হোটেলে পানি টানেন জোছনা বেগম কমলাপুর রেলস্টেশনে। টানাটানির সংসার, এর মধ্যেই আবার আসছে নতুন অতিথি। তিনি যখন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন পরিচয় হয় এক নারীর সঙ্গে। অনাগত সন্তানকে সেই নারীর কাছে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন জোছনা। কথা হয়, ছেলে বা মেয়ে যা-ই হোক, প্রসবের পর ওই নারীর হাতে তুলে দেওয়া হবে নবজাতককে। এর পর প্রায়ই জোছনা ও তার গর্ভস্থ সন্তানের খোঁজখবর নিতেন তিনি। প্রসূতির চিকিৎসা চলাকালে একবার ৩ হাজার টাকাও দেন। যথাসময়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি হন জোছনা। মঙ্গলবার তিনি একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন। নবজাতকের নাম রাখা হয় মুসা। এদিকে পূর্বনির্ধারিত শর্ত মোতাবেক নবজাতকের ক্রেতা হাজির হন হাসপাতালে; কিন্তু দুদিনের নাড়ি ছেড়া ধনের প্রতি তার যে নাড়ির টান গড়ে ওঠে, সে টান কিছুতেই এড়াতে পারেন না তিনি। ওই নারীকে বলেন, সন্তানকে বিক্রি করা বাবদ যে টাকা নিয়েছেন, তা ফেরত দেবেন; কিন্তু সন্তানকে কোলছাড়া করতে পারবেন না। এ নিয়ে চলে দুজনের কথা কাটাকাটি। এর মধ্যে জোছনার স্বামী গিয়ে খবর দেন হাসপাতালে কর্মরত আনসার সদস্যদের। তারা এসে শিশুটির ক্রেতা ওই নারীকে আটক করে থানাপুলিশে দেন। গতকাল সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। আটক নারী নিঃসন্তান বলে জানা গেছে। তার বয়স প্রায় ২৮ বছর। তাকে শাহবাগ পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক নারী জানান, পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে তাদের বাসা। সেখানে জোছনা এক সময় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। সংসারের টানাটানিসহ নানা কারণে তিনি গর্ভের সন্তানকে বিক্রি করে দেবেন বলে তখন জানান। তার সম্মতিতেই আমি তার গর্ভের সন্তানকে কিনেছিলাম। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, থানাপুলিশে ক্রেতা নারীকে সোপর্দ করেছি। তারাই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ