জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবো : প্রধানমন্ত্রী
- Update Time : ০৩:৩৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০১৯
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের এই রায়কে দেশবাসীর সেবা এবং জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার ও সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ বলে মনে করি।
দশ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিরাট ব্যবধান। মানুষের জীবনমান এখন অনেক উন্নত। এখন মানুষ সুন্দর করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে।
আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে মন্তব্য করে দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কথামালার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দেই, তা বাস্তবায়ন করি।’
শুক্রবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিটিভি, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করে। নতুন সরকার গঠনের পর এটিই জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম ভাষণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ কথামালার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দেই, তা বাস্তবায়ন করি। ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম তার অধিকাংশই এরইমধ্যে বাস্তবায়ন করেছি।
তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’ শ্লোগান সংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছি। ইশতেহার ঘোষণার সময় আমি এর সারাংশ আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা অনেকেই এই দলিলটি এরইমধ্যে পড়েছেন।
ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমাদের যেকোন নীতিমালা প্রণয়নে এবং উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই ইশতেহারটি পথ-নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর দায়িত্ব বহুগুণ বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা টানা তৃতীয়বার এবং ১৯৯৬ সাল থেকে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সরকার পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছেন। আপনাদের এবারের এই নিরঙ্কুশ সমর্থন আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, নবীন-প্রবীণের সংমিশ্রণে আমি আমার মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনদের উদ্যম- এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
তিনি বলেন, আপনারা আমার উপর আস্থা রেখে যে রায় দিয়েছেন, কথা দিচ্ছি, আমি প্রাণপণ চেষ্টা করবো সে আস্থার প্রতিদান দিতে। এজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের সমর্থন এবং সহযোগিতা চাই। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবো, ইনশাআল্লাহ।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, পদ্মাসেতুসহ বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাসসহ আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত সময়কার বিভিন্ন সফলতা, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দেশকে আমরা আরও উন্নত করতে চাই। তাই সামনে অনেক কাজ আমাদের। আরও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে সেই বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।
গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো মন্ত্রিসভা গঠন করেন শেখ হাসিনা।
এর আগে ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ এবং তার মধ্যে ২৯৮টির ফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ওই ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৫৯টি আসন পেয়েছেন নৌকার প্রার্থীরা। আর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট পেয়েছে ২৮৮ আসন।
অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে মাত্র সাতটি আসনে জয়ী হতে পেরেছেন।





























