০১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রচার-প্রচারণায় প্রয়াত সামাদ – সুরঞ্জিত

  • Update Time : ০২:৫৯:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মাহমুদুর রহমান তারেক :: সুনামগঞ্জের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘুরেফিরেই আসছে দেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ ও প্রখ্যাত পার্লামেন্টরিয়ান প্রয়াত সুরঞ্জিত গুপ্তের নাম। সমাবেশ, প্রচার-প্রচারণায় প্রয়াত এই দুই নেতার নাম বারবার উচ্চারণ করে ভোট প্রার্থণা করছেন আ.লীগের প্রার্থীরা।

 

 

সুনামগঞ্জ-২(দিরাই-শাল্লায়) স্বাধীনতার পর সাতবার সাংসদ ছিলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। হাওর অর্ধ্যুষিত এই আসনের মানুষের সঙ্গে আতœার সম্পর্ক ছিল সুরঞ্জিতের। স্থানীয়ভাবে ‘ভাটি বাংলার সিংহ পুরুষ’ নামেই পরিচিত সুরঞ্জিত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের দ্বায়িত্ব পালন করেন সুরঞ্জিত। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী জয়া সেন গুপ্তা আ.লীগের টিকেটে উপ-নির্বাচনে জয়ী হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও নৌকার টিকেট পেয়েছেন তিনি। নির্বাচনে জয়া সেন গুপ্তা প্রয়াত স্বামীর মতই হাওরের পাড়ে ঘুরে ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় পুত্র সৌমেন সেনগুপ্তকে রাজনীতির স্পর্শে দেখা যায়নি। বাবার অবর্তমানে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। মা-ছেলে প্রয়াত সুরঞ্জিতের নাম উচ্চারণ করেই ভোট প্রার্থণা করছেন।

 

এব্যাপারে জয়া সেন গুপ্তা বলেন, আমি আমার স্বামীর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে চাই। তার মতই সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই সবসময়। তিনি স্বাধীনতার পর অধিকাংশ সময় এই আসনে এমপি ছিলেন, স্বাভাবিকভাবেই প্রচার-প্রচারণায় উনার নাম আসবে।

 

 

সুনামগঞ্জ-৩ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনটি প্রবাসি অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত। জগন্নাথপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করা দেশের প্রথম পররাষ্টমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের হাতেই নিয়ন্ত্রণ ছিল সিলেট বিভাগের রাজনীতি। আব্দুস সামাদ আজাদ বার বার এই আসনটি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনী এলাকার দলীয় অফিস গুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাশাপাপাশি সামাদ আজাদের ছবি বড় করে বাধানো থাকে। আসন্ন নির্বাচনে এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন তার ছেলে আজিজুস সামাদ ডন। কিন্তু নৌকার টিকেট পান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। মান্নানের বাড়ি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও ডনের বাড়ি জগন্নাথপুরে। ফলে জগন্নাথপুরের ভোট টানতে মান্নানকে ডনের ধারস্থ হতে হয়েছে। মান্নানের মিছিল, সমাবেশ, গণসংযোগে উঠে আসছে প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদেন নাম। সামাদ আজাদের নাম উচ্চারণ করে ভোট চাচ্ছেন মান্নান।

 

 

জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুনেদ আহমদ বলেন, সামাদ আজাদ ও সুরঞ্জিত সেন ছিলেন ভাটি বাংলার অহংকার, রাজনীতির বাতিঘর। এলাকায় আসলে তাদের দেখতে সাধারণ মানুষের ঢল নামতো। জনপ্রিয়তার এমন পর্যায়ে ছিল, বারবারই তারা নির্বাচিত হয়েছেন। একাদশ নির্বাচনেও দুটি আসনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে সামাদ-সুরঞ্জিত। তাই সভা, সমাবেশ, প্রচারণায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

প্রচার-প্রচারণায় প্রয়াত সামাদ – সুরঞ্জিত

Update Time : ০২:৫৯:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮

মাহমুদুর রহমান তারেক :: সুনামগঞ্জের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘুরেফিরেই আসছে দেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ ও প্রখ্যাত পার্লামেন্টরিয়ান প্রয়াত সুরঞ্জিত গুপ্তের নাম। সমাবেশ, প্রচার-প্রচারণায় প্রয়াত এই দুই নেতার নাম বারবার উচ্চারণ করে ভোট প্রার্থণা করছেন আ.লীগের প্রার্থীরা।

 

 

সুনামগঞ্জ-২(দিরাই-শাল্লায়) স্বাধীনতার পর সাতবার সাংসদ ছিলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। হাওর অর্ধ্যুষিত এই আসনের মানুষের সঙ্গে আতœার সম্পর্ক ছিল সুরঞ্জিতের। স্থানীয়ভাবে ‘ভাটি বাংলার সিংহ পুরুষ’ নামেই পরিচিত সুরঞ্জিত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের দ্বায়িত্ব পালন করেন সুরঞ্জিত। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী জয়া সেন গুপ্তা আ.লীগের টিকেটে উপ-নির্বাচনে জয়ী হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও নৌকার টিকেট পেয়েছেন তিনি। নির্বাচনে জয়া সেন গুপ্তা প্রয়াত স্বামীর মতই হাওরের পাড়ে ঘুরে ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় পুত্র সৌমেন সেনগুপ্তকে রাজনীতির স্পর্শে দেখা যায়নি। বাবার অবর্তমানে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। মা-ছেলে প্রয়াত সুরঞ্জিতের নাম উচ্চারণ করেই ভোট প্রার্থণা করছেন।

 

এব্যাপারে জয়া সেন গুপ্তা বলেন, আমি আমার স্বামীর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে চাই। তার মতই সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই সবসময়। তিনি স্বাধীনতার পর অধিকাংশ সময় এই আসনে এমপি ছিলেন, স্বাভাবিকভাবেই প্রচার-প্রচারণায় উনার নাম আসবে।

 

 

সুনামগঞ্জ-৩ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনটি প্রবাসি অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত। জগন্নাথপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করা দেশের প্রথম পররাষ্টমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের হাতেই নিয়ন্ত্রণ ছিল সিলেট বিভাগের রাজনীতি। আব্দুস সামাদ আজাদ বার বার এই আসনটি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনী এলাকার দলীয় অফিস গুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাশাপাপাশি সামাদ আজাদের ছবি বড় করে বাধানো থাকে। আসন্ন নির্বাচনে এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন তার ছেলে আজিজুস সামাদ ডন। কিন্তু নৌকার টিকেট পান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। মান্নানের বাড়ি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও ডনের বাড়ি জগন্নাথপুরে। ফলে জগন্নাথপুরের ভোট টানতে মান্নানকে ডনের ধারস্থ হতে হয়েছে। মান্নানের মিছিল, সমাবেশ, গণসংযোগে উঠে আসছে প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদেন নাম। সামাদ আজাদের নাম উচ্চারণ করে ভোট চাচ্ছেন মান্নান।

 

 

জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুনেদ আহমদ বলেন, সামাদ আজাদ ও সুরঞ্জিত সেন ছিলেন ভাটি বাংলার অহংকার, রাজনীতির বাতিঘর। এলাকায় আসলে তাদের দেখতে সাধারণ মানুষের ঢল নামতো। জনপ্রিয়তার এমন পর্যায়ে ছিল, বারবারই তারা নির্বাচিত হয়েছেন। একাদশ নির্বাচনেও দুটি আসনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে সামাদ-সুরঞ্জিত। তাই সভা, সমাবেশ, প্রচারণায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ