নারায়ণগঞ্জ থেকে আতিক রহমান :: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের নাম যতটা আলোচনায় এসেছে, পাশাপাশি বারবারই আলোচনায় এসেছে আওয়ামী লীগ নেতা ও আলোচিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নাম। বারবার প্রশ্ন উঠেছে শেষ মুহূর্তে এসে চির প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিনা হায়াত আইভীর পাশে কি থাকছেন তিনি? নাকি সবই লোক দেখানো। এসব প্রশ্নে মুখোমুখি হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেছেন শামীম ওসমান। তার সেই সাক্ষাৎকারভিত্তিক রিপোর্টটি প্রকাশিত হলো অাজ।
মঙ্গলবার দুপুরে শামীম ওসমানের সাথে কথা হয় নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের একটি কক্ষে। শামীম ওসমান সোমবার রাতেই জানিয়েছিলেন যে দুপুরে তিনি নারায়ণগঞ্জ থাকবেন। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে এক প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে নিজ থেকেই নিজের মনোকষ্টের কথা বলতে থাকেন। তিনি বলেন, আইভীর কিছু কথায় আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আমি কেঁদেছিলাম। আমার বুকে কষ্ট লেগেছিলো। আমি তখন মনের কষ্টে সিলেট শাহজালাল মাজারে চলে যাই। সেখানে কোরআন শরীফ পড়ে পড়ে কেঁদেছি।
এখনও সেই কষ্ট আছে কিনা- জানতে চাইলে শামীম ওসমান বলেন, নাহ, মাফ করে দিয়েছি। ক্ষমা অনেক বড় গুণ।
শামীম ওসমান তার দীর্ঘ আলাপচারিতায় বলেন, আইভী ভুল করছে। আইভী ভুল কৌশলে নির্বাচন পরিচালনা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, আইভীর সাথে যারা আছে তারা আওয়ামী লীগের ভাল চায় না। শামীম ওসমান অভিযোগ করে বলেন, এক এগারোর ক্রীড়ানকরা এখন নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনকে বেছে নিয়েছে। তাদেরই এজেন্ট সেলিনা হায়াত আইভীকে মিসগাইড করছে বলেও অভিমত শামীম ওসমানের।
এক সময়ের নারায়ণগঞ্জের ‘গডফাদার’ হিসাবে পরিচিত শামীম ওসমান বলেন, চিহ্নিত রাজাকার এবং আওয়ামী লীগ বিরোধীরা এখন আইভীর প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। গণ ফোরামের আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়াকেও সন্দেহের চোখে দেখেন শামীম ওসমান।
তিনি বারবার দাবি করেন, দলীয় প্রার্থী হিসাবে আইভীর বিরুদ্ধে তিনি কোনো অবস্থান নেননি। অবস্থান নিলে তিনি প্রকাশ্যেই নিতেন বলে দাবি করেন। অবশ্য দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে পছন্দ হিসাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন তার প্রথম পছন্দ ছিল বলে দাবি করেন। শামীম ওসমান বলেন, নির্বাচন একটি ম্যাথমেটিকস (অংক)। এখানে অনেক হিসাব-নিকাশ করতে হয়।
আইভীর পরিবার এবং তাদের (শামীম ওসমানের) পরিবারের দীর্ঘ দিনের বিরোধ কি এখন মিটে গেছে- জানতে চাইলে শামীম ওসমান বলেন, রাজনৈতিক এই বিরোধ ভবিষ্যতেও থাকতেই পারে।
নিজের পাঠানো শাড়ি পরে সেলিনা হায়াত আইভী নির্বাচনী প্রচারে বের না হওয়ায়ও আক্ষেপ করেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, আইভীর উচিত ছিল ওই শাড়ি পরে নির্বাচনী প্রচারে যাওয়া। সে যদি আমার শাড়ি পরে নির্বাচনী প্রচারে যেতো এবং বলতো যে ভাইয়ের শাড়ি পরে প্রচারে এসেছি, এতে করে আইভীর জন্য পজেটিভ হত। এমনটাই মনে করেন গতবার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আইভীর কাছে হেরে যাওয়া এই আওয়ামী লীগ নেতা।
সেলিনা হায়াত আইভীর এখন জনগণের কাছে গিয়ে বারবার ভোট চাওয়া ছাড়া আর কোনও পথ নেই বলে মনে করেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, এখন আর কারও কিছু করার নেই। কারও আশীর্বাদেও কাজ হবে না। সব আল্লাহর ইচ্ছা বলে মন্তব্য শামীম ওসমানের।
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে কাউন্সিল প্রার্থীদের প্রভাবিত করার চেষ্টার করছেন আপনি?-এমন প্রশ্নে শামীম ওসমান বলেন, এখানে (নারয়ণগঞ্জে) আমার সমর্থিত কমপক্ষে ৫০ জন কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছে। তাদের কাউকে তিনি আলাদাভাবে প্রভাবিত করছেন না বলেও দাবি করেন শামীম ওসমান।
তার এতো কিছু বলা বা প্রকাশ্যে সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষ নেওয়ার কথা ঘোষণার পরও কেনও মানুষ বিশ্বাস করতে পারছে যে তিনি শেষ পর্যন্ত নিজ দলের প্রাথীর বিজয় চান- জানতে চাইলে শামীম ওসমান দাবি করেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের ৩০টি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ২৭টি-ই তার অনুগত। তিনি চাইলে এক মুহুর্তে তারা মাঠ থেকে সরে আসবে। কিন্তু তারা সবাই আইভীর পক্ষে কাজ করছেন বলে দাবি শামীম ওসমানের।
আইভী বা সাখাওয়াত যে-ই বিজয়ী হোক না কেন তাকে তিনি অভিনন্দর জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন আলোচিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। বরং, আইভী বিজয়ী হলে তাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে এক সাথে আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছার কথাও ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচনে তাহলে তাকে কেন ফ্যাক্টর বলে ধরা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে সরাসরি কোনও উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, কিছু একটাতো আছেই।



























