০২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইজতেমা নিয়ে দু’গ্রুপ মুখোমুখি, উত্তেজনা : পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন কওমি মাদরাসার আলেম-উলামারা

  • Update Time : ০৬:২৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ইজতেমার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তাবলীগপন্থি হিসেবে পরিচিত কওমি মাদরাসার আলেম-উলামারা। এ নিয়ে দু’পক্ষে চলছে টানটান উত্তেজনা। মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ইজতেমা বন্ধের দাবি জানান জেলার কওমি মাদরাসার আলেমরা। অপরদিকে ইজতেমা আয়োজনের জন্য চলছে আয়োজকদের জোর প্রস্তুতি।

 

 

জানা যায়, আগামী ৭, ৮, ৯ ও ১০ই নভেম্বর মাওলানা সাদের অনুসারীরা মৌলভীবাজারের জগন্নাথপুর (আবাসন) এলাকায় আয়োজন করতে যাচ্ছেন ইজতেমার। আয়োজকরা জানান, ইজতেমার আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক অনুমোদনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা  শেষে এখন প্রতিদিনই চলছে প্রস্তুতির কাজ।

 

তাদের এমন কর্মকাণ্ড তাবলীগ ও ইসলামের পরিপন্থি আখ্যায়িত করে তা বন্ধে তৎপর হয়ে উঠেছেন তাবলীগ জামাতের কাকরাইল মার্কাজের অনুসারী এ জেলার কওমিপন্থি আলেম উলামারা। তারা মৌলভীবাজার ইজতেমা মাঠের একই স্থানে একই তারিখে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের ডাক দিয়েছেন জেলার ২৫০টি কওমি মাদ্ররাসার শিক্ষক শিক্ষার্থী ও ওলামা মাশায়েখরা। তবে ওই স্থানে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আয়োজনের জন্য প্রশাসনের পূর্বানুমতি নেননি তারা। জেলার ওই ইজতেমা বন্ধের দাবিতে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন কওমি মাদরাসার আলেমরা।

 

 

কওমি মাদরাসার ওলামা মাশায়েখদের অভিযোগ মাওলানা সাদ সাহেবের বিতর্কিত ও ভ্রান্ত মতবাদ প্রচারের লক্ষ্যে ইজতেমার আয়োজন করেছেন একটি  পক্ষ। জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আপত্তি থাকার পরও বিরোধপূর্ণ তথাকথিত ইজতেমার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এ নিয়ে জেলার ওলামা মাশায়েখদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গিয়াস উদ্দিন এমন অভিযোগ করে বলেন তাবলীগ জামাতের মূল নীতি ও আদর্শ থেকে সরে গিয়ে কিছু ভাই এই ইজতেমার আয়োজন করতে যাচ্ছেন। সরকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আগামী বিশ্ব ইজতেমা তাবলীগের কেন্দ্রীয় মারকাজ মসজিদে কাকরাইলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর ৬৪টি জেলার ইজতেমা টঙ্গীস্থ বিশ্ব ইজতেমার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। টঙ্গীতে দুই পর্বে যথাক্রমে ১৮, ১৯ ও ২০শে এবং ২৫, ২৬ ও ২৭শে জানুয়ারি ২০১৯ খ্রি: অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

২য় পর্বে মৌলভীবাজার জেলা টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবে। তাই পৃথকভাবে জেলা পর্যায়ে ইজতেমা করার কোনো সুযোগ নেই। সংবাদ সম্মেলনে ২৫০টি কওমি মাদরাসার ওলামা মাশায়েখরা আগামী ৭, ৮, ৯ ও ১০ই নভেম্বর মৌলভীবাজার মাওলানা সাদের অনুসারীদের ডাকা ইজতেমা আয়োজনের মাঠে একই স্থানে একই তারিখে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করবেন বলে জানান। মৌলভীবাজার জেলা ইজতেমা বন্ধের দাবিতে কওমি মাদরাসা ওলামা মাশায়েখদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা ওলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গিয়াস উদ্দিন আরো বলেন কতিপয় আলেম মাওলানা সাদ সাহেবের ভ্রান্ত ও মনগড়া মতবাদ প্রচার করার জন্য এই জেলায় তথাকথিত ইজতেমার আয়োজনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এটা বন্ধের জন্য তারা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা ওলামা পরিষদের সহ-সভাপতি মাওলানা সামছুদ্দোহা, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, মাওলানা জামিল আহমদ, মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা ফারুক আহমদ ও হাফেজ সুলাইমান আহমদ।

 

 

এছাড়াও বিভিন্ন মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে জেলায় ইজতেমা আয়োজনকারী মাওলানা সাদপন্থি হিসেবে পরিচিত তাবলীগ জামাতের সূরা সদস্য এএইচএম ময়নুল ইসলাম গতকাল বিকালে মুঠোফোনে মানবজমিনকে জানান, আমরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে শৃঙ্খলিতভাবে ইজতেমার আয়োজন করতে যাচ্ছি। সে লক্ষ্যে মাঠে কাজও চলছে। আমরা কোনো দাঙ্গা ফ্যাসাদে জড়াতে চাই না। আমরা তাদেরও সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, মাওলানা সাদকে নিয়ে তারা ভুল বুঝে অহেতুক বিভেদ ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তাছাড়া জেলা পর্যায়ে যে ইজতেমা হবে না সেটাও ঠিক নয়। কাকরাইলের মারকাজ মসজিদে এ বছর টঙ্গী ও জেলা পর্যায়েও ইজতেমা হবে এই সিদ্ধান্তই হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, স্থানীয় ওলামা মাশায়েখদের আপত্তির পূর্বেই আসছে ৭, ৮, ৯ ও ১০ই নভেম্বর ইজতেমা করার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে।

 

 

অনুমতির পূর্বে পুলিশ রিপোর্ট পেয়ে অনুমতি দেন তিনি। পরে যারা এসেছিলেন তাদেরও তিনি বলেছেন, ভিন্ন তারিখে তারাও ইচ্ছে করলে ইজতেমা করতে পারবেন। জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে অনুমতি দেবে ও সহযোগিতাও করবে। ইজতেমার উদ্বোধনে তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বলেন, গত শুক্রবার ইজতেমা মাঠে জুমার নামাজ আদায়ের পর বয়ান শেষে দোয়ায় মিলিত হয়েছি। আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্বোধন হয়নি। মূলত আগামী  ৭, ৮, ৯ ও ১০ই নভেম্বর ইজতেমা। এর আগে উদ্বোধন হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ইজতেমা নিয়ে দু’গ্রুপ মুখোমুখি, উত্তেজনা : পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন কওমি মাদরাসার আলেম-উলামারা

Update Time : ০৬:২৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ইজতেমার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তাবলীগপন্থি হিসেবে পরিচিত কওমি মাদরাসার আলেম-উলামারা। এ নিয়ে দু’পক্ষে চলছে টানটান উত্তেজনা। মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ইজতেমা বন্ধের দাবি জানান জেলার কওমি মাদরাসার আলেমরা। অপরদিকে ইজতেমা আয়োজনের জন্য চলছে আয়োজকদের জোর প্রস্তুতি।

 

 

জানা যায়, আগামী ৭, ৮, ৯ ও ১০ই নভেম্বর মাওলানা সাদের অনুসারীরা মৌলভীবাজারের জগন্নাথপুর (আবাসন) এলাকায় আয়োজন করতে যাচ্ছেন ইজতেমার। আয়োজকরা জানান, ইজতেমার আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক অনুমোদনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা  শেষে এখন প্রতিদিনই চলছে প্রস্তুতির কাজ।

 

তাদের এমন কর্মকাণ্ড তাবলীগ ও ইসলামের পরিপন্থি আখ্যায়িত করে তা বন্ধে তৎপর হয়ে উঠেছেন তাবলীগ জামাতের কাকরাইল মার্কাজের অনুসারী এ জেলার কওমিপন্থি আলেম উলামারা। তারা মৌলভীবাজার ইজতেমা মাঠের একই স্থানে একই তারিখে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের ডাক দিয়েছেন জেলার ২৫০টি কওমি মাদ্ররাসার শিক্ষক শিক্ষার্থী ও ওলামা মাশায়েখরা। তবে ওই স্থানে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আয়োজনের জন্য প্রশাসনের পূর্বানুমতি নেননি তারা। জেলার ওই ইজতেমা বন্ধের দাবিতে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন কওমি মাদরাসার আলেমরা।

 

 

কওমি মাদরাসার ওলামা মাশায়েখদের অভিযোগ মাওলানা সাদ সাহেবের বিতর্কিত ও ভ্রান্ত মতবাদ প্রচারের লক্ষ্যে ইজতেমার আয়োজন করেছেন একটি  পক্ষ। জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আপত্তি থাকার পরও বিরোধপূর্ণ তথাকথিত ইজতেমার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এ নিয়ে জেলার ওলামা মাশায়েখদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গিয়াস উদ্দিন এমন অভিযোগ করে বলেন তাবলীগ জামাতের মূল নীতি ও আদর্শ থেকে সরে গিয়ে কিছু ভাই এই ইজতেমার আয়োজন করতে যাচ্ছেন। সরকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আগামী বিশ্ব ইজতেমা তাবলীগের কেন্দ্রীয় মারকাজ মসজিদে কাকরাইলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর ৬৪টি জেলার ইজতেমা টঙ্গীস্থ বিশ্ব ইজতেমার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। টঙ্গীতে দুই পর্বে যথাক্রমে ১৮, ১৯ ও ২০শে এবং ২৫, ২৬ ও ২৭শে জানুয়ারি ২০১৯ খ্রি: অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

২য় পর্বে মৌলভীবাজার জেলা টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবে। তাই পৃথকভাবে জেলা পর্যায়ে ইজতেমা করার কোনো সুযোগ নেই। সংবাদ সম্মেলনে ২৫০টি কওমি মাদরাসার ওলামা মাশায়েখরা আগামী ৭, ৮, ৯ ও ১০ই নভেম্বর মৌলভীবাজার মাওলানা সাদের অনুসারীদের ডাকা ইজতেমা আয়োজনের মাঠে একই স্থানে একই তারিখে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করবেন বলে জানান। মৌলভীবাজার জেলা ইজতেমা বন্ধের দাবিতে কওমি মাদরাসা ওলামা মাশায়েখদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা ওলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গিয়াস উদ্দিন আরো বলেন কতিপয় আলেম মাওলানা সাদ সাহেবের ভ্রান্ত ও মনগড়া মতবাদ প্রচার করার জন্য এই জেলায় তথাকথিত ইজতেমার আয়োজনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এটা বন্ধের জন্য তারা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা ওলামা পরিষদের সহ-সভাপতি মাওলানা সামছুদ্দোহা, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, মাওলানা জামিল আহমদ, মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা ফারুক আহমদ ও হাফেজ সুলাইমান আহমদ।

 

 

এছাড়াও বিভিন্ন মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে জেলায় ইজতেমা আয়োজনকারী মাওলানা সাদপন্থি হিসেবে পরিচিত তাবলীগ জামাতের সূরা সদস্য এএইচএম ময়নুল ইসলাম গতকাল বিকালে মুঠোফোনে মানবজমিনকে জানান, আমরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে শৃঙ্খলিতভাবে ইজতেমার আয়োজন করতে যাচ্ছি। সে লক্ষ্যে মাঠে কাজও চলছে। আমরা কোনো দাঙ্গা ফ্যাসাদে জড়াতে চাই না। আমরা তাদেরও সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, মাওলানা সাদকে নিয়ে তারা ভুল বুঝে অহেতুক বিভেদ ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তাছাড়া জেলা পর্যায়ে যে ইজতেমা হবে না সেটাও ঠিক নয়। কাকরাইলের মারকাজ মসজিদে এ বছর টঙ্গী ও জেলা পর্যায়েও ইজতেমা হবে এই সিদ্ধান্তই হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, স্থানীয় ওলামা মাশায়েখদের আপত্তির পূর্বেই আসছে ৭, ৮, ৯ ও ১০ই নভেম্বর ইজতেমা করার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে।

 

 

অনুমতির পূর্বে পুলিশ রিপোর্ট পেয়ে অনুমতি দেন তিনি। পরে যারা এসেছিলেন তাদেরও তিনি বলেছেন, ভিন্ন তারিখে তারাও ইচ্ছে করলে ইজতেমা করতে পারবেন। জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে অনুমতি দেবে ও সহযোগিতাও করবে। ইজতেমার উদ্বোধনে তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বলেন, গত শুক্রবার ইজতেমা মাঠে জুমার নামাজ আদায়ের পর বয়ান শেষে দোয়ায় মিলিত হয়েছি। আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্বোধন হয়নি। মূলত আগামী  ৭, ৮, ৯ ও ১০ই নভেম্বর ইজতেমা। এর আগে উদ্বোধন হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ