০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহামান্য রাষ্ট্রপতি; আপনাকে স্যালুট !!
- Update Time : ১২:০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ অক্টোবর ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
মনজুর আজাদ পাভেল ::
মহামান্য রাষ্ট্রপতি আপনি ঠিকই বলেছেন “রাজনীতি এখন গরীবের ভাউজ”। গরীবের বউ সবারই ভাবী। রাজনীতিও এখন একই রুপ ধারন করেছে। যারা জীবনে জয় বাংলা বলেনি, যারা কখনও কোন দিন শ্লোগান নিয়ে রাজপথে হাঁটেনি তারাই এখন রাজনীতির সর্বোচচ শিখরে অবস্থান করছে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারী আমলা, বিচারপতি, পুলিশ, ক্যাপ্টেন থেকে শুরু করে শিল্পপতি-ভগ্নিপতিতে এখন রাজনীতির মাঠ সয়লাব। রণ ধ্বনি “জয় বাংলা” কে বুকে ধারন না করেই, সঠিক উচ্চারণ না শিখেই হয়ে যায় জয়বাংলার লোক। যদি উচ্চারণ করতে বলেন তখন দেখবেন কন্ঠনালীর উপরের অংশে একটু ধাক্কা দিয়েই “জয় বাংলা” উচ্চারণ করছে। অথচ “জয় বাংলা” শুধু কন্ঠনালীর অগ্রভাগের উচ্চারিত শব্দ না এটা কন্ঠনালী হয়ে ভোকাল কর্ডে প্রচন্ড ধাক্কা দিয়ে বুকের ভিতরে হৃৎপিন্ডের প্রবল কাঁপুনিতে অস্তিত্ব জানান দিয়ে বের হওয়া রণ ধ্বনি। যে রণ ধ্বনিতে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ।
১৯৭৫ পরবর্তী আওয়ামী রাজনীতির ইতিহাস অনেক করুন। সে সময়ে বাংলাদেশে দুটি পক্ষ ছিল। এক-আওয়ামী লীগ, দুই-এন্ট্রি আওয়ামী লীগ। তখন বাংলার মাটিতে আওয়ামী ইতিহাস, স্বাধীন বাংলার সত্যিকারের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুচে ফেলতে তৎপর ছিল স্বাধীনতা বিরোধীচক্র। তখন জননেত্রী শেখ হাসিনার পাশে কে ছিল? বর্তমান সংসদের এম.পি মন্ত্রীদের মধ্যে কতজন ছিল যারা বন্দুকের নলের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল? জেনারেল জিয়া থেকে এরশাদ হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে কিংবা মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন এর সময় কতজন নেতা রাজপথে মিছিল নিয়ে গিয়েছিল? কারা কারা ছিল সেদিন রাজপথের আন্দোলনে, রক্তের হোলি খেলায়?
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বেগম আইভী রহমান , মেয়র হানিফ, বঙ্গবন্ধু পাগল আদা চাচা জীবন বাজি রেখে, নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে প্রাণপ্রিয় নেত্রীকে বাঁচাতে যখন মানবপ্রাচীর করে দাঁড়ায় তখন তো কোন সরকারী অবসরপ্রাপ্ত আমলা কে আমরা দেখিনি, তখন কোন রিটায়ার্ড অফিসার, কোন বিচারপতি, কোন অধিপতি, শিল্পপতি, ভগ্নিপতি কে দেখিনি। দেখেছি বঙ্গবন্ধুর পরিক্ষীত সৈনিকদের, দেখেছি রাজপথে রাজনীতি করে মামলা হামলায় নির্যাতিত তৃণমূলের নেতাদের। দেখেছি ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ এর সত্যিকারের বীরদের যারা রাজনীতির জন্য রাজনীতি করে। অবসর কাটানোর জন্য, অর্থ প্রতিপত্তির জন্য, নাম কামানোর জন্য নয়। ১/১১ এর সময় যখন আওয়ামী লীগকে পুনরায় ধ্বংস করার খেলা চলেছিল তখনও তো এই পার্টটাইম রাজনীতিবিদদের দেখিনি। দেখেছি জিল্লুর রহমান কে, আব্দুল হামিদ এডভোকেট, দেখেছি সৈয়দ আশরাফকে, দেখেছি সোহেল তাজকে, দেখেছি মোহাম্মদ নাসিম, খায়রুজ্জামান লিটন, আজিজুস সামাদ ডন, আবুল হাসনাত আবদুল্লা, সাহারা খাতুন, আনিসুল হক সহ ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসা সব নেতাদের এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল সদস্যদের কই, তখন তো এই সব হাইব্রিড, বাম্পার ফলনশীল প্রজাতিকে দেখিনি।
আপনি ঠিকই বলেছেন স্যার। সুসময়ের কাউয়ারা এখন কোকিলে রুপান্তরিত হয়েছে। যা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য বড় বাঁধা। রাজনীতি যদি রাজনীতিবিদদের হাতে না যায় তাহলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয় যেমন সম্ভব নয় রাজনীতির গুনগত মান পরিবর্তনের। আপনি যে কথাগুলো বলেছেন এটা সারা বাংলাদেশের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনের কথা। জননেত্রী শেখ হাসিনার ভাষায় যদি বলি “ তৃণমূল আওয়ামী লীগ কখনও বেঈমানী করে না। বেঈমানী করে নেতারা।” রাজপথ থেকে উঠে আসা কোন নেতা তার কর্মীদের সাথে বেঈমানী করেনি, করতে পারে না। বেঈমানী করে এই সব হাইব্রিড প্রজাতির নেতারা। যাদের জন্য আজ রাজনীতি কলুষিত।
শ্রীঘই এ অবস্থা থেকে রাজনীতি মুক্তি পাক, রাজনীতিবিদের হাতে রাজনীতি ফিরে আসুক কারণ সঠিক নেতৃত্বই পারে দেশকে উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে। যার জলন্ত প্রমাণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং উন্নয়নের মহাসড়কে অবস্থান করা আজকের বাংলাদেশ।
লেখক: মোবা: 01716099475



















