০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এক যে আছে মজার দেশ

  • Update Time : ০৩:৪৫:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মুহাম্মদ মুনতাসির অালী

 

পরিবর্তন সময়ের দাবী। বিবর্তন এক প্রাকৃতিক নিয়ম। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষে তা রোধ করা যায় না। বিকাশমান কোনো ধারাকে আটকানো উচিত না। তাই বলে বন্য আদিমতা কোন বিকাশমান সভ্যতা হতে পারে না। বৃন্ত ছেড়া ফুলের সৌরভ সুভাস বেশীক্ষণ থাকে না।

প্রাণবন্ত কল্পনাশক্তির প্রয়োগে স্বচ্ছ ভাবনা আর বাস্তবতার মিশেলে মানুষ ক্রমশই সংকীর্ণ আর ক্ষুদ্র গন্ডিতে আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সব কিছু ছোট হয়ে আসছে। ছোট হয়ে আসছে আমাদের চিন্তা-মন ও সংস্কৃতির পরিধিও।

মহাসমারোহে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনে কিছু লোক ব্যস্ত। চারুকলায় পহেলা বৈশাখে মুখোশধারী কতগুলো বন্যপ্রাণী আমি দেখে আসছি ১৯৯৫ সাল থেকে। কিন্তু ১৬ কোটি বাংলাদেশী বাঙলীর মধ্যে এ সংখ্যা এত অল্প তা শতকরা হিসেবে আসে না। এত বছর যাবত এরা মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করে, তা কয়েক কিলোমিটার দূরে বুড়িগঙ্গার পাড়েও ছড়িয়ে দিতে পারনি, গ্রাম বাংলায় তো দূরের কথা। এই বন্যেরা এবার কমরেড এর গার্দন চড়ে একটু ঘুরে বেড়াতে চায়। তাদের মনে রাখা উচিত সংস্কৃতি কোনো আরোপিত বিষয় নয়, পারস্পরিক মূল্যবোধ থেকে জাগ্রত ও বিকশিত একটি বিষয়।

কতিপয় রাতজাগা দিন কানা প্রশ্ন করছেন, মঙ্গল শোভাযাত্রায় অসুবিধা কী? এরা নিজেদের অসাম্প্রদায়িক বাঙালী পরিচয়ে গর্ববোধ করেন।

অসুবিধা হলো, আপনি আমার হাজার বছরের লালিত নববর্ষের উৎসবকে ছুরিকাহত করছেন, যা এ দেশের জনগণে উৎসবের সাথে কোনো মিল নেই। সুন্দর বনের সব প্রাণী চারুকলা কিংবা গণমাধ্যমে হাজির হলেও টাঙগুয়ার হাওরবাসী দুঃখ ঘুচিয়ে হালখাতা শুভ হয় না। বরং জাতির সাথে এ এক উপহাস।

ছড়াটি সারাদিন খুব মনে পড়েছে।

“এক যে আছে মজার দেশ
সব রকমে ভালো ,
রাত্তিরেতে বেজায় রোদ ,
দিনে চাঁদের আলো ।
………………………..

পায়ে ছাতা দিয়ে লোকে
হাতে হেঁটে চলে !
ডাঙায় ভাসে নৌকা জাহাজ ,
গাড়ি ছোটে জলে !”

 

লেখাটি লেখকের

ফেইসবুক টাইমলাইন থেকে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

এক যে আছে মজার দেশ

Update Time : ০৩:৪৫:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৭

মুহাম্মদ মুনতাসির অালী

 

পরিবর্তন সময়ের দাবী। বিবর্তন এক প্রাকৃতিক নিয়ম। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষে তা রোধ করা যায় না। বিকাশমান কোনো ধারাকে আটকানো উচিত না। তাই বলে বন্য আদিমতা কোন বিকাশমান সভ্যতা হতে পারে না। বৃন্ত ছেড়া ফুলের সৌরভ সুভাস বেশীক্ষণ থাকে না।

প্রাণবন্ত কল্পনাশক্তির প্রয়োগে স্বচ্ছ ভাবনা আর বাস্তবতার মিশেলে মানুষ ক্রমশই সংকীর্ণ আর ক্ষুদ্র গন্ডিতে আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সব কিছু ছোট হয়ে আসছে। ছোট হয়ে আসছে আমাদের চিন্তা-মন ও সংস্কৃতির পরিধিও।

মহাসমারোহে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনে কিছু লোক ব্যস্ত। চারুকলায় পহেলা বৈশাখে মুখোশধারী কতগুলো বন্যপ্রাণী আমি দেখে আসছি ১৯৯৫ সাল থেকে। কিন্তু ১৬ কোটি বাংলাদেশী বাঙলীর মধ্যে এ সংখ্যা এত অল্প তা শতকরা হিসেবে আসে না। এত বছর যাবত এরা মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করে, তা কয়েক কিলোমিটার দূরে বুড়িগঙ্গার পাড়েও ছড়িয়ে দিতে পারনি, গ্রাম বাংলায় তো দূরের কথা। এই বন্যেরা এবার কমরেড এর গার্দন চড়ে একটু ঘুরে বেড়াতে চায়। তাদের মনে রাখা উচিত সংস্কৃতি কোনো আরোপিত বিষয় নয়, পারস্পরিক মূল্যবোধ থেকে জাগ্রত ও বিকশিত একটি বিষয়।

কতিপয় রাতজাগা দিন কানা প্রশ্ন করছেন, মঙ্গল শোভাযাত্রায় অসুবিধা কী? এরা নিজেদের অসাম্প্রদায়িক বাঙালী পরিচয়ে গর্ববোধ করেন।

অসুবিধা হলো, আপনি আমার হাজার বছরের লালিত নববর্ষের উৎসবকে ছুরিকাহত করছেন, যা এ দেশের জনগণে উৎসবের সাথে কোনো মিল নেই। সুন্দর বনের সব প্রাণী চারুকলা কিংবা গণমাধ্যমে হাজির হলেও টাঙগুয়ার হাওরবাসী দুঃখ ঘুচিয়ে হালখাতা শুভ হয় না। বরং জাতির সাথে এ এক উপহাস।

ছড়াটি সারাদিন খুব মনে পড়েছে।

“এক যে আছে মজার দেশ
সব রকমে ভালো ,
রাত্তিরেতে বেজায় রোদ ,
দিনে চাঁদের আলো ।
………………………..

পায়ে ছাতা দিয়ে লোকে
হাতে হেঁটে চলে !
ডাঙায় ভাসে নৌকা জাহাজ ,
গাড়ি ছোটে জলে !”

 

লেখাটি লেখকের

ফেইসবুক টাইমলাইন থেকে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ