০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০দলীয় জোটের ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের কর্মসূচি!

  • Update Time : ০৪:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা :: নানান করনে বিশ দলীয় জোটের বিতরে মান-অভিমান চলছে। মান-অভিমান মাঝে মধ্য প্রকাশও হয় জোটের বৈঠকে। সম্প্রতি জোটের মহাসচিব পর্যায়ে জরুরী বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অালমগীরকে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ লেখক- গবেষক ড. অাহমদ অাবদুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, জোটের এই দূরত্বের কারনে দায়ি অাপনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অালমগীর।

 

অাপনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অালমগীর মহাসচিব পর্যায়ে জোটের নেতৃবৃন্দকে সঠিক সময়ে ই-মেইল বার্তা পাঠাতে পারেননি, যার কারনে অাজ জোটের বিতরে মান-অভিমান চলছে (দূরত্ব)। খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ লেখক- গবেষক ড. অাহমদ অাবদুল কাদের, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অালমগীরকে মহাসচিব পর্যায়ে জোটের বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশের পর পর বিশ দলীয় জোটের ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের বিতরে চলছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অতিথের ন্যায় জাতীয় সার্থে ২০দলীয় জোটের ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে “সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য” গঠনের চিন্তা। অার গত রমজান মাসে ছাত্র মজলিসসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষথেকে ছাত্রঐক্যের নেতৃবৃন্দের সম্মানে অায়োজন করা হয় ইফতার মাহফিল এবং ঈদ উপলক্ষে ছাত্রঐক্যের নেতৃবৃন্দকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রেরন করা হয় ঈদের কার্ড। সব মিলিয়ে দেশের তৃণমূল থেকে অাওয়াজ উঠছে ছাত্রঐক্যের সমন্বয়ে অান্দোলের কর্মসুচি না অাসলে এসব কোন কর্মসুচি সফল হবেনা।

 

ছাত্রসংগঠনগুলো ভেতরে-ভেতরে দায়িত্বশীল পর্যায়ে যোগাযোগ হলেও তা অনেকটাই অকার্যকর। ২০০০-২০০১ সালে তৎকালীন সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের নেতারা রাজপথে অগ্রভাগে থাকলেও বিগত ১০ বছরে এই ঐক্য জোটবদ্ধভাবে বসতেও পারেনি।

 

ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতসহ অন্যান্য শরিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ, বৈঠক হলেও ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা একে-অন্যের মুখও দেখেন না। এই সংগঠনগুলোর মধ্যে নেতৃত্বস্থানীয় হিসেবে ছাত্রদল থাকলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। দ্বিতীয় বৃহত্তম সংগঠন ছাত্রশিবির ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে অনিয়মিতভাবে সম্পর্ক রক্ষা করলেও তা আদতেই নিজেদের স্বার্থে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় ডাক না পেয়ে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

 

বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে স্পষ্ট হওয়া গেছে, ছাত্রদলের অনীহার কারণেই ছাত্রঐক্য সংগঠিত করা যায়নি। ২০০০ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তৎকালীন ছাত্রনেতাদের মধ্যে বোঝাপড়া পরিষ্কার ছিল বলে ওই সময় আন্দোলন-কর্মসূচিতে ছাত্রঐক্যের সম্মিলিত ভূমিকা ছিল।পরবর্তীতে চার দলীয় জোট সরকার গঠনের পর সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়। এরপর আর সক্রিয় হয়নি ছাত্রঐক্য।

 

২০০০ সালে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি মনে করেন, ‘এখনকার ছাত্র সংগঠনগুলো আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে পারছে না, এটা ঠিক। তবে তাদেরকে সিরিয়াসলি চেষ্টা করতে করতে হবে। কারণ, তাদেরকে ভূমিকা রাখতেই হবে। এজন্য আমরা এই দেশের ছাত্রসমাজের কাছে আশা করি, তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে শিগগিরই একটা পদক্ষেপ নেবে।’

 

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দেশের এমন একটা সরকার আছে, যারা সারা দেশে মানুষের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এর থেকে ছাত্রসমাজও বাদ পড়ছে না। সুতরাং, এই অত্যাচারী সরকারকে সরাতে হলে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই। আর আন্দোলনের মূল ভ্যানর্গাড হলো এই দেশের ছাত্রসমাজ।’

 

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, ‘২০ দলীয় জোট নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে যেভাবে আন্দোলন-কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমরা সবাই একমত। আমাদের হয়তো এক প্ল্যাটফরম থেকে কর্মসূচি নেই, কিন্তু নিজ-নিজ জায়গা থেকে প্রত্যেকেই কথা বলছে। সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য এখন দৃশ্যমান নেই, এটা ঠিক। কিন্তু আগামী দিনের আন্দোলন-কর্মসূচিকে সামনে রেখে যুগপৎভাবে কাজ হবে।’

 

ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘ছাত্রঐক্য বাতিল হয়নি, এখনও আছে। এটাকে কার্যকর করা সময়ের অনিবার্য দাবি। কিন্তু এখন দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে আমাদের কার্যক্রম যেভাবে দরকার ছিল, সেভাবে হয়তো নেই। কিন্তু যোগাযোগ আছে, কথা হয়, আলোচনা হয়। আগামী দিনে আন্দোলন সামনে রেখে ছাত্রঐক্য জোরালো হবে, দৃশ্যমান হবে— এ প্রত্যাশা সব ছাত্রসংগঠনের।’

 

ছাত্রশিবিরের একজন দায়িত্বশীল অভিযোগ— ২০১২ সালে ছাত্রঐক্য কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। যদিও ছাত্রদলের অনীহার কারণে ওই উদ্যোগ আর কার্যকর হয়নি।

 

ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইলিয়াস আহমদ বলেন, ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য কার্যকর করতে আমরা তো ইফতার করেছি। আলোচনাও হয় কখনও। কিন্তু কার্যকর হয়নি। আমরা আমাদের সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ঐক্য কার্যকর করতে হবে। ২০ দলীয় জোটভুক্ত ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিয়ে ঐক্য করে একই প্ল্যাটফরমে তৎপর হওয়ার উদ্যোগ নেবো।’

 

ইলিয়াস আহমদ আরও বলেন, ‘ছাত্রদলের যোগাযোগ হয় না। শিবিরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ হয়। ইন্টারনাল যোগাযোগ হয়, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়।’

 

দেশের বিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অভিমত: অাগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অতিথের ন্যায় জাতীয় সার্থে ২০দলীয় জোটের ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে “সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের” ডাকে সরকার বিরোধী অান্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা অাসতে পারে অচিরেই।

 

সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের সঙ্গে আরও আছে— ছাত্র মজলিস, জাগপা ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্রদল, ছাত্রকল্যাণ পার্টি, জাতীয় ছাত্রসমাজ (কাজী জাফর), ছাত্র জমিয়ত, ইসলামী ছাত্রসমাজ দুই অংশ, ন্যাশনাল ছাত্র পার্টি, মুসলিম ছাত্র লীগ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় ছাত্র পার্টি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০দলীয় জোটের ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের কর্মসূচি!

Update Time : ০৪:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা :: নানান করনে বিশ দলীয় জোটের বিতরে মান-অভিমান চলছে। মান-অভিমান মাঝে মধ্য প্রকাশও হয় জোটের বৈঠকে। সম্প্রতি জোটের মহাসচিব পর্যায়ে জরুরী বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অালমগীরকে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ লেখক- গবেষক ড. অাহমদ অাবদুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, জোটের এই দূরত্বের কারনে দায়ি অাপনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অালমগীর।

 

অাপনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অালমগীর মহাসচিব পর্যায়ে জোটের নেতৃবৃন্দকে সঠিক সময়ে ই-মেইল বার্তা পাঠাতে পারেননি, যার কারনে অাজ জোটের বিতরে মান-অভিমান চলছে (দূরত্ব)। খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ লেখক- গবেষক ড. অাহমদ অাবদুল কাদের, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অালমগীরকে মহাসচিব পর্যায়ে জোটের বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশের পর পর বিশ দলীয় জোটের ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের বিতরে চলছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অতিথের ন্যায় জাতীয় সার্থে ২০দলীয় জোটের ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে “সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য” গঠনের চিন্তা। অার গত রমজান মাসে ছাত্র মজলিসসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষথেকে ছাত্রঐক্যের নেতৃবৃন্দের সম্মানে অায়োজন করা হয় ইফতার মাহফিল এবং ঈদ উপলক্ষে ছাত্রঐক্যের নেতৃবৃন্দকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রেরন করা হয় ঈদের কার্ড। সব মিলিয়ে দেশের তৃণমূল থেকে অাওয়াজ উঠছে ছাত্রঐক্যের সমন্বয়ে অান্দোলের কর্মসুচি না অাসলে এসব কোন কর্মসুচি সফল হবেনা।

 

ছাত্রসংগঠনগুলো ভেতরে-ভেতরে দায়িত্বশীল পর্যায়ে যোগাযোগ হলেও তা অনেকটাই অকার্যকর। ২০০০-২০০১ সালে তৎকালীন সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের নেতারা রাজপথে অগ্রভাগে থাকলেও বিগত ১০ বছরে এই ঐক্য জোটবদ্ধভাবে বসতেও পারেনি।

 

ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতসহ অন্যান্য শরিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ, বৈঠক হলেও ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা একে-অন্যের মুখও দেখেন না। এই সংগঠনগুলোর মধ্যে নেতৃত্বস্থানীয় হিসেবে ছাত্রদল থাকলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। দ্বিতীয় বৃহত্তম সংগঠন ছাত্রশিবির ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে অনিয়মিতভাবে সম্পর্ক রক্ষা করলেও তা আদতেই নিজেদের স্বার্থে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় ডাক না পেয়ে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

 

বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে স্পষ্ট হওয়া গেছে, ছাত্রদলের অনীহার কারণেই ছাত্রঐক্য সংগঠিত করা যায়নি। ২০০০ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তৎকালীন ছাত্রনেতাদের মধ্যে বোঝাপড়া পরিষ্কার ছিল বলে ওই সময় আন্দোলন-কর্মসূচিতে ছাত্রঐক্যের সম্মিলিত ভূমিকা ছিল।পরবর্তীতে চার দলীয় জোট সরকার গঠনের পর সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়। এরপর আর সক্রিয় হয়নি ছাত্রঐক্য।

 

২০০০ সালে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি মনে করেন, ‘এখনকার ছাত্র সংগঠনগুলো আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে পারছে না, এটা ঠিক। তবে তাদেরকে সিরিয়াসলি চেষ্টা করতে করতে হবে। কারণ, তাদেরকে ভূমিকা রাখতেই হবে। এজন্য আমরা এই দেশের ছাত্রসমাজের কাছে আশা করি, তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে শিগগিরই একটা পদক্ষেপ নেবে।’

 

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দেশের এমন একটা সরকার আছে, যারা সারা দেশে মানুষের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এর থেকে ছাত্রসমাজও বাদ পড়ছে না। সুতরাং, এই অত্যাচারী সরকারকে সরাতে হলে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই। আর আন্দোলনের মূল ভ্যানর্গাড হলো এই দেশের ছাত্রসমাজ।’

 

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, ‘২০ দলীয় জোট নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে যেভাবে আন্দোলন-কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমরা সবাই একমত। আমাদের হয়তো এক প্ল্যাটফরম থেকে কর্মসূচি নেই, কিন্তু নিজ-নিজ জায়গা থেকে প্রত্যেকেই কথা বলছে। সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য এখন দৃশ্যমান নেই, এটা ঠিক। কিন্তু আগামী দিনের আন্দোলন-কর্মসূচিকে সামনে রেখে যুগপৎভাবে কাজ হবে।’

 

ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘ছাত্রঐক্য বাতিল হয়নি, এখনও আছে। এটাকে কার্যকর করা সময়ের অনিবার্য দাবি। কিন্তু এখন দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে আমাদের কার্যক্রম যেভাবে দরকার ছিল, সেভাবে হয়তো নেই। কিন্তু যোগাযোগ আছে, কথা হয়, আলোচনা হয়। আগামী দিনে আন্দোলন সামনে রেখে ছাত্রঐক্য জোরালো হবে, দৃশ্যমান হবে— এ প্রত্যাশা সব ছাত্রসংগঠনের।’

 

ছাত্রশিবিরের একজন দায়িত্বশীল অভিযোগ— ২০১২ সালে ছাত্রঐক্য কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। যদিও ছাত্রদলের অনীহার কারণে ওই উদ্যোগ আর কার্যকর হয়নি।

 

ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইলিয়াস আহমদ বলেন, ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য কার্যকর করতে আমরা তো ইফতার করেছি। আলোচনাও হয় কখনও। কিন্তু কার্যকর হয়নি। আমরা আমাদের সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ঐক্য কার্যকর করতে হবে। ২০ দলীয় জোটভুক্ত ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিয়ে ঐক্য করে একই প্ল্যাটফরমে তৎপর হওয়ার উদ্যোগ নেবো।’

 

ইলিয়াস আহমদ আরও বলেন, ‘ছাত্রদলের যোগাযোগ হয় না। শিবিরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ হয়। ইন্টারনাল যোগাযোগ হয়, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়।’

 

দেশের বিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অভিমত: অাগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অতিথের ন্যায় জাতীয় সার্থে ২০দলীয় জোটের ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে “সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের” ডাকে সরকার বিরোধী অান্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা অাসতে পারে অচিরেই।

 

সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের সঙ্গে আরও আছে— ছাত্র মজলিস, জাগপা ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্রদল, ছাত্রকল্যাণ পার্টি, জাতীয় ছাত্রসমাজ (কাজী জাফর), ছাত্র জমিয়ত, ইসলামী ছাত্রসমাজ দুই অংশ, ন্যাশনাল ছাত্র পার্টি, মুসলিম ছাত্র লীগ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় ছাত্র পার্টি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ