১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং প্রাসঙ্গিক কিছুকথা

  • Update Time : ০১:২৩:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

সৈয়দ মবনু ::

 

সকল জল্পনা-কল্পনাকে পিছনে ফেলে অবশেষে কওমী মাদরাসার সনদের সরকারী স্বীকৃতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে পাশ হলো। বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ। সরকার মানে এখানে আওয়ামীলীগের মন্ত্রী-এমপি এবং এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই। তবে বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে।

 

কওমী মাদরাসার স্বীকৃতির ব্যাপারে বিগত বিএনপি সরকারের সময় থেকে অনেক চেষ্টা-তদবির চলছে। বিএনপি সরকার মানে চার দলের সরকার। এই চার দলে শায়খুলহাদিস আল্লামা আজিজুল হকের নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোট থাকলেও মূলত সরকার ছিলো বিএনপি-জামায়াতের, তা প্রমাণিত হয় যখন কওমীপন্থী দলগুলো বিশেষ করে শায়খুলহাদিস আল্লামা আজিজুল হক (র.) কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির দাবী করেন। অবশেষে তিনি মুক্তাঙ্গনে ধর্মঘটও করেন। কিন্তু বিফল হলেন। কারণ হিসেবে স্বয়ং শায়খুলহাদিস মনে করেন, বিএনপি সরকারে জামায়াতের ভূত থাকায় তা সম্ভব হয়নি। (দৈনিক যায়যায়দিন, ৮ আগষ্ট ২০০৬)।
বেশিরভাগ কওমী আলেম এবং ছাত্ররা এখনও বিশ্বাস করেন বিএনপি সরকারের সময় কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি না পাওয়ার মূল কারণ পিছন থেকে খেলেছে জামায়াতে ইসলামী নামক দলটি। তারা বিএনপিকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়েছে কওমী মাদরাসারকে স্বীকৃতি না দিতে। বিএনপি সরকারের সময় কওমী মাদরাসাগুলোকে জঙ্গি সূত্রে আবদ্ধ করে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য অনেকে জামায়াতকে মূল দায়ী মনে করেন। তখন বিএনপি সরকারে জামায়াতের দুজন মন্ত্রী ছিলেন এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটিতে জামায়াতের লোকেরা ছিলো। অবশেষে শায়খুলহাদিস বাধ্য হয়ে চারদল থেকে বেরিয়ে কওমীর সনদের স্বীকৃতির দাবীতে আওয়ামীলীগের সাথে নির্বাচনী চুক্তি করেছিলেন। সেদিন জামায়াত এবং জামায়াতি চিন্তার কেউ কেউ শায়খুলহাদিসকে আওয়ামীলীগের দালাল ইত্যাদি বলে গালি কিংবা নিন্দা করলেও আজ কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি লাভের পর কওমীপন্থীরা কৃতজ্ঞতার সাথে শায়খুলহাদিস আল্লামা আজিজুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। আমরা মনে করি তা এজন্য যে, সেদিন দালালি (শত্রু পক্ষের ভাষা) করেও শায়খুলহাদিস যে মুনাফিকদের ব্যাপারে মানুষের বন্ধ চোখ খুলে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

 

আল্লামা আহমদ শফির হেফাজতের আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতে মূল ভূমিকা রাখেন বিএনপি-জামায়াত জোটের সাথে সম্পর্কিত হেফাজতি গ্রুপগুলো, তা কি অস্বীকার করা যাবে? আল্লামা আহমদ শফির কর্মসূচীতে ৫ মে শাপলা চত্বরে যাওয়ার কথা ছিলো না। কথা ছিলো ঢাকার প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচী। আল্লামা আহমদ শফিকে লালবাগ মাদরাসার দফতরে আটকিয়ে তার অজান্তে সবাইকে শাপলা চত্বরে নিয়ে এসেছিলো কারা? আল্লামা আহমদ শফির নাস্তিক-মুরতাদ বিরোধী আন্দোলনকে কারা লম্বা লম্বা বক্তব্য দিয়ে সরকার পতনের আন্দোলনে নিয়ে গিয়ে এই ঘটনার সূত্রপাত করেছিলো? কারা মানুষকে মৃত্যুর মূখে রেখে গোপনে শাপলা চত্বর ছেড়ে ছিলো? ইত্যাদি প্রশ্নগুলোর উত্তর পেলে জামায়াত-বিএনপি এবং তাদের মিত্র কওমীপন্থীদের ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে যাবে। সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ সঠিক রিপোট দিতে সক্ষম হওয়ায় সরকার আহমদ শফিকে স্বসম্মানে তার গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দিয়েছিলো। এই পৌঁছিয়ে দেওয়া এবং পরবর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আহমদ শফির প্রতি সসম্মান প্রদর্শনকে যারা দালালি ইত্যাদি বলে গালাগালি করেছিলেন তাদের মূখে আজ কালি লেগেছে কওমীর সনদের সরকারি স্বীকৃতি থেকে।

 

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে জামায়াত এবং জামায়াতি চিন্তার লোকেরা পছন্দ করেন না, কারণ তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা আলেম। এদেশে অনেক আলেম আছেন যারা ফিদায়ে মিল্লাত আল্লামা সৈয়দ আসআদ মাদানী (র.)-কে সম্মান করেন, কিন্তু সম্মান করেন না তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণকারী শিষ্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ তো মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছেন আল্লামা সৈয়দ আসআদ মাদানী (র.)-এর ফতোয়ার ভিত্তিতে। এজন্য আল্লামা সৈয়দ আসআদ মাদানী (র.)-কে শেখ হাসিনা সরকার মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননাও দিয়েছে। জামায়াতের সাথে মাওলানা মাসউদের মূল সংঘাত তিনটি,

১. উলামায়ে দেওবন্দ মনে করেন জামায়াত একটি পথভ্রষ্ট আকিদার দল। এব্যাপারে আলেমদের অসংখ্য বই বাজারে আছে।
২. একাত্তরে জামায়াত ছিলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে আর মাওলানা মাসউদ ছিলেন সরাসরি মুক্তিযোদ্ধা
৩. জামায়াত-বিএনপি সরকারের সময় জামায়াত ষড়যন্ত্র করে মাওলানা মাসউদের উপর জঙ্গি অপবাদ দিয়ে তাকে জেলে বন্দি করে আল্লামা সৈয়দ আসআদ মাদানী (র.)-এর চিন্তায় গঠিত তার শিক্ষা আন্দোলন ইকরার সকল ফান্ড জব্ধ ও কর্মসূচীকে বন্ধ করা।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ এই তিন কারণে সর্বদা জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকেন বলে আমাদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট। কওমী মাদরাসার স্বীকৃতিতে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ-এর অবদান কোনদিন অস্বীকার করা যাবে না। কোন কোন কওমী ওয়ালা যখন মাওলানা মাসউদকে গালাগালি করেন তখন পর্যবেক্ষন করলে দেখতে পাবেন যিনি এই গালাগালিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি কোন না কোনভাবে জামায়াত কর্তৃক প্রভাবিত। কওমীর মানুষেরা আজ স্বীকৃতি পেয়ে কৃতজ্ঞ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ-এর কাছেও তার লিয়াজু তৈরির জন্য। কৃতজ্ঞ সবাই মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (র.)-এর ছেলে মাওলানা রুহুল আমিন ও যাত্রবাড়ী মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসানের কাছেও। তারা দুজনও এই স্বীকৃতির জন্য কম লিয়াজু তৈরি করেননি। কওমীর আলেম সমাজ কওমী সনদের স্বীকৃতির জন্য যুগ যুগ কৃতজ্ঞ থাকবে সরকারের সাথে লিয়াজু বা দালালী (শত্রু পক্ষের ভাষা) করে যারা আজ স্বীকৃতি এনেদিয়েছেন তাদের সবার প্রতি।
যারা এই স্বীকৃতিকে থামাতে বিভিন্ন রকম চেষ্টা করেছেন তাদের হেদায়তের জন্য দোয়া রইলো। যারা স্বীকৃতির পর এতে বড় কিংবা ছোট রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন কিংবা দেখছেন তাদের কাছে কথা হলো এই রাজনীতি তো আপনারাও করতে পারতেন? তা হলে স্বীকার করুন রাজনীতিতে আপনারা অনভিজ্ঞ। বল তো আপনাদের পায়ে ছিলো, আপনারা অফসাইট করে বল আওয়ামীলীগের পায়ে দিলেন এবং তারা গোল দিলো। এখন ছিল্লিয়ে লাভ নেই। কওমীর ইতিহাসে আওয়ামীলীগ সরকার আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তা আর কেউ মুচতে পারবে না। কওমীওয়ালারা যদি আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে ভোট দেয় তবু আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তারা তা দিতেই পারে। ইসলামী আকিদা থেকে বিএনপি এবং আওয়ামীলীগে কোন ব্যবধান নেই তা এখন সকল ইসলামপন্থী-ই বুঝেন। জামায়াতে ইসলামও তা বুঝেন বলে একবার আওয়ামীলীগের সাথে রাজনৈতিক জোটও করেছে বিএনপির বিরুদ্ধে। ক্ষমতার রাজনীতিতে আদর্শ বলতে কিছু নেই। ক্ষমতা হলো মূল। ক্ষমতার জন্য জামায়াত যেভাবে আওয়ামীলীগের সাথে জোট করেছিলো সেভাবে শায়খুলহাদিসও করেছেন। আগামী নির্বাচনেও যদি এমনি কওমীর কেউ কেউ আওয়ামীলীগের সাথে মিশে যান তাতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশই হবে, আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং প্রাসঙ্গিক কিছুকথা

Update Time : ০১:২৩:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সৈয়দ মবনু ::

 

সকল জল্পনা-কল্পনাকে পিছনে ফেলে অবশেষে কওমী মাদরাসার সনদের সরকারী স্বীকৃতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে পাশ হলো। বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ। সরকার মানে এখানে আওয়ামীলীগের মন্ত্রী-এমপি এবং এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই। তবে বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে।

 

কওমী মাদরাসার স্বীকৃতির ব্যাপারে বিগত বিএনপি সরকারের সময় থেকে অনেক চেষ্টা-তদবির চলছে। বিএনপি সরকার মানে চার দলের সরকার। এই চার দলে শায়খুলহাদিস আল্লামা আজিজুল হকের নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোট থাকলেও মূলত সরকার ছিলো বিএনপি-জামায়াতের, তা প্রমাণিত হয় যখন কওমীপন্থী দলগুলো বিশেষ করে শায়খুলহাদিস আল্লামা আজিজুল হক (র.) কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির দাবী করেন। অবশেষে তিনি মুক্তাঙ্গনে ধর্মঘটও করেন। কিন্তু বিফল হলেন। কারণ হিসেবে স্বয়ং শায়খুলহাদিস মনে করেন, বিএনপি সরকারে জামায়াতের ভূত থাকায় তা সম্ভব হয়নি। (দৈনিক যায়যায়দিন, ৮ আগষ্ট ২০০৬)।
বেশিরভাগ কওমী আলেম এবং ছাত্ররা এখনও বিশ্বাস করেন বিএনপি সরকারের সময় কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি না পাওয়ার মূল কারণ পিছন থেকে খেলেছে জামায়াতে ইসলামী নামক দলটি। তারা বিএনপিকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়েছে কওমী মাদরাসারকে স্বীকৃতি না দিতে। বিএনপি সরকারের সময় কওমী মাদরাসাগুলোকে জঙ্গি সূত্রে আবদ্ধ করে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য অনেকে জামায়াতকে মূল দায়ী মনে করেন। তখন বিএনপি সরকারে জামায়াতের দুজন মন্ত্রী ছিলেন এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটিতে জামায়াতের লোকেরা ছিলো। অবশেষে শায়খুলহাদিস বাধ্য হয়ে চারদল থেকে বেরিয়ে কওমীর সনদের স্বীকৃতির দাবীতে আওয়ামীলীগের সাথে নির্বাচনী চুক্তি করেছিলেন। সেদিন জামায়াত এবং জামায়াতি চিন্তার কেউ কেউ শায়খুলহাদিসকে আওয়ামীলীগের দালাল ইত্যাদি বলে গালি কিংবা নিন্দা করলেও আজ কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি লাভের পর কওমীপন্থীরা কৃতজ্ঞতার সাথে শায়খুলহাদিস আল্লামা আজিজুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। আমরা মনে করি তা এজন্য যে, সেদিন দালালি (শত্রু পক্ষের ভাষা) করেও শায়খুলহাদিস যে মুনাফিকদের ব্যাপারে মানুষের বন্ধ চোখ খুলে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

 

আল্লামা আহমদ শফির হেফাজতের আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতে মূল ভূমিকা রাখেন বিএনপি-জামায়াত জোটের সাথে সম্পর্কিত হেফাজতি গ্রুপগুলো, তা কি অস্বীকার করা যাবে? আল্লামা আহমদ শফির কর্মসূচীতে ৫ মে শাপলা চত্বরে যাওয়ার কথা ছিলো না। কথা ছিলো ঢাকার প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচী। আল্লামা আহমদ শফিকে লালবাগ মাদরাসার দফতরে আটকিয়ে তার অজান্তে সবাইকে শাপলা চত্বরে নিয়ে এসেছিলো কারা? আল্লামা আহমদ শফির নাস্তিক-মুরতাদ বিরোধী আন্দোলনকে কারা লম্বা লম্বা বক্তব্য দিয়ে সরকার পতনের আন্দোলনে নিয়ে গিয়ে এই ঘটনার সূত্রপাত করেছিলো? কারা মানুষকে মৃত্যুর মূখে রেখে গোপনে শাপলা চত্বর ছেড়ে ছিলো? ইত্যাদি প্রশ্নগুলোর উত্তর পেলে জামায়াত-বিএনপি এবং তাদের মিত্র কওমীপন্থীদের ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে যাবে। সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ সঠিক রিপোট দিতে সক্ষম হওয়ায় সরকার আহমদ শফিকে স্বসম্মানে তার গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দিয়েছিলো। এই পৌঁছিয়ে দেওয়া এবং পরবর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আহমদ শফির প্রতি সসম্মান প্রদর্শনকে যারা দালালি ইত্যাদি বলে গালাগালি করেছিলেন তাদের মূখে আজ কালি লেগেছে কওমীর সনদের সরকারি স্বীকৃতি থেকে।

 

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে জামায়াত এবং জামায়াতি চিন্তার লোকেরা পছন্দ করেন না, কারণ তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা আলেম। এদেশে অনেক আলেম আছেন যারা ফিদায়ে মিল্লাত আল্লামা সৈয়দ আসআদ মাদানী (র.)-কে সম্মান করেন, কিন্তু সম্মান করেন না তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণকারী শিষ্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ তো মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছেন আল্লামা সৈয়দ আসআদ মাদানী (র.)-এর ফতোয়ার ভিত্তিতে। এজন্য আল্লামা সৈয়দ আসআদ মাদানী (র.)-কে শেখ হাসিনা সরকার মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননাও দিয়েছে। জামায়াতের সাথে মাওলানা মাসউদের মূল সংঘাত তিনটি,

১. উলামায়ে দেওবন্দ মনে করেন জামায়াত একটি পথভ্রষ্ট আকিদার দল। এব্যাপারে আলেমদের অসংখ্য বই বাজারে আছে।
২. একাত্তরে জামায়াত ছিলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে আর মাওলানা মাসউদ ছিলেন সরাসরি মুক্তিযোদ্ধা
৩. জামায়াত-বিএনপি সরকারের সময় জামায়াত ষড়যন্ত্র করে মাওলানা মাসউদের উপর জঙ্গি অপবাদ দিয়ে তাকে জেলে বন্দি করে আল্লামা সৈয়দ আসআদ মাদানী (র.)-এর চিন্তায় গঠিত তার শিক্ষা আন্দোলন ইকরার সকল ফান্ড জব্ধ ও কর্মসূচীকে বন্ধ করা।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ এই তিন কারণে সর্বদা জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকেন বলে আমাদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট। কওমী মাদরাসার স্বীকৃতিতে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ-এর অবদান কোনদিন অস্বীকার করা যাবে না। কোন কোন কওমী ওয়ালা যখন মাওলানা মাসউদকে গালাগালি করেন তখন পর্যবেক্ষন করলে দেখতে পাবেন যিনি এই গালাগালিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি কোন না কোনভাবে জামায়াত কর্তৃক প্রভাবিত। কওমীর মানুষেরা আজ স্বীকৃতি পেয়ে কৃতজ্ঞ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ-এর কাছেও তার লিয়াজু তৈরির জন্য। কৃতজ্ঞ সবাই মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (র.)-এর ছেলে মাওলানা রুহুল আমিন ও যাত্রবাড়ী মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসানের কাছেও। তারা দুজনও এই স্বীকৃতির জন্য কম লিয়াজু তৈরি করেননি। কওমীর আলেম সমাজ কওমী সনদের স্বীকৃতির জন্য যুগ যুগ কৃতজ্ঞ থাকবে সরকারের সাথে লিয়াজু বা দালালী (শত্রু পক্ষের ভাষা) করে যারা আজ স্বীকৃতি এনেদিয়েছেন তাদের সবার প্রতি।
যারা এই স্বীকৃতিকে থামাতে বিভিন্ন রকম চেষ্টা করেছেন তাদের হেদায়তের জন্য দোয়া রইলো। যারা স্বীকৃতির পর এতে বড় কিংবা ছোট রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন কিংবা দেখছেন তাদের কাছে কথা হলো এই রাজনীতি তো আপনারাও করতে পারতেন? তা হলে স্বীকার করুন রাজনীতিতে আপনারা অনভিজ্ঞ। বল তো আপনাদের পায়ে ছিলো, আপনারা অফসাইট করে বল আওয়ামীলীগের পায়ে দিলেন এবং তারা গোল দিলো। এখন ছিল্লিয়ে লাভ নেই। কওমীর ইতিহাসে আওয়ামীলীগ সরকার আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তা আর কেউ মুচতে পারবে না। কওমীওয়ালারা যদি আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে ভোট দেয় তবু আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তারা তা দিতেই পারে। ইসলামী আকিদা থেকে বিএনপি এবং আওয়ামীলীগে কোন ব্যবধান নেই তা এখন সকল ইসলামপন্থী-ই বুঝেন। জামায়াতে ইসলামও তা বুঝেন বলে একবার আওয়ামীলীগের সাথে রাজনৈতিক জোটও করেছে বিএনপির বিরুদ্ধে। ক্ষমতার রাজনীতিতে আদর্শ বলতে কিছু নেই। ক্ষমতা হলো মূল। ক্ষমতার জন্য জামায়াত যেভাবে আওয়ামীলীগের সাথে জোট করেছিলো সেভাবে শায়খুলহাদিসও করেছেন। আগামী নির্বাচনেও যদি এমনি কওমীর কেউ কেউ আওয়ামীলীগের সাথে মিশে যান তাতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশই হবে, আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ