১২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডন সামাদ বল্লেন ; আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ

  • Update Time : ১২:৪২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৮
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
মনজুর আজাদ পাভেল ::
অনেক দিন দেখা হয় না। যাবো যাবো করেও যাওয়া হচ্ছিল না। কর্মব্যস্থতা, আলসেমি দুইটা মিলে টাইটমতো ধরেছিল। অসুস্থতার খবর শোনার পরেও দেখতে যেতে পারছিলাম না। ঈদ এর উপলক্ষ আসাতে ভাবলাম ঈদের সময়ই যাবো কিন্তু পরক্ষণে ভাবলাম ঈদে তো সবাই ব্যস্ত থাকে, মন খোলে কথা বলা টা একটু মুশকিল হবে ভেবে  ঈদের আগের দিন গেলাম দেখা করতে। বিখ্যাত হাসিটা দিয়েই দরজা খুলে দিলেন নিজে। ভিতরে প্রবেশ করেই শরীরের অবস্থা জানতে চাইলাম। হাসিমাখা মুখেই জবাব দিলেন; এখন অনেক টা ভালো তবে শরীরটা একটু দূর্বল। সম্পূর্ণ বিশ্রামে আছি তাই দ্রুতই সুস্থ বোধ করছি।
হ্যাঁ, আমি ডন ভাই এর কথাই বলছি। তারুণ্যের অহংকার, আগামী দিনে সুনামগঞ্জ ৩ আসনের নৌকা মার্কার অন্যতম দাবীদার, জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকার কান্ডারী, ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার আজিজুস সামাদ আজাদ ডনের কথাই বলছি। চিনির পরিমাণ জেনে নিজ হাতে কফি মেকারে কফি বানিয়ে  আপ্যায়ন পর্ব দিয়ে শুরু হলো আমাদের আলাপ। আলাপের বিষয়বস্তু বরাবরের মতোই ২২৬, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাধারণ জনগণের আশা-আকাঙ্খা, দুঃখ-দূর্দশা, হাওর পারের মানুষের জীবনমান, শিক্ষা-চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়েই। গরম কফির তিক্ত স্বাধ নিতে নিতে আমাদের আলোচনা চলতে থাকলো। যতবারই দেখা হোক না কেন এ বিষয়গুলোই ঘুরে ফিরে আসে এবং আসবে।
আজকের কফিটা অনেক ভালো হয়েছে বলেই বিরতি না দিয়ে প্রশ্ন করলাম “আপনি কি সারাক্ষণ হাওর পারের মানুষদের নিয়েই চিন্তামগ্ন থাকেন?”
– আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, দেখো ছোট বেলা থেকে বাবার মুখে হাওর পারের মানুষের জীবন সংগ্রাম, প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা, রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, জীবনমান উন্নয়নের কথা শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। আমার বাবা স্বপ্ন দেখতেন হাওর পারের এই মানুষগুলোকে নিয়ে। যতদিন তিনি বেঁচে ছিলেন উনার চিন্তা চেতনায় শুধু এই বিষয়গুলো ছিল এবং উনি উনার সাধ্যমতো করার চেষ্টা করেছেন। সেই সুবাধে কখন যে আমি নিজেও ঐ কাতারে ঢুকে পরেছি আমি নিজেও জানি না। বাবা যেমন বলতেন ; হাওরপারের এ সব খেটে খাওয়া মানুষজনই আমার আপনজন, পরমআত্নীয় ঠিক তেমনি আমার কাছেও সবাইকে পরমআত্নীয় বলেই মনে হয় এবং আমার বিশ্বাস সবাই আমাকেও তাদের পরমআত্নীয়ই মনে করে। সবার জন্য যদি কিছু করতে পারি নিজেকে ধন্য মনে করবো এবং আমার বাবা’র আত্নাও অনেক শান্তি পাবে।
-কিন্তু মানুষ তো এখনও আপনাকে সেভাবে পাচ্ছে না এমন কি আওয়ামী লীগ থেকে তো আপনাকে সে রকম কোন দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না। আপনি……?
আমাকে শেষ করতে না দিয়ে নিজেই বলা শুরু করলেন । দেখো, বাবা মারা যাবার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় চৌদ্দ বৎসর যাবৎ আমি কিন্তু মাঠে আছি। সবার সুখে-দুখে সাধ্যমতো পাশে দাড়িঁয়েছি। মানুষের প্রয়োজনে, দলের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে কোন বিনিময় আশা না করেই আমি পথ চলছি। আমার এই দীর্ঘ পথ চলায় আমার বাবার রেখে যাওয়া নিরলস কর্মী বাহিনীকে যেমন কাছে পেয়েছি, তেমনি সাধারণ মানুষকেও পাশে পেয়েছি। যাদের মধ্যে কৃষক, শ্রমিক, মজুর, পেশাজীবিরা তো আছেই, তার সাথে আছে একঝাঁক তরুণ, যুবক। এদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই আমার পথ চলার অক্সিজেন। আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো আমি পথ চলছি, কখনো থেমে থাকিনি। যত দুর্গম পথই হোক না কেন আমি আমার ভালবাসার কর্মীবাহিনী নিয়ে অতিক্রম করার চেষ্টা করছি। এ পথ চলাতেই আনন্দ খুঁজে পাই এবং আনন্দ খুঁজে নেই এবং বিশ্বাস করি সেই সময় এবং সুযোগ আসবেই। সে দিন হয়তো খুব বেশী দুরে নয়।
কথা চলতে থাকে। মানুষের ভালোবাসার কথা, অদম্য গতিতে ছুটে চলার কথা, মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কথা, ভাগ্য পরিবর্তনের কথা। কফির কাপ শেষ হয়। এক বার, দু’বার, তিন বার। চোখের সামনে দেখতে পাই স্বপ্নবাজ একটা মানুষ কতটা স্বপ্ন দেখেন সাধারণ মানুষ কে নিয়ে। এ রকম স্বপ্নবাজ মানুষ সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের আজ বড্ড দরকার।
অগ্রীম ঈদ মোবারক জানিয়ে বিদায় নিয়ে যখন চলে আসি তখন আনমনে কবিগুরু বিখ্যাত গানটি মনের অজান্তেই গুনগুন করছিলাম।
“আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ
খেলে যায় রৌদ্র ছায়া
বর্ষা আসে বসন্ত
আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ”
ঋতুরাজ বসন্তের অপেক্ষায়।
লেখক: দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, মোবা: 01716099475
এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ডন সামাদ বল্লেন ; আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ

Update Time : ১২:৪২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৮
মনজুর আজাদ পাভেল ::
অনেক দিন দেখা হয় না। যাবো যাবো করেও যাওয়া হচ্ছিল না। কর্মব্যস্থতা, আলসেমি দুইটা মিলে টাইটমতো ধরেছিল। অসুস্থতার খবর শোনার পরেও দেখতে যেতে পারছিলাম না। ঈদ এর উপলক্ষ আসাতে ভাবলাম ঈদের সময়ই যাবো কিন্তু পরক্ষণে ভাবলাম ঈদে তো সবাই ব্যস্ত থাকে, মন খোলে কথা বলা টা একটু মুশকিল হবে ভেবে  ঈদের আগের দিন গেলাম দেখা করতে। বিখ্যাত হাসিটা দিয়েই দরজা খুলে দিলেন নিজে। ভিতরে প্রবেশ করেই শরীরের অবস্থা জানতে চাইলাম। হাসিমাখা মুখেই জবাব দিলেন; এখন অনেক টা ভালো তবে শরীরটা একটু দূর্বল। সম্পূর্ণ বিশ্রামে আছি তাই দ্রুতই সুস্থ বোধ করছি।
হ্যাঁ, আমি ডন ভাই এর কথাই বলছি। তারুণ্যের অহংকার, আগামী দিনে সুনামগঞ্জ ৩ আসনের নৌকা মার্কার অন্যতম দাবীদার, জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকার কান্ডারী, ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার আজিজুস সামাদ আজাদ ডনের কথাই বলছি। চিনির পরিমাণ জেনে নিজ হাতে কফি মেকারে কফি বানিয়ে  আপ্যায়ন পর্ব দিয়ে শুরু হলো আমাদের আলাপ। আলাপের বিষয়বস্তু বরাবরের মতোই ২২৬, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাধারণ জনগণের আশা-আকাঙ্খা, দুঃখ-দূর্দশা, হাওর পারের মানুষের জীবনমান, শিক্ষা-চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়েই। গরম কফির তিক্ত স্বাধ নিতে নিতে আমাদের আলোচনা চলতে থাকলো। যতবারই দেখা হোক না কেন এ বিষয়গুলোই ঘুরে ফিরে আসে এবং আসবে।
আজকের কফিটা অনেক ভালো হয়েছে বলেই বিরতি না দিয়ে প্রশ্ন করলাম “আপনি কি সারাক্ষণ হাওর পারের মানুষদের নিয়েই চিন্তামগ্ন থাকেন?”
– আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, দেখো ছোট বেলা থেকে বাবার মুখে হাওর পারের মানুষের জীবন সংগ্রাম, প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা, রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, জীবনমান উন্নয়নের কথা শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। আমার বাবা স্বপ্ন দেখতেন হাওর পারের এই মানুষগুলোকে নিয়ে। যতদিন তিনি বেঁচে ছিলেন উনার চিন্তা চেতনায় শুধু এই বিষয়গুলো ছিল এবং উনি উনার সাধ্যমতো করার চেষ্টা করেছেন। সেই সুবাধে কখন যে আমি নিজেও ঐ কাতারে ঢুকে পরেছি আমি নিজেও জানি না। বাবা যেমন বলতেন ; হাওরপারের এ সব খেটে খাওয়া মানুষজনই আমার আপনজন, পরমআত্নীয় ঠিক তেমনি আমার কাছেও সবাইকে পরমআত্নীয় বলেই মনে হয় এবং আমার বিশ্বাস সবাই আমাকেও তাদের পরমআত্নীয়ই মনে করে। সবার জন্য যদি কিছু করতে পারি নিজেকে ধন্য মনে করবো এবং আমার বাবা’র আত্নাও অনেক শান্তি পাবে।
-কিন্তু মানুষ তো এখনও আপনাকে সেভাবে পাচ্ছে না এমন কি আওয়ামী লীগ থেকে তো আপনাকে সে রকম কোন দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না। আপনি……?
আমাকে শেষ করতে না দিয়ে নিজেই বলা শুরু করলেন । দেখো, বাবা মারা যাবার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় চৌদ্দ বৎসর যাবৎ আমি কিন্তু মাঠে আছি। সবার সুখে-দুখে সাধ্যমতো পাশে দাড়িঁয়েছি। মানুষের প্রয়োজনে, দলের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে কোন বিনিময় আশা না করেই আমি পথ চলছি। আমার এই দীর্ঘ পথ চলায় আমার বাবার রেখে যাওয়া নিরলস কর্মী বাহিনীকে যেমন কাছে পেয়েছি, তেমনি সাধারণ মানুষকেও পাশে পেয়েছি। যাদের মধ্যে কৃষক, শ্রমিক, মজুর, পেশাজীবিরা তো আছেই, তার সাথে আছে একঝাঁক তরুণ, যুবক। এদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই আমার পথ চলার অক্সিজেন। আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো আমি পথ চলছি, কখনো থেমে থাকিনি। যত দুর্গম পথই হোক না কেন আমি আমার ভালবাসার কর্মীবাহিনী নিয়ে অতিক্রম করার চেষ্টা করছি। এ পথ চলাতেই আনন্দ খুঁজে পাই এবং আনন্দ খুঁজে নেই এবং বিশ্বাস করি সেই সময় এবং সুযোগ আসবেই। সে দিন হয়তো খুব বেশী দুরে নয়।
কথা চলতে থাকে। মানুষের ভালোবাসার কথা, অদম্য গতিতে ছুটে চলার কথা, মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কথা, ভাগ্য পরিবর্তনের কথা। কফির কাপ শেষ হয়। এক বার, দু’বার, তিন বার। চোখের সামনে দেখতে পাই স্বপ্নবাজ একটা মানুষ কতটা স্বপ্ন দেখেন সাধারণ মানুষ কে নিয়ে। এ রকম স্বপ্নবাজ মানুষ সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের আজ বড্ড দরকার।
অগ্রীম ঈদ মোবারক জানিয়ে বিদায় নিয়ে যখন চলে আসি তখন আনমনে কবিগুরু বিখ্যাত গানটি মনের অজান্তেই গুনগুন করছিলাম।
“আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ
খেলে যায় রৌদ্র ছায়া
বর্ষা আসে বসন্ত
আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ”
ঋতুরাজ বসন্তের অপেক্ষায়।
লেখক: দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, মোবা: 01716099475
এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ