জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদা তাকিয়ে বিএনপির দিকে
- Update Time : ০৫:০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: নাজমুল হুদার দল তৃণমূল বিএনপি শেষ পর্যন্ত আওয়ামী জোটে যেতে পারবে কি না, তা নির্ভর করছে তাঁর সাবেক দল বিএনপির ওপর। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপির অবস্থান হবে এক রকম, আর বিএনপি না এলে হবে অন্য রকম।
আওয়ামী লীগের দুজন নেতা ও নাজমুল হুদার সঙ্গে আলাপ করে এমন তথ্যই পাওয়া গেল। কেবল নাজমুল দল বা জোটই নয়, আওয়ামী লীগের জোটে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করা আরও ৮টি দলেরও একই অবস্থা বলে জানা গেছে। ওই ৮টি দল হলো ইসলামিক ফ্রন্ট, কৃষক শ্রমিক পার্টি, সম্মিলিত ইসলামিক জোট, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, জাগো দল, একামত আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক জোট।
বিএনপির প্রথম স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদা বিএনপি থেকে বেরিয়ে ২০১৫ সালে ‘তৃণমূল বিএনপি’ গঠন করেন। বর্তমানে ৩১টি দল নিয়ে নাজমুল হুদার জোট বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ)। নতুন জোট গঠনের পরপরই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জোটে ভিড়তে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বছরের শেষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘিরে দেশের বড় দুই দলেই চলছে ছোট দলগুলোর জোটভুক্ত হওয়ার হিসাব-নিকাশ। গত ১৮ জুলাই ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে তৃণমূল বিএনপিসহ নয়টি দল বৈঠক করে। সে বৈঠকে নাজমুল হুদা বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনুরাগী হয়ে কাজ করতে চান।
সপ্তাহখানেক পর ২৬ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে নাজমুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেদিন অবশ্য কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গেও ওবায়দুল কাদেরের বৈঠক হয়।
বৈঠক ও জোটে যাওয়ার ব্যাপারে নাজমুল হুদা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় জোট আছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তার জোটের বাইরে সমমনাদের নিয়েও ভাবছেন। বিএনএ ছাড়াও বাইরে আরও কিছু জোট আছে। সার্বিকভাবে একটি নির্বাচনী মোর্চা গঠিত হতে পারে।’ তবে বিএনপির এই সাবেক নেতা জানান, জোট হওয়া না–হওয়া নির্ভর করবে নির্বাচনে বিএনপির আসা না–আসার সিদ্ধান্তের ওপর।
নাজমুল হুদা বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে, তাহলে আওয়ামী লীগ জোট সম্প্রসারণ করবে। আর বিএনপি নির্বাচনে না এলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে অন্য দলগুলোকে নিয়ে শক্তিশালী একটি বিরোধী দল গঠন করা হতে পারে।
আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপির আসা না–আসার ওপর আওয়ামী লীগের জোট সম্প্রসারণ অনেকাংশেই নির্ভর করছে এটা যেমন ঠিক, তেমনি সমমনা সব দলের সঙ্গেই আওয়ামী লীগ যোগাযোগ রাখছে। নাজমুল হুদার সঙ্গে আওয়ামী লীগের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দিকনির্দেশনার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি না এলেও বিভিন্ন দলের জন্য কৌশলগত সম্পর্ক তৈরি করবে তাঁর দল।
আওয়ামী লীগ অবশ্য হুদাকে জানিয়েছে, তাদের ১৪-দলীয় জোটের শরিকেরা এই জোটকে আর বড় করতে চায় না। এ ব্যাপারে নাজমুল হুদা বলেন, তাঁরা ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনো আলোচনা করেননি। আলাদা নির্বাচনী জোট করার কথা বলেছেন। তবে এখন আগস্টের মাঝামাঝি হয়ে গেলেও এই জোটভুক্তি নিয়ে আর কোনো আলোচনা এগোয়নি। সবকিছুই এখন নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর। তিনি সবুজসংকেত দিলেই আওয়ামী লীগের জোটে ঢুকতে চাওয়া দলগুলো আসন নিয়ে কথা বলবে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠে নামবে। সুত্র: প্রথম অালো



















