আমি তালেব বলছি
- Update Time : ১২:৩২:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ এপ্রিল ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ইমামুল ইসলাম রানা
আমি বাঙ্গালীর চিরঞ্জীব সেই –
সূর্য সন্তানের কথা বলছি ।
বলছি হাতিয়ার তালেবের কথা !
যাঁর বীরত্বে প্রকম্পিত হানাদার ,
ভীত দেশীয় দালাল মির্জাফরের কুলাঙ্গাররা ।
যাঁর রক্তাক্ত দেহ মুক্তির কথা বলছিল।
জুবিলী স্কুলের বারান্দায় ,
শান্তি কমিটির সভায় বন্দি নির্ভীক সৈনিক
অকম্পিত পায়ে দাড়ান বক্তৃতার মঞ্চে ।
বারুদের মতো জ্বলে উঠেন ক্ষুভে আর ঘৃনায়।
সে দিন বিশ নভেম্বর , উনিশ’শ একাত্তর
স্পষ্ট কন্ঠে ঘোষনা করেন –
তেজে লাল হয়ে জাগো নবীন ,
জাগো প্রভাতের নবারুন ।
শক্ত হাতে স্থব্দ করো মায়ের অপমান ,
ভাইয়ের বলিদান ।
রুখে দাড়াও –
শয়তানের সহযোগী দেশীয় শয়তান।
আমি শত্রুর হাতে বন্দি
আঘাতে আঘাতে রক্তাক্ত ,
আদর্শে অনড়, বিশ্বাসে অটল ।
আমি রক্তাক্ত চিত্তে চিৎকার করে বলি –
” জয়বাংলা ।”
বক্তৃতার মঞ্চ থেকে রাস্থায় নিয়ে যায়
ক্ষতবিক্ষত দেহে – শক্ত রশি কমরে বাঁধা।
কিন্তু প্রতিবাদহীন জনতার হা-হুতাশ
কিছু বলার সাহস হয়নি তাদের ।
আমার রক্তে সুনামগঞ্জ ও স্বদেশের মাটি
শোষন মুক্ত ও স্বাধীন ।
আমি প্রতিবাদী তালেব আছি বাংলায় ,
মৃত তালেব আহসান মারায় ।
বিঃদ্রঃ তালেব উদ্দিন আহমেদ , সুনামগঞ্জ জেলার , দিরাই উপজেলার হাতিয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি ছিলেন প্রতিবাদী। ১৯৭০ সালে তিনি সুনামগঞ্জ মহকুমার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
১৯৭১ সালে তিনি বীরের মতো যুদ্ধ করেন । ২০ নভেম্বর পাক হানাদারদের হাতে ধরা পড়েন এবং নির্যাতনের শিকার হন । ১৯৭১ সালের ২৯ শে নভেম্বর আহসান মারা নামক স্থানে পাকহানাদার বাহিনী ও দেশীয় দালালদের হাতে নির্মম ভাবে নিহত হন।
কবি- ছড়াকার- সাহিত্যিক :: ঝিগলী, ছাতক, সুনামগঞ্জ। মোবা: 01712- 745419




























