ছাতকে হাইকোর্টের স্থগিত আদেশকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে ২৪ শিক্ষক নিয়োগের ঘটনায় উপজেলাজুড়েই তোলপাড়
- Update Time : ০৩:২৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে হাইকোটের স্থগিত আদেশ না মেনে দু’শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বদলী নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ অনিয়মের ঘটনায় উপজেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে । এ উপজেলায় ৪০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকা হাইকোটের স্থগিতাদেশকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে চোরাই পথে ২৪জন নিয়োগের ঘটনায় ছাতক সুনামগঞ্জ সিলেটে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নানা সমালোচনার ঝড় বইছে । দুই কমকতার বিরুদ্ধে ঘুষ দুনীতি স্বজনপ্রীতি অনিয়মের ঘটনায় হৈ চৈ সামাজিক গন্যমাধ্যম ফেইসবুকে নানা সমালোচনার ঝড় উঠে। জানা গেছে,গত ২০১৫ সালে সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিন সুনামগঞ্জের নাজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনধীর দাশ বাদী হয়ে হাইকোটে আদালতে একটি রিট পিটিশন মামলা দায়ের করেন । (যার নং ১৮৩৩ ) এ আদেশে ছাতকে ৪০টি বিদ্যালয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কাযত্রুম স্থগিতাদেশ করে রাখা হয়। এ আদেশকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে টাকা বিনিময় এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রম্তার তৈরি করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মানিক চন্দ্র দাসের মাধ্যমে জেলা শিক্ষা অফিসে একটি তালিকা পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা ।এ স্থগিতাদেশ বিদ্যালয় গুলো হচ্ছে, বুড়াইর গাও, নোয়াগাও আব্দুল জব্বার ,খিদ্রাকাপন,খাসগাও, পাইগাও, দক্ষিন কুশি, পূর্বপাড়া, চানপুর, মামদপুর, সুলেমানপুর, কচুবাড়ি,আনন্দ নগর, নোয়াপাড়া, মোহন পুর, দক্ষিন কুশি, হাদাচানপুর,নানচিরিমিত্র গ্রাম, দক্ষিন বড় কাপন, শেওতর চর, হাতধালানী, চরচৌরা, খাড়াই, একতা, মৈশাপুর ,মায়ের কুল সহ ৪০টি বিদ্যালয়ে স্থগিতাদেশ না মেনে চদা শিক্ষক নিয়োগ করে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার এ ঘটনা ঘটায়।
ছাতক উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলিত দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রমোশন বদলীর বিপরীতে ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে উঠেছে। টাকা বিনিময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পছন্দে বিদ্যালয়ে নিয়োগের জন্য লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাতকে ৪০ টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ স্থগিতাদেশ জেলা শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন বালা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার মানিক চন্দ্র দাশ এ আদেশ না মেনে চোরাই পথে একটি নিয়োগ চক তৈরি করে জেলা অফিসে জমা দেন । হাইকোটের রিট পিটিশন মামলায় গত ২০১৫ সালে নর্ব জাতীয়করন ৫৭ টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিযোগের কার্ষত্রুম স্থগিতাদেশ প্রদানের এ আদেশ হাইকোট আদালত দেন। এ আদেশ জানার পর ও জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার শিক্ষক শিক্ষিকার কাছ থেকে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে চদা প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কাযত্রুম চালায়। এ আদেশ লঙ্গন করায় ছাতকে একাধিক শিক্ষক সিলেটের বিভাগের উপ পরিচালক জানানো পর তিনি এ ঘটনাটি প্রাথমিক অধিদপ্তরে মহা পরিচালককে অবগত করলে মহা পরিচালক শিক্ষা মন্ত্রালয় জানানো পর এ ঘটনা কেন স্থাগিতাদেশ না মেনে চদা শিক্ষক নিয়োগ করা হলো এসব বিদ্যালয়ে নিয়োগ আবারো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর স্থগিত করে নিয়োগপ্রাপ্তকে এসব বিদ্যালয় থেকে অন্যবিদ্যালয়ে শুন্য পদে নিয়োগের আদেশ দেন। গত ১৭ জুলাই একটি আদেশ সুনামগঞ্জ শিক্ষা অফিসার কে যুন্ম সচিব শেখ জসিম উদ্দিন আহম্মেদ এর স্বাক্ষতি প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রালয় থেকে এ আদেশ দেয়া হয় ।ছাতক উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দাশ ও জেলা শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন বালা পরস্পরের যোগসাজসে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে হাইকোটে স্থগিতাদেশ না মেনে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদের তড়িগড়ি রাতের আধারে বদলী নামে প্রায় অধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ভালো স্থানে বিদ্যালয়ে পছন্দে পদ পেতে হলে মোটা অংকের উৎকোচ নেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক শিক্ষিকারা ।তাদের বিরুদ্ধে নানা ঘুষ দুনীতির অভিযোগ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মানিক চন্দ্র দাশ ও জেলা শিক্ষা অফিসার পরস্পরের যোগসাজসে ইতিপুর্বে উপজেলার ৬০ চলিত দায়িত্ব তালিকা ছাতকে আসে। এসব শিক্ষককের নিকট থেকে মোটা অংক উৎকোচ নেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। তাদের বিরুদ্ধে নানা ঘুষ দুনীতির অভিযোগ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মানিক চন্দ্র দাশ ও জেলা শিক্ষা অফিসার পরস্পরের যোগসাজসে ইতিপুর্বে উপজেলার ৬০ চলিত দায়িত্ব তালিকা ছাতকে আসে । এসব শিক্ষককের নিকট থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে স্থগিতাদেশ না মেনে টাকা বিনিময়ে এসব শিক্ষকদেরকে মামলাজনিত স্থাগিতাদেশ থাকার পর ও এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষকা নিয়োগ করেন তারা । তাদের ভুল আদেশে ফাদে পড়ে ২৪জন শিক্ষক শিক্ষিরা হয়রানি শিকার হচ্ছে। এখন তারা কোথায় যাবে ? এসব দায় বার কে নেবে ? নাম প্রকাশ্যে অনচ্ছিুক একাধিক শিক্ষক জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার তার আওতাধীন ১৮২ টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের মোবাইল ফোনে উওপ্ত করণ বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়ে ওইসব শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাথে আপক্তিকর আচরণ করে আসছেন দীঘ দিন ধরেই।তাদেরকে বিপদে পেলে টাকার বিনিময় সমস্যা সমাধান দেন বলে অভিযোগ করে তারা । জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ের সূত্র জানায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর বিদ্যালয়-২ শাখার উপ সচিব মনোয়ারা ইশরাত স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সারাদেশের সহকরি শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চলতি দায়িত্বের প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদায়নের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ তালিকায় সুনামগঞ্জের ৫০৩ জন সহকারি শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে চলতি দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়। গত ২৫ জুন সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুনামগঞ্জের ৫০৩ শিক্ষকের চলতি দায়িত্বের স্কুলগুলোর নামোল্লেখ করে তালিকা প্রকাশ করে। পদায়িত প্রায় ৯০ ভাগ শিক্ষক সংশ্লিষ্ট স্কুলে যোগদান করেছে। পছন্দের স্কুল না পেয়ে কিছু শিক্ষক এখনো যোগদান করেননি। তারা নানাভাবে এখনো তদবির করছেন বলে জানা গেছে। উপজেলার একাধিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি সভাপতিরা জানান,জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার নীতিমালা মানেন না, ঘুষের টাকা পেলেই শিক্ষক বদলীতে তৎপর ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ করেন । উপজেলায় অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অভাবে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের নয় বদলী বাণিজ্য করতে শিক্ষা অফিসকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।ছাতক উপজেলা শিক্ষা অফিসার মানিক চন্দ্র দাশ জানান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন , শুন্য পদের এসব কয়েকজন শিক্ষককে বদলী করা প্রস্তাব আমি দিয়েছি । তবে বদলীর বিপরীতে কোন ধরণের উৎকোচ বা ঘুষ বাণিজ্যের সাথে আমি জড়িত নই। জেলা শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন বালা সঙ্গে মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করে এ প্রতিনিধিকে জানান উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশ তার না নেই। এসব শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তার উপজেলা শিক্ষা অফিসার তার বরাবরে পাঠিয়েছে । এগুলো উপর তিনি নিয়োগে অনুমোদন দেন ।শিক্ষক শিক্ষিকার কাছ থেকে পছন্দে পদ পেতে ঘুষ দুনীতির ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি এসব উত্তর দিতে রাজি হয়নি । প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক তাহমিনা সুলতানা বলেন, সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাইকোটে স্থগিতাদের না মেনে ২৪ বিদ্যালয়ে চদা প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ঘটনা আমি মহাপরিচালককে এসব বিষয়ে লিখিত অবগত করেছি। এসব বিদ্যালয়ের তাদের চলতি দায়িত্বের প্রধান শিক্ষকদের পদায়নে নিয়োগ করেছে । এ বিষয়ে যুন্ম সচিব পরিচালক পলিসি ও অপারেশন শেখ জসিম উদ্দিন আহম্মেদ একটি আদেশ গত ১৭ জুলাই আমরা পেয়েছি ।



















