ত্রাণের জন্য হাহাকার- ছাতকে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল
- Update Time : ০৬:০১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ জুলাই ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
অানোয়ার হোসেন রনি, ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি হওয়া দুই লক্ষাধিক মানুষ শনিবার সকাল থেকে সূর্যের দেখা পেয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবি বন্যাকবলিত অসহায় মানুষগুলোর মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী এসে না পৌঁছায় দিন কাটছে দুর্যোগময় পরিস্থিতির মধ্যে। খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন পানি বন্দি মানুষ গুলো। সরকারি বা বেসরকারিভাবে দ্রুত তাদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোটাই এখন পানিবন্দি এ মানুষগুলোর একমাত্র চাওয়া।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বন্যা প্লাবিত গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভায় প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। গো-খাদ্যের অভাবে গবাধিপশু নিয়েও চরম বিপাকে রয়েছেন কৃষকরা । এছাড়া দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষাকার্যক্রমে পাঠদান বন্ধ রয়েছে ।বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তা বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সৈদের গাও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান ও ইউপি সদস্য আলকাব আলী জানান, অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় খেয়ে না খেয়ে সীমাহিন দূর্ভোগের মধ্যে দিন-রাত অতিবাহিত করছেন।
ছাতক-দোয়ারা, ছাতক-সুনামগঞ্জ, ছাতক-জাউয়া সড়কের বিভিন্ন অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়াও ছাতক শহর, ছাতক সদর, কালারুকা, চরমহল্লা, দোলারবাজার, ভাতগাঁও, উত্তর খুরমা, দক্ষিণ খুরমা, সিংচাপইড়, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। একাধিক স্টোন ক্রাসার মিল, পোল্ট্রি ফার্ম ও মৎস্য খামারে বন্যার পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শাক-সবজির বাগানেও পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এছাড়া ইসলামপুর ইউনিয়নের ছনবাড়ি-রতনপুর সড়ক, ছনবাড়ি-গাংপাড়-নোয়াকোট সড়ক, কালারুকা ইউনিয়নরে মুক্তিরগাঁও সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়ক, আমেরতল-ধারণ সড়ক, পালপুর-সিংচাপইড় সড়ক, বোকারভাঙ্গা-মানিকগঞ্জ সড়কসহ উপজেলার অনেক সড়কের বিভিন্ন অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ৪৭ নং আলমপুর, মোহনপুর,গোয়াল গাও,কাটালপুর, জামুরা, চানপুর, নোয়াগাঁও, ভাসখলা, করচা, গোয়ালগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বৈশাকান্দি এফআইভিডিবি স্কুল, নোয়ারাই ইউনিয়নের চরভাড়া মাদরাসা, লামাপাড়া ব্র্যাক স্কুলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ইসলামপুর ইউনিয়নের রতনপুর, নিজগাঁও, গাংপাড়, নোয়াকোট, বৈশাকান্দি, বাহাদুরপুর, ছৈদাবাদ, রহমতপুর, দারোগাখালী, পৌরসভার হাসপাতাল রোড, শাহজালাল আবাসিক ,লেবারপাড়া নোয়ারাই ইউনিয়নের বারকাহন, বাতিরকান্দি, চরভাড়া, কাড়–লগাঁও, লক্ষীভাউর, চানপুর, মানিকপুর, গোদাবাড়ী, কচুদাইড়, রংপুর, ছাতক সদর ইউনিয়নের বড়বাড়ী, আন্ধারীগাঁও, মাছুখালী, তিররাই, মুক্তিরগাঁও, উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলম পুর ,দাহার গাও,ঘিলাছড়া, তেরাপুর, মোহনপুর ,মানজিহারা,ঘাটপার, গদারমহল, রুক্কা, ছোটবিহাই, এলঙ্গি, রসুলপুর, শৌলা, চরমহল্লা ইউনিয়নের ভল্লবপুর, চুনারুচর, চরচৌলাই, হাসারুচর, প্রথমাচর, সিদ্ধারচর, চরভাড়ুকা, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের হরিশ্বরণ, হাতধনালী, রাউতপুর, ধনপুর, চৌকা, রামচন্দ্রপুর, হলদিউরা, কালারুকা ইউনিয়নের রামপুর, মালিপুর, দিঘলবন, আরতানপুর, রংপুর, মুক্তিরগাও, ভাতগাঁও ইউনিয়নের জালিয়া, ঘাঘলাজুর, হায়দরপুর, বাদে ঝিগলী, সিংচাপইড় ইউনিয়নের গহরপুর, মহদী, সিরাজগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দাস জানান, ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। যেসব বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ঢুকেছে সেখানে পাঠদান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পুলিন চন্দ্র রায় জানান, কয়েকটি বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পানি প্রবেশ করার খবর পাওয়া গেছে। তবে বন্যা পরিস্থিতি অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটির সাথে আলোচনাক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দেয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদা আফসারি জানান, বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে বন্যা দুর্গতেদের মধ্যে তা পৌছে দেয়া হবে।



















