ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি দুই লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি
- Update Time : ১২:৪২:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুলাই ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। থেকে আরো নতুন-নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮০সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে। এতে এখানকার দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ও নোয়ারাই ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ছাতক সদর, কালারুকা, চরমহল্লা, দোলারবাজার, ভাতগাঁও, উত্তর খুরমা, দক্ষিণ খুরমা, সিংচাপইড়, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাও, ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নসহ পৌরসভার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গ্রামীন কাছা ও পাকা রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে গিয়ে মারাত্মক ব্যঘাত সৃষ্টি হয়েছে। শহর ভিত্তিক ছাড়া অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পানিবন্দি অবস্থায় নির্ধারিত দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে। সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় নৌপথে ছোট-ছোট নৌকা চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দু’এক দিনের মধ্যেই ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ারও আশংকা রয়েছে। কয়েকটি ষ্টোন ক্রাসার মিল, পোল্টি ফার্ম ও মৎস্য খামারে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। শাক-সবজির বাগানেও পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে কৃষকদের। এছাড়া ইসলামপুর ইউনিয়নের রতনপুর, নিজগাঁও, গাংপাড়, নোয়াকোট, বৈশাকান্দি, বাহাদুরপুর, ছৈদাবাদ, রহমতপুর, দারোগাখালী, পৌরসভার হাসপাতাল রোড, শাহজালাল আবাসিক এলাকা, শ্যামপাড়া, মোগলপাড়া তাতিকোনা, বৌলা, লেবারপাড়া নোয়ারাই ইউনিয়নের বারকাহন, বাতিরকান্দি, চরভাড়া, কাড়লগাঁও, লক্ষীভাউর, চানপুর, মানিকপুর, গোদাবাড়ী, কচুদাইড়, রংপুর, ছাতক সদর ইউনিয়নের বড়বাড়ী, আন্ধারীগাঁও, মাছুখালী, তিররাই, মুক্তিরগাও, উত্তর খুরমা ইউনিয়নের
আলমপুর,দাহারগাও,ঘিলাছড়া, মৈশাপুর, তকিরাই, নোয়াগাও, কাটালপুর,বদিরগাও, পুরাতন মৈশাপুর, রাজার গাও, শৌলা,তেরাপুর, মোহনপুর, নৌকাকান্দি লম্বাহাটি, হাসনাবাদ, রাজাপুর, ভরাংনপাড়, মামদপুর, বলারপীরপুর, গন্ধর্ভ পুর, সায়াতপুর, বিলপাড়া, সদরপুর, নুরুল্লাপুর, উজির পুর, সিকন্দরপুর, দীঘলবন, গৌরিপুর, নানশ্রী, শিমুতলা, মুক্তিরগাও, বাহাদুরপুর, গনেশপুর, রহমতপুর, শিবনগর, মানসিনগর, আমেরতল, ঘাটপার, গদালমহল, রুক্কা, ছোটবিহাই, এলঙ্গি, রসুলপুর, শৌলা, ভল্লবপুর, চুনারুচর, চরচৌলাই, হাসারুচর, প্রথমাচর, সিদ্ধারচর, চরভাড়কা , হরিশরণ, হাতধনালী, রাউতপুর, ধনপুর, চৌকা, রামচন্দ্রপুর, হলদিউরা কালারুকা ইউনিয়নের রামপুর, মালিপুর, দিঘলবন, আরতানপুর, রংপুর, জালিয়া, ঘাঘলাজুর, হায়দরপুর, বাদে ঝিগলী, গহরপুর, মহদী, সৈদরগাঁও, সিরাজগঞ্জ বাজার, সরিষাপাড়া, হবিপুর, মামদপুর,আমেরতল, ঘাটপার, গদালমহল, রুক্কা, ছোটবিহাই, এলঙ্গি, রসুলপুর, শৌলা, ভল্লবপুর, চুনারুচর, চরচৌলাই, হাসারুচর, প্রথমাচর, সিদ্ধারচর, চরভাড়কা দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের হরিশরণ, হাতধনালী, রাউতপুর, ধনপুর, চৌকা, রামচন্দ্রপুর, হলদিউরা, রামপুর, মালিপুর, দিঘলবন, আরতানপুর, রংপুর,,জালিয়া, ঘাঘলাজুর, হায়দরপুর, বাদে ঝিগলী, গহরপুর, মহদী, সৈদরগাঁও, সিরাজগঞ্জ বাজার, সরিষাপাড়া, হবিপুর, মামদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। পাচঁ শতাধিক গ্রাম পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে । এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা প্রতিষ্টানে বন্যার পানি প্রবেশ করায় ৪৭নং আলমপুর, মোহন পুর, শ্যামনগর, কৃষন নগর, আব্দুল জব্বার, কাটালপুর, বেরাজপুর সহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পানি প্রবেশ করে বিদ্যালয়ে রাস্তা ঘাটে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি সাধিত হচ্ছেন বলে প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক জয়নাল আহমদ এসব জানান ।
তাছাড়া রোপা আউশ ও বোনা আমন ক্ষেত সম্পন্ন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে। এতে কৃষকরা অজানা আতংকে রয়েছেন। অপরদিকে শতাধিক মৎস খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোটি টাকার ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে।



















