ফল যা-ই হোক তিন সিটির ভোট বর্জন করবে না বিএনপি
- Update Time : ০৩:৪৪:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটের ফল যা-ই হোক রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে না বিএনপি। দলটির একাধিক নেতা বলেন, বর্তমান প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে যাওয়াই হচ্ছে সহজ পথ। এ পথ দিয়ে হেঁটে বিএনপি প্রমাণ করতে চায়, বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে না। এটা বারবার প্রমাণ করতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির নেতারা গত কয়েক দিন থেকে বিভিন্ন সভায় বক্তব্য দেন, গাজীপুরে ভোট কারচুপি হলে উল্লিখিত তিন সিটিতে অংশ নেবেন কিনা, সে ব্যাপারে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। এ সময়ে দলের কোনো কোনো নেতা এমনও ইঙ্গিত দেন, এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা অংশ না নিয়ে শুধু আন্দোলনের প্রস্তুতি নেবেন। দলের সিনিয়র নেতাদের এমন বক্তব্যের মধ্যে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এনেছে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের পরের দিন তিন সিটির মেয়রপ্রার্থীদের নাম ঘোষণার কথা থাকলেও তাও এগিয়ে এনে গতকাল ঘোষণা করেছেন। রাজশাহী বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও বরিশালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল। তবে সিলেটে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতও সেখানে জোটের প্রার্থী হিসেবে তারা চায়। চলমান এই সংকটের মধ্যে সেখানকার মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। সংকট সমাধান করে এটাও আজ ঘোষণা করা হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, আজ সোমবার সিলেটের মেয়রপ্রার্থীর নাম ঘোষণা দেওয়া হবে।
খুলনার মতো গাজীপুরে ভোট কারচুপি হলে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটের ব্যাপারে বিএনপির সিদ্ধান্ত কী হবে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা চাই, গণতন্ত্র চর্চাটা হোক। এর ধারাবাহিকতা থাকুক তা আমরা চাই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আন্দোলনের অংশ হিসেবে অংশ নিচ্ছি এটা তো আমরা বলেছি। তাই এই নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছানো আমাদের উদ্দেশ্য।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে গাজীপুর সিটি নির্বাচন ও অন্যান্য তিন সিটির নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেন। এর আগে শুক্রবার রাতেও স্থায়ী কমিটির নেতারা বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছাড়া কোনো বুদ্ধি নেই। সরকার রাজপথে বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ কোনো কর্মসূচিও করতে দেয় না। এমনকি অনুমতি ছাড়া ঘরোয়া পরিবেশেও কর্মসূচি করা সম্ভব হচ্ছে না। সেখানেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হাজির হয়ে গোপন বৈঠক করার নামে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যেহেতু সামনে তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকার আন্দোলনের দাবিতে রাজপথে নামার পরিকল্পনা করছেন। তাই তারা নিরপেক্ষ সরকার আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিবেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের চলমান ‘দুঃশাসন ও দুর্নীতি’ এবং খালেদা জিয়াসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে জনমত গড়ে তোলাই হচ্ছে তাদের মূল লক্ষ্য।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা মনে করি, যেভাবে পুলিশের সহযোগিতায় খুলনাতে ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে নৌকায় সিল মারা হয়েছে, ঠিক সেই কাজটি গাজীপুরেও করবে। এর মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হচ্ছি যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল হয় না, সেখানে যদি এমন অনিয়ম করতে পারে সরকার, জাতীয় নির্বাচনে সরকার কী করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা আশা করি আগামী জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হবে, যেখানে ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারবে। সুত্র: অামাদের সময়



















