০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঐক্য চাইলেন মির্জা ফখরুল, চিন্তার খোরাক দিলেন বি.চৌধুরী

  • Update Time : ০১:৫০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ মে ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: রাজনীতিবিদদের সম্মানে ইফতার আয়োজনে করে আমন্ত্রিত রাজনীতিকদের কাছে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান রেখেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জবাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী তাদের দিয়ে গেলেন চিন্তার খোরাক।

 
শনিবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে বিএনপি আয়োজিত ইফতারের প্রাক্কালে এই দুই রাজনীতিবিদই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নাও অংশ নেন। তবে বিএনপি নেতাদের অনুরোধ সত্ত্বেও তারা মঞ্চে ওঠেননি। এছাড়া বিএনপি-জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা সব সময় বলে এসেছি, বিশ্বাস করি; আমরা মনে করি এই সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। গণতন্ত্রকে উদ্ধারের জন্য, মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য জাতীয় শীর্ষ নেতৃত্বকে আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আসুন, দেশের এই প্রয়োজনে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। অধিকার আদায় করে নেই। দেশের মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করি।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতি বছর আমরা ইফতারের আয়োজন করে থাকি। আমাদের ইফতার-আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু থাকেন আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজকে তিনি নেই। তাকে অন্ধ প্রকোষ্ঠে বন্দি করে রাখা হয়েছে, সেখানেই তিনি ইফতার করছেন। সবাই সে কারণে ভারাক্রান্ত বলে জানান বিএনপির মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, জাতির এই সংকটময় মুহূর্তে যে নেত্রী আমাদের অতীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করেছেন আজ তিনি এই ইফতার মাহফিলে নেই।

 
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রাখা সেই নেত্রীর অবর্তমানে ইফতার আয়োজনে উপস্থিত জাতীয় নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানান মির্জা ফখরুল।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশের এই দুঃসময়ে ও গণতন্ত্রের চরম সংকটে আমরা সবাই প্রত্যাশা করি, জাতীয় নেতৃবৃন্দ তাদের মূল্যবান অবদান রাখবেন। জাতিকে এই সংকট উত্তরণে নেতৃত্ব দেবেন।
মির্জা ফখরুল বক্তব্য শেষ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ‘সকলের অভিভাবক, রাজনীতির উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক, নক্ষত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আমন্ত্রণ জানান মঞ্চে।
বিএনপির ইফতার মাহফিল অংশ নেন দলীয়, বিশ দলীয় জোট এবং আমন্ত্রিত বিভিন্ন দলের নেতারা।
বি.চৌধুরী তার বক্তব্যের শুরুতেই রমজানের ধর্মীয় ফজিলত স¤পর্কে কয়েক মিনিট কথা বলেন। এক পর্যায়ে বলেন, যারা ওয়াদার বরখেলাপ করে না, তারা মুত্তাকী।

 
বিকল্প ধারা সভাপতি আরও বলেন, আল্লাহর ওয়াস্তে এমন ওয়াদা দিয়েন না যেটা মানবেন না কখনো। ওয়াদারক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। মুখে বললাম এক, অন্তরে অন্য। এটা কোনও সত্যিকারের মুত্তাকী-মুসলমানের কথা তো নয়ই, রাজনীতিতেও ‘ব্যাড পলিটিক্স’।
দেশে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বি.চৌধুরী বলেন, আজকে বিএনপির নেতারা বেশি না হলেও কর্মীদের ভয়ে বুক কাঁপে দুরদুর করে। কাঁপবে না কেন? তারা তো তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। তারা সবসময় ভাবেন, কী হবে যদি আবার সরকারি দল ক্ষমতায় আসে – এবারে আমাদের কী হবে? এটা স্বাভাবিক শঙ্কা। অভিজ্ঞতায় বলে খুব সুবিধা হবে না।
তিনি আরও বলেন, একইভাবে সরকারের কিছু কিছু রাজনৈতিক কর্মী আমার কাছে আসছেন তাদেরও বুক কাঁপে। যদি বিএনপি আসে তাহলে তাদের কী হবে?
তিনি বলেন, এটা কী খুব ভালো কথা? এটা কী রাজনীতির জন্য শুভ? এটা কী দেশের ভবিষ্যতের জন্য শুভ? এটা কী ইঙ্গিত নয় যে এমন একটা পর্যায়ে যেতে পারে দেশ যেখানে মানুষ মানুষকে হত্যা করবে, নিগৃহীত করবে, জেলে দেবে, আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেবে। কিন্তু থামাবে কে? আমি চিন্তার খোরাক দিয়ে গেলাম।
বি চৌধুরী বলেন, এমন একটা শক্তি দরকার যে ওদিকেও কন্ট্রোল করতে পারে, এদিকেও কন্ট্রোল করতে পারে। তারা যদি উঠে আসতে পারে। বলে দেয়- তোমরা যদি একটা মানুষের গায়ে হাত দাও তাহলে সমর্থন উইথড্র করবো, গোল্লায় যাও, বিরোধী দলে যাও। এটাও বলবে, ওটাও বলবে। একমাত্র তাহলেই দেশ রক্ষা পেতে পারে। আল্লাহ কাছে প্রার্থনা করি আমাদের দেশে যেন সেরকম দুর্যোগ না আসে। আমরা যেন মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালো ভাবতে শিখি।

 
এর আগে মির্জা ফখরুল ইফতার-প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে আমন্ত্রিত রাজনীতিকদের সঙ্গে কুশল ও সালাম বিনিময় করেন।
ইফতারের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তিলাভ ও তারেক রহমানের সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ঐক্য চাইলেন মির্জা ফখরুল, চিন্তার খোরাক দিলেন বি.চৌধুরী

Update Time : ০১:৫০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ মে ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: রাজনীতিবিদদের সম্মানে ইফতার আয়োজনে করে আমন্ত্রিত রাজনীতিকদের কাছে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান রেখেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জবাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী তাদের দিয়ে গেলেন চিন্তার খোরাক।

 
শনিবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে বিএনপি আয়োজিত ইফতারের প্রাক্কালে এই দুই রাজনীতিবিদই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নাও অংশ নেন। তবে বিএনপি নেতাদের অনুরোধ সত্ত্বেও তারা মঞ্চে ওঠেননি। এছাড়া বিএনপি-জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা সব সময় বলে এসেছি, বিশ্বাস করি; আমরা মনে করি এই সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। গণতন্ত্রকে উদ্ধারের জন্য, মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য জাতীয় শীর্ষ নেতৃত্বকে আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আসুন, দেশের এই প্রয়োজনে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। অধিকার আদায় করে নেই। দেশের মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করি।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতি বছর আমরা ইফতারের আয়োজন করে থাকি। আমাদের ইফতার-আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু থাকেন আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজকে তিনি নেই। তাকে অন্ধ প্রকোষ্ঠে বন্দি করে রাখা হয়েছে, সেখানেই তিনি ইফতার করছেন। সবাই সে কারণে ভারাক্রান্ত বলে জানান বিএনপির মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, জাতির এই সংকটময় মুহূর্তে যে নেত্রী আমাদের অতীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করেছেন আজ তিনি এই ইফতার মাহফিলে নেই।

 
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রাখা সেই নেত্রীর অবর্তমানে ইফতার আয়োজনে উপস্থিত জাতীয় নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানান মির্জা ফখরুল।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশের এই দুঃসময়ে ও গণতন্ত্রের চরম সংকটে আমরা সবাই প্রত্যাশা করি, জাতীয় নেতৃবৃন্দ তাদের মূল্যবান অবদান রাখবেন। জাতিকে এই সংকট উত্তরণে নেতৃত্ব দেবেন।
মির্জা ফখরুল বক্তব্য শেষ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ‘সকলের অভিভাবক, রাজনীতির উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক, নক্ষত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আমন্ত্রণ জানান মঞ্চে।
বিএনপির ইফতার মাহফিল অংশ নেন দলীয়, বিশ দলীয় জোট এবং আমন্ত্রিত বিভিন্ন দলের নেতারা।
বি.চৌধুরী তার বক্তব্যের শুরুতেই রমজানের ধর্মীয় ফজিলত স¤পর্কে কয়েক মিনিট কথা বলেন। এক পর্যায়ে বলেন, যারা ওয়াদার বরখেলাপ করে না, তারা মুত্তাকী।

 
বিকল্প ধারা সভাপতি আরও বলেন, আল্লাহর ওয়াস্তে এমন ওয়াদা দিয়েন না যেটা মানবেন না কখনো। ওয়াদারক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। মুখে বললাম এক, অন্তরে অন্য। এটা কোনও সত্যিকারের মুত্তাকী-মুসলমানের কথা তো নয়ই, রাজনীতিতেও ‘ব্যাড পলিটিক্স’।
দেশে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বি.চৌধুরী বলেন, আজকে বিএনপির নেতারা বেশি না হলেও কর্মীদের ভয়ে বুক কাঁপে দুরদুর করে। কাঁপবে না কেন? তারা তো তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। তারা সবসময় ভাবেন, কী হবে যদি আবার সরকারি দল ক্ষমতায় আসে – এবারে আমাদের কী হবে? এটা স্বাভাবিক শঙ্কা। অভিজ্ঞতায় বলে খুব সুবিধা হবে না।
তিনি আরও বলেন, একইভাবে সরকারের কিছু কিছু রাজনৈতিক কর্মী আমার কাছে আসছেন তাদেরও বুক কাঁপে। যদি বিএনপি আসে তাহলে তাদের কী হবে?
তিনি বলেন, এটা কী খুব ভালো কথা? এটা কী রাজনীতির জন্য শুভ? এটা কী দেশের ভবিষ্যতের জন্য শুভ? এটা কী ইঙ্গিত নয় যে এমন একটা পর্যায়ে যেতে পারে দেশ যেখানে মানুষ মানুষকে হত্যা করবে, নিগৃহীত করবে, জেলে দেবে, আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেবে। কিন্তু থামাবে কে? আমি চিন্তার খোরাক দিয়ে গেলাম।
বি চৌধুরী বলেন, এমন একটা শক্তি দরকার যে ওদিকেও কন্ট্রোল করতে পারে, এদিকেও কন্ট্রোল করতে পারে। তারা যদি উঠে আসতে পারে। বলে দেয়- তোমরা যদি একটা মানুষের গায়ে হাত দাও তাহলে সমর্থন উইথড্র করবো, গোল্লায় যাও, বিরোধী দলে যাও। এটাও বলবে, ওটাও বলবে। একমাত্র তাহলেই দেশ রক্ষা পেতে পারে। আল্লাহ কাছে প্রার্থনা করি আমাদের দেশে যেন সেরকম দুর্যোগ না আসে। আমরা যেন মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালো ভাবতে শিখি।

 
এর আগে মির্জা ফখরুল ইফতার-প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে আমন্ত্রিত রাজনীতিকদের সঙ্গে কুশল ও সালাম বিনিময় করেন।
ইফতারের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তিলাভ ও তারেক রহমানের সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ