০১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে খাদ্যগুদাম নির্মাণ হবে কবে?

  • Update Time : ০২:১২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ মে ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

হোসাইন আহমদ :: ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ২০০৮ সালের ১৮ মে থেকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা প্রতিষ্ঠার ১০ বছরেও এখানে কোনো সরকারি খাদ্যগুদাম নির্মাণ হয়নি। এতে ভিজিডি, ভিজিএফ, টিআর, কাবিখা-কাবিটাসহ হতদরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে ও সরকারের ১০টাকার চাল বিতরণে ব্যত্যয় ঘটছে। লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছেন ডিলারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

 
জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ১৮ মে ২০০৮ তারিখ থেকে এ উপজেলাটি নবসৃষ্ট দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় নিজস্ব খাদ্যগুদাম না থাকায় সরকারের বরাদ্দকৃত খাদ্য শস্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরবর্তী সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মল্লিকপুর এলাকার খাদ্যগুদাম হতে উত্তোলন করতে হয়। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মল্লিকপুর খাদ্যগুদাম থেকে ৩টন খাদ্য উত্তোলন করে নিজের এলাকায় নিতে যেখানে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ডিলারদের পরিবহন ব্যয় ও লেবার খরচ হয় ৩ হাজার টাকা। উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাদ্যগুদামে চাল পৌঁছাতে যানবাহন ও নৌকা ভাড়ায় খরচ দ্বিগুণ হয়ে পড়ে। তাছাড়া মাঝে মধ্যে বস্তাপ্রতি চাল কম থাকায় সুবিধাভোগীদের রোষানলে পড়তে হয় ডিলারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল ন্যায্য মূল্যে সরকারি খাদ্যগুদাম না থাকায় দিতে পারছেন না। যার ফলশ্রুতিতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা।

 
স্থানীয় কৃষকদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, সুনামগঞ্জে গিয়ে সরকারি ন্যায্য মূল্যে ধান খাদ্যগুদামে দিতে গেলে তাদেরকে অধিক ভাড়া বহন করতে হয়। তাছাড়া নানা ভোগান্তিও পোহাতে হয়। ফলে কৃষক তাদের উৎপাদিত ধান স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেপারিদের কাছে কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়।

 
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক মো. আতাউর রহমান জানান, অর্থ ও পরিকল্পনা এমএ মান্নান এমপি উপজেলা খাদ্যগুদাম নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। উপজেলার মধ্যবর্তী স্থান শান্তিগঞ্জ বাজার এলাকায় খাদ্যগুদাম হলে পরিবহন ব্যয় যৎসামান্য হবে। এতে গরিবদের মধ্যে চাল বিতরণ ও কৃষকদের ফলানো ফসল গুদামজাত আরো সহজ হবে। স্থানীয় কৃষকরা উপকৃত হবে।

 
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শিমুলবাক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জিতু বলেন, যেহেতু দক্ষিণ সুনামগঞ্জ একটি আলাদা উপজেলা সেই হিসাবে অত্র উপজেলাকে কেন্দ্র করে খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভিজিডি, ভিজিএফ, টিআর, কাবিখাসহ বিনামূল্যে হতদরিদ্রদের চাল আনতে অতিরিক্ত খরচ কম পড়বে। দ্রুততার সাথে বিতরণ করা যাবে।

 
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম বলেন, এ উপজেলায় খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা জরুরি। এখানে খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হলে স্থানীয় কৃষকরা উপকৃত হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ এগিয়ে যাবে। তাই সরকার অতিদ্রুত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় একটি খাদ্যগুদাম নির্মাণ করবে আশা প্রকাশ করছি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে খাদ্যগুদাম নির্মাণ হবে কবে?

Update Time : ০২:১২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ মে ২০১৮

হোসাইন আহমদ :: ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ২০০৮ সালের ১৮ মে থেকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা প্রতিষ্ঠার ১০ বছরেও এখানে কোনো সরকারি খাদ্যগুদাম নির্মাণ হয়নি। এতে ভিজিডি, ভিজিএফ, টিআর, কাবিখা-কাবিটাসহ হতদরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে ও সরকারের ১০টাকার চাল বিতরণে ব্যত্যয় ঘটছে। লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছেন ডিলারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

 
জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ১৮ মে ২০০৮ তারিখ থেকে এ উপজেলাটি নবসৃষ্ট দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় নিজস্ব খাদ্যগুদাম না থাকায় সরকারের বরাদ্দকৃত খাদ্য শস্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরবর্তী সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মল্লিকপুর এলাকার খাদ্যগুদাম হতে উত্তোলন করতে হয়। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মল্লিকপুর খাদ্যগুদাম থেকে ৩টন খাদ্য উত্তোলন করে নিজের এলাকায় নিতে যেখানে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ডিলারদের পরিবহন ব্যয় ও লেবার খরচ হয় ৩ হাজার টাকা। উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাদ্যগুদামে চাল পৌঁছাতে যানবাহন ও নৌকা ভাড়ায় খরচ দ্বিগুণ হয়ে পড়ে। তাছাড়া মাঝে মধ্যে বস্তাপ্রতি চাল কম থাকায় সুবিধাভোগীদের রোষানলে পড়তে হয় ডিলারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল ন্যায্য মূল্যে সরকারি খাদ্যগুদাম না থাকায় দিতে পারছেন না। যার ফলশ্রুতিতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা।

 
স্থানীয় কৃষকদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, সুনামগঞ্জে গিয়ে সরকারি ন্যায্য মূল্যে ধান খাদ্যগুদামে দিতে গেলে তাদেরকে অধিক ভাড়া বহন করতে হয়। তাছাড়া নানা ভোগান্তিও পোহাতে হয়। ফলে কৃষক তাদের উৎপাদিত ধান স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেপারিদের কাছে কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়।

 
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক মো. আতাউর রহমান জানান, অর্থ ও পরিকল্পনা এমএ মান্নান এমপি উপজেলা খাদ্যগুদাম নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। উপজেলার মধ্যবর্তী স্থান শান্তিগঞ্জ বাজার এলাকায় খাদ্যগুদাম হলে পরিবহন ব্যয় যৎসামান্য হবে। এতে গরিবদের মধ্যে চাল বিতরণ ও কৃষকদের ফলানো ফসল গুদামজাত আরো সহজ হবে। স্থানীয় কৃষকরা উপকৃত হবে।

 
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শিমুলবাক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জিতু বলেন, যেহেতু দক্ষিণ সুনামগঞ্জ একটি আলাদা উপজেলা সেই হিসাবে অত্র উপজেলাকে কেন্দ্র করে খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভিজিডি, ভিজিএফ, টিআর, কাবিখাসহ বিনামূল্যে হতদরিদ্রদের চাল আনতে অতিরিক্ত খরচ কম পড়বে। দ্রুততার সাথে বিতরণ করা যাবে।

 
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম বলেন, এ উপজেলায় খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা জরুরি। এখানে খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হলে স্থানীয় কৃষকরা উপকৃত হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ এগিয়ে যাবে। তাই সরকার অতিদ্রুত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় একটি খাদ্যগুদাম নির্মাণ করবে আশা প্রকাশ করছি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ