রাজনীতিতে সৎ, মেধাবী, কর্মঠ, ত্যাগীদের এগিয়ে আসতে হবে
- Update Time : ১২:৪৩:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ মে ২০১৮
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
রিয়াজ উদ্দিন বাবুল
রাজনীতি হচ্ছে নীতির রাজা। নীতিসমূহের রাজা। অন্যার্থে রাষ্ট্র পরিচালনার যতপোযুক্ত নীতি-ই হলো রাজনীতির মূল অংশ। হাতে-কলমে দেশ পরিচালনার কলা-কৌশল জানার পদ্ধতির নাম রাজনীতি। ইংরেজী পরিভাষায় Politics।
রাজনীতি বিশাল একটি বিষয়। এটি চর্চা করতে প্রয়োজন পড়ে বিশাল ও প্রসস্থ হৃদয়ের মানুষের।যে প্রসস্থ হৃদয়ের মানুষ সে রাজনীতি করে।
সংক্ষির্ণ মন নিয়ে রাজার নীতি অবলম্বনে না আসা-ই ভাল। কারণ তার নিকট অল্প পানির মাছ গভীর জলের আত্মহুতির ন্যায়। জলবিহীন মাছ যেমন হয় ঠিক তেমন-ই হয় এই মনের রাজনীতি চর্চাকারী ব্যক্তির অবস্থা।
রাজনীতি করা ভাল দিক, তবে এই ভাল বিষয়টি গুলা করে বিনষ্ট করছে কিছু হীণ প্রকৃতির রাজনৈতিক দুই পাইয়া প্রাণী। তাই বলে এটি ভালর চেয়ে মন্দের পাল্লা ভারী, জনসম্পৃক্ততায় অনিহা, অনাস্তা, অভিশাপ ও মন্দের কারণ হয়ে দাড়িছে।
আসলে কী তাই? মুটেও না।
নিঃসন্দেহে রাজনীতি চর্চা করা ভাল। এটির যথার্থ শিক্ষা ও নীতির প্রয়োগ এবং বাস্তবতায় রূপ দিতে হবে। তখন মঙ্গল বয়ে আনবে।
লেখা-পড়া করা মানে-ই কী সু-শিক্ষা??ভাল মানুষ?জ্ঞানী, বুদ্ধিমান? যদি তাই মনে করেন তাহলে আপনি এখনও কুনো ব্যাঙের রাজ্যে বাস করছেন।
শিক্ষিত মানে সুশিক্ষিত নয়, লেখা পড়া করা মানে সু-শিক্ষিত, জ্ঞানী, বুদ্ধিমান, বুদ্ধিমতী নয়।যদি শিক্ষিত ও পড়া-লেখা, জ্ঞানার্জনকারী ব্যক্তি সু-শিক্ষিত হতো, তাহলে সমাজটা এতোটা অদপতনে দিকে অগ্রসর হত না। সামাজিক বিপর্যটি একমাত্র শিক্ষিত ব্যক্তির সু-শিক্ষার অভাব।
যদি শিক্ষাহীন ব্যক্তির দ্বারা কোন ধ্রুমরুজাল, অসুবিধা সৃষ্টি হতো তাহলো এতো দূর নেমে আসত না। তার ভার্সাম্যতা বিদ্যামান থাকত।
আমাদের নবী হয়রত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষিত নয়। তারপরও তিনি সারা দুনিয়ার শিক্ষক, শিক্ষকদের শিক্ষক।
জ্ঞানী, বুদ্ধিমান, বুদ্ধিমতী হতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক পড়া লেখার প্রয়োজন নেই। তাই বলে লেখা পড়া করবে না, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাবেনা, সেটি বলিনি, বলছি….সু-শিক্ষিত, জ্ঞানী, বুদ্ধিমান হতে হলে কোন প্রতিষ্ঠানে যাওয়া লাগে না।
আমার দেখা অনেক জ্ঞানী ব্যক্তি, জ্ঞাণগর্ভ কথামালা বলা ব্যক্তি দেখেছি। তাঁরা কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যান নি। তার পরও এতো সুন্দর কথা বলা, সামাজিক পরিবেশ বজায় রেখে চলা, মানুষকে সু-পথে চলার নির্দেশ প্রদান করা। সর্বপরি বলা যায় এরা সু-শিক্ষিত।তাঁদের দ্ধারা সমাজ চলে সুন্দর ও সুশৃংখল ভাবে। নিঃশ্চয় প্রসংসার দাবিদার।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আমাদের জাতীয় কবি, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তেমন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন না, তাঁদের প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা আই এ, বিএ পাশ ছিলনা। তারপরও তাঁদের লেখা বই পড়ে মানুষ ডিগ্রী নিচ্ছে। হাসন রাজা সহ অসংখ্য ব্যক্তি তেমন কোন বর্তমান সমাজের মতো ডিগ্রীদারী শিক্ষা ছিলনা।তাই বলে তাঁরা জ্ঞানী, মেধাবী, বুদ্ধিমান ছিলেন না এটি বলা যাবেনা।
তাঁরা সুশিক্ষিত ছিলেন। তাঁদের লেখনীতে সমাজচিত্র তুলে ধরে সংশোধনের পন্থা দেখিয়ে দিয়েছে। আর বর্তমান সমাজের শিক্ষিত ব্যক্তিগণের কর্ম-কান্ডে দেখা যায়, এরা গণ্ড মূর্খের চাইতেও নিম্নমানের, তাদের শিষ্টাচারে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অাশার বাণী রেখা অভিশাপের পুত্তি শোনান।তাদের এখরোখে স্বার্থ সিদ্ধির বচন বলে নীতি বাক্য বলে চালান। এদের এ শিক্ষা জাতি আশা করেনা, এ ধরণের শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড হতে পারেনা।এটি জাতির জন্য অভিশাপ।
যে শিক্ষা, শিক্ষিত ব্যক্তি জাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনা, সেটি ক-খ-গ-ঘ জানার, ম্যার প্যাঁচের টাউট-বাটপারির জ্ঞাণ, প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা নয়, এটি বেহুলার পুত্তির কাহিনী জানা ছাড়া বৈ কী?
প্রকৃত শিক্ষিত হয়ে কখনও সমাজ ও জাতির অমঙ্গল বয়ে আনতে পারেনা।
কলম চালনা শিখছেন বলে অন্যের মাল-জানের উপর কলম ডাকাতি করবেন, যা-ইচ্ছে ব্যবহার করবেন, তা হতে পারেনা।
রাজার নীতি পাইছেন বলে যেমন তেমন ব্যবহার করবেন। এটা নীতি ও সৎ পন্থার কোন কাটায় পড়েনা।
রাজনীতিতে এই শিক্ষিত, সৎ মেধাবীরাই আসতে হবে, নয়লে সমাজটা আরও অদপতনে নিমজ্জিত হবে।
অনেক কে বলতে শোনেছি, বাবা! পড়া-লেখা কর, মানুষ হও। তাহলে আমার প্রশ্ন মানুষ হতে হলে পড়া লেখা করতে হবে? যারা পড়া-লেখা করল না তারা কী তাহলে অমানুষ? আমাদের দেশ তথা বহিঃবিশ্বে লেখা পড়া নাজানা অনেক লোক আছেন, তারা অমানুষ হিসেবে কথামতে স্বীকৃত। এমন ফালতো, উদ্ভট রকমের কথা শোনে আমার মতো অনেকের মন সন্দেহের সাগরে ফেলে। এপ্রকৃতির মানুষগুলি জাতির দুশমন, কেননা তারা সবাই কে একই পাল্লাতে মাপ যোগ করে। এটা ষোল আনায় অঠিক।
মানুষ হতে হলে মানুষত্ব প্রয়োজন। পড়া-লেখা বা শিক্ষার করার কোন শর্ত নেই।অনেকে পড়া-লেখা ছাড়া অর্থ্যাৎ ব-কলম, তারাও সমাজ-রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে এমন কি করছে এবং তাদের কে কী বলবেন?
রাজনৈতিক কর্মী হতে ইচ্ছুক বা রাজনীতি করতে চায় এমন ব্যক্তি, ছাত্রকে বলতে শুনি “রাজনীতি না করে পড়া লেখা কর, মানুষের মতো মানুষ হও”আমিও কথাটি বলতে চেয়ে ছিলাম কিন্তু করব কি? পড়তে গেলে কাকতালিয় ভাবে রাজনীতির পাঠটি চলে আছে। এখান থেকে রাজনীতি হাতে-খড়ি হয়ে যায়।ছাত্রটি চেয়েছিল কথাটি মান্য করতে কিন্তু করবে কী? রাজনীতি যে পিছু ছাড়ছে না।যেখানে যাও সেখানে রাজনীতি আর রাজনীতি।পড়তেও রাজনীতি, বিচারেও রাজনীতি, হাটে-মাঠে-ঘাটে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চাকুরী, ব্যবসায়, হাসপাতালে, গাড়িতে বাড়ীতে, এমন কী মৃত ব্যক্তি নিয়েও রাজনীতি। রাজনীতি এমন ভাবে গড়িয়েছে যে রাজনীতির জাতা কলে প্রকৃত রাজনীতি আদিকালের লীপির ন্যায় বিলিন হয়ে যাচ্ছে।
এখানেও ফরমালিন অসাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে গুলাটে হয়ে সু-রাজনীতি আজ কবর বাসী।
এতো সব রাজনীতি! রাজনীতি!! জপ্ত করতে করতে কালেমার জিকির হারিয়েছে। নেতাদের মুখে শুনেছি, “উফ! পলিটিক্সে আজ রাজনীতি কে নষ্ট করল।”এও বলতে শুনেছি “যে শ্যালার রাজনীতিতে এতো পলিটিক্স কেনে? আসলে এই রাজনীতিবিদ পলিটিক্স কাকে বলে? আর রাজনীতি কাকে বলে?সেটা বাছাই করার যোগ্যতা তার নেই। শুধু মাত্র দলা দলি, একত্র রেস্টুরেন্টে বসে পিঁয়াজী আর চায়ের আড্ডায় মাতিয়ে, গ্রুপিং, ফুয়াইন ম্যনেজ,জনবল দেখানি, কর্তৃত্ব জাহির, রাহাজানি, চাঁদাবাজী,আর খুন খারাবিতে সয়লাফ!এমন ট্রাইপের নেতারা
রাজনীতি বুঝা নিয়ে প্রশ্ন তুলে।তাদের আচরণ দেখে, মানুষ মন্দ বলে। ছেলেদের বা ছাত্রদের রাজনীতি করতে নিষেধ করে।
আমাদের রাজনীতি এমন ভাবে গড়িয়েছে।যা জনগণ বা অভিভাবকের নিকট অভিশাপ ও অমঙ্গলের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এমন দশা! থেকে অামাদের মুক্ত হতে হবে, জাতিকে রাজনীতিতে আশার বাণী শোনাতে হবে,আসলে যে ভাল সেটি কর্ম কান্ডে প্রকাশ করতে হবে।
রাজনীতিজ্ঞান হচ্ছে মৌলিক জ্ঞান। এটি অর্জন করতে হলে প্রথমত পরমত সহিষ্ণুতার জ্ঞান থাকতে হয়। বিশাল একটি হৃদয়, আর সৎ, কর্মট ও ত্যাগী ব্যক্তিই রাজনীতি কর্মী হতে পারে।কেননা রাজনীতি হচ্ছে রাষ্ট্র চালানোর পথ।আর পড়া লেখা করে চাকুরী করাই মহৎ পথ। সেই মত পথের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে রাজনীতিবিদ-ই তাদের নেতৃত্ব দেয় এবং পরিচালনা করে। সুতরাং আমাদের কে মূলে যেতে হবে। এজন্য সৎ মেধাবী,নকর্মঠ সু-শিক্ষিতদের রাজনীতিতে নিয়ে আসতে হবে। নয় তো নাপিতের হাতে কলম তুলে দিয়ে রাজনীতি আর পলিটিক্স কিছুড়ি হয়ে যাবে। আর জাতি দিন দিন ধংশের দিকে দাবিত হবে। এই ধংশস্থুপ থেকে বাঁচাতে কর্মঠ, সুশিক্ষিত, মেধাবী, সৎ, সাহসীরা এগিয়ে আসতে হবে এবং উৎসাহ প্রদান করতে হবে।
লেখকঃ রাজনৈতিক কর্মী, গোয়াইঘাট, সিলেট, মোবাইল: 01712 – 302430



















