মৃণাল কান্তি দাস এবং সেগুফতা ইয়াসমিন এমিলির বোখারি খতমের অতিথি হতে ইসলামে আপত্তি কোথায়?
- Update Time : ০৪:০৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
সৈয়দ মবনু
মুন্সিগঞ্জ সদরের সুফিয়া নাহার মহিলা মাদরাসার খতমে বোখারি অনুষ্ঠানে অতিথি অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস। এ নিয়ে অনেকে হৈ চৈ করছেন। আমার প্রশ্ন ছিলো খতমে বোখারি জিনিষটা কি এবং তা কেন করা হয়? যদি তা সমাপনি অনুষ্ঠান বলে বিবেচিত হয় তবে সেখানে অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসের অতিথি হতে আপত্তি কোথায়? তিনি হিন্দু, এটা কি আপত্তি? ইসলামের কিংবা ফিকাহের কোন বিধানে এই আপত্তি উত্তাপিত হচ্ছে? আমাদের স্মরণ রাখতে হবে অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস মুন্সিগঞ্জের জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ এমপি। তিনি পদাধিকার বলে তার এলাকায় যেকোন প্রতিষ্ঠানে প্রধান অতিথি হতে পারেন। সেগুফতা ইয়াসমিন এমিলিও একজন এমপি। তিনিও এমপি হিসাবে অতিথি হওয়ার অধিকার রাখেন। আর মাদরাসাও মহিলা মাদরাসা।

এই দুজনের অতিথি হওয়ার জন্য শরিয়তে কোন আপত্তি আছে বলে মনে হয় না। আর যদি কোন আপত্তি করতেই হয় তবে তা শুধু পর্দা ভঙ্গের কথা বলতে হবে। তবে আমার মনে হয় এবিষয়েও ইজতেহাদের সুযোগ রয়েছে, নতুবা ইসলামি দলগুলো বেগম খালেদা জিয়া কিংবা শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকে বসতেন না। ফিকহের বিধানে নিশ্চয় বেগম খালেদা জিয়া কিংবা শেখ হাসিনা নারীর হুকুমে আসেন। কেউ বলতে পারেন, তা রাজনৈতিক বিষয়। প্রশ্ন হলো, পর্দার মাসআলা কি রাজনৈতিক কারণে পাল্টে যায় ? যদি যায় তবে এখানেও পাল্টে যাবে, কারণ মৃণাল কান্তি দাস এবং সেগুফতা ইয়াসমিন এমিলি হলেন রাষ্ট্রের কাছে জনগণের প্রতিনিধি এবং জনগণের কাছে রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানাধিন থাকলেও রাষ্ট্র এবং জনগণের সম্পদ।
আর যদি মৃণাল কান্তি দাস এবং সেগুফতা ইয়াসমিন এমিলির অতিথি হওয়াকে কেউ নজিরবিহীন মনে করেন তবে আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, দারুল উলূম দেওবন্দের শতবর্ষ দস্তারবন্দি সম্মেলনের কথা। যেখানে ভারতের তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন এবং তাঁকে দাওয়াত করেছিলেন স্বয়ং ফেদায়ে মিল্লাত সৈয়দ আসআদ আল মাদানি (র.)। স্বয়ং ফেদায়ে মিল্লাত মঞ্চেও ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধি তো হিন্দু এবং মহিলা দুটা-ই ছিলেন।
আবেগ দিয়ে প্রেম চলে, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্র চলে না। বোখারি খতম একটি প্রতিষ্ঠানের সমাপনি অনুষ্ঠান, এতে যে কেউ যেতে পারবে। জনপ্রতিনিধি তো অবশ্যই। যারা এ বিষয়টি নিয়ে হৈ চৈ করছেন তারা তাদের আকাবিরদের কর্মগুলো বিবেচনা করুন এবং খারাপ মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন।
লেখক: সিলেট।



















