০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুসল্লী চোর না চোর মুসল্লী

  • Update Time : ০৩:৫০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৮
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

হুসাইন অাহমদ মিছবাহ : 

 

শিরোনাম দেখে কেউ হয়তো তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাবেন! বুঝতে চাইবেন, আসলে আমি কি বলতে চাই?! “মুসল্লী বা নামজী চোর” আর “চোর মুসল্লী বা নামাজী” এর মাঝে পার্থক্য কি?
কষ্ট করার প্রয়োজন নেই, বলে দিচ্ছি- “মুসল্লী বা নামাজী কখনো চোর হয়না, হতে পারেনা”।

 

তাহলে- জামাতে নামাজ আদায় করার পর অনেক সময় জুতা পাওয়া যায়না, জুতা কোথায় যায়? কে সরায় জুতাগুলো? এখানেতো সবাই মুসল্লী!?
হ্যা, মুসল্লী চোর না হলেও চোর কখনো মুসল্লী সেজে মসজিদে আসে। বাহ্যত আপাদমস্তক মুসল্লীই মনে হয়। কিন্তু তার মুখ্য নামাজ থাকেনা, টার্গেট থাকে জুতাচোরি। তাই সুযোগমত নামাজের মধ্যখানে বা তাড়াহুড়ো করে নামাজ শেষ করে তার কার্যসিদ্ধি করে।
এটাই বলতে চেয়েছি যে, মুসল্লী কখনো চোর হয়না, চোর কখনো মুসল্লী হয় মানে মুসল্লী সাজে।

সম্প্রতি বর্ষ বরণের দিনে একটি ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা গেছে বাহ্যত একজন আলেম খুলা আকাশের নিচে একজন যুবতীকে নিয়ে বসে গল্প করছেন!? ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একজন বাহ্যত আলেম নৃত্যের তালে ড্যান্স করছেন!?
এটা কখনো সম্ভব নয়? কোন আলিম বা দ্বীনদার এমন কাজ করতে পারেনা?! প্রকৃত পাঞ্জাবী, টুপি, দাড়িওয়ালারা এমন কাজ করা দূরে থাক, শয়তানে প্রবঞ্চনায় এমনটি কল্পনায় আসলেও সাথে সাথে তাওবা করবেন।

তাহলে?
এই ছবি ও ভিডিও আসলো কোত্থেকে? আমার হিশেবে এই ছবি ও ভিডিওর উৎস ৪টি-

১. এডিটিং :

ছবি, অডিও, ভিডিও এডিটিংগের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা যায়। এক জনের দেহে আরেকজনের চেহারা বসিয়ে মানুষ বদলানো যায়। দাড়িবিহীন মুখে দাড়ি লাগানো আর ডিজিটাল দাড়ি সেইভ কোন ব্যাপারই না। হয়তো সেভাবেই কাউকে এডিটিং করে আলিম বানানো হয়েছে, বাস্তবে সে আলিম নয়। যাকে ভার্চুয়াল ভাষায় ফেইক বলা হয়।

২. অভিনয় : হতে পারে কেউ আলিম সেজে অভিনয় করছে। এটা কোন প্রার্থিব স্বার্থে হতে পারে, আলিম সমাজকে হেও করার লক্ষ্যেও হতে পারে, আবার নিজেদের কুকর্ম কিছু হালকা করার জন্যেও হতে পারে। যা কখনো নাটকে বা সিনেমায় দেখা যায়।
ইয়া বড় হুজুর! দাড়ি, টুপি, পাঞ্জাবী মাশাল্লা! বাস্ততে এই লোকটি হুজুর দূরে থাক, কখনো মুসলমানই থাকেনা?!

৩. বাহ্যত :
হতে পারে ছবি বা ভিডিও এডিটিং করা নয়, অভিনয়ও নয় বরং রিয়েল!?
মানে?!
বাহ্যত যাকে আলিমের মত দেখা যাচ্ছে সে আলিম নয়?! আমজনতা টুপি, পাঞ্জাবী, দাড়ি দেখলেই তাকে আলিম গণ্য করে। এটা সব সময় সঠিক হয়না।
মনে রাখতে হবে, সব প্রকৃত আলিম পাঞ্জাবী-দাড়ি-টুপিওয়ালা হলেও, সব পাঞ্জাবী-দাড়ি-টুপিওয়ালা আলিম থাকেন না। তাই কেবল দাড়ি-টুপি-পাঞ্জাবী দেখেই কাউকে আলিম বলা যাবেনা। প্রয়োজনীয় ইলম যার ভিতর আছে, নুন্যতম যে টাইটেল বা কামিল পাস, সেই আলিম।
দাড়ি নবী সা. এর সুন্নত, যখন সেটা কোন মুসলমানের মুখে, সুন্নতি পরিমানে থাকে, তাই বলে রবিঠাকুরের দাড়ি সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত নয়। সেভাবে পাগড়ি সুন্নত, কিন্তু শিয়াদের পাগড়ি সুন্নত নয়। পাঞ্জাবী-টুপি সুন্নত, কিন্তু অমুসলিমের গায়ে হলে সুন্নত নয়।

৪. ভ্রষ্টতা : এই সম্ভাবনা একেবারেই কম। হতে পারে, শয়তানের বা প্রবৃত্তির ধোকায় পড়ে কোন আলিম এমনটি করেছেন।
যদি-
তাই হয়, তাহলেতো উপরের ৩টি বিপরিত হয়ে গেল। না, বিপরিত হয়নি। এমনটি কোন আলিম করলে আল্লাহর ফায়সালায় তিনি আর আলিম তালিকায় থাকবেন না। সূরা জুমুআর ৫নং আয়াত অনুযায়ী তিনি “গাদা” আর সূরা আ’রাফের ১৭৯ নং আয়াত অনুযায়ী তিনি “পশুর থেকেও নিকৃষ্ট” হয়ে যাবেন। এরা ‘গাদা’ হোক আর ‘পশুর থেকে নিকৃষ্ট হউক’ আলিম দূরে থাক, তারা আর মানুষ তালিকায়ই থাকতে পারবেনা।
তাই,
শুরু দিয়েই ইতি টানটে চাইছি, যেভাবে কোন মুসল্লী চোর হতে পারেনা, সেভাবে কোন আলিম প্রকাশ্যে এমন গর্হিত কাজ করতে পারেনা।
তবে চোর মুসল্লী সেজে যেভাবে জুতা চোরি করতে পারে, ঠিক তেমনি ভাবে, গায়রে আলিম আলিম সেজে যা ইচ্ছে তা করতে পারে।

লেখক: বালাগঞ্জ, সিলেট। মোবাইল 01712-100057

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

মুসল্লী চোর না চোর মুসল্লী

Update Time : ০৩:৫০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৮

হুসাইন অাহমদ মিছবাহ : 

 

শিরোনাম দেখে কেউ হয়তো তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাবেন! বুঝতে চাইবেন, আসলে আমি কি বলতে চাই?! “মুসল্লী বা নামজী চোর” আর “চোর মুসল্লী বা নামাজী” এর মাঝে পার্থক্য কি?
কষ্ট করার প্রয়োজন নেই, বলে দিচ্ছি- “মুসল্লী বা নামাজী কখনো চোর হয়না, হতে পারেনা”।

 

তাহলে- জামাতে নামাজ আদায় করার পর অনেক সময় জুতা পাওয়া যায়না, জুতা কোথায় যায়? কে সরায় জুতাগুলো? এখানেতো সবাই মুসল্লী!?
হ্যা, মুসল্লী চোর না হলেও চোর কখনো মুসল্লী সেজে মসজিদে আসে। বাহ্যত আপাদমস্তক মুসল্লীই মনে হয়। কিন্তু তার মুখ্য নামাজ থাকেনা, টার্গেট থাকে জুতাচোরি। তাই সুযোগমত নামাজের মধ্যখানে বা তাড়াহুড়ো করে নামাজ শেষ করে তার কার্যসিদ্ধি করে।
এটাই বলতে চেয়েছি যে, মুসল্লী কখনো চোর হয়না, চোর কখনো মুসল্লী হয় মানে মুসল্লী সাজে।

সম্প্রতি বর্ষ বরণের দিনে একটি ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা গেছে বাহ্যত একজন আলেম খুলা আকাশের নিচে একজন যুবতীকে নিয়ে বসে গল্প করছেন!? ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একজন বাহ্যত আলেম নৃত্যের তালে ড্যান্স করছেন!?
এটা কখনো সম্ভব নয়? কোন আলিম বা দ্বীনদার এমন কাজ করতে পারেনা?! প্রকৃত পাঞ্জাবী, টুপি, দাড়িওয়ালারা এমন কাজ করা দূরে থাক, শয়তানে প্রবঞ্চনায় এমনটি কল্পনায় আসলেও সাথে সাথে তাওবা করবেন।

তাহলে?
এই ছবি ও ভিডিও আসলো কোত্থেকে? আমার হিশেবে এই ছবি ও ভিডিওর উৎস ৪টি-

১. এডিটিং :

ছবি, অডিও, ভিডিও এডিটিংগের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা যায়। এক জনের দেহে আরেকজনের চেহারা বসিয়ে মানুষ বদলানো যায়। দাড়িবিহীন মুখে দাড়ি লাগানো আর ডিজিটাল দাড়ি সেইভ কোন ব্যাপারই না। হয়তো সেভাবেই কাউকে এডিটিং করে আলিম বানানো হয়েছে, বাস্তবে সে আলিম নয়। যাকে ভার্চুয়াল ভাষায় ফেইক বলা হয়।

২. অভিনয় : হতে পারে কেউ আলিম সেজে অভিনয় করছে। এটা কোন প্রার্থিব স্বার্থে হতে পারে, আলিম সমাজকে হেও করার লক্ষ্যেও হতে পারে, আবার নিজেদের কুকর্ম কিছু হালকা করার জন্যেও হতে পারে। যা কখনো নাটকে বা সিনেমায় দেখা যায়।
ইয়া বড় হুজুর! দাড়ি, টুপি, পাঞ্জাবী মাশাল্লা! বাস্ততে এই লোকটি হুজুর দূরে থাক, কখনো মুসলমানই থাকেনা?!

৩. বাহ্যত :
হতে পারে ছবি বা ভিডিও এডিটিং করা নয়, অভিনয়ও নয় বরং রিয়েল!?
মানে?!
বাহ্যত যাকে আলিমের মত দেখা যাচ্ছে সে আলিম নয়?! আমজনতা টুপি, পাঞ্জাবী, দাড়ি দেখলেই তাকে আলিম গণ্য করে। এটা সব সময় সঠিক হয়না।
মনে রাখতে হবে, সব প্রকৃত আলিম পাঞ্জাবী-দাড়ি-টুপিওয়ালা হলেও, সব পাঞ্জাবী-দাড়ি-টুপিওয়ালা আলিম থাকেন না। তাই কেবল দাড়ি-টুপি-পাঞ্জাবী দেখেই কাউকে আলিম বলা যাবেনা। প্রয়োজনীয় ইলম যার ভিতর আছে, নুন্যতম যে টাইটেল বা কামিল পাস, সেই আলিম।
দাড়ি নবী সা. এর সুন্নত, যখন সেটা কোন মুসলমানের মুখে, সুন্নতি পরিমানে থাকে, তাই বলে রবিঠাকুরের দাড়ি সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত নয়। সেভাবে পাগড়ি সুন্নত, কিন্তু শিয়াদের পাগড়ি সুন্নত নয়। পাঞ্জাবী-টুপি সুন্নত, কিন্তু অমুসলিমের গায়ে হলে সুন্নত নয়।

৪. ভ্রষ্টতা : এই সম্ভাবনা একেবারেই কম। হতে পারে, শয়তানের বা প্রবৃত্তির ধোকায় পড়ে কোন আলিম এমনটি করেছেন।
যদি-
তাই হয়, তাহলেতো উপরের ৩টি বিপরিত হয়ে গেল। না, বিপরিত হয়নি। এমনটি কোন আলিম করলে আল্লাহর ফায়সালায় তিনি আর আলিম তালিকায় থাকবেন না। সূরা জুমুআর ৫নং আয়াত অনুযায়ী তিনি “গাদা” আর সূরা আ’রাফের ১৭৯ নং আয়াত অনুযায়ী তিনি “পশুর থেকেও নিকৃষ্ট” হয়ে যাবেন। এরা ‘গাদা’ হোক আর ‘পশুর থেকে নিকৃষ্ট হউক’ আলিম দূরে থাক, তারা আর মানুষ তালিকায়ই থাকতে পারবেনা।
তাই,
শুরু দিয়েই ইতি টানটে চাইছি, যেভাবে কোন মুসল্লী চোর হতে পারেনা, সেভাবে কোন আলিম প্রকাশ্যে এমন গর্হিত কাজ করতে পারেনা।
তবে চোর মুসল্লী সেজে যেভাবে জুতা চোরি করতে পারে, ঠিক তেমনি ভাবে, গায়রে আলিম আলিম সেজে যা ইচ্ছে তা করতে পারে।

লেখক: বালাগঞ্জ, সিলেট। মোবাইল 01712-100057

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ