সুনামগঞ্জে মেয়র পদে উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নিজ কেন্দ্রেও পরাজিত : হারালেন জামানত
- Update Time : ০২:৪৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ মার্চ ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা :: সুনামগঞ্জ পৌরসভা উপনির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বিএনপি প্রার্থীর। প্রচারণায় পিছিয়ে না থাকলেও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী সুমন ভোটের ফলাফলে ছিলেন সবচেয়ে পিছিয়ে। এমনকি তিনি নিজ এলাকার কেন্দ্রে জয়ী হতে পারেন নি।
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৪২ হাজার ৩২২ ভোটের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২৮ হাজার ৭২জন। নৌকা প্রতীক নিয়ে আ.লীগের প্রার্থী নাদের বখত পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩৫২ ভোট, মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে দেওয়ান গণিউল সালাদীন পেয়েছেন ৯ হাজার ৪৮৫ ভোট। আর ধানের শীষ প্রতীকের দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী ১ হাজার ৮০৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ফলাফলে দেখা গেছে, সুমনের নিজের এলাকার ভোটকেন্দ্র বড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ভোট সংখ্যা ২০২৬টি। এর মধ্যে ৮৪৬টি ভোট পেয়েছে মোবাইল প্রতীক, ৩০০টি ভোট পেয়েছে ধানের শীষ আর ১৫১টি ভোট পেয়েছে নৌকা। তার ওয়ার্ডের আরেকটি কেন্দ্র বড়পাড়া আব্দুর রহমান পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ভোটার ২২১০জন। এর মধ্যে মোবাইল প্রতীক পেয়েছে ৭৮৬টি ভোট, নৌকা ৪৮০টি ভোট। আর ২০২টি ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন ধানের শীষের সুমন।
২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২টির ফলাফলে দেখা গেছে, ১৭টি কেন্দ্রে ভোটের হিসেবে একশ’র ঘরও পেরুতে পারেননি বিএনপি’র প্রার্থী। এর মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড রেস্ট হাউজ, ষোলঘর কেন্দ্রে পেয়েছেন সব চেয়ে কম ২৫টি ভোট। আবার ১০টি কেন্দ্রে ভোটের অঙ্কে ৫০ পেরুতে পারেননি ধানের শীষের প্রার্থী।
অন্যদিকে বিএনপি’র ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত কেবি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করা হয়েছে। উত্তর আরপিননগর কেন্দ্রে ১৬৫টি, হাছননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র ৪০টি ভোট পড়েছে ধানের শীষ প্রতীকে। এই দুটি কেন্দ্রের আশেপাশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মী ভোটার।
গত দুইটি নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি’র নেতাকর্মীরা নিজেদের প্রার্থীকে ভোট দেন না। তাদের নানা মারপ্যাঁচে অন্য প্রার্থীর বাক্সে ভোট চলে যায়। এবার তার ব্যতিক্রম হয়নি। যদিও ভোট শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপি’র প্রার্থী। সকালে অবশ্য সাংবাদিকদের কাছে ভোট নিয়ে তেমন কোন অভিযোগ ছিল না তার।
প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জ পৌরসভার ২০০৪, ২০১৫ ও ২০১৮ সালের তিনটি নির্বাচনেই জামানত হারান বিএনপি’র প্রার্থী।



















