জমিয়তের আহমদ বদরুদ্দিন খানের বিতর্কিত নিবন্ধের সাবলিল ব্যাখ্যা!
- Update Time : ১২:১৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ মার্চ ২০১৮
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ইকবাল হাসান জাহিদ:
জমিয়তের প্রাক্তন নির্বাহী সভাপতি সর্বজন শ্রদ্ধেয় মাওলানা মুহিউদ্দিন খান সাহেবের ছেলে জনাব আহমদ বদরুদ্দিন খানের “বিতর্কিত নিবন্ধ” বিষয়ে তাঁর লিখিত ও সরাসরি ব্যাখ্যা!
৩০ মার্চ শুক্র কেমুসাস বইমেলার শেষ দিন, এই কথা মনে করে প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে সন্ধ্যার পরেই কেমুসাসে হাজির হই। উপস্থিত হয়ে জানতে পারি আজই শেষ দিন নয়। প্রিয়। ছোট ভাই শাবির মাস্টার্সের পাবলিক এডের মেধাবি শিক্ষার্থী হেলাল হামাম মাহবুব মুহম্মদ, মিলে রঙ চা পান করি।
কিছুক্ষণ পরেই বন্ধু রেজাউল হক এলে দুইজন মিলে ড. সাঈদ নুরসির ৮ খন্ডের রেসালা কিনতে মাসিক মদীনা পাবলিকেশন্স এর দিকে রওয়ানা দেই। গিয়েই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সেখনে দেখা হয় জনাব আহমদ বদরুদ্দিন খানের সাথে। আমি উনার সাথে পরিচিত নই আগে থেকে। আজও পরিচিত না হওয়ার ভান করে বইয়ের দিকে মনোযোগী হয়ে যাই। আহমদ বদরুদ্দিন খানের পাশে মাওলানা আখতারুজ্জামান তালুকদার, ও আরো দুইজন ভাই বসা ছিলেন। তারা আমাকে দেখিয়ে বললেন উনি সাংবাদিক ইকবাল হাসান জাহিদ ভাই। জনাব আহমদ বদরুদ্দিন খান উঠে এসে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, কেমন আছেন। আপনি মনে হয় আমার ঐ লেখার বিষয়ে সমালোচনা করেছেন। বললাম জি। আমিই লিখেছি। আপনি কেমন আছেন? অত্যন্ত মোলায়েম ভাষায় আমার সাথে কথা বললেন। এবং আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিলেন। এবং বললেন, আমি আমার ব্যখ্যা আপনার ইনবক্সে দিয়েছি, মনে হয় আপনি দেখেন নি। আমি বললাম আপনি ফ্রেন্ডলিস্টে নেই, তাই ইনবক্স এ দেখিনি।
পরে অনেক কথাই বললেন। পাশাপাশি জমিয়তের রাজনীতি নিয়ে অনেক অজানা ও আকর্ষণীয় তথ্য প্রদান করলেন। এবং তার লেখার ব্যাখ্যা দিলেন।
তার এই নিবন্ধ উক্ত স্মারকে দেয়ার পরই তিনি মাওলানা নুর হোসাইন কাসেমীকে বলেছিলেন আমি এই টাইপের কিছু লেখা লিখেছি। তারা আমার লেখা যদি ছাপে, তবে যেনো আমার পুরা লেখাই ছাপে, আর যদি না ছাপে, তাহলে আমার লেখা পুরাটাই যেনো আটকে দেয়। তিনি সম্মতি দিয়ে বলেছিলেন, দেখো বাবা তুমি লিখেছো তারা অবশ্যই ছাপবে, তবে কারো নাম ম্যানশন করা যাবে না। এবং কাউকে আঘাত দিয়ে লেখা যাবে না।
আহমদ বদরুদ্দিন খান বলেন- জমিয়তে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যত সভাপতি নির্বাচিত বা মনোনিত হয়েছিলেন তারা সকলেই একেকটা নক্ষত্রের মতো। কস্মিনকালেও এদের সমালোচনা করা যাবে না। এরা সকলেই বিতর্কের ঊর্ধ্বে। এদের সমালোচনা করার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু যেহতু দলের ভেতরের একজন ব্যক্তি আমার বাবার বহিষ্কার ব্যাপারে বেশি নাটাই ঘুরিয়েছেন সেহেতু আমার ইঙ্গিতটা তার উপরেই পড়বে। কারণ মাওলানা নুর হোসাইন কাসেমি যেহেতু আমাকে নাম নিতে মানা করেছেন সেহেতু আমি উনার নাম নেইনি।
তিনি বলেন- কথা হইলো, জমিয়তে কতিপয় নেতৃবৃন্দ শুধু মাদানি আর আসাদির জিগির তুলেন, কিন্তু প্রকৃত মাদানি আর আসাদির মিশন কি তারা বাস্তবায়িত করেছেন? কথা আছে আরো অনেক! আপনার সাথে লম্বা সময় হলে বলব।
আহমদ বদরুদ্দিন প্রায় ১ ঘণ্টাব্যপী বহু বিষয় সম্পর্কে আমার সাথে কথা বলেন।
জনাব আহমদ বদরুদ্দিন খান, আমার ইনবক্সে যেই সংক্ষিপ্ত ব্যখ্যা দিয়েছিলেন, তা আমি নিম্নে তুলে ধরলাম।
“জনাব ইকবাল হাসান জাহিদ, তাসলিম বাদ, আপনার সদয় অবগতীর জন্য জানাচ্ছি যে, আমার লেখা প্রবন্ধের যে অংশগুলো আপনাকে যুগপত বিস্মিত ও ব্যথিত করেছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা যদি আমি প্রকাশ করতে পারতাম তাহলে অস্পষ্টতা কেটে যেত। তবে বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল বলেই তাঁদের নির্দেশে সে ব্যাখ্যা অামি স্পষ্ট করিনি। তবে আপনি চাইলে ব্যক্তিগতভাবে সে ব্যাখ্যা অামি সাক্ষাতে আপনাকে দিতে পারব ইনশা আল্লাহ্। তবে এটুকু বলে রাখি যে, এ লেখাটা আমি তখন লিখেছি যখন জমিয়তে প্রচণ্ড অস্থিরতা বিরাজ করছিল এবং জমিয়তকে নিয়ে নানামূখি নোংরা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল।”



















