প্রসঙ্গঃ বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও বেহায়াপনা : মোঃ মিজানুর রহমান মিজান
- Update Time : ০১:০৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
‘ভালবাসা’ পবিত্র জিনিস যা আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে আমরা পেয়েছি। ভালবাসা শব্দটি ইতিবাচক। মহান আল্লাহ তা‘আলা সকল ইতিবাচক কর্ম সম্পাদনকারীকে ভালবাসেন।
‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ বা ভালবাসা দিবস হলো এক নোংরা ও জঘন্য ইতিহাস স্মৃতিচারণের নাম। এ দিবসটির বয়স সতের শত সাঁইতিশ বছর হলেও ‘বিশ্ব ভালবাসা দিবস’ নামে এর চর্চা শুরু হয় সাম্প্রতিক কালেই। দুই শত সত্তর সালের চৌদ্দই ফেব্রুয়ারীর কথা। তখন রোমের সম্রাট ছিলেন ক্লডিয়াস। সে সময় ভ্যালেন্টাইন নামে একজন সাধু, তরুণ প্রেমিক- প্রেমিকাদের গোপন পরিণয় তথা যৌন মিলনের মন্ত্র দীক্ষা দিত। এ অপরাধে সম্রাট ক্লডিয়াস সাধু ভ্যালেন্টাইনের শিরচ্ছেদ করেন। তার এ ভ্যালেন্টাইন নাম থেকেই এ দিনটির নাম করণ করা হয় ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ যা আজকের ‘বিশ্ব ভালবাসা দিবস’।
বাংলাদেশে এ দিবসটি পালন করা শুরু হয় ১৯৯৩ সাল থেকে। কিছু ব্যবসায়ীর প্রত্যক্ষ মদদে এটি প্রথম চালু হয়। অতিউৎসাহী মিডিয়া কর্মীরা এর ব্যাপক প্রচারে কাজ করলে তা অত্যন্ত সানন্দে লুফে নেয় নগ্ন আধুনিকতায় বিশ্বাসী বাংলার তরুণ-তরুণীরা। এরপর থেকে নব উম্মাদনায় সত্যিকার ভালবাসার পরিবর্তে প্রগতিবাদী নামের তরুন- তরুনীরা এ দিবসটি পালনের নামে বেহায়াপনা যথারীতি চালিয়ে যাচ্ছে। আর এর ঠিক পিছনেই মানব জাতির চির শত্রু শয়তান এইডস নামক মরণ-পেয়ালা হাতে নিয়ে দাঁত বের করে হাসছে। মানুষ যখন বিশ্ব ভালবাসা দিবস সম্পর্কে জানত না, তখন পৃথিবীতে ভালবাসার অভাব ছিলনা। আজ পৃথিবীতে ভালবাসার বড় অভাব। তাই দিবস পালন করে ভালবাসার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হয়!
বিশ্ব ভালবাসা দিবসকে চেনার জন্য আরও কিছু বাস্তব নমুনা পেশ করা দরকার। দিনটি যখন আসে তখন শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তো একেবারে বেসামাল হয়ে উঠে। নিজেদের রূপ-সৌন্দর্য উজাড় করে প্রদর্শনের জন্য রাস্তায় নেমে আসে। শুধুই কি তাই ! অঙ্কন শিল্পীরা উল্কি আঁকার জন্য পসরা সাজিয়ে বসে থাকে রাস্তার ধারে। তাদের সামনে তরুণীরা পিঠ, বাহু আর হস্তদ্বয় মেলে ধরে পছন্দের উল্কিটি এঁকে দেয়ার জন্য। তারপর গভীর রাত পর্যন্ত নীরবে-নিবৃত্তে প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে খোশ গল্প,অবাধ আড্ডা আর শরীর প্রদর্শনের নামে নির্লজ্জ বেহায়াপনায় জড়িয়ে পড়ে। এ হলো বিশ্ব ভালবাসা দিবসের কর্মসূচি! এ দিবসের যাবতীয় অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কর্মকান্ডের প্রেক্ষিতে বিশ্ব ভালবাসা দিবস না বলে একে বিশ্ব বেহায়াপনা দিবস বললে অন্তত নামকরণটি যথার্থ হতো।
বিশ্ব ভালবাসা দিবসের নামে এসব ঈমান বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড হতে আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে হেফাযত করুন। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই যেন কাউকে ভালবাসি এবং শত্রুতাও যদি কারো সাথে রাখতে হয়, তাও যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই রাখি। আমীন!!
লেখকঃ শিক্ষক ও কলামিস্ট



















