পরস্পরকে মোকাবিলার কৌশল সাজাচ্ছে বড় দুই দল
- Update Time : ০৪:৩২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: আওয়ামী লীগ সারাদেশে সতর্ক থাকার পাশাপাশি জিয়া পরিবাররের দুর্নীতির কথা সারাদেশে জনগণের কাছে তুলে ধরে আগামী নির্বাচনে তাদেরকে বর্জন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, অপরদিকে বিএনপি দলের ঐক্য অটুট রাখা ও খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের কর্মসূচিতে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে আরো সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ও জেলে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিতে রাজনীতির নতুন মেরুকরন চলছে। দুই দলই অগ্রসর হচ্ছে তাদের পরিকল্পনা নিয়ে। আওয়ামী লীগ সারাদেশে সতর্ক থাকার পাশাপাশি জিয়া পরিবাররের দুর্নীতির কথা সারাদেশে জনগনের কাছে তুলে ধরে আগামী নির্বাচনে তাদেরকে বর্জন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যে এ প্রচারণা শুরুও হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গত ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালে নির্বাচনী জনসভায় আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা এতিমের টাকা মেরে খায় তারা ক্ষমতায় আসলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী ও মার্চের প্রথম সপ্তাহে খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর দুটি পৃথক নির্বাচনী জনসভা আছে। সেখানেও খালেদা জিয়া ও তার দলকে আগামী নির্বাচনে বর্জন করার আহ্বান জানানো হবে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে বিএনপি দলের ঐক্য অটুট রাখা ও খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের কর্মসুচীতে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে আরো সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের কেন্দ্রিয় নেতারা জেলা সফরে যাবেন। পাশাপাশি এখন থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দিবে ২০ দল। গত দুই দিন বৈঠক করে দল ও জোটের নেতারা তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির মধ্য দিয়েই চলমান সংগ্রাম অব্যাহত রাখা হবে। সাথে চলবে নির্বাচনের প্রস্তুতিও। ২০ দলীয় জোটের ঐক্য অটুট এবং জোটকে আরও সমপ্রসারিত করার জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট নেতারা কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সুত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার প্রেক্ষিতে বিএনপি ঘোষিত তিন দিনের মানববন্ধন, অবস্থান ও অনশন কর্মসূচির পাল্টা কোন কর্মসূচি দেবে না আওয়ামী লীগ। সারাদেশে সতর্ক থাকবেন তারা। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, আগুন সন্ত্রাসের পাশাপাশি দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ড পাওয়া কোনো দলীয় প্রধানকে নিশ্চয়ই জনগণ পছন্দ করবে না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে বলেন, খালেদা জিয়ার সাজা দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের জন্য সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, সরকার নয়, এই রায় দিয়েছেন আদালত। আমরা ঠান্ডা মাথায়, সতর্ক ও রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করব।
আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপির ক্ষমতা থাকাকালে প্রধান বিরোধীদল হয়েও কয়েকক যুগ ধরে বঙ্গবন্ধু হত্যার, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, জেল হত্যার বিচার আমরা পাইনি। আমরা বিচারের জন্য সামান্যতম সহানুভূতি পাইনি। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বিএনপি নেত্রীর কেক কেটে উল্লাস করেছিলেন। এর চেয়ে জঘন্য রাজনীতি আর কী হতে পারে?



















