ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপির বিক্ষোভ, ধরপাকড় অব্যাহত
- Update Time : ০৩:১৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ আদালতের সাজা ও কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে সারা দেশে প্রথমদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। গতকাল বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে নয়াপল্টন পর্যন্ত মিছিলের মাধ্যমে বিক্ষোভ করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। একই সময়ে ঢাকা মহানগর বিএনপি বিভিন্ন থানায় থানায় বিক্ষোভ করেছে। এ ছাড়া গাজীপুর, মৌলভীবাজার, খুলনা, রাজশাহী, নাটোর, সুনামগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ, যশোর, লালমনিরহাট, পাবনার চাটমোহর, কক্সবাজারের টেকনাফ ও চকরিয়া, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, বরগুনার আমতলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করে। তবে পুলিশের বাধায় চাঁদপুর, জয়পুরহাট, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, নাটোরের সিংড়া, নোয়াখালীর চাটখিলসহ বিভিন্ন জায়গায় পণ্ড হয়েছে বিক্ষোভ মিছিল। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৫০ জন, ঝিনাইদহে ৫৩ জন, লক্ষ্মীপুরে ৩০ জন, খুলনায় ৩৩ জন, দিনাজপুরে ৩০ জন, পঞ্চগড়ে ১৫ জন, কিশোরগঞ্জে ১৮ জন, চাঁদপুরে ১৮ জন, গাইবান্ধায় ২০ জন, ময়মনসিংহ ১৫ জন, কুমিল্লা সদর দক্ষিণে ১৮ জন, বাগেরহাটে ৭ জন, রংপুরে ৮ জন, নীলফামারীতে ৭ জন, কুড়িগ্রামে ৫ জন, রাঙ্গামাটিতে ৫ জন, চট্টগ্রাম মহানগরে ৫ জন, ময়মনসিংহে ৯ জন, রংপুরের বদরগঞ্জে ২ জন, কক্সবাজারের চকরিয়ায় ১ জন, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ৫ জন, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১ জন, সাতক্ষীরায় ৫ জন, মাগুরার শালিখায় ১ জন, নারায়ণগঞ্জে ৪ জন ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সারা দেশে এ গ্রেপ্তারের সংখ্যা চার শতাধিক। কিশোরগঞ্জ, নোয়াখালী, নেত্রকোনা, বগুড়া, মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলি বর্ষণ ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছেন অন্তত দেড়শতাধিক। ফরিদপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে সরকার সমর্থকরা। তার বাড়ি লক্ষ্য করে সরকার সমর্থকদের গুলিতে ২১ নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন। বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গে বিএনপির আড়াইশ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ৫৬৯ জন বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় পৃথক ৩টি মামলা করেছে পুলিশ। এ ছাড়া খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলামসহ ৭০ জনের বিরুদ্ধে, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজেদ বাবুসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে ও লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
এদিকে বিএনপি ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সারা দেশে বিক্ষোভ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
রাজধানীতে বিক্ষোভ
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে দলটির নেতাকর্মীরা। কয়েকশ নেতাকর্মীর স্লোগান মুখরিত মিছিলটি দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল মোড় হয়ে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। নয়াপল্টনে গেলে কার্যালয়ে অবস্থানরত দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ হাত নেড়ে মিছিলকারীদের স্বাগত জানান। মিছিলটি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পেরিয়ে নয়াপল্টন মোড়ের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তিন জনকে আটক করে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সিনিয়র সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার, ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, ড্যাব নেতা ডা. সালাউদ্দিন মোল্লা প্রমুখ মিছিলে অংশ নেন। একই ঘটনায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে সারা দেশে আজও বিক্ষোভ করবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো। ওদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এজিএম শামসুল হক, আবুল হোসেন, মাহফুজুর রহমান চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বাড্ডা সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে, কমিশনার মো. সাজ্জাদ ও বুলবুল মল্লিকের নেতৃত্বে পল্লবী, এল. রহমান, মজিবুর রহমান কাজী, ইঞ্জিনিয়ার মিরাজ হায়দার আরজুর নেতৃত্বে তেজগাঁওয়ের বিজয় স্মরণী, মহানগর উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রহমানের নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর টাউন হল, মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাইফুর রহমান মিহিরের নেতৃত্বে রামপুরা, আব্দুল আউয়াল, ইঞ্জিঃ মজিবুল হকের নেতৃত্বে রূপনগর আবাসিক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে বিমানবন্দর বাজার, এমএ মনির হাছানের নেতৃত্বে উত্তরা পূর্ব থানার ডিপিএস স্কুলের সামনে, আফাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে আবদুল্লাহপুর, হাজি মো. জাহাঙ্গীর আলম জাকিরের নেতৃত্বে আবদুল্লাহপুর, হাজি দুলালের নেতৃত্বে উত্তরা ১০নং সেক্টর, মোস্তফা কামাল হৃদয়ের নেতৃতে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং, মহানগর উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মাসুদ খানের নেতৃত্বে দিয়াবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, এইচ.এম ইমরান, মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে দারুস সালাম, আবু তাহের খান আবুলের নেতৃত্বে তুরাগে, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টির নেতৃত্বে চিড়িয়াখানা রোডে, ফজলূল হক ফজলুর নেতৃত্বে খিলক্ষেতে, মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও কাফরুল থানা বিএনপির আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন মতি এবং উত্তর বিএনপির সহ-সম্পাদক আশরাফুজ্জাহান জাহানের নেতৃত্বে রোকেয়া স্মরণীতে বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে শেরেবাংলা নগর থানা বিএনপির মিছিলটি স্কয়ার হাসপাতালে সামনে, উত্তরখান থানা বিএনপির মিছিলটি বেপারীপাড়া, এস. এ ছিদ্দিক সাজু ও দেলোয়ার হোসেন দুলুর নেতৃত্বে মিরপুর প্রশিকা ভবনের সামনে, মতিউর রহমান মতির নেতৃত্বে উত্তরা ৪নং সেক্টরে, ভাষানটেক থানা বিএনপির মিছিলটি কচুক্ষেত বাজারে, দক্ষিণখান থানা বিএনপির মিছিলটি বিমানবন্দর স্টেশনে, দক্ষিণখান থানা বিএনপির মিছিলটি মোল্লারটেকে পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়।



















