১০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটে ২ ওলির মাজার জিয়ারত করলেন খালেদা জিয়া : নেতাকর্মীদের পুলিশের বাধা, লাঠিচার্জ, সারা দেশে ধরপাকড়

  • Update Time : ০২:৪২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থককে নিয়ে সিলেটে হজরত শাহজালাল ও শাহপরাণের মাজার জিয়ারত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি সেখানে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-দরুদ পড়ে দু’হাত তুলে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন। এ সময় দরগা দুটি ঘিরে ছিল লোকে লোকারণ্য। এর আগে সকাল সোয়া ৯টায় সিলেটের উদ্দেশে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে রওনা দেন খালেদা জিয়া। ঢাকা থেকে সিলেট দীর্ঘ রাস্তায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে কঠোর নিরাপত্তা দিয়েছে পুলিশ। বিএনপি চেয়ারপারসনকে অভ্যর্থনা জানাতে রাস্তায় দাঁড়াতে দেয়া হয়নি দলটির নেতাকর্মীদের। বন্ধ রাখা হয় রাস্তার দু’পাশের সব দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বাধা উপেক্ষা করে রাস্তায় জড়ো হওয়া নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতার ওপর বেশ কয়েক জায়গায় লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। ধরপাকড় চালিয়েছে সমানে। ঢাকা থেকে নরসিংদী পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও ভিন্ন দৃশ্যপট ছিল কিশোরগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তায়। খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের মুখে মুখে ছিল একটিই স্লোগান- ‘আমার নেত্রী, আমার মা- বন্দি হতে দেবো না’। এদিকে খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থান থেকে দলটির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে দেশের অন্যান্য স্থানেও ধরপাকড় চলছে। গতকাল সারা দেশে বিএনপি ও ২০দলীয় জোটের চার শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় চলছে পুলিশি অভিযান।
সকালে গুলশান থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দিয়ে তেজগাঁও, মগবাজার, কাকরাইল, নয়াপল্টন, মতিঝিল, টিকাটুলি, সায়েদাবাদ ফ্লাইওভার হয়ে এগিয়ে যায় তার গাড়িবহর। নয়াপল্টনে পৌঁছালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক মুহূর্তের জন্য থামে খালেদা জিয়ার গাড়ি। এ সময় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থানরত দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী  আহমদের পক্ষ থেকে শতাধিক কর্মী-সমর্থক খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার কারণে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানাতে রাজধানীর অন্য কোন স্পটে অবস্থান নিতে পারেননি দলটির নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন। গাড়িবহর সাইনবোর্ড পেরিয়ে যাবার পর পুলিশ তাকে আটক করে। রাজধানী ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এপিসি কার, জলকামান, প্রিজনভ্যান নিয়ে লাঠিহাতে পুলিশের এমন অবস্থানের কারণে রাস্তায় দাঁড়াতে পারেনি বিএনপি নেতাকর্মীরা। তবে পুলিশি বাধার মুখেও ভুলতা গাউছিয়া, নরসিংদীর মাধবদী, ইটানগর, ভেলানগর, কামার টেক, বারৈচা ও বেলাবো পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে অবস্থান নেন। ভেলানগরে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে জুতো প্রদর্শন করে মনোহরদী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম খান বীরুর সমর্থকরা। কামারটেকে রাস্তার পাশে অভ্যর্থনা জানাতে জড়ো হওয়া নারীদের দেখে গাড়ি থামান খালেদা জিয়া। এ সময় তার সামনেই পুলিশে নারী-পুরুষের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। এ দৃশ্য দেখে খালেদা জিয়া গাড়িবহর থামিয়ে দিলে পুলিশ লাঠিচার্জ বন্ধ করে। পুলিশের বাধার কারণে বারৈচা স্টেশনের আগে রাস্তার পাশে সবজিক্ষেতে অবস্থান নিয়েছিল শতাধিক কর্মী-সমর্থক। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর দেখে তারা স্লোগান দিতে দিতে রাস্তার দিকে এগিয়ে এলে বিএনপি চেয়ারপারসন গাড়ি থামিয়ে হাত নেড়ে তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে শিবপুরের কারারচর এলাকায় বিএনপির আইন সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক কারাবন্দি আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েলের সমর্থকরা খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান। পুলিশ সেখান থেকে সানাউল্লাহ মিয়াকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়। দুপুর সোয়া ১২টায় দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌঁছে গাড়িবহর। মুহূর্তেই পাল্টে যায় পরিবেশ। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে গলি, মার্কেটসহ আশপাশের দোকানপাট থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি শরিফুল আলমের নামে স্লোগান দিতে দিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তায় নেমে আসেন। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখে গাড়ি থামিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া। কর্মী-সমর্থকরা আশুগঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে দেন। গাড়িবহর ভৈরব পেরিয়ে যাওয়ার পর জমায়েত কর্মী-সমর্থকদের লাঠিচার্জ করে ধাওয়া দেয় পুলিশ। এ সময় নেতাকর্মীরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে পুলিশের ভৈরব থানার ওসি মোখলেছুর রহমানসহ কয়েকজন সদস্য আহত হয়। পুলিশ সেখান থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, বিশ্বরোড, সরাইলের কুট্টাপাড়া, মালিহাতাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা। গাড়িবহর সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বার হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌঁছার পর পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট। মাধবপুর, গোলচত্বরে জেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সালের সমর্থক, শায়েস্তাগঞ্জে হবিগঞ্জর পৌর মেয়র জি কে গউছের সমর্থক, বাহুবল, মিরপুর, আউশকান্দিতে সাবেক এমপি শেখ সুজা মিয়ার সমর্থকরা রাস্তার দুইপাশে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান। শায়েস্তাগঞ্জে তোরণ নির্মাণ ও রাস্তার পাশে মঞ্চ করে মাইকে স্লোগান দিয়ে খালেদা জিয়াকে বরণ করে স্থানীয় বিএনপি। হবিগঞ্জের শেরপুর কিবরিয়া চত্বরে পুলিশের বাধার মুখেও রাস্তায় অবস্থান নেন বিএনপির হাজার হাজার  নেতাকর্মী। গাড়িবহর শেরপুর গোলচত্বর পেরনোর পর লাঠিচার্জ করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। সেখান থেকে জেলা বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। সিলেটের গোয়ালাবাজার, তাজপুর, দয়ামীর ও রশিদপুরে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর ছবি সংবলিত ফেস্টুন হাতে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক স্লোগানে স্লোগানে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে অভ্যর্থনা জানায়। সিলেট সদরের দক্ষিণ সুরমা চণ্ডিপুল এলাকায় পৌঁছালে শতাধিক মোটরসাইকেলের একটি বহর খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে এস্কট দিয়ে সার্কিট হাউসে পৌঁছে দেন। বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতির কারণে সুরমা নতুন ব্রিজের মেন্দিবাগ থেকে সার্কিট হাউস পর্যন্ত দুই মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করতে গাড়িবহরের প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে। এ সময় নেতাকর্মীদের মুখে ছিল একটিই স্লোগান- ‘আমার নেত্রী, আমার মা- বন্দি হতে দেবো না’। সার্কিট হাউসের সামনে ও কিনব্রিজের ওপর অবস্থান নিয়েও হাজার হাজার নেতাকর্মী খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান। খালেদা জিয়ার সফরকে স্বাগত জানিয়ে সিলেট মহানগরে বেশকিছু তোরণ নির্মাণ করেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সার্কিট হাউসে পৌঁছে আধ ঘণ্টা বিশ্রাম নেন খালেদা জিয়া। এ সময় সার্কিট হাউজের বাউন্ডারী দেয়ালের পাশে সতর্ক প্রহরায় ছিল পুলিশ। ওদিকে গতকাল দুপুরে সার্কিট হাউজ ও শাহজালাল (রহ.) মাজার গেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। তবে বিকাল পৌনে তিনটার দিকে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান জামানের অনুসারী নেতাকর্মীরা পাল্টা শোডাউন দিলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা সরে যায়। এদিকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম শেষে সন্ধ্যা ৬টায় নেতাকর্মীদের নিয়ে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে যান খালেদা জিয়া। সেখানে জিয়ারত শেষে একটি বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। নেত্রী দু’হাত তুলে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীও দেশ-জাতি এবং প্রিয় নেত্রীর জন্য দোয়া করেন। তার পরে হজরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। সিলেট সফরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, শাহজাহান ওমর, বরকতউল্লাহ বুলু, ডা. জাহিদ হোসেন, আহমদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী প্রমুখ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সিলেটে ২ ওলির মাজার জিয়ারত করলেন খালেদা জিয়া : নেতাকর্মীদের পুলিশের বাধা, লাঠিচার্জ, সারা দেশে ধরপাকড়

Update Time : ০২:৪২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থককে নিয়ে সিলেটে হজরত শাহজালাল ও শাহপরাণের মাজার জিয়ারত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি সেখানে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-দরুদ পড়ে দু’হাত তুলে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন। এ সময় দরগা দুটি ঘিরে ছিল লোকে লোকারণ্য। এর আগে সকাল সোয়া ৯টায় সিলেটের উদ্দেশে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে রওনা দেন খালেদা জিয়া। ঢাকা থেকে সিলেট দীর্ঘ রাস্তায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে কঠোর নিরাপত্তা দিয়েছে পুলিশ। বিএনপি চেয়ারপারসনকে অভ্যর্থনা জানাতে রাস্তায় দাঁড়াতে দেয়া হয়নি দলটির নেতাকর্মীদের। বন্ধ রাখা হয় রাস্তার দু’পাশের সব দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বাধা উপেক্ষা করে রাস্তায় জড়ো হওয়া নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতার ওপর বেশ কয়েক জায়গায় লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। ধরপাকড় চালিয়েছে সমানে। ঢাকা থেকে নরসিংদী পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও ভিন্ন দৃশ্যপট ছিল কিশোরগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তায়। খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের মুখে মুখে ছিল একটিই স্লোগান- ‘আমার নেত্রী, আমার মা- বন্দি হতে দেবো না’। এদিকে খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থান থেকে দলটির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে দেশের অন্যান্য স্থানেও ধরপাকড় চলছে। গতকাল সারা দেশে বিএনপি ও ২০দলীয় জোটের চার শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় চলছে পুলিশি অভিযান।
সকালে গুলশান থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দিয়ে তেজগাঁও, মগবাজার, কাকরাইল, নয়াপল্টন, মতিঝিল, টিকাটুলি, সায়েদাবাদ ফ্লাইওভার হয়ে এগিয়ে যায় তার গাড়িবহর। নয়াপল্টনে পৌঁছালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক মুহূর্তের জন্য থামে খালেদা জিয়ার গাড়ি। এ সময় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থানরত দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী  আহমদের পক্ষ থেকে শতাধিক কর্মী-সমর্থক খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার কারণে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানাতে রাজধানীর অন্য কোন স্পটে অবস্থান নিতে পারেননি দলটির নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন। গাড়িবহর সাইনবোর্ড পেরিয়ে যাবার পর পুলিশ তাকে আটক করে। রাজধানী ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এপিসি কার, জলকামান, প্রিজনভ্যান নিয়ে লাঠিহাতে পুলিশের এমন অবস্থানের কারণে রাস্তায় দাঁড়াতে পারেনি বিএনপি নেতাকর্মীরা। তবে পুলিশি বাধার মুখেও ভুলতা গাউছিয়া, নরসিংদীর মাধবদী, ইটানগর, ভেলানগর, কামার টেক, বারৈচা ও বেলাবো পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে অবস্থান নেন। ভেলানগরে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে জুতো প্রদর্শন করে মনোহরদী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম খান বীরুর সমর্থকরা। কামারটেকে রাস্তার পাশে অভ্যর্থনা জানাতে জড়ো হওয়া নারীদের দেখে গাড়ি থামান খালেদা জিয়া। এ সময় তার সামনেই পুলিশে নারী-পুরুষের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। এ দৃশ্য দেখে খালেদা জিয়া গাড়িবহর থামিয়ে দিলে পুলিশ লাঠিচার্জ বন্ধ করে। পুলিশের বাধার কারণে বারৈচা স্টেশনের আগে রাস্তার পাশে সবজিক্ষেতে অবস্থান নিয়েছিল শতাধিক কর্মী-সমর্থক। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর দেখে তারা স্লোগান দিতে দিতে রাস্তার দিকে এগিয়ে এলে বিএনপি চেয়ারপারসন গাড়ি থামিয়ে হাত নেড়ে তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে শিবপুরের কারারচর এলাকায় বিএনপির আইন সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক কারাবন্দি আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েলের সমর্থকরা খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান। পুলিশ সেখান থেকে সানাউল্লাহ মিয়াকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়। দুপুর সোয়া ১২টায় দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌঁছে গাড়িবহর। মুহূর্তেই পাল্টে যায় পরিবেশ। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে গলি, মার্কেটসহ আশপাশের দোকানপাট থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি শরিফুল আলমের নামে স্লোগান দিতে দিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তায় নেমে আসেন। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখে গাড়ি থামিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া। কর্মী-সমর্থকরা আশুগঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে দেন। গাড়িবহর ভৈরব পেরিয়ে যাওয়ার পর জমায়েত কর্মী-সমর্থকদের লাঠিচার্জ করে ধাওয়া দেয় পুলিশ। এ সময় নেতাকর্মীরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে পুলিশের ভৈরব থানার ওসি মোখলেছুর রহমানসহ কয়েকজন সদস্য আহত হয়। পুলিশ সেখান থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, বিশ্বরোড, সরাইলের কুট্টাপাড়া, মালিহাতাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা। গাড়িবহর সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বার হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌঁছার পর পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট। মাধবপুর, গোলচত্বরে জেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সালের সমর্থক, শায়েস্তাগঞ্জে হবিগঞ্জর পৌর মেয়র জি কে গউছের সমর্থক, বাহুবল, মিরপুর, আউশকান্দিতে সাবেক এমপি শেখ সুজা মিয়ার সমর্থকরা রাস্তার দুইপাশে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান। শায়েস্তাগঞ্জে তোরণ নির্মাণ ও রাস্তার পাশে মঞ্চ করে মাইকে স্লোগান দিয়ে খালেদা জিয়াকে বরণ করে স্থানীয় বিএনপি। হবিগঞ্জের শেরপুর কিবরিয়া চত্বরে পুলিশের বাধার মুখেও রাস্তায় অবস্থান নেন বিএনপির হাজার হাজার  নেতাকর্মী। গাড়িবহর শেরপুর গোলচত্বর পেরনোর পর লাঠিচার্জ করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। সেখান থেকে জেলা বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। সিলেটের গোয়ালাবাজার, তাজপুর, দয়ামীর ও রশিদপুরে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর ছবি সংবলিত ফেস্টুন হাতে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক স্লোগানে স্লোগানে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে অভ্যর্থনা জানায়। সিলেট সদরের দক্ষিণ সুরমা চণ্ডিপুল এলাকায় পৌঁছালে শতাধিক মোটরসাইকেলের একটি বহর খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে এস্কট দিয়ে সার্কিট হাউসে পৌঁছে দেন। বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতির কারণে সুরমা নতুন ব্রিজের মেন্দিবাগ থেকে সার্কিট হাউস পর্যন্ত দুই মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করতে গাড়িবহরের প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে। এ সময় নেতাকর্মীদের মুখে ছিল একটিই স্লোগান- ‘আমার নেত্রী, আমার মা- বন্দি হতে দেবো না’। সার্কিট হাউসের সামনে ও কিনব্রিজের ওপর অবস্থান নিয়েও হাজার হাজার নেতাকর্মী খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান। খালেদা জিয়ার সফরকে স্বাগত জানিয়ে সিলেট মহানগরে বেশকিছু তোরণ নির্মাণ করেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সার্কিট হাউসে পৌঁছে আধ ঘণ্টা বিশ্রাম নেন খালেদা জিয়া। এ সময় সার্কিট হাউজের বাউন্ডারী দেয়ালের পাশে সতর্ক প্রহরায় ছিল পুলিশ। ওদিকে গতকাল দুপুরে সার্কিট হাউজ ও শাহজালাল (রহ.) মাজার গেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। তবে বিকাল পৌনে তিনটার দিকে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান জামানের অনুসারী নেতাকর্মীরা পাল্টা শোডাউন দিলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা সরে যায়। এদিকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম শেষে সন্ধ্যা ৬টায় নেতাকর্মীদের নিয়ে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে যান খালেদা জিয়া। সেখানে জিয়ারত শেষে একটি বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। নেত্রী দু’হাত তুলে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীও দেশ-জাতি এবং প্রিয় নেত্রীর জন্য দোয়া করেন। তার পরে হজরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। সিলেট সফরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, শাহজাহান ওমর, বরকতউল্লাহ বুলু, ডা. জাহিদ হোসেন, আহমদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী প্রমুখ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ