পশুর হাটের মালায় আটকে গেলেন মুফতী ওয়াক্কাস এবং হাফিজ মাওলানা মনসুরুল হাসান রায়পুরী
- Update Time : ০১:২০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারি ২০১৮
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
সৈয়দ মবনু :
১০ জানুয়ারী ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের দৈনিক নয়াদিগন্তের ভাষ্যানুসারে ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাবেক সহ-সভাপতি মুফতী মোহাম্মদ ওয়াক্কাসকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া দলের সহ-সভাপতি মাওলানা মনছুরুল হাসান রায়পুরী ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমানকে শোকজ করা হয়েছে।’
১০ নভেম্বর, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে জয়িমতে উলামায়ে ইসলামের কাউন্সিলের পর জমিয়তে আসা নতুন কিছু লোক পদলাভ করে কোরবানীর পশুর মতো গলায় মালা লাগিয়ে ছবি তোলে যখন ‘জমিয়তের পয়গাম’ নামক ফেসবুকে প্রচার করে আমার দেওয়ালে টাগ করলো তখন মনে মনে খুব লজ্জা পাচ্ছিলাম ইসলামি একটি গ্রুপের মূর্খতা বা জাহিলিয়াত দেখে। অতঃপর আমি বিষয়টির সমালোচনা করলে দলান্ধরা আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ওরা প্রচুর গালাগালি করেন। আমি সেদিন জমিয়ত বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনায় বলেছিলাম,
‘—শায়খে কৌড়িয়ার মৃত্যুর পর জমিয়তের নেতৃত্ব কিছুটা গ্রুপিং-এর কারণে দুর্বল হয় এবং চারদলীয় নির্বাচনী রাজনীতিতে নির্বাচনে সুযোগ লাভের আশায় একগ্রুপের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। সিলেটের তরুণ এবং অর্থনৈতিকভাবে সবল নেতারা নির্বাচনের দৌঁড়ে আটকে যান এই গ্রুপের কব্জায়, বিশেষ করে লন্ডনের টাকা এই গ্রুপকে শক্তিশালি করায় মূল ভূমিকা পালন করেন। বিশাল জৌলসের নীচে হারিয়ে যায় জামিয়তের প্রকৃত এবং মূল নেতৃত্ব। এসব এতই তীক্ষè যে কেউ জমিয়তের ইতিহাস পূর্ণাঙ্গরূপে না জেনে তা বুঝতে পারবে না।’
‘—আমি কোন দল করি না আগেও বলেছি। তবে পারিবারিকভাবে জমিয়তের আলেম-উলামাদের সাথে আমাদের আত্মার সম্পর্ক। শুধু বাংলাদেশে নয়, এই ধারার পাক-ভারতের বড় বড় অনেক আলেমের সংস্পর্শে আল্লাহপাক আমাকে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। আমি তাদের কারো মধ্যে এমন চরিত্র কোনদিন দেখিনি যা এবার জমিয়তের নেতারা নেতা নির্বাচিত হয়ে দেখালেন। এখন চলছে ফান্টাসির যুগ, জমিয়তেও ফান্টাসী চলছে, এতে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু জিনিষটি যদি আমার কাছে কোরবানির হাটের গরুর মতো মনে হয় তা কি আমি প্রকাশ করবো না। আর জুনায়েদ আল হাবিব! যাকে একেবারে বৃদ্ধ বলদ ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। জমিয়তে এই মানুষটা বেমানান।’
‘—আমি যে আকাবিরদের সংস্পর্শে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে দেশে-বিদেশে দেখেছি তাদের কাউকে নেতা হওয়ার পর এরকমের নির্লজ্জ খুশি প্রকাশ করতে কোনদিন দেখিনি। গ্রুপিং হয়েছে, বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি হয়েছে। কিন্তু আলোচ্য বিষয় থেকেছে ঈমান ও আকিদা। কোথাও অহংকারকে জাহিলদের মতো এভাবে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হয়নি। এবার বড়ই নির্লজ্জের মতো কাজটি হয়েছে। এবারে যারা নেতৃত্ব লাভ করেছেন তাদের মধ্যে অনেক তো আমার বন্ধু পর্যায়েই আছেন, তাদের কারো সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। তবে জুনায়েদ আল হাবিবকে আমার কাছে আব্দুল্লাহ বিন উবাই বিন সলুলের মতো মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। কাসেমি সাহেব সম্পর্কে আমার ধারণা এখনও যথেষ্ট নয়। বাকী মুফতি ওক্কাস সাহেব তো এরশাদের মন্ত্রী, অবশ্য এতেও আমার কোন আপত্তি নেই। মানুষের জীবনে ভুল হয়, মানুষ আবার তাওবাহ করে। এই আলেমরাও মানুষ। তারা অবশ্যই নবী-রাসুল-সাহাবা নয়, তাদেরও ভুল হবে। তবে ভুলকে যদি কেউ অহংকারে নিয়ে কুতর্কে জড়িয়ে যান তবে মানব সৃষ্টির ইতিহাসে পড়ে নিতে হবে ইবলিসের ধ্বংসের কারণ। তারা নেতা হয়ে খুশি প্রকাশ করে শুধৃু আকাবিরদের নীতির খেলাফ করেছেন বলে আমার কষ্ট, তা কিন্তু নয়। বরং তা হযরত নবী করিম (স.)-এরও নীতির খেলাফ। স্মরণ রাখতে হবে হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘোষণা,-‘আল্লাহর শপথ, যে ব্যক্তি নিজে কোন পদ লাভ করার ইচ্ছা প্রকাশ করবে কিংবা কোন পদের প্রতি লোভ প্রদর্শন করবে, তাকে আমি কখনই কোন পদে নিযুক্ত করব না’। (বোখারী-মুসলিম)। অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, -‘যে নিজের জন্য পদ দাবী করে তাকে পদ দান করা যাবে না।’ আরেক হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,-‘তোমাদের মধ্য থেকে যে লোক এই দায়িত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার জন্য নিজ থেকে আগ্রহী হবে-পেতে চাইবে, চেষ্টা করবে, আমার মতে সে তোমাদের মধ্যকার সবচে খিয়ানতকারী ব্যক্তি।’

হাদিসের ভাষ্য : ‘তোমাদের মধ্য থেকে যে লোক এই দায়িত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার জন্য নিজ থেকে আগ্রহী হবে-পেতে চাইবে, চেষ্টা করবে, আমার মতে সে তোমাদের মধ্যকার সবচে খিয়ানতকারী ব্যক্তি।’ চিন্তাটা তো এখানে। যারা সেদিন নেতৃত্ব লাভের পর গলায় মালা দিয়ে ছবি উঠিয়ে প্রচার করেছে ওরা নিশ্চয় হাদিসের ভাষায় আমানতের খিয়ানতকারি ব্যক্তি। আজকে জমিয়তে যা হচ্ছে তা মূলত খিয়ানতকারিদের হাতে নেতৃত্ব্ চলে যাওয়ার কারণে হচ্ছে। যদি জমিয়ত কর্মিরা সেদিন আমার বক্তব্যের কাকুতি কিংবা আকাবিরদের মনের কথা বুঝতেন তবে আজ তাদের মধ্যে এত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো না। আমার জানা মতো সেদিন গলায় মালা দেওয়ার বিরুদ্ধে মুফতি ওক্কাস ও হাফেজ মাওলানা মনসুরুল হাসান রায়পুরীও ছিলেন। অবশেষে তারাও আটকে গেলেন মালাধারীদের মালার রশিতে।



















