জগন্নাথপুরের আমির হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও শঙ্কায় সুনামগঞ্জের তিন শিক্ষার্থী
- Update Time : ০২:৪৭:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা :: হাওরপাড়ের দরিদ্র মানুষদের স্বপ্ন দেখান তারা। তারা শিক্ষা সংগ্রামী। দারিদ্র্যের কষাঘাত দমাতে পারেনি তাদের। এসএসসি-এইচএসসি কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘খ’ ইউনিটে উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা। তাদের একজন রোমায়েল আহমেদ। মা-ছেলের সংসার আর নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতে নৌকায় মাঝির কাজ করেছেন। একইভাবে জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমির হোসেন একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছের। পিতৃহীন এবং দিনমজুর মায়ের সন্তান সুনামগঞ্জ শহরতলির আলমপুরের মোজাহিদুর রহমানও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে ভর্তি হবেন, কোথায় থাকবেন, লেখাপড়াসহ থাকা-খাওয়ার খরচ কোথা থেকে আসবে- এই চিন্তায় পেয়ে বসেছে তাদের।
রোমায়েল আহমেদের বাড়ি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্ণীপুর গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘খ’ ইউনিটে মানবিক বিভাগে মেধাতালিকায় ৪৪তম স্থান অধিকার করেছেন তিনি।
রোমায়েলের বাবা সনজব আলী কৃষক ছিলেন। তিনি মারা গেছেন ২০১৩ সালে। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রোমায়েল সবার ছোট। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। দুই ভাইও বিয়ে করে আলাদা থাকেন। মা তাহমিনা বেগম কেবল আছেন তার সঙ্গে। রোমায়েল জানান, লক্ষ্ণীপুর গ্রামের তাওয়াক্কুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করার পর সিলেট সদর উপজেলার সফির উদ্দিন হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন তিনি। সেখানে বিনা বেতনে তাকে পড়তে দেওয়া হয়। কলেজের পাশের জুগিরগাঁও গ্রামের আনোয়ার মিয়ার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করেন।
এইচএসসি পরীক্ষার ছয় মাস আগে বড় ভাই এবং এক মাস আগে মেজো ভাই সংসার থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর মাকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েন। এরপর পরীক্ষা না দিয়েই চলে আসতে চান বাড়িতে। তখন গ্রামের আরেক বড় ভাই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলী আজম তাকে উৎসাহ দেন পরীক্ষা দিতে। তার উৎসাহে এইচএসসি এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেন।
রোমায়েল জানান, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করতে চান। পড়াশোনা করে একজন ন্যায়বিচারক হতে চান।
সুনামগঞ্জ শহরতলির আলমপুরের মোজাহিদুর রহমানের অবস্থা আরও করুণ। তার সংগ্রাম চলমান। চার বোন এক ভাইয়ের সংসারে ২ নম্বর সন্তান তিনি। সাত বছর আগে বাবা মতিউর রহমান মারা গেছেন। সে থেকেই মা জাকিয়া বেগম ইটভাটার শ্রমিক। তিনি ১৮৫তম স্থান অর্জন করেন।



















