ছাতকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বঞ্চিত ভাতা খায় ভুঁয়া মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী
- Update Time : ০৩:৩১:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ছাতক প্রতিনিধি :: ছাতকে এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের বঞ্চিত করে মুক্তিযোদ্ধাভাতা সহ সকল সরকারি সুবিধা গ্রহণ করছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রংমালা বেগম। মুক্তিযোদ্ধার ছোট ভাই আব্দুস সামাদ জীবিত থাকাবস্থায় ভু্ঁয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে সরকারি সুযোগ- সুবিধা তিনি ভোগ করেছেন। সম্প্রতি মুক্তি যোদ্ধা সন্তান জহুর আলী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশান সার্টিফিকেট নিতে গেলে এ বিষয়টি প্রকাশ পায়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের শাহ আরেফিন নগর গ্রামের রহিম উল্লাহর পুত্র আব্দুর রহমান। মৃত রহিম উল্লাহর দুই পুত্র ছিলেন আব্দুর রহমান ও আব্দুস সামাদ এবং এক কন্যা ফুলই বিবি এখনো জীবিত রয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান মারা যান। এ সময় আব্দুর রহমানের স্ত্রী কাচা মালা বেগম জীবিত ছিলেন। বর্তমানে ওই মুক্তিযোদ্ধার ওয়ারিশ ছেলে জহুর আলী ও মেয়ে মোছাঃজয়ধন মালা রয়েছেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের ছোট ভাই আব্দুস সামাদ তৎসময় থেকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিজে মুক্তিযোদ্ধা সেজে সরকারি ভাতা সহ সকল সুবিধাদি ভোগ করেছেন।
শাহ আরেফিন নগর গ্রামের বাসিন্দা মৃত রহিম উল্লাহর ২য় পুত্র আব্দুস সামাদ মহিষমারা এলাকার ভোটার তালিকায় আব্দুর রহমান সেজে ভোটার হয়েছেন।(ভোটার নং ৯০২১৪৭৫০৫৬৮৫) এভাবে জাতীয় পরিচয় পত্র ও তিনি তৈরি করেছেন।
এদিকে মৃত রহিম উল্লাহর মেয়ে ফুলই বিবি শাহ আরেফিন নগর এলাকার ভোটার আছেন । বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের পুত্র জহুর আলী (পুরুষ ভোটার নং ৯০২১৪৯৫০৬৪২০), কন্যা মোছাঃ জয়ধন মালা (মহিলা ভোটার নং৯০২১৪৯৫০৬০১১) শাহ আরেফিন নগর এলাকার ভোটার তালিকায় জহুর আলী ও মোছাঃ জয়ধন মালার পিতা আব্দুর রহমান ও মাতার নাম কাচা মালা বেগম উল্লেখ রয়েছে।
এতসব জাল- জালিয়াতির মাধ্যমে আব্দুস সামাদ নামের ওই লোক আব্দুর রহমান সেজে বিভিন্ন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয় পত্রেও নাম পরিবর্তন করেছে।আব্দুস সামাদের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী রংমালা বেগমও আব্দুর রহমানের (ভাসুরের) ভু্ৃঁয়া স্ত্রী সেজে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা গ্রহণ করে যাচ্ছেন। এতে মুকিযোদ্ধা সন্তান জহুর আলী ও মোছাঃ জয়ধন মালা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও সরকারি সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
মুক্তিযোদ্ধা সমন্বিত তালিকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের (০১৯০০০০২৫৬৭),বে- সামরিক গেজেট (১১২৩) গ্রামের নাম শাহ আরেফিন নগরের স্থলে মহিষমারা পরিবর্তন করেছেন আব্দুস সামাদ।
গত ২২ আগষ্ট জহুর আলী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে একটি ওয়ারিশান সার্টিফিকেট নিতে গেলে এইসব জাল-জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে। ইউপি সদস্য জোৎস্না বেগম তদন্ত করে সার্টিফিকেট দেয়ার সুপারিশ করলেও ইউনিয়নের উদ্যোক্তা সার্টিফিকেট তৈরি করতে নারাজ। এ বিষয় নিয়ে লুকোচুরি খেলছেন উদ্যোক্তা। আব্দুস সামাদের স্ত্রী কর্তৃক বাধ্য হয়েই এ কাজে তার অপারগতা প্রকাশ। এ ব্যাপারে জহুর আলী ইউনিয়ন উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
প্রতারণা পুর্বক আব্দুস সামাদের স্ত্রী রং মালা বেগম আব্দুর রহমানের স্ত্রী সেজে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা গ্রহণ করার ব্যাপারেও ওই দিন তিনি আরেকটি অভিযোগ দেন। অভিযোগ দুটি তদন্তাধীন রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান জহুর আলী জানান, ২০১৩ সালে তিনি শাহ আরেফিন নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ওই বিদ্যালয়ের রেকর্ড-পত্রে তার নাম-পিতার নামসহ সব ডকুমেন্ট লিপিবদ্ধ আছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের স্ত্রী (জহুর আলীর মাতা) কাঁচা মালা বেগম মৃত্যুবরণ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের ওয়ারিশ বর্তমানে ছেলে জহুর আলী ও মেয়ে মোছাঃ জয়ধন মালা। কাঁচামালা বেগমের পিত্রালয় একই ইউনিয়নের বড়গল্লা গ্রামে।
এদিকে আব্দুস সামাদের স্ত্রী রংমালা বেগম এবং সন্তান তাজুদ আলী,মাসুক আলী,আশুক আলী, নুরজাহান, বতনি বিবি রয়েছেন। রংমালা বেগমের পিত্রালয় দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের খুরমা গ্রামে।বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান ও তার ছোট ভাই আব্দুস সামাদের বিয়ের কাবিন নামায়ও প্রকৃত নাম- ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের বোন, রহিম উল্লাহর কন্যা ফুলই বিবি এব্যাপারে জানান,তার ভাই আব্দুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আব্দুস সামাদ মুক্তিযোদ্ধা নয়। আব্দুস সামাদ দীর্ঘ দিন প্রতারণা করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা খেয়েছেন।এখন তার স্ত্রী ও প্রতারণা করে মুক্তিযোদ্ধাভাতা খাচ্ছেন। এইভাতা ও সরকারি সুবিধা আব্দুর রহমানের সন্তান জহুর আলী ও মোছাঃ জয়ধন মালার “হক”।
শাহ আরেফিন নগর-টিলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মিয়া ও গ্রামের সমর আলী জানান, রহিম উল্লাহর পুত্র আব্দুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
প্রতারণা করে আব্দুস সামাদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান নামের ভাতা খেয়েছেন। আব্দুর রহমান স্বাধীনতার পর-পরই মারা গেছেন। কিছু দিন আগে আব্দুস সামাদ ও মারা যান। বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের সন্তানদের বঞ্চিত করে আব্দুস সামাদের স্ত্রী তাদের সন্মানিভাতা নিয়ে যাচ্ছে।
নোয়ারাই ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মেম্বার আলকাছ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোহর আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আলী জানান, শাহ আরেফিন নগর গ্রামের রহিম উল্লাহর পুত্র আব্দুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। পরে শুনেছি তারই ছোট ভাই আব্দুস সামাদ কিভাবে আব্দুর রহমান সেজে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়েছে। এখন ভাতা আব্দুস সামাদের স্ত্রীর নামে।
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের নোয়ারাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী জুবেদ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,শাহ আরেফিন নগর গ্রামের রহিম উল্লাহর পুত্র আব্দুর রহমান, আব্দুস সামাদ ও কন্যা ফুলই বিবি। ফুলই বিবি বর্তমানেও জীবিত আছেন।আব্দুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি মারা গেছেন অনেক আগে। জেনেছি আব্দুর রহমানের নামের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ভোগ করতো আব্দুস সামাদ। আব্দুস সামাদ মারা যাওয়ার পর এখন এই ভাতা কে নিচ্ছে তিনি জানেন না। আব্দুর রহমানের কোন সন্তানাদি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন ছেলের নাম জহুর আলী ও একমেয়ে আছে নাম জানা নেই।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান জহুর আলীর দাবি এই ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত আবশ্যক। ডিএনএ পরিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সন্তান বের করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রদান করা হোক।


























