০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে শিক্ষকের উপর হামলা, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

  • Update Time : ০৫:০৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) উপজেলায় শিক্ষক মারপিটের ও লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় ফুসে উঠছে শিক্ষার্থী/অভিভাবকসহ এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে ৭ সেপ্টেম্বর বুধবার সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ছয়হাড়া পয়েন্টে। সরজমিনকালে এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে ছয়হাড়া গ্রামের শুকুর মিয়া ও একই গ্রামের আবুল লেইছ (মজনু) মিয়ার ফিশারিতে মাছ ধরার লক্ষ্যে অবৈধ কারেন্ট জাল বিচরণ করে বাড়িতে চলে যায়। এদিকে ফিসারি দেখতে আবুল লেইছ মজনু মিয়ার ছেলে সাদিক আহমদ অবৈধ কারেন্ট জাল দেখতে পেয়ে তুলে বাড়িতে নিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর শুকুর মিয়া জাল না পেয়ে এ দিক-সে দিক জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে সাদিক তার জাল তুলে নিয়ে গেছে। তখন সে ছাদিকের বাড়িতে যায় এবং জালের বিষয়ে সাদিকের পিতাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি অবগত নয় বলে জানান এবং তার ছেলে বাড়িতে আসলে জিজ্ঞেসা করবেন বলার সাথে সাথে শুকুর উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং হুমকি দিয়ে বলে জাল না পেলে যেখানে যাকে পাবে সেখানেই মারপিট করিবে। ঐদিন সন্ধ্যার পর ছয়হাড়া পয়েন্টে শুকুর আলি, সাদিককে পেয়ে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং হামলা কালে দস্তা দস্তির এক পর্যায় শুকুরের কপালে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরদিন রোগীকে দেখতে ও ডাক্তারী খোঁজখবর নিতে মজনু মিয়ার ভাতিজা ঈশাক পুর শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিপন আহমদ সজীব মোটরসাইকেল যুগে সুনামগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে ছয়হাড়া পয়েন্টে ওত পেতে থাকা শুকুরের লোকজন মোটরসাইকেল পৌছামাত্র এক ঐ গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে তছকির এর নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লোক তার উপর অতর্কিতভাবে তার উপর হামলা চালায়। হামলার লাঞ্চিত হয়ে সে এক পর্যায়ে আত্মরক্ষার্তে দৌড়ে পার্শ্ববর্তী পাঠান বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখানেও তারা হামলা চালিয়ে আবারো মারপিট করে লাঞ্চিত করে। মারপিটের পরে এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজন শিক্ষক নিপুন আহমদ সজিব কে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশংকা দেখে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। বর্তমানে শিক্ষক নিপন আহমদ সজীব সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। শিক্ষক নিপুন আহমদ সজিবের উপর অতর্কিত হামলার প্রতিবাদী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এলাকাবাসী হামলা কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। ঐ গ্রামের তসকির-শুকুর গংরা শিক্ষক লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পরদিন বিকেলে ছয়হাড়া পয়েন্টে বিভিন্ন স্লোগান লিখা ফ্লেকার্ড বুকে ধারণ করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন সময় বড় ধরনের ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। হামলার ঘটনায় শান্তিগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে শিক্ষকের উপর হামলা, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

Update Time : ০৫:০৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) উপজেলায় শিক্ষক মারপিটের ও লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় ফুসে উঠছে শিক্ষার্থী/অভিভাবকসহ এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে ৭ সেপ্টেম্বর বুধবার সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ছয়হাড়া পয়েন্টে। সরজমিনকালে এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে ছয়হাড়া গ্রামের শুকুর মিয়া ও একই গ্রামের আবুল লেইছ (মজনু) মিয়ার ফিশারিতে মাছ ধরার লক্ষ্যে অবৈধ কারেন্ট জাল বিচরণ করে বাড়িতে চলে যায়। এদিকে ফিসারি দেখতে আবুল লেইছ মজনু মিয়ার ছেলে সাদিক আহমদ অবৈধ কারেন্ট জাল দেখতে পেয়ে তুলে বাড়িতে নিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর শুকুর মিয়া জাল না পেয়ে এ দিক-সে দিক জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে সাদিক তার জাল তুলে নিয়ে গেছে। তখন সে ছাদিকের বাড়িতে যায় এবং জালের বিষয়ে সাদিকের পিতাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি অবগত নয় বলে জানান এবং তার ছেলে বাড়িতে আসলে জিজ্ঞেসা করবেন বলার সাথে সাথে শুকুর উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং হুমকি দিয়ে বলে জাল না পেলে যেখানে যাকে পাবে সেখানেই মারপিট করিবে। ঐদিন সন্ধ্যার পর ছয়হাড়া পয়েন্টে শুকুর আলি, সাদিককে পেয়ে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং হামলা কালে দস্তা দস্তির এক পর্যায় শুকুরের কপালে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরদিন রোগীকে দেখতে ও ডাক্তারী খোঁজখবর নিতে মজনু মিয়ার ভাতিজা ঈশাক পুর শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিপন আহমদ সজীব মোটরসাইকেল যুগে সুনামগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে ছয়হাড়া পয়েন্টে ওত পেতে থাকা শুকুরের লোকজন মোটরসাইকেল পৌছামাত্র এক ঐ গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে তছকির এর নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লোক তার উপর অতর্কিতভাবে তার উপর হামলা চালায়। হামলার লাঞ্চিত হয়ে সে এক পর্যায়ে আত্মরক্ষার্তে দৌড়ে পার্শ্ববর্তী পাঠান বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখানেও তারা হামলা চালিয়ে আবারো মারপিট করে লাঞ্চিত করে। মারপিটের পরে এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজন শিক্ষক নিপুন আহমদ সজিব কে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশংকা দেখে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। বর্তমানে শিক্ষক নিপন আহমদ সজীব সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। শিক্ষক নিপুন আহমদ সজিবের উপর অতর্কিত হামলার প্রতিবাদী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এলাকাবাসী হামলা কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। ঐ গ্রামের তসকির-শুকুর গংরা শিক্ষক লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পরদিন বিকেলে ছয়হাড়া পয়েন্টে বিভিন্ন স্লোগান লিখা ফ্লেকার্ড বুকে ধারণ করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন সময় বড় ধরনের ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। হামলার ঘটনায় শান্তিগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ