কাঁদলেন শ্রমিকরা, কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রীও
- Update Time : ০৬:০২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: চা শ্রমিক রীতা পানিকা ও সোনা মনির কথা শুনে আবেগে কেঁদে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে কাঁদলেন চা শ্রমিকরাও। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চা শ্রমিক রীতা পানিকা প্রথমে চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানিয়ে কথা বলেন, তিনি মজুরি বৃদ্ধি করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এসময় অশ্রুসিক্ত নয়নে রীতা পানিকা বলেন, প্রধানমন্ত্রী, আমরা সবসময় আপনার কথা ভেবে এসেছি এবং ভেবে যাব। আপনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। সেই স্বাধীনতা নিয়ে আমরা বেঁচে আছি। আমরা চাই আপনার বাবার মতো আপনিও কোনোদিন আমাদের কাছ থেকে সরে যাবেন না। আপনি আমাদের কাছে চিরজীবী হয়ে থাকবেন। আমরা চা শ্রমিকরা যে কষ্টে আছি সেটা আপনি দেখেছেন, এজন্য আপনাকে কোটি কোটি ধন্যবাদ। আপনাকে আমাদের কমলগঞ্জ উপজেলায় এক কাপ চায়ের দাওয়াত দিচ্ছি। আপনি আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন। আপনাকে আমরা দেখছি, এটা যে আমাদের জন্য কত আনন্দের সেটা মুখের ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এসময় রীতা পানিকা কোনো ভুল-ক্রটি হলে ক্ষমা চান।

প্রধানমন্ত্রী আবেগে অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, আপনারা ক্ষমা চাইবেন কেন। আপনারা যেটা করেছেন, সেটা বাঁচার তাগিদে করেছেন। আমি সেটা বুঝি। এজন্য আগে আমি মালিকদের সঙ্গে বসেছি, এখন আপনাদের সঙ্গে বসলাম। চা শ্রমিক সোনা মনি বলেন, মা আপনাকে দেখে বুকটা ফাঁটে। আপনার বাবা ভোটের অধিকার দিয়ে গেছেন।তিনি যদি থাকতেন, তাহলে চা শ্রমিকরা আজ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হতো না। আপনি সব দিতে আছেন। বয়স্ক ভাতা, মজুরী ভাতা দিতেছেন, আপনার জন্য পূঁজা করি, আপনি ভাল থাকলে, আমরাও ভাল থাকবো। আমি আপনার ওপর খুশি আছি। আগে ১২০ টাকা পেতাম, এখন ১৭০ টাকা পাই মা।আমাদের কোনো অভাব নাই। আপনি সব করে দিয়েছেন। ভোট এলে ঘরে ঘরে গিয়ে বলি, আমরা শেখ হাসিনার নৌকায় ভোট দিও। আপনি একটি সুবিধা করে দিয়েন, যাতে পেট ভরে ভাত খাইতে পারি। তার কথায় অশ্রুসিক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিউত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা নাগরিকত্ব দিয়েছেন। আমি আপনাদের ঘর করে দেবো।যাতে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ভালভাবে থাকতে পারেন। আপনারা ভাল থাকেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা নাগরিকত্ব দিয়েছেন। আমি সবাইকে ঘর করে দেব। ছেলেমেয়ে নিয়ে যাতে ভালোভাবে থাকতে পারেন সেটা করে দেব। পরে প্রধানমন্ত্রী চা বাগানের ঐতিহাসিক ঝুমুর নাগ দেখেন এবং প্রশংসা করেন। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস শহীদ, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া। শ্রমিক জাতির মাথা থেকে ভূমিহীন কলঙ্কটুকু মুছে দিন: সিলেটের লাক্কতুড়া থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলেন শিমু রানী রায়। তিনি বলেন, এই বর্তমান বাজারে আমরা মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে নিয়ে কতকষ্টে জীবন-যাপন করছি বলে শেষ করা যাবে না। আমরা হতাশ হয়ে গেছিলাম, আমাদের দুঃখ-কষ্ট শোনার জন্য কেউ নেই। তবে একজনই আছেন, তিনি হলেন প্রাণ প্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতো অল্প সময়ের মধ্যে মালিকদের সঙ্গে বসে মজুরী নির্ধারণ করেছেন। এরচেয়ে বেশি খুশি একজন প্রধানমন্ত্রী এতো ব্যবস্ততার মধ্যে আমাদের সময় দিয়েছেন।এ জন্য চা শ্রমিকদের মতো সৌভাগ্যবান জাতি আর নেই।
























