ছাতকে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবসে কবিতা প্রতিযোগিতা ও কবির জীবন দর্শন নিয়ে আলোচনা
- Update Time : ০৬:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জে ছাতকে শব্দসিঁড়ি সাহিত্য পরিষদ সুনামগঞ্জ কতৃক আয়োজিত বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে কবিতা প্রতিযোগিতা ও কবির জীবন দর্শন নিয়ে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছাতকের ঐতিহ্যবাহি ঝিগলী গণ পাঠাগারে সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) অধ্যক্ষ কবি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও কবি ইমামুল ইসলাম রানা’র পরিচলনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিগলী স্কুল এন্ড কলেজের স্বনামধন্য অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, জাতীয় কবির জীবন দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন ঝিগলী স্কুল এন্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলম, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবদুল মালেক, মোশারফ হোসেন বিএসসি, যুক্তরাজ্য থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগদেন কবি ও গবেষক দীন মুহাম্মদ আরজুমন্দ আলী, জয়পুরহাট থেকে পরিষদের সহ-সভাপতি সৈয়দা রুবীনা, কবি সৈয়দ আজমল হোসেন, কবি কুতুব রহমান, কবি বাবুল মিয়া, কবি কামরুল বিন আইয়ুব, বিশিষ্ট মুরুব্বি কদর আলী, মুজাহিদুল ইসলাম শাওন, রাহাত আলী, সায়েম আলী, কাওছার আহমদ, হোসেন মাহমুদ, দৌলত খান প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম মাত্র ২৩ বৎসরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি। তার জীবন শুরু হয়েছিল অকিঞ্চিৎতকর পরিবেশে। স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। মুসলিম পরিবারের সন্তান এবং শৈশবে ইসলামী শিক্ষায় দীক্ষিত হয়েও তিনি বড় হয়েছিলেন একটি ধর্মনিরপেক্ষ সত্তা নিয়ে। একই সঙ্গে তার মধ্যে বিকশিত হয়েছিল একটি বিদ্রোহী সত্তা। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার তাকে রাজন্যদ্রোহিতার অপরাধে কারাবন্দী করেছিল। তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীন অবিভক্ত ভারতের বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। যে নজরুল সুগঠিত দেহ, অপরিমেয় স্বাস্থ্য ও প্রাণখোলা হাসির জন্য বিখ্যাত ছিলেন, ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মারাত্মকভাবে স্নায়বিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে পড়লে আকস্মিকভাবে তার সকল সক্রিয়তার অবসান হয়। ফলে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু অবধি সুদীর্ঘ ৩৪ বছর তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রযোজনায় ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাকে সপরিবারে কলকাতা থেকে ঢাকা স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭৬ সালে তাকে বাংলাদেশের জাতীয়তা প্রদান করা হয়। এখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিংশ শতাব্দীর বাংঙ্গালীর মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশে তাকে “জাতীয় কবি“ হিসাবে মর্যাদা দেয়া হয়। তার কবিতা ও গানের জনপ্রিয়তা বাংলাভাষী পাঠকের মধ্যে তুঙ্গস্পর্শী। তার মানবিকতা, ঔপেনিবেশিক শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে দ্রোহ, ধর্মীয়গোঁড়ামীর বিরুদ্ধতা বোধে তাঁর কলম গর্জে উঠে।






























