০৩:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৩০০ ডলার করে চাচ্ছে হ্যাকাররা

  • Update Time : ০৩:১৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া গত শুক্রবারের সাইবার হামলায় আক্রান্ত কম্পিউটারের স্ক্রিনে আসছে একটি কমান্ড। ‘ইওর পারসোনাল ফাইলস আর এনক্রিপটেড!’ কম্পিটারের সব ফাইল এভাবে চলে গেছে হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে। এতে কার্যত সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হ্যাকাররা ৩০০ ডলার বা ইউরো দাবি করছে। বৈশ্বিক সাইবার হামলায় ‘র‌্যানসমওয়্যার’ আক্রান্ত বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছেও একইভাবে ৩০০ ডলার করে দাবি করেছে হ্যাকাররা। এরই মধ্যে দেশের বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এশিয়ান টিভির ১২টি ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কমপক্ষে ৫০টি কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এভাবে বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশের দুই লাখের বেশি কম্পিউটারে আঘাত হানা হয়েছে।

জানতে চাইলে এশিয়ান টিভির তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান মাসুম পারভেজ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, “গত শুক্রবার বৈশ্বিক সাইবার হামলায় আমাদের ১২টি কম্পিউটার ‘র‌্যানসমওয়্যার’ আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিটি কম্পিউটারের জন্য ৩০০ ডলার পাঠালে ঠিক করে দেবে বলে মেসেজ দিচ্ছে হ্যাকাররা। আমরা কম্পিউটারগুলো সারানোর জন্য যা যা করণীয় সব কিছু করেও ঠিক করতে পারিনি। তারা এসব কম্পিউটারের সব ফাইল এনক্রিপ্ট করে ফেলেছে, তাদের নিজস্ব কোডে নিয়ে গেছে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আর্কাইভসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না। ৩০০ ডলার করে পেমেন্ট করার পরও তারা সমাধান দেবে কি না, তাও আমরা সন্দিহান। তাদের অর্থ পরিশোধ পদ্ধতি বিটকয়েন (ডিজিটাল মুদ্রা), যেটি আমাদের এখানে চালু নেই। ”

তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানান, র‌্যানসমওয়্যার হলো একধরনের ম্যালওয়্যার, যেটি কম্পিউটারে প্রবেশ করার পর হার্ডড্রাইভের সব ফাইল এনক্রিপ্ট করে, ফলে এনক্রিপশন কি ছাড়া (মুক্তিপণ না দিয়ে) একে ভেঙে ফেলা প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রায় অসম্ভব। তবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন বলে দাবি করেছেন আলোচিত সাইবার বিশেষজ্ঞ ও ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস ফাউন্ডেশনের (সিআরএএফ) পরামর্শক তানভির হাসান জোহা। গতকাল তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ১৯টি কম্পিউটার র‌্যানসমওয়্যারমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের কাছে অর্ধশতাধিক কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছে বলে ই-মেইলগুলো পাঠিয়ে নিশ্চিত করেছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। অনেকে আমাকে ফোন করে সহায়তা চেয়েছে। আমি তাদের ই-মেইল করে রিক্যুইজিশন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। ইতিমধ্যে আমি প্রায় ৩৫টি ই-মেইল পেয়েছি। আরো অন্তত ১৫টি কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। ’

আক্রান্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ৩০০ ডলার করে দেওয়া ঠিক হবে কি না জানতে চাইলে তানভির জোহা বলেন, ‘এই অনৈতিক কাজকে প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক হবে না। র‌্যানসমওয়্যার মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। ইউজার প্রফাইল ডিফাইন করতে হবে, কোনো অনিরাপদ সাইটে যাওয়া যাবে না, অপরিচিত ব্যক্তির ই-মেইল খোলা যাবে না, নকল সফটওয়্যার ব্যবহার না করা, কোনো অনিরাপদ সফটওয়্যার, আপডেট ইনস্টল করা যাবে না। কোনো ভেরিফায়েড সাইট ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে কোনো কিছু ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অপারেটিং সিস্টেমের যেকোনো আপডেট না বুঝে ইনস্টল করা ঠিক হবে না। আগামী সপ্তাহে আমরা একটি টুলস ছাড়ব, যেটি ব্যবহার করে র‌্যানসমওয়্যার থেকে মুক্ত থাকা যাবে। আমরা ১৯টি কম্পিউটার ইতিমধ্যে ঠিক (র‌্যানসমওয়্যার ক্লিন) করে দিয়েছি। ’

জোহা বলেন, ‘তবে দেশে কী পরিমাণ কম্পিউটারে সাইবার হামলা হয়েছে এর চিত্র এখনই পাওয়া যাবে না। আমার কাছে তথ্য আছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সংখ্যা এ হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। ’ তিনি বলেন, দুই বেসরকারি টিভি চ্যানেলও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় রয়েছে। তবে তিনি চ্যানেল দুটির নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। অনেক সংস্থা রয়েছে, যারা সাইবার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা গোপন করছে। কারণ তারা মনে করছে, এটি প্রকাশ হলে তাদের সুনাম নষ্ট হতে পারে।

জানতে চাইলে তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ‘আমাদের কাছে ছয়টি আক্রান্ত কম্পিউটার ব্যবহারকারী সহায়তা চেয়েছেন। তাঁদের কাছেও একইভাবে ৩০০ ডলার করে চাওয়া হয়েছে, কিন্তু সেটা করলেও ডেটা ফেরত পাওয়ার গ্যারান্টি নেই। এটি করলে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে। যেসব কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছে তা নতুন ফরম্যাট করে নতুন ভার্সনের অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করা যেতে পারে। যেকোনো সাইবার হামলা থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিতভাবে কম্পিউটারের ডাটার ব্যাকআপ রাখতে হবে। ’

সুমন আহমেদ বলেন, আশঙ্কার কথা হচ্ছে গত দুই দিনে র‌্যানসমওয়্যারটির দুটি নতুন সংস্করণ ছড়িয়েছে। এটা ছড়িয়ে পড়তে পারে। যাঁরা উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহার করছেন, তাঁরা বেশি ঝুঁকিতে। উইন্ডোজ ৭ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা প্যাচ হালনাগাদ করে নিতে হবে।

বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে একযোগে সাইবার হামলার ঘটনাটিকে বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য ‘ওয়েক-আপ-কল’ বা সতর্কবার্তা বলে উল্লেখ করেছে মাইক্রোসফট। বিভিন্ন দেশের সরকারের তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতিরও সমালোচনা করেছে তারা। শুক্রবার থেকে চলা এ সাইবার হামলায় বিভিন্ন দেশের প্রায় দুই লাখের বেশি প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার আক্রান্ত হয়। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে থাকা নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে এ হামলা চালানোর ফলে পুরনো সংস্করণের উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরাই মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, যে নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে উইন্ডোজে এ সাইবার হামলা চালানো হয়েছে, তা মার্চ মাসেই সমাধান করে নিরাপত্তা আপডেট উন্মুক্ত করা হয়।

এদিকে বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছে, ম্যালওয়্যারটেক নামের যে প্রতিষ্ঠানের হিটম্যাপ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ব্যবহার করছে সেখানে আক্রান্ত ১৫০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও আছে বলে পরিলক্ষিত হয়েছে। অবশ্য এতে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে নীল রং দিয়ে, যার অর্থ হামলার তীব্রতা খুবই কম। সর্বাধিক আক্রান্ত দেশগুলো হলুদ বা কমলা রঙে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে কারা এসব হামলার শিকার হয়েছে তা জানা কঠিন। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশে, কারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ অর্থনীতি ও বাণিজ্যবিষয়ক নানা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা মনে করছে এই ব্যাপারটি নিয়ে ভুল বা কোনো স্পর্শকাতর তথ্য বাজারে চাউর হয়ে গেলে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান এই সাইবার হামলার শিকার হয়েছে, তারা এ নিয়ে খোলাসা করে কিছু বলতে চাইছে না। অনেকেই স্বীকারই করতে চাইছে না।

বিবিসি আরো জানায়, গতকাল সারা দিন নানা পর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে বাংলাদেশে অন্তত দুটি ব্যাংক, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এই র‌্যানসমওয়্যার হামলার শিকার হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। সুত্র কালের কন্ঠ

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

৩০০ ডলার করে চাচ্ছে হ্যাকাররা

Update Time : ০৩:১৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া গত শুক্রবারের সাইবার হামলায় আক্রান্ত কম্পিউটারের স্ক্রিনে আসছে একটি কমান্ড। ‘ইওর পারসোনাল ফাইলস আর এনক্রিপটেড!’ কম্পিটারের সব ফাইল এভাবে চলে গেছে হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে। এতে কার্যত সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হ্যাকাররা ৩০০ ডলার বা ইউরো দাবি করছে। বৈশ্বিক সাইবার হামলায় ‘র‌্যানসমওয়্যার’ আক্রান্ত বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছেও একইভাবে ৩০০ ডলার করে দাবি করেছে হ্যাকাররা। এরই মধ্যে দেশের বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এশিয়ান টিভির ১২টি ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কমপক্ষে ৫০টি কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এভাবে বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশের দুই লাখের বেশি কম্পিউটারে আঘাত হানা হয়েছে।

জানতে চাইলে এশিয়ান টিভির তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান মাসুম পারভেজ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, “গত শুক্রবার বৈশ্বিক সাইবার হামলায় আমাদের ১২টি কম্পিউটার ‘র‌্যানসমওয়্যার’ আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিটি কম্পিউটারের জন্য ৩০০ ডলার পাঠালে ঠিক করে দেবে বলে মেসেজ দিচ্ছে হ্যাকাররা। আমরা কম্পিউটারগুলো সারানোর জন্য যা যা করণীয় সব কিছু করেও ঠিক করতে পারিনি। তারা এসব কম্পিউটারের সব ফাইল এনক্রিপ্ট করে ফেলেছে, তাদের নিজস্ব কোডে নিয়ে গেছে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আর্কাইভসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না। ৩০০ ডলার করে পেমেন্ট করার পরও তারা সমাধান দেবে কি না, তাও আমরা সন্দিহান। তাদের অর্থ পরিশোধ পদ্ধতি বিটকয়েন (ডিজিটাল মুদ্রা), যেটি আমাদের এখানে চালু নেই। ”

তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানান, র‌্যানসমওয়্যার হলো একধরনের ম্যালওয়্যার, যেটি কম্পিউটারে প্রবেশ করার পর হার্ডড্রাইভের সব ফাইল এনক্রিপ্ট করে, ফলে এনক্রিপশন কি ছাড়া (মুক্তিপণ না দিয়ে) একে ভেঙে ফেলা প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রায় অসম্ভব। তবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন বলে দাবি করেছেন আলোচিত সাইবার বিশেষজ্ঞ ও ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস ফাউন্ডেশনের (সিআরএএফ) পরামর্শক তানভির হাসান জোহা। গতকাল তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ১৯টি কম্পিউটার র‌্যানসমওয়্যারমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের কাছে অর্ধশতাধিক কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছে বলে ই-মেইলগুলো পাঠিয়ে নিশ্চিত করেছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। অনেকে আমাকে ফোন করে সহায়তা চেয়েছে। আমি তাদের ই-মেইল করে রিক্যুইজিশন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। ইতিমধ্যে আমি প্রায় ৩৫টি ই-মেইল পেয়েছি। আরো অন্তত ১৫টি কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। ’

আক্রান্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ৩০০ ডলার করে দেওয়া ঠিক হবে কি না জানতে চাইলে তানভির জোহা বলেন, ‘এই অনৈতিক কাজকে প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক হবে না। র‌্যানসমওয়্যার মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। ইউজার প্রফাইল ডিফাইন করতে হবে, কোনো অনিরাপদ সাইটে যাওয়া যাবে না, অপরিচিত ব্যক্তির ই-মেইল খোলা যাবে না, নকল সফটওয়্যার ব্যবহার না করা, কোনো অনিরাপদ সফটওয়্যার, আপডেট ইনস্টল করা যাবে না। কোনো ভেরিফায়েড সাইট ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে কোনো কিছু ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অপারেটিং সিস্টেমের যেকোনো আপডেট না বুঝে ইনস্টল করা ঠিক হবে না। আগামী সপ্তাহে আমরা একটি টুলস ছাড়ব, যেটি ব্যবহার করে র‌্যানসমওয়্যার থেকে মুক্ত থাকা যাবে। আমরা ১৯টি কম্পিউটার ইতিমধ্যে ঠিক (র‌্যানসমওয়্যার ক্লিন) করে দিয়েছি। ’

জোহা বলেন, ‘তবে দেশে কী পরিমাণ কম্পিউটারে সাইবার হামলা হয়েছে এর চিত্র এখনই পাওয়া যাবে না। আমার কাছে তথ্য আছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সংখ্যা এ হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। ’ তিনি বলেন, দুই বেসরকারি টিভি চ্যানেলও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় রয়েছে। তবে তিনি চ্যানেল দুটির নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। অনেক সংস্থা রয়েছে, যারা সাইবার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা গোপন করছে। কারণ তারা মনে করছে, এটি প্রকাশ হলে তাদের সুনাম নষ্ট হতে পারে।

জানতে চাইলে তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ‘আমাদের কাছে ছয়টি আক্রান্ত কম্পিউটার ব্যবহারকারী সহায়তা চেয়েছেন। তাঁদের কাছেও একইভাবে ৩০০ ডলার করে চাওয়া হয়েছে, কিন্তু সেটা করলেও ডেটা ফেরত পাওয়ার গ্যারান্টি নেই। এটি করলে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে। যেসব কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছে তা নতুন ফরম্যাট করে নতুন ভার্সনের অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করা যেতে পারে। যেকোনো সাইবার হামলা থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিতভাবে কম্পিউটারের ডাটার ব্যাকআপ রাখতে হবে। ’

সুমন আহমেদ বলেন, আশঙ্কার কথা হচ্ছে গত দুই দিনে র‌্যানসমওয়্যারটির দুটি নতুন সংস্করণ ছড়িয়েছে। এটা ছড়িয়ে পড়তে পারে। যাঁরা উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহার করছেন, তাঁরা বেশি ঝুঁকিতে। উইন্ডোজ ৭ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা প্যাচ হালনাগাদ করে নিতে হবে।

বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে একযোগে সাইবার হামলার ঘটনাটিকে বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য ‘ওয়েক-আপ-কল’ বা সতর্কবার্তা বলে উল্লেখ করেছে মাইক্রোসফট। বিভিন্ন দেশের সরকারের তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতিরও সমালোচনা করেছে তারা। শুক্রবার থেকে চলা এ সাইবার হামলায় বিভিন্ন দেশের প্রায় দুই লাখের বেশি প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার আক্রান্ত হয়। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে থাকা নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে এ হামলা চালানোর ফলে পুরনো সংস্করণের উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরাই মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, যে নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে উইন্ডোজে এ সাইবার হামলা চালানো হয়েছে, তা মার্চ মাসেই সমাধান করে নিরাপত্তা আপডেট উন্মুক্ত করা হয়।

এদিকে বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছে, ম্যালওয়্যারটেক নামের যে প্রতিষ্ঠানের হিটম্যাপ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ব্যবহার করছে সেখানে আক্রান্ত ১৫০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও আছে বলে পরিলক্ষিত হয়েছে। অবশ্য এতে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে নীল রং দিয়ে, যার অর্থ হামলার তীব্রতা খুবই কম। সর্বাধিক আক্রান্ত দেশগুলো হলুদ বা কমলা রঙে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে কারা এসব হামলার শিকার হয়েছে তা জানা কঠিন। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশে, কারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ অর্থনীতি ও বাণিজ্যবিষয়ক নানা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা মনে করছে এই ব্যাপারটি নিয়ে ভুল বা কোনো স্পর্শকাতর তথ্য বাজারে চাউর হয়ে গেলে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান এই সাইবার হামলার শিকার হয়েছে, তারা এ নিয়ে খোলাসা করে কিছু বলতে চাইছে না। অনেকেই স্বীকারই করতে চাইছে না।

বিবিসি আরো জানায়, গতকাল সারা দিন নানা পর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে বাংলাদেশে অন্তত দুটি ব্যাংক, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এই র‌্যানসমওয়্যার হামলার শিকার হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। সুত্র কালের কন্ঠ

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ