স্বাগতম- আত্মত্যাগের বার্তাবাহী হিজরী নববর্ষ ১৪৪৪ : শাহ মমশাদ আহমদ
- Update Time : ০৬:২২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ জুলাই ২০২২
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
একটি বর্ষের গমন আর নববর্ষের আগমন মানে জীবনের দেয়াল হতে একটি ইট খসে পড়া। এমনি মুহুর্তে একজন মুমিন শুধু শুধু আনন্দিত হয়না। বিগত দিনে আল্লাহর মর্জি মতে নিজের জীবন পরিচালনার ব্যর্থতায় অনুশোচনায় ভোগে। ভবিষ্যতে দ্বীনের উপর চলার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করে। ১লা মুহাররাম হিজরী নববর্ষ। হিজরী সন আত্মত্যাগের স্বারক। হিজরি সনের ইতিহাসে রয়েছে মুমিনদের জন্য কুরবানীর চেতনা।
হযরত উমার রাঃ হিজরী সনের প্রবর্তন করেন। হিজরী সন কবে থেকে শুরু হবে? এ নিয়ে সাহাবায়ে কেরাম হযরত উমার (রাঃ) কে বিভিন্ন পরামর্শ দিলেন। বদরের বিজয় দিবসের বছর, মক্কা বিজয়ের বছর, প্রিয় নবীর (সঃ) জন্মের বছর, নবীজির ইন্তেকালের বছর,
নবুওত লাভের বছরকে প্রথম বছর ধরে হিসাবের প্রস্তাব আসলেও হযরত উমর (রাঃ) হযরত আলীর (রাঃ) প্রস্তাবে হিজরতের বছরকেই প্রথম বছর ধরে হিজরী সনের প্রবর্তন করলেন।
এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দেয়া হল, মুসলমান আনন্দকে স্মরণীয় রাখেনা।মুসলমান স্মারক হিসেবে দ্বীনের তরে আত্মত্যাগের কথাই স্মরণ রাখবে। সারা বছর ব্যাপী ইসলামের জন্য ত্যাগ করে যাবে। মুসলিম মানেই ত্যাগের জাতী, ভোগের নয়।
# হিজরী সনের সুচনা হয় কারবালার স্মারক মুহাররাম মাস দিয়ে।শেষ হয় হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ) এর আত্মত্যাগের স্মৃতিবাহী জিলহাজ্ব দিয়ে। বিষয়টি আমাদের শিক্ষা দেয়, ভোগ বিলাসে নয়। মুসলমানদের বছরের সুচনা ও শেষ হবে ইসলামের জন্য ত্যাগ ও কুরবানী করে।
# হিজরী সনের প্রথম মাস হিসাবে মুহাররাম মাস মনোনীত করা হয়। এর কারন হিসেবে ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেন,
যদিও হিজরতের ঘটনা রবিউল আউয়াল মাসে সংঘটিত হয়, কিন্তু প্রিয় নবী (সঃ) হিজরতের দৃঢ় সংকল্প করেন মুহাররাম মাসে। জিলহাজ্ব মাসে বাইয়াত সংগঠিত হওয়ার পর মুহাররাম মাসে হিজরত করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে সুযোগ মত রবিউল আউয়াল মাসে বাস্তবায়ন করেন তা স্মরণীয় রাখতেই হিজরি সনের প্রথম মাস মুহাররাম রাখা হয়। আল্লাহ আমাদের হিজরী সনের তাৎপর্য অনুধাবন করে নিজ জীবন ইসলামের জন্য বিলিয়ে দেয়ার তাওফিক দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট। সিলেট।




























