স্ত্রীর জন্য শ্বশুর-শ্বাশুড়ির খেদমত করা কি অপরিহার্য? শরীয়তের নির্দেশনা কী ? : শাহ মমশাদ আহমদ
- Update Time : ০৮:১৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারি ২০২২
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আধুনিক শিক্ষিত দ্বীনদার এক ভাই একজন আলেমা মেয়ে বিয়ে করেছেন। দ্বীনী এলেম কম থাকায় বেচারা আলেমা স্ত্রীর অনেক সুবিধাবাদী দালিলের জবাব দিতে অক্ষম। বেচারা যেন আলেমা বিবাহ করে মহা বিপদে পড়েছেন! তার আলেমা স্ত্রী সুস্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শ্বশুর শ্বাশুড়ির খেদমত করবেনা, তা স্বামীর দায়িত্ব। তার উপর জরুরী নয়। আমাকে বিষয়টি জানালে আমি বললাম,
তাকে জিজ্ঞাসা করবেন,স্বামীর নির্দেশ মানা জরুরী কিনা?
অবশ্যই জরুরী বলবে।আপনি আপনার পিতামাতাকে খেদমত করার নির্দেশ দিবেন। একথা শুনে আলেমা স্ত্রী কিছুদিন স্বামীর নির্দেশ মেনে স্বশুর শ্বশুরের খেদমত করে আবার অবহেলা শুরু করে।স্বামীকে বলে আপনার নির্দেশ মানতে আমি অপারগ।শরীয়ত আমাকে এজন্য বাধ্য করেনি। তিনি আমার কাছে পরামর্শ চাইলেন,আমি তাকে পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান সাহেবের ফর্মুলা তুলে ধরলাম। তিনি স্ত্রীকে বললেন, তুমি যেভাবে আমার
পিতামাতার খেদমত করতে বাধ্য নয়, আমিও একবিবাহে বাধ্য নয়।শরীয়ত আমাকে আরও তিনটি বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছে।আমার আব্বা আম্মার খেদমতের জন্য আরেকটি বিয়ে করব। একথা শুনে স্ত্রী নিজের শ্বশুর শ্বাশুড়ির খেদমতে কোন অনীহা করছেনা।
এব্যাপারে একটি আরবী কথিকার বঙ্গানুবাদ পেলাম।বিষয়টি আরও চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে।
“সাত বছর হলো আমার বিয়ে হয়েছে, এতোদিন সব ঠিক থাকলেও কিছুদিন পূর্বে আমার স্বামী চিকিৎসার জন্য তার মাকে নিয়ে আসে, এতোদিন তিনি তার মেয়ের কাছেই থাকতেন, আমার স্বামী ৩ বোনের একমাত্র ভাই, আমি একসাথে থাকতে অস্বীকার করলে সে তার মায়ের জন্য একই বিল্ডিংয়ে আলাদা ফ্লাট ভাড়া নেই , আর তখন থেকেই আমাকে একটু সাশ্রয়ী হতে বলে কেননা তার মায়ের চিকিৎসা খাওয়া থাকার পিছনে খরচ করতে হচ্ছিলো।
এমনিতেই এইসব আমার পছন্দ ছিলো না তারমধ্যে উটকো ঝামেলা হিসেবে সে আমাকে তার মায়ের জন্য রান্নাবান্না করার আদেশ দেয় , আমাকে বলতেছিলো যে শুধু রান্নার দিকটা দেখতে বাকি সব কাজ নাকি সে অফিস থেকে এসে করবে , আমি সেদিন স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছি : দেখো তোমার মায়ের সেবা করা আমার উপর ফরজ না , যদিও করি তাহলে সেইটা আমার করুনা , আর আমি এগুলা করতে পারবো না।
আসল সমস্যা এর পর থেকে শুরু হয়
ইদানীং কোনো কিছু বললেই বলে : দেখো এইটা আমার উপর ফরজ না যদিও দেই তাইলে করুনা করবো আর সেইটা করার ইচ্ছা নাই।
বিল না দেওয়ায় ওয়াই ফাইয়ের লাইন কেটে দিছে তাই সেটার বিল ভরতে বললাম সে বললো : দেখো ওয়াই ফাইয়ের বিল দেওয়া আমার উপর ফরজ না যদিও দেই তাইলে করুনা করবো আর সেইটা করার ইচ্ছা নাই।
আমার ভাই বেড়াইতে আসছিলো তাই তার হাতে দেওয়ার জন্য কিছু টাকা চাইলাম তখম সে বললো : দেখো তোমার ভাইকে হাদিয়া দেওয়া আমার উপর ফরজ না যদিও দেই তাইলে করুনা করবো আর সেইটা করার ইচ্ছা নাই।
শপিংয়ের জন্য টাকা চাইলে : দেখো শপিংয়ের টাকা দেওয়া আমার উপর ফরজ না যদিও দেই তাইলে করুনা করবো আর সেইটা করার ইচ্ছা নাই। আগে সে এমন ছিলো না, তাই বাধ্য হয়ে সেদিন বললাম :
আমার ভুল হয়েছে আমি সরি, তোমার মাকে এই ফ্লাটেই নিয়ে আসো, আমি তার সেবা করবো।
তার উত্তর : কোনো দরকার নাই, যেমনে আছো তেমনেই থাকো।
লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।



























