সৌদিসহ ৭টি দেশের সম্পর্ক ছিন্ন : কাতার সংকটে শঙ্কায় ৩লাখ বাংলাদেশি
- Update Time : ০৪:৩০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: সৌদি আরব ও বাহরাইনের নেতৃত্বে মোট ৭টি দেশ গত সোমবার কাতারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। মূলত দেশটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদ ও মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ এনে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর এ পরিস্থিতিতে কাতারে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকরা চাকরি হারানোর শঙ্কায় ভুগছেন।
যদিও দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাতারে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী বাস করেন। তবে কাতার সংকটের কারণে শ্রমিকরা প্রভাবিত হবেন না।
বুধবার মন্ত্রণালয়ে এক ওয়ার্কশপে এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামসুন নাহার জানান, ‘কাতার সরকারের সহযোগিতায় আমরা সেদেশে আমাদের শ্রম বাজার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দেখভাল করি। তাই কাতার সংকটে বাংলাদেশি প্রবাসীদের কোনও সমস্যা হবে না।’
এমনকি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বুধবার বলেন, ‘কাতারের শ্রম বাজারে বাংলাদেশি প্রবাসীরা প্রভাবিত হবেন না।’
এদিকে, কাতারের সঙ্গে সাতটি দেশের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘটনায় দেশটিতে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক ছাঁটাই হওয়া বা দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তাদের বেতন ও ভাতা কমাতে পারে মালিকরা।
এ ঘটনায় কাতারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এ অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
কাতারের পরিবহন সার্ভিস ‘মওয়াসালাত’র চালক মনা ইসলাম জানান, ‘কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘটনায় ইতোমধ্যে এখানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। একই সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে শাক সবজীর দামও অনেক বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত সোমবারের পর থেকে আলুর দাম দ্বিগুণ হয়ে বর্তমানে প্রতিকেজি তিন কাতারি রিয়াল দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি পিঁয়াজ ২ রিয়াল থেকে বেড়ে ৩ রিয়ালে বিক্রি হচ্ছে।’
চালক মনার সহকর্মী মতিউর রহমান বলেন, ‘বিশেষ করে সৌদি আরব রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় দেশটি থেকে আমদানি করা দুধ ও অন্যান্য ডেইরি পণ্যের দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।’
দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কাউন্সিলর ড. মো. সিরাজুল ইসলাম নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বর্তমানে ডেইরি পণ্য সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু অন্যান্য পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় দামের পরিবর্তন হয়নি।’
এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘কুয়েতের আমির বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছেন। শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে এ ঘটনায় কাতারে বাংলাদেশিরা শ্রমিকরা প্রভাবিত হবেন না।’
তিনি নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশি প্রবাসীদের যেকোনও প্রয়োজনীয় মুহূর্তে দূতাবাস খোলা রাখা হবে।’
এ সময় তিনি বাংলাদেশি প্রবাসীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘কাতার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস যৌথভাবে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’




























