১০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সৈয়দপুরে দাওরায়ে হাদিস ক্লাসের উদ্বোধনে শুধু ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাতের আমল নয়, নফল আমলগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রত্যেকের জন্য উচিৎ- মুহিব্বুল হক গাছবাড়ি

  • Update Time : ১১:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০১৯
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা :: সিলেটের জামেয়া কাসিমুল উলূম দরগাহ হযরত শাহজালাল (র.) মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা মুফতি মুহিব্বুল হক বলেছেন, দ্বীনি শিক্ষার ছাত্রদের ফজিলতের কথা সহীহ হাদিসসমূহে রয়েছে। আলিফ-বা থেকে কোরআন-হাদিস পর্যন্ত শিক্ষা যে প্রতিষ্ঠানসমূহে দেওয়া হয় সেই প্রতিষ্ঠান সমূহকে যারা সহযোগিতা করেন তারাও এই ফজিলতের অংশিদার। সৈয়দ শাহ শামসুদ্দিন (র.) জামেয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া বালিকা মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস ক্লাস উদ্বোধন হচ্ছে। আজকের এই মাহফিল অত্যন্ত মোবারক মাহফিল। কারণ, কোরআনের পর সবচে গুরুত্বপূর্ণ মোবারক এবং সহীহ কিতাব হলো বোখারী শরিফ। আজকে যারা বোখারী শরিফের সবক শুরু করছেন এবং যারা উপস্থিত আছেন সবাইকে একটি বিষয় বুঝতে হবে, বোখারী-মুসলিমের প্রথম হাদিস হচ্ছে ‘ইন্নামা আমালু বিন নিয়াত’, অর্থাৎ সকল আমলের মূল হলো নিয়ত। সবাইকে নিয়ত শুদ্ধ করতে হবে। দ্বীনি শিক্ষা, দ্বীনি কাজ এবং সকল আমলের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তোষ্টি অর্জন। কেউ যদি মানুষকে দেখানোর জন্য, মানুষের সন্তোষ্টির জন্য, মানুষ আমাকে আলেম বলবে, মুফতি বলতে, শায়খুলহাদিস বলবে, নামাজি বলবে, হাজি বলবে ইত্যাদি উদ্দেশ্যে দ্বীনি কাজ করে থাকেন তবে সব বেকার হয়ে যাবে। তাই সবাইকে সবকিছু আল্লাহর সন্তোষ্টির জন্য করতে হবে। বুধবার (৩ জুলাই) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে সৈয়দ শাহ শামসুদ্দিন (র.) জামেয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া বালিকা মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল ফিল হাদিস) ক্লাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বোখারী শরিফের পাঠদান কালে তিনি এসব কথা বলেন। আল্লামা মুফতি মুহিব্বুল হক এসময় আরও বলেন, আজকে যারা বোখারি শরিফ সহ সিয়াসিত্তার সবক শুরু করছেন তাদের উচিৎ হবে তারা যত হাদিস পড়বেন সবগুলোর আমল পূূর্ণাঙ্গরূপে করার চেষ্টা করা। শুধু ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাতের আমল নয়, নফল আমলগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রত্যেকের জন্য উচিৎ। নফল আমলকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। নফল আমল মানুষকে আল্লাহর কাছে প্রিয় করে দেয়। নফল আমল মানুষকে আল্লাহর কাছে দোয়া কবুলের উপযোগি করে। অনেকে মনে করেন, নফল না পড়লে চলে, নফলের জন্য তো কোন শাস্তি নেই। কিন্তু নফল যে মানুষকে মকবুল করে তা অনেকে জানেন না। ইমাম বোখারী (র.)-এর বোখারী শরিফের সবচে বড় ফজিলত তিনি প্রতিটি হাদিস লিপিবদ্ধ করার পূর্বে দু রাকাত নফল নামাজ পড়েছেন। আল্লাহপাক এই নফল ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর কিতাবকে সবচে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়েগেছেন। আল্লামা মুফতি মুহিব্বুল হক নফল ইবাদতের ফজিলত বর্ণনায় অনেকগুলো ঘটনা উল্লেখ করে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা ভাল করে হাদিসসমূহ পড়বে, প্রত্যেকটি হাদিসের উপর আমল করবে এবং হাদিসের বাণী অন্যদের কাছে পৌঁছিয়ে দিবে। সৈয়দ শাহ শামসুদ্দিন (র.) জামেয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া বালিকা মাদরাসার শিক্ষক হাফিজ মাওলানা খালেদ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাদরাসার শিশু ক্লাসের ছাত্রী সৈয়দা মাহদিয়া। অনুষ্ঠানে বয়ান পেশ করেন ও বক্তব্য রাখেন অত্র মাদরাসার শায়খুল হাদিস এবং সৈয়দপুর দরগাহে হযরত শাহ শামসুদ্দিন (র.) জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক শায়খে সৈয়দপুরী, মাদরাসার হাদিসের শিক্ষক মুফতি মাহমুদ, কবি ও গবেষক সৈয়দ মবনু।

 

শায়খুল হাদিস মাওলানা সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক শায়খে সৈয়দপুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজকে থেকে এই মাদরাসার সরাসরি সম্পর্ক হয়েগেলো গুম্বুজে খাজরার সাথে, মদিনায়ে মনোয়ারার সাথে। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দ শাহ শামসুদ্দিন (র.) জামেয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া বালিকা মাদরাসা ইতোমধ্যে হিফজ বিভাগ চালু করে অত্যন্ত সুনামের সাথে খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে। এই মাদরাসায় হাফিজি শেষ করা হাফিজারা আজ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকতা করছেন। দীর্ঘদিন থেকে এই মাদরাসায় মিশকাত জামায়াত পর্যন্ত সুনামের সাথে লেখাপড়া চলে আসছে। ইনশাল্লাহ এ বছরের পর থেকে এ মাদরাসা থেকে মেয়েরা তাকমিল ফিল হাদিস শেষ করে আলেম হয়ে বের হবে এবং দেশে-বিদেশে দ্বীনের খিদমাত আঞ্জাম দিবে। এসব এই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাজী সৈয়দ আতাউর রহমানের ইখলাস ও লিল্লাহিয়াতের ফজিলত। তাঁর মনে সার্বক্ষণিক একটা কান্না রয়েছে এই মাদরাসাকে রক্ষা এবং উন্নয়নে। আল্লাহ পাক তাঁর এই কান্নাকে কবুল করেছেন বলেই এখান থেকে প্রতি বছর ভাল ভাল হাফিজা কোরআন মুখস্ত করে বের হচ্ছে এবং এ বছর থেকে আলেমাও বের হবে। সবশেষে আল্লামা মুফতি মুহিব্বুল হক সৈয়দপুর গ্রামের জীবিত-মৃত, দেশী-বিদেশী সহ বাংলাদেশ এবং বিশ্বের সকল মুসলমানদের জন্য দোয়া করেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সৈয়দপুরে দাওরায়ে হাদিস ক্লাসের উদ্বোধনে শুধু ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাতের আমল নয়, নফল আমলগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রত্যেকের জন্য উচিৎ- মুহিব্বুল হক গাছবাড়ি

Update Time : ১১:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০১৯

জগন্নাথপুর পত্রিকা :: সিলেটের জামেয়া কাসিমুল উলূম দরগাহ হযরত শাহজালাল (র.) মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা মুফতি মুহিব্বুল হক বলেছেন, দ্বীনি শিক্ষার ছাত্রদের ফজিলতের কথা সহীহ হাদিসসমূহে রয়েছে। আলিফ-বা থেকে কোরআন-হাদিস পর্যন্ত শিক্ষা যে প্রতিষ্ঠানসমূহে দেওয়া হয় সেই প্রতিষ্ঠান সমূহকে যারা সহযোগিতা করেন তারাও এই ফজিলতের অংশিদার। সৈয়দ শাহ শামসুদ্দিন (র.) জামেয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া বালিকা মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস ক্লাস উদ্বোধন হচ্ছে। আজকের এই মাহফিল অত্যন্ত মোবারক মাহফিল। কারণ, কোরআনের পর সবচে গুরুত্বপূর্ণ মোবারক এবং সহীহ কিতাব হলো বোখারী শরিফ। আজকে যারা বোখারী শরিফের সবক শুরু করছেন এবং যারা উপস্থিত আছেন সবাইকে একটি বিষয় বুঝতে হবে, বোখারী-মুসলিমের প্রথম হাদিস হচ্ছে ‘ইন্নামা আমালু বিন নিয়াত’, অর্থাৎ সকল আমলের মূল হলো নিয়ত। সবাইকে নিয়ত শুদ্ধ করতে হবে। দ্বীনি শিক্ষা, দ্বীনি কাজ এবং সকল আমলের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তোষ্টি অর্জন। কেউ যদি মানুষকে দেখানোর জন্য, মানুষের সন্তোষ্টির জন্য, মানুষ আমাকে আলেম বলবে, মুফতি বলতে, শায়খুলহাদিস বলবে, নামাজি বলবে, হাজি বলবে ইত্যাদি উদ্দেশ্যে দ্বীনি কাজ করে থাকেন তবে সব বেকার হয়ে যাবে। তাই সবাইকে সবকিছু আল্লাহর সন্তোষ্টির জন্য করতে হবে। বুধবার (৩ জুলাই) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে সৈয়দ শাহ শামসুদ্দিন (র.) জামেয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া বালিকা মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল ফিল হাদিস) ক্লাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বোখারী শরিফের পাঠদান কালে তিনি এসব কথা বলেন। আল্লামা মুফতি মুহিব্বুল হক এসময় আরও বলেন, আজকে যারা বোখারি শরিফ সহ সিয়াসিত্তার সবক শুরু করছেন তাদের উচিৎ হবে তারা যত হাদিস পড়বেন সবগুলোর আমল পূূর্ণাঙ্গরূপে করার চেষ্টা করা। শুধু ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাতের আমল নয়, নফল আমলগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রত্যেকের জন্য উচিৎ। নফল আমলকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। নফল আমল মানুষকে আল্লাহর কাছে প্রিয় করে দেয়। নফল আমল মানুষকে আল্লাহর কাছে দোয়া কবুলের উপযোগি করে। অনেকে মনে করেন, নফল না পড়লে চলে, নফলের জন্য তো কোন শাস্তি নেই। কিন্তু নফল যে মানুষকে মকবুল করে তা অনেকে জানেন না। ইমাম বোখারী (র.)-এর বোখারী শরিফের সবচে বড় ফজিলত তিনি প্রতিটি হাদিস লিপিবদ্ধ করার পূর্বে দু রাকাত নফল নামাজ পড়েছেন। আল্লাহপাক এই নফল ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর কিতাবকে সবচে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়েগেছেন। আল্লামা মুফতি মুহিব্বুল হক নফল ইবাদতের ফজিলত বর্ণনায় অনেকগুলো ঘটনা উল্লেখ করে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা ভাল করে হাদিসসমূহ পড়বে, প্রত্যেকটি হাদিসের উপর আমল করবে এবং হাদিসের বাণী অন্যদের কাছে পৌঁছিয়ে দিবে। সৈয়দ শাহ শামসুদ্দিন (র.) জামেয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া বালিকা মাদরাসার শিক্ষক হাফিজ মাওলানা খালেদ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাদরাসার শিশু ক্লাসের ছাত্রী সৈয়দা মাহদিয়া। অনুষ্ঠানে বয়ান পেশ করেন ও বক্তব্য রাখেন অত্র মাদরাসার শায়খুল হাদিস এবং সৈয়দপুর দরগাহে হযরত শাহ শামসুদ্দিন (র.) জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক শায়খে সৈয়দপুরী, মাদরাসার হাদিসের শিক্ষক মুফতি মাহমুদ, কবি ও গবেষক সৈয়দ মবনু।

 

শায়খুল হাদিস মাওলানা সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক শায়খে সৈয়দপুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজকে থেকে এই মাদরাসার সরাসরি সম্পর্ক হয়েগেলো গুম্বুজে খাজরার সাথে, মদিনায়ে মনোয়ারার সাথে। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দ শাহ শামসুদ্দিন (র.) জামেয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া বালিকা মাদরাসা ইতোমধ্যে হিফজ বিভাগ চালু করে অত্যন্ত সুনামের সাথে খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে। এই মাদরাসায় হাফিজি শেষ করা হাফিজারা আজ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকতা করছেন। দীর্ঘদিন থেকে এই মাদরাসায় মিশকাত জামায়াত পর্যন্ত সুনামের সাথে লেখাপড়া চলে আসছে। ইনশাল্লাহ এ বছরের পর থেকে এ মাদরাসা থেকে মেয়েরা তাকমিল ফিল হাদিস শেষ করে আলেম হয়ে বের হবে এবং দেশে-বিদেশে দ্বীনের খিদমাত আঞ্জাম দিবে। এসব এই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাজী সৈয়দ আতাউর রহমানের ইখলাস ও লিল্লাহিয়াতের ফজিলত। তাঁর মনে সার্বক্ষণিক একটা কান্না রয়েছে এই মাদরাসাকে রক্ষা এবং উন্নয়নে। আল্লাহ পাক তাঁর এই কান্নাকে কবুল করেছেন বলেই এখান থেকে প্রতি বছর ভাল ভাল হাফিজা কোরআন মুখস্ত করে বের হচ্ছে এবং এ বছর থেকে আলেমাও বের হবে। সবশেষে আল্লামা মুফতি মুহিব্বুল হক সৈয়দপুর গ্রামের জীবিত-মৃত, দেশী-বিদেশী সহ বাংলাদেশ এবং বিশ্বের সকল মুসলমানদের জন্য দোয়া করেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ