সৈয়দপুর শামসিয়া সমিতির উদ্যোগে সৈয়দ হাবিবুর রহমান সম্পাদিত “শিকড়ের সন্ধ্যানে” গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব ও মোড়ক উন্মোচন
- Update Time : ০২:৩৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
- / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ইয়াকুব মিয়া :: “শিকড়ের সন্ধ্যানে” গ্রন্থর মোড়ক উম্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) তাড়াতাড়ি রেস্টুরেন্টের হল রুমে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের বসবাসরত বিলেতের প্রাচীনতম সংগঠন সৈয়দপুর শামসিয়া সমিতি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী সৈয়দ জিল্লুল হক। কবি আহমদ ময়েজের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে প্রথমে পবিত্র কুরআন থেকে তেলওয়াত করেন শামসিয়া সমিতির উপদেষ্টা সৈয়দ শহীদুল ইসলাম। এরপর শামসিয়া সমিতির পক্ষ থেকে গ্রন্থের লেখক আলহাজ্ব সৈয়দ হাবিবুর রহমানকে ফুল দিয়ে বরন করা হয়।
এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শামসিয়া সমিতির উপদেষ্টা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম আনা। মূল প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, এ গ্রন্থটি সময়ের সেতুবন্ধন। “শিকড়ের সন্ধানে” গ্রন্থটি কেবল আমাদের উত্তরপুরুষের কথাই বলেনি, এটি সময়ের আয়না। আমাদের শিকড় ভুলে যাওয়ার অর্থ হলো নিজের অস্থিত্বকে হারিয়ে ফেলা।
মূল প্রবন্ধের পর্যালোচনা পর্বে ও “শিকড়ের সন্ধানে” গ্রন্থের উপর আলোকপাত করে শামসিয়া সমিতির সাবেক সভাপতি আহমদ কুতুব বলেন, দায়িইল্লাহ ব্যাক্তিদের রক্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই গ্রন্থ। তাদের প্রদর্শিত পথই আমাদের যুথবদ্ধ করবে। আমরা যেন তাদের ভুলে না যাই।
“শিকড়ের সন্ধানে” গ্রন্থের লেখক সৈয়দ হাবিবুর রহমান তার অনভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আপনাদের উপস্থিতি ও সারগর্ভ বক্তব্য আমার শ্রমকে স্বার্থক করে তোলেছে। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আপনরা আমার জন্য দোয়া করবেন, আমিও আপনাদের জন্য দোয়া করবো।
অনুষ্ঠানে আরো গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি ব্যাক্তিত্ব মেয়র লুৎফুর রহমানের এসপেয়ার পার্টির সভাপতি এ কে এম আবু তাহের চৌধুরী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের গবেষনার ফসল এ গ্রন্থ। “শিকড়ের সন্ধ্যানে” গ্রন্থটির মধ্যে অনেক প্রশ্নের উত্তর যেমন রয়েছে, একই সঙ্গে নতুন প্রশ্নের জন্মও দেবে এই গ্রন্থ। কারণ এটি বিভিন্ন প্রজন্মকে স্পর্শ করেছে।

সিনিয়র সাংবাদিক ও লণ্ডনবাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা লেখক সম্পর্কে অনেক স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি সৈয়দপুরের একটি লিখিত ডাটা তৈরি করার জন্য জোর দাবী জানান।
প্রিন্সিপাল সৈয়দ মুহাদ্দিস আহমদ আলোচনা করতে গিয়ে অত্র অঞ্চলের শাহজালাল র: এর উত্তরপর্বে মানচিত্র নিয়ে পর্যালোচনা করেন। তিনি দ্বাদশ শতাব্দির সময়ে সৈয়দপুরের যাত্রাকাল উপস্থাপন করেন। ইতিহাসের পাড় ধরে কীভাবে এই অঞ্চল শিক্ষা-দীক্ষায় অগ্রসরমান হয়ে ওঠেছিলো সেসব বর্ণনা তুলে আনেন তার সুনিপুণ বক্তৃতার মাধ্যমে। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, ইসলাম একটি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এসেছিলো এই সব অলি-দরবেশদের মাধ্যমে।
গবেষক ও বাংলা একাডেমী পুরষ্কারপ্রাপ্ত লেখক ফারুক আহমদ বলেন, আমি চমৎকৃত হলাম এ ধরনের একটি বই পেয়ে। তিনি লেখক সৈয়দ হাবিবুর রহমানের ভূমিকা পর্বের ভূয়শী প্রশংসা করে বলেন, লেখক অনেক সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। শাহজালালের আগমন পর্ব নিয়ে বোদ্ধা মহলে নানান ধরনের তর্ক রয়েছে। সৈয়দ হাবিবুর রহমান সাহস করে কুনিয়া থেকে যাত্রাকাল উল্লেখ করেছেন। এ নিয়ে অনেক তর্ক হবে। হোক তর্ক। তর্কের মাধ্যমে আমরা প্রকৃত অনুসন্ধান দেখতে পাবো। তিনি বলেন, সৈয়দপুরের মানুষ কেবল তার অঞ্চলের জন্য নয় বরং তারা পুরো বাংলাদেশের গৌরব।
অনুষ্ঠানে স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন সৈয়দপুর শামসিয়া সমিতির সেক্রেটারী সৈয়দ সফর আলী ও ছড়াকার সৈয়দ হিলাল সাইফ।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাণ্ডারল্যাণ্ড কমিনিটি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ খালিদ মিয়া ওলিদ, সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশা, গীতি কবি ও গল্পকার সৈয়দ দুলাল, শামসিয়া সমিতির সাবেক সেক্রেটারী সৈয়দ রফিকুল হক দলা, কবি আবু সুফিয়ান চৌধুরী, ইনাথ নগর স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি আব্দুল আহাদ, শিল্পী আলাউর রহমান, জামান সৈয়দ নাসের, সৈয়দ হোসাইন আহমদ, মাওলানা সৈয়দ তামিম আহমদ, শেখ হাফিজ মোস্তাক আহমদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট সমাজসরবক, শিক্ষানুরাগী সৈয়দ জিল্লুল হক সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং অনুষ্ঠানে এসে উৎসবকে সফল করে তোলার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলা মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের প্রতিও তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিলো আপ্যায়ন। এতে সবাই অংশগ্রহণ করেন।


























