সুনামগঞ্জ-৩ অাসনে শাহিনুর পাশার বিরুদ্ধে এবার মাঠে নেমেছেন দলীয় মনোনয়নের জন্য জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতা মাওঃ তামিম আহমদ
- Update Time : ০৪:২৮:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ইয়াকুব মিয়া :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২৩ দলীয় জোটের মনোনয়নের জন্য সুনামগঞ্জ-৩ অাসনে এডভোকেট মাওলানা শাহিনুর পাশা চৌধুরীর বিরুদ্ধে এবার মাঠে নেমেছেন ইউকে জমিয়তের সেক্রেটারি জমিয়তের রাজনীতির মাঠে পরিচ্ছন্ন ক্লিন ইমেজের অধিকারী বিশিষ্ট সমাজ সেবক শিক্ষানুরাগী অালহাজ্ব মাওলানা হাফিজ সৈয়দ তামিম আহমদ।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর মনোনয়ন ফরম বিতরণের তৃতীয় দিনে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিন সুনামগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র কিনেছেন ইউকে জমিয়তের সেক্রেটারি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার (কার্যনির্বাহি পরিষদ) সদস্য, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পদক হাফেজ মাওলানা সৈয়দ তামিম আহমদ৷ জমিয়তের কেন্দীয় কার্যালয় থেকে জমিয়তের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গফফারের কাছ থেকে মাওলানা সৈয়দ তামিম আহমদের পক্ষে মনোনয়নপত্র কিনেছেন জগন্নাথপুর উপজেলা জমিয়ত নেতা সৈয়দ ফরিদ আহমদ৷
এদিকে, মনোনয়নপত্র বিতরণের প্রথম দিনে একই আসন থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র কিনেছেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মাওলানা শাহিনূর পাশা চৌধুরী৷
এক নজর হাফেজ মাওলানা সৈয়দ তামিম আহমদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুরে সৈয়দ বংশ ও মাদানীভক্ত পরিবারের অালহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ আবদুন নূর সাহেবের কৃতি সন্তান যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাফেজ মাওলানা সৈয়দ তামিম আহমদ।
সৈয়দ তামিম সুনামগঞ্জের জামিয়া হোসাইনিয়া হাফিজিয়া দারুল হাদীস টাইটেল মাদরাসা, জামিয়া মাদানিয়া আঙ্গুরা-মোহাম্মদপুর সিলেট ও জামিয়া হোসাইনিয়া গহরপুরে লেখাপড়া করেন৷ সর্বশেষ সিলেটের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া কাসিমুল উলূম দরগাহে হযরত শাহজালাল রহ. থেকে দাওরায়ে হাদীস পাশ করে সুনামগঞ্জ মাদানীয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা ও জগন্নাথপুরের হবিবপুর মাদরাসার প্রিন্সিপালের দায়িত্ব আদায় করেন৷
ছাত্র জীবন থেকেই জমিয়তের রাজনীতির সাথে জড়িত। সৈয়দ তামিম আহমদ বিভিন্ন সেশনে ছাত্র জমিয়তের কেদ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সহ সভাপতি, সিলেট জেলার জয়েন্ট সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন৷
লন্ডন যাওয়ার পর মিডিয়া জগতের সাথে জড়িত হন মাওলানা সৈয়দ তামিম৷ পাশাপাশী গরিব দুঃখী মানুষের সেবায় মনযোগ দেন৷ মাওলানা সৈয়দ তামিম বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক কাজের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জড়িত৷ বর্তমানে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের সাধারন সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক সেবাসংস্থা মাদীনাতুননূর আল-খাইরিয়্যার চেয়ারম্যান৷ ওই সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতি বছরই তার নির্বাচনী এলাকাসহ দেশের বিভিন্নঅঞ্চলে জনসেবা ও সমাজসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন৷ গরীব, অসহায়, অনাথ ও দুস্থ- দরীদ্রদের মাঝে বিভিন্ন ধরণের অনুদান বিতরণ করা হয় তার সেবাসংস্থার অধীনে৷
দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে আগ্রহের বিষয়ে সৈয়দ তামিম আহমদ জানান, আমরা সেই ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক ও জন্মসূত্রে জমিয়তের সাথে জড়িত ৷ জমিয়তকে প্রাণের চেয়ে ভালোবাসি এবং সবসময় নিঃস্বার্থ ও নিষ্ঠার সাথে জমিয়তের অগ্রগতি কামনা করি৷ ব্যক্তিগত স্বার্থের উপরে জমিয়তকে অগ্রাধিকার দিয়ে জমিয়তের সাথে আছি সবসময় ৷ জমিয়তের কল্যাণ ও অগ্রযাত্রার স্বার্থে এবং খেজুরগাছের প্রতি ভালোবাসা থেকে আমি জমিয়তের মনোনয়ন প্রত্যাশী৷
জমিয়তের প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করতে আমাকে আমার নির্বাচনী এলাকার নিবেদিতপ্রাণ জমিয়ত কর্মী ও সহকর্মী বন্ধুমহল উদ্ধুদ্ধ করেছেন এবং ইসলাম, মুসলমান, দেশ, জাতি এবং মাটি ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে মূলত: আমার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে৷ তিনি আশা ব্যক্ত করেন, জমিয়তের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী বোর্ড তাকে মনোনয়ন দিয়ে খেজুরগাছ মার্কা নিয়ে নির্বাচনের সুযোগ করে দেবেন৷ কারণ, জগন্নাথপুর-দক্ষিন সুনামগঞ্জ আসনটি বহু আগ থেকেই জমিয়তের উর্বরভূমি৷
মাওলানা সৈয়দ তামিম অাহমদ আরো বলেন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনটি শায়খুল ইসলাম মাদানী রহ. এর চাষ করা জমিয়তের উর্বর এলাকা ৷ এখানে খেজুরগাছের বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে৷ শাহ জালাল ইয়ামেনী রহ. সঙ্গী শাহ সৈয়দ শামছুদ্দিন রহ. এর পূণ্যভূমি সৈয়দপুরে শায়খুল ইসলাম সৈয়দ হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর প্রথম খলীফা সৈয়দ তখলীস হোসাইন রহ. ও সৈয়দ আবদুল খালিক রহ., শায়খে কাতীয়া, শায়খে গাজিনগরীসহ অসংখ্য পীর আওলীয়ার স্মৃতি বিজিড়িত এ আসনে স্বাধীনতা পরবর্তী সর্বপ্রথম ১৯৯১ সালে জমিয়ত থেকে খেজুরগাছ মার্কা নিয়ে নির্বাচন হয়েছিলো৷ তখন উল্লখযোগ্য ভোট পেয়ে জমিয়ত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করেছেন এবং ৯৬ সালে সাবেক এমপি জমিয়ত নেতা এ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী খেজুরগাছ প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেন৷ এরপর থেকে ওই আসনে আর কোনো জাতীয় নির্বাচনে জমিয়ত খেজুরগাছ প্রতিক নিয়ে অংশ নেয়নি৷
জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা তামিম অাহমদ বলেন, এখানে কারো সাথে প্রতিহিংসা বা বিদ্বেষ নয়, রাজনীতির মাঠে প্রতিযোগিতার সুযোগ রয়েছে, তবে শেষপর্যন্ত দলীয় নীতি নির্ধারনী ফোরাম যে সিদ্ধান্ত নেবে, দল ও সংগঠনের স্বার্থে আমি তা-ই মেনে নেবো৷



















