সুনামগঞ্জ- ২ আসনে ব্যক্তি ইমেজই মুখ্য
- Update Time : ০৩:২২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৭
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা :: দিরাই ও শাল্লা উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জ-২ আসন। ভাটির জনপদ হিসেবে পরিচিত এ আসনে অতীতের সব কটি জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে দলের চেয়ে প্রার্থীই প্রাধান্য পেয়েছে। সারা দেশেই দুই নেতার এলাকা হিসেবে পরিচিত দিরাই-শাল্লা উপজেলা। তাই তো গণতন্ত্রী ও একতা পার্টি থেকে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নির্বাচিত হয়ে এ আসনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তেমনি জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন বর্তমান বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন চৌধুরী। অতীতের প্রতিটি নির্বাচনে এ আসনে দলের চেয়ে ওই দুই নেতার ব্যক্তি ইমেজ কাজ করেছে। প্রচলিত ছিল ওই দুই নেতা যে দল থেকেই নির্বাচন করেন না কেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুজনের মধ্যে। আগামী নির্বাচনে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনের ইমেজকে কাজে লাগিয়েই নাসির চৌধুরীর সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ড. জয়া সেনগুপ্তার। এমনটাই জানালেন নির্বাচন বিশ্লেষক ও ভোটাররা।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্তা ও বিএনপি থেকে জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন চৌধুরীই সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে ওই দুজনের বাইরেও দুই দল থেকে বেশ কয়েকজন প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ আসনে প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন মহাজোটের প্রার্থী ড. জয়া সেনগুপ্তা। তিনি ছাড়াও এখানে নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রচারণায় রয়েছেন মহাজোটের শরিক দলসহ আওয়ামী লীগের ৫ জন ও নাসির উদ্দিন চৌধুরী ছাড়া বিএনপির একজন।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, মহাজোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর কেন্দ্রীয় নেতা হামিদুল কিবরিয়া চৌধুরী আজহার, জাসদ (ইনু)’র দিরাই উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, জাপা (এরশাদ)’র শেখ জাহির আলী, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শামছুল হক চৌধুরী। বিএনপি থেকে প্রচারণায় রয়েছেন, সাবেক ছাত্রনেতা প্রবাসী তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল।
প্রত্যেক প্রার্থীই নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন হাটবাজার ও গ্রামগুলোয় ছুটে যাচ্ছেন। কুশল বিনিময় করছেন। ফেসবুকে ও ফোনে সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্বজনদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন। প্রার্থীদের অনেকেই হাওরের ফসলহারা কৃষকদের মধ্যে নিজ নিজ অবস্থান থেকে খাদ্য বিতরণ করেছেন। দুর্যোগ মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে শক্ত অবস্থানও তৈরি করার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে রয়েছেন। কেউ কেউ পথসভা ও কর্মিসভা করে দিন কাটাচ্ছেন। স্বাধীনতার পর আটবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। চারবার গণতন্ত্রী ও একতা পার্টি থেকে ও চারবার আওয়ামী লীগ থেকে। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করে এ আসনে সংসদ নির্বাচনে হেরে যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাসির উদ্দিন চৌধুরী। তবে ’৯৬ সালে হবিগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে উপ-নির্বাচনী বিজয়ী হন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মারা যাওয়ার পর এ শূন্য আসনে তার স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্তা উপনির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হন। বিএনপি নির্বাচন বয়কট করায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি নাসির উদ্দিন চৌধুরী।
একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দল নির্বাচনে অংশ নিলে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আমি দিরাই-শাল্লাবাসীর কাছে আছি। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন দাবি আদায়ের কাজ করে যাচ্ছি। দুই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পথসভা ও জনসভা করছি। তিনি বলেন, আমি মানুষের পাশে আছি। ইনশাল্লাহ দল নির্বাচনে গেলে বিজয়ী হবো।
সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা বলেন, আমি সব সময় দিরাই-শাল্লার মানুষের সুখে-দুঃখে ছিলাম। উপনির্বাচনে বিজয় তারই প্রকাশ। আগামী নির্বাচনেও দল মনোনয়ন দিলে আমি জয়লাভ করবো বলে আশাবাদী।



















