সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি নোমান বখত পলিনের জামিন লাভ
- Update Time : ০২:০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই ২০২২
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নোমান বখত পলিন বলেন, আমি যখন স্বৈরাচার এরশাদের আমলে জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি তখনই এরশাদ বিরোধী লাগাতার আন্দোলনের কারণে আমাকেসহ ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীকে মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে অন্যায়ভাবে হয়রানী করা হয়। জেল জুলুম হুলিয়া মাথায় নিয়ে রাজনীতি করেছি কখনও মামলার ভয়ে স্বৈরাচারী রাজনীতির কাছে নতিস্বীকার করিনি। ওয়ান এলিভেন এর সময়ও আমাকে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হয় কিন্তু পুলিশ আমার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে ভয়ে রাতেই আমাকে থানা থেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এখন জীবনের শেষ সময়ে এসে মামলা মোকদ্দমা ও পুলিশী ঝামেলাকে ভয় করবো সে ধরনের ভীতু রাজনীতিবিদ আমি নই। ১৭ জুলাই রোববার সুনামগঞ্জ সদও মডেল থানায় দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা থেকে জামিন লাভের পর জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি নোমান বখত পলিন এ প্রতিনিধিকে এসব কথা বলেন। নোমান বখত পলিন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় আরো বলেন, সুনামগঞ্জ শান্তি, সম্প্রীতির জনপদ। সেইদিন যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা আহত হয়েছে তারা যে দলেরই হোক, আমি তাদের সুস্থতা কামনা করি। তিনি বলেন,সিনিয়র হিসেবে আমি সেদিন বিবদমান দুটি পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করতে চেয়েছিলাম। পরে দেখলাম আমাকেই মামলায় জড়ানো হয়েছে। রাজনীতি যখন করি ষড়যন্ত্রমুলক মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানো হবে সেটা জেনেই করি। বিষয়টি আমি আইনগতভাবে মোকাবেলা করবো। তবে শান্তি-সম্প্রীতির এই জনপদে কেউ অপরাজনীতি করতে চাইলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই অপশক্তিকে প্রতিহত করবো।
উল্লেখ্য সুনামগঞ্জের আলীমাবাগে ছাত্রলীগের দুই গ্রæপে মারামারির সময় তিন যুবদল ও ছাত্রদল নেতা আহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নোমান বখত পলিন। ১৭ জুলাই রবিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তিনি। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ আব্দুর রহিম তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এসময় আদালতে শতাধিক আইনজীবী নোমান বখত পলিনের পক্ষে জামিন শুনানিতে অংশ নেন। জানা যায়,সুনামগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক প্রয়াত হোসেন বখতের কনিষ্ট সন্তান,জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুল, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার বখত নেক ও বর্তমান মেয়র নাদের বখতের ছোট ভাই নোমান বখত পলিন ৯০ এর দশকে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে ১৫ হাজার পরিবারের পাশে দাঁড়ান। পলিন বখত এর জামিনে উল্লসিত জেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পলিন বখতের রাজনৈতিক উত্থান সহ্য করতে না পেরে ছাত্রদল-যুবদলকে সঙ্গে নিয়ে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো তাদেরই দীর্ঘ মেয়াদি ষড়যন্ত্রের অংশ। কিন্তু পলিন বখত ও তার পরিবার আজীবন সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষের পাশে আছেন, কাজেই মানুষের ভালবাসার কাছে সব প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ভেসে যাবে। আগামীতে জেলা আওয়ামী লীগের নের্তৃত্ব তাঁর হাতেই আসবে। এর আগে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ্ব মতিউর রহমান বলেন,সুনামগঞ্জে দুর্যোগ চলছে আমি ও মুকুট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এমপি মানিকও সংসদে এবং এলাকায় ব্যস্ত। এ অবস্থায় আমাদের সকলের অবর্তমানে মাঠ পর্যায়ের নেতা হিসেবে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নোমান বখত পলিনকেই আমি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করলাম।


























