সুনামগঞ্জে ৮৮ গ্রামের কৃষকের মুখে হাসি
- Update Time : ০৩:৫১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
বিন্দু তালুকদার :: কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর?/ মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর [স্বর্গ ও নরক, শেখ ফজলুল করিম]
কেউ বিবেককে দুপায়ে মাড়িয়ে নিজের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে অন্যের পাকা ধানে মই দেয়; কেউ অপরের মঙ্গলের জন্য নিজের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়। এদের সবাই মানুষ। পার্থক্য এই যে, কর্মদোষে কেউ নরকের অনলে পোড়ে আর কর্মগুণে কেউবা স্বর্গের দেখা পায়। মানুষের মাঝেই আছে স্বর্গ ও নরক। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরপারে সম্প্রতি ঘটা একটি ঘটনা এর অনন্য নজির। একদল চোরাই মাছশিকারি মাছের লোভে গত বৃহস্পতিবার ভোরে কেটে দিয়েছিল বাঁধ। এতে ঠিক ঘরে তোলার আগেই তলিয়ে যাচ্ছিল বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বোরো ধান। তখনই আরেক দল মানুষ এসে দাঁড়ায়। শুক্রবার তারা পরস্পরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করতে শুরু করেন। তাদের সারা রাতের চেষ্টায় গড়ে ওঠে বাঁধ। হাসি ফুটে ওঠে কৃষকের মুখে। মাটিবর্তী এসব মানুষের ধানরক্ষায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এগিয়ে আসেন তাহিরপুরের ইউএনও। তিনি নিজে সারা রাত সেখানে অবস্থান করে বাঁধ নির্মাণ তদারকি করেন। এ কাজের অর্থায়ন করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার সকালেই নাওটানা খালের কেটে দেওয়া বাঁধের স্থানে বাঁশ পুঁতে ও মাটির বস্তা ফেলে বাঁধ তৈরি করে হাওরে পানি প্রবেশ ঠেকানো হয়েছে। ফলে স্বস্তি ফিরে এসেছে টাঙ্গুয়ার হাওরপারের অন্তত ৮৮ গ্রামের কৃষকের মধ্যে।
টাঙ্গুয়া হাওরের সহব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও গোলাবাড়ী গ্রামের কৃষক খসরুল আলম বলেন, নাওটানা খালের বাঁধটি রক্ষা করায় টাঙ্গুয়ার হাওরপারের লোকজন ইউএনও সাবের কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ অতীতে হাওরের বাঁধ ভেঙে গেলেও এভাবে কোনো ইউএনও সাব কৃষকের জন্য ঝুঁকি নিয়ে হাওরে কাজ করেননি। কিন্তু বর্তমান ইউএনও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সারারাত জেগে বাঁধে দাঁড়িয়ে থেকে কৃষকের জন্য কাজ করেছেন।
টাঙ্গুয়ার হাওরপারের গ্রাম রামসিংহপুরের বাসিন্দা কৃষক মো. সেলিম বলেন, এখন নিরাপদে হাওরের ধান কাটা যাবে। টাঙ্গুয়ার হাওরপারের সব কৃষকই শঙ্কামুক্ত হলো।
জানা যায়, জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের নির্দেশনায় কেটে দেওয়া বাঁধ ফের তৈরি করেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্ণেন্দু দেব। উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে শুক্রবার রাত থেকেই বাঁশ পুঁতে মাটির বস্তা ফেলে খালে জরুরি বাঁধ তৈরি করা হয়। গতকাল সকাল শনিবার সকাল ৯টায় হাওরে পানিপ্রবাহ রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
হাওরের বোরো ফসল অকালে তলিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে শুক্রবার রাত থেকেই বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্ণেন্দু দেব।
গতকাল সকালে বাঁধটি পরিদর্শন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মহসিন, পরিচালক (বিএই) নুরুল আলম, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, শ্রীপুর উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান খসরুল আলম ও শ্রীপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সরকার।
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, বোরো ধান হাওরবাসীর একমাত্র ফসল। হাওরের প্রত্যেক কৃষকের ফসল রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর।
প্রসঙ্গত, বাঁধ কেটে দেওয়ার ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ৯০ জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।



















