০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :


সুনামগঞ্জে ৪৯ বছর পর ডাঃ কবীর চৌধুরীর দেখা পেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রসুল
- Update Time : ০১:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২২
- / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: দীর্ঘ ৪৯ বছর ২ মাস ১৭ দিনের ব্যবধানে নিজের চিকিৎসকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়ে যুদ্ধ দিনের স্মৃতিচারণ করত: চিকিৎসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন একজন যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা। ঐ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল (ময়না মাস্টার)। তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার ভরারগাঁও গ্রামের মরহুম মৌলানা মহসিনূর চৌধুরী কাচা মিয়ার কনিষ্ট পুত্র। এবং যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী চিকিৎসক হচ্ছেন একই উপজেলার
ভাটিপাড়া গ্রামের কৃতিসন্তান গোলাম কাদীর চৌধুরীর পুত্র ২০২০ইং সনে চিকিৎসা বিদ্যায় স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডাঃ মোঃ উবায়দুল কবীর চৌধুরী। গত ১লা ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাত ৯টায় ডাঃ এম.ইউ কবীর চৌধুরীর গুলশানস্থ বাসভবনে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল মহাণ এই সেবকের প্রতি তাঁর আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশসহ ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় দিরাই থানার চিতলিয়া গ্রাম নিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা তপস্বী দাশ, অনলাইন ওয়েবপোর্টাল সারাবিশ^ ডটকম সম্পাদক মোকাম্মেল হোসেন চৌধুরী মেনন ও যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এন.এম মাহমুদুর রসুলের জেষ্টপুত্র সাংবাদিক বাউল আল-হেলাল উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল বলেন,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবদ্ধশায় চন্ডিপুর নিবাসী নেজাবত আলী কে সভাপতি, আলহাজ্ব আব্দুল কদ্দুছ কে সহ-সভাপতি,আব্দুর রউফ সাধারন সম্পাদক, ক্ষিতিশ নাগ, রনদা প্রসাদ রায় চৌধুরী,নিশী চৌধুরী,আব্দুর রউফ, আব্দুল আউয়াল, আলতাব উদ্দিন ও
আমি এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল কে সর্বশেষ সদস্য করে দিরাই থানা আওয়ামীলীগের ১১ সদস্য বিশিষ্ট প্রথম কার্যকরী কমিটি অনুমোদন দিয়েছিলেন। এই কমিটির নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু দিরাই থানা সফর করেন। সেদিন ছিল ১৯৭০ সালের ৭ই অক্টোবর মোতাবেক ২০ শে আশি^ন রোজ বুধবার ঐদিন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এর শুভাগমন উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানা সদরে এক বিরাট ঐতিহাসিক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টায় দিরাই চরাবাজারে থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত এ সভায় অতিথির ভাষন দান করেন বঙ্গবন্ধু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। জাতির জনকের প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে হৃদয় মন্দিরে চির জাগরুক থাকা অমর কাব্যের কবি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিরাই থানা ইউনিট কমান্ডের প্রাক্তন ডেপুটি কমান্ডার জনাব এসএনএম মাহমুদুর রসুল জানান, ৭০ এর জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু বের হয়েছিলেন সাংগঠনিক সফরে। দিরাই থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি চন্ডিপুর নিবাসী জনাব নেজাবত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় মৎস্য বালু পাথর ধান আর আউল বাউল ফকিরের দেশ দিরাই থানায় বঙ্গবন্ধুর শুভাগমনকে স্বাগত জানিয়ে
বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে দিরাই শাল্লা জামালগঞ্জ ধর্মপাশা আসনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগের মনোনিত এম.এন.এ পদপ্রার্থী আব্দুস সামাদ আজাদ, সুনামগঞ্জ মহকুমা আওয়ামীলীগ নেতা
সাবেক মন্ত্রী দিরাই শাল্লা নির্বাচনী এলাকায় নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগ মনোনিত এমপিএ প্রার্থী বাবু অক্ষয় কুমার দাশ, সুনামগঞ্জ মহকুমা আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএনএ পদপ্রার্থী দেওয়ান ওবায়দুর রাজা চৌধুরী, এমপিএ পদপ্রার্থী এডভোকেট আব্দুর রইছ ও দিরাই থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক
আব্দুল কদ্দুছ প্রমুখ। মাহমুদুর রসুল বলেন,জনসভার পরে নদীতে লঞ্চের মধ্যে দলীয় কর্মীসভায় অক্ষয় কুমার দাশ আমার সাংগঠনিক কর্মকান্ডের প্রশংসা করে বঙ্গবন্ধুকে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং দেন। এসময় বঙ্গবন্ধু আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তৈরী হয়ে যাও যুবক। প্রাণ নিয়ে প্রতিজ্ঞা করো। ছেড়ে দাও মরণের ভয়। ওরা আমাদের অধিকার দিতে চাইবেনা। নির্বাচনের পরেই একদফা আন্দোলন করতে হবে”। কথাগুলো তখনকার আওয়ামীলীগ কর্মী, উদীয়মান তরুণ যুবক এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল ও তার সহকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন জাতির জনক কঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৪৯ বছর পূর্বের বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করতে গিয়ে ৭১ এ ট্যাকেরঘাট সাবসেক্টরের প্লাটুন পরবর্তীতে কোম্পানী কমান্ডার এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল (ময়না মাস্টার) বলেন, পাক ওয়াটার ওয়েজ নামক
লঞ্চযোগে ভৈরব শেরপুর ও আজমেরীগঞ্জ অতিক্রম করে পথিমধ্যে কয়েকটি পৃথক বিশাল জনসভায় ভাষন দান শেষে সকাল ১১টায় দিরাই ডাকবাংলায় এসে পৌছান বঙ্গবন্ধু। সেখানে ভাটি বাংলার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে তিনি এক মত বিনিময়
সভায় মিলিত হন। তাঁর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ডন পত্রিকাসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার ১২ জন সাংবাদিকও ছিলেন। ডিসেম্বরের প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ভবিষ্যত নিয়ে স্থানীয় সকল নেতাকর্মীরা সন্দেহভাজন ছিলেন। জনাব এসএনএম মাহমুদুর রসুল ও তার বড় ভাই ভরারগাঁও
নিবাসী আওয়ামীলীগের প্রবীণ সংগঠক ভাষা সৈনিক আব্দূন নূর চৌধুরী সন্ধ্যায় পাক ওয়াটার ওয়েজ লঞ্চের দুতালায় সমবেত নেতাকর্মীদের সম্মুখে বঙ্গবন্ধুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, আওয়ামীলীগ কয়টি আসন পাবে। বঙ্গবন্ধু স্বগর্বে বলেছিলেন, বাংলাদেশে ২২টি আসনের জন্য সন্দেহ হচ্ছে। তবে সবগুলো আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমরা জয়ী হবো। তুমুল প্রতিদ্ব›িদ্বতা হবে। ২২টি আসনে পিডিপি ও মুসলিম লীগের প্রার্থীদেরকে যেভাবেই হউক পরাজিত করতে হবে। এজন্য
আমাকে একটু পরিশ্রম করতে হবে। এসমস্ত প্রার্থীদের নাম জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু ২২ জনের নাম বললেন। এরা হচ্ছে চট্রগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরী,মৌলানা ফরিদ আহমদ, সুনামগঞ্জের মাহমুদ আলী, খুলনার সবুর খান, কুষ্টিয়ার শাহ আজিজুর রহমান,ফরিদপুরের ওয়াহিদুজ্জামান, আকমল ইবনে ইফসুফ, কাজী কাদের, জমীর উদ্দিন প্রধান, ঢাকার খাজা খয়ের উদ্দিন, নান্দাইলের নুরুল আমিন, বরিশালের আজিজুল হক,পীর মুসলেহ উদ্দিন, আনম ইউসুফ, আতাউর রহমান খান, এএসএম সুলায়মান, আব্দুল জব্বার খান, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, রিয়াজ উদ্দিন ভোলা মিয়া প্রমুখ। বাকী ৩ জনের নাম এস.এন.এম .মাহমুদুর রসুলের স্মরণ নেই। সত্যিকার অর্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন নৌকা ও আওয়ামীলীগের স্বপক্ষে ব্যাপক জনমত ও গণজোয়ার সৃষ্টি করেছিলেন। যে জোয়ারে পাকিস্তানে পিডিপি ও মুসলিম লীগের তাবেদার স্বৈরশাসকদের মসনদ কেঁপে উঠেছিল। নির্বাচনের ফলাফলে শুধু বঙ্গবন্ধু বা আব্দুস সামাদ আজাদ বিজয়ী হননি। প্রায় সব প্রার্থীরাই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন। সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামীলীগ ১৬৭টি আসন লাভ করে। মুসলীম লীগ পিডিপি পায় মাত্র দুটো আসন। ১৭ ই ডিসেম্বরের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মোট ৩০০ টি আসনের মধ্যে আওয়ামীলীগ ২৮৮ টি আসন পেয়ে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্টতা লাভ করে। যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর শুভাগমনে আব্দুস সামাদ আজাদের নেতৃত্বে শোসিত বাংলার অবহেলিত ভাটি এলাকার জনগনের পক্ষ থেকে আমরা আওয়াজ তুলেছিলাম, “বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। কালনী পৈন্দা কুশিয়ারাসহ সকল ভরাট নদীর খনন চাই। ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ কর করতে হবে। সহজলভ্য কৃষি ঋন ও চাষাবাদের জন্য যান্ত্রিক ব্যবস্থার বন্দোবস্ত কর। জলমহালে মৎস্যজীবিদের অধিকার দিতে হবে। আইয়্যুব গেছে যে পথে ইয়াহিয়া যাবে সে পথে। হৈ হৈ রৈ রৈ খান চোরারা গেল কই। তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা। দিরাই শাল্লার মাটি বঙ্গবন্ধুর ঘাটি। এক দফা এক দাবী ইয়াহিয়া তুই কবে যাবি। ডাক দিয়েছে মুজিব ভাই ইয়াহিয়া তোমার রক্ষা নাই। আইয়্যুব ইয়াহিয়া নিপাত যাক বাঙ্গালী মুক্তি পাক” শ্লোগান ধ্বনী। মাহমুদুর রসুল বলেন,বঙ্গবন্ধু দুবার দিরাই সফর করেন। ৭৩ এর ৩রা মার্চ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুস সামাদ আজাদের সমর্থনে সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভায়ও তিনি
এসেছিলেন। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, সামাদ আজাদ বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্টতম সহযোগী ছিলেন। জাতির জনকের ২ বারের আগমনে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বঙ্গবন্ধু,নৌকা ও আওয়ামীলীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গণসংগীত পরিবেশন করেন বাউল কামাল পাশা। যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল প্রতিবেদক লেখক সাংবাদিক আল-হেলালের পিতা। গত ২৮ মে ১৯৯৭ইং “বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করলেন এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল” শিরোনামে দৈনিক খবর পত্রিকার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও অনুরুপ কথা বলেন তিনি। সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক দিরাই সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা আল-হেলাল
প্রদত্ত এ স্মৃতিচারণমূলক লেখাটি দৈনিক খবর পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। অন্যদিকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত দিরাই থানার ভাটিপাড়া গ্রামের কৃতিসন্তান ডাঃ প্রপেসর এম.ইউ কবির চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩ ঘটিকায় বর্তমান দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের বাইবনিয়া গ্রামে ভাটিপাড়া নিবাসী আব্দুল মজিদ চৌধুরী মানিক কোম্পানীর সহকারী অধিনায়ক এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল পাক বাহিনীর সাথে
সম্মুখযুদ্ধে আহত ও জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলী শহীদ হওয়ার পর তাদেরকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী ভাটিপাড়া পৌছে। সেখানে ঝড়ের রাতের বেলা ৭ জন লোক কে নিয়ে আমি নামাজে জানাযা শেষে গ্রামের কবরস্থানে
শহীদ আরশ আলীর লাশ দাফন করি। ভয়ে কোন লোক সেদিন নামাজে জানাযায় শরীক হওয়ারও সাহস দেখাননি। আমি আমার আত্মীয় স্বজনদেরকে নিয়ে লাশের দাফন কাফন বলতে যতটুকু সম্ভব সবকিছুই করার চেষ্টা করেছি। আমার এখনও মনে আছে আহত
এস.এন.এম মাহমুদুর রসুলসহ ৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে চিকিৎসা দিয়েছিলাম। মাহমুদুর রসুল এর হাতেপায়ে গুলি লেগেছিল। আমি ভাটিপাড়ার আরো ২জন পল্লী চিকিৎসককে নিয়ে সকলের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করি। পরে তাদেরকে টেকেরঘাটে
সাবসেক্টর হাসপাতালে পূর্ণ চিকিৎসার জন্য পাঠাই। ঐদিন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের বাবনিয়া গ্রামে পাক হানাদার বাহিনীর প্রায় দেড়শ সৈন্য ঝাপিয়ে পড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর। এসময় কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল মজিদ চৌধুরী মানিকসহ সকলেই নৌকায় বিশ্রামে ঘুমিয়ে ছিলেন।
বিশ্রামরত অধিনায়কসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন মজিদ কোম্পানীর সহ অধিনায়ক দিরাই থানার ভরারগাঁও নিবাসী এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল ও তার সহযোদ্ধা আরশ আলী। এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ্য করে পাক বাহিনী অকস্মাৎ হামলা চালায়। কমান্ডার এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল ও
বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলী দুজনেই তাৎক্ষনিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর মোট ৪ ঘন্টা সম্মুখযুদ্ধ হয়। এক ঘন্টার ব্যবধানে আরো ৫ জন সহযোদ্ধা যোগ দেন তাদের সাহায্যার্থে। ৪ ঘন্টা যুদ্ধের পর শত্রæবাহিনী পলায়ন করে। কিন্তু পলায়নরত পাক বাহিনীর গুলিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলী শহীদ হন যুদ্ধের ময়দানেই। মুখোমুখি যুদ্ধের এক ঘন্টা পরে গুলি শেষ হয়ে গেলে সাতরিয়ে নৌকা থেকে গুলি আনতে গিয়ে বামহাতে গুলিবিদ্ধ হন এসএনএম মাহমুদুর রসুল। উঠার সাথে সাথে বাম হাতে ও পরে ডান পায়েও গুলি লাগে তার। ভাটিপাড়াতে দুজন পল্লী চিকিৎসক ও একজন মেডিকেলের ছাত্র হিসেবে আমি ডাঃ প্রপেসর এম.ইউ কবীর চৌধুরী তাদেরকে প্রাথমিক
চিকিৎসা দেই। পরবর্তীতে টেকেরঘাট সাবসেক্টর কোয়ার্টার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য আমি গুরুতর আহত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে রেফার্ড করি। সেখানে কর্তব্যরত ডাঃ হারিছ উদ্দিন,ডাঃ নজরুল হক ও ডাঃ জালাল উদ্দিন তাদেরকে
চিকিৎসা দেন। এর আগে আরশ আলী ও এস.এন.এম মাহমুদুর রসুলগং তাহিরপুর, বেহেলী, নোয়াগাঁও গ্রামে পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন বলে জানতে পেরেছি। যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলেও আরশ আলীর অসহায় পিতামাতা হারান তাদের
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী পুত্রকে। সন্তান শোকে কাতর পিতামাতা অকালেই মারা যান। ফলে অধিক শোকে কাতর শহীদ আরশ আলীর ২ সহোদর আব্দুল হাশিম ও লাল মিয়া এবং তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ীতে কোনরকমে মানবেতর দিন
কাটান। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীদের রোষানলে পড়ে ঐ শহীদ পরিবারটি আর গ্রামে ঠিকে থাকতে পারেননি। একপর্যায়ে গ্রামের বসতবাড়ী থেকে তাদেরকে জোর করে ভিটেবাড়ী ছাড়া করে প্রতিপক্ষরা। সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলী (গেজেট নং ৮৬/২৮৫৯) ১৯৫২ সালের ১২ মে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম ইদ্রিছ আলী মাতা ময়মানা বিবি। গেজেটে নাম থাকার পরও শহীদ আরশ আলীর পরিবারবর্গরা ভাতা পাচ্ছেনা বিষয়টি জেনে ডাঃ এমইউ কবীর চৌধুরী বলেন, শহীদ পরিবার ভাতা পাচ্ছেনা এটা
অত্যন্ত দু:খজনক। আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ জেলা
প্রশাসককে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। ফাতেমা নগর গ্রামের ডাঃ গোলাম কবির চৌধুরী আমার নামে আরেকজন মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসককেও নিজের জন্মভূমিতে মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হয়েছে। এই লজ্জায় তিনি দেশে আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। এটাও একজন চিকিৎসক সেবকের জন্য
দু:খজনক। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সর্বপ্রথম সংগীত পরিবেশনকারী সিলেট বিভাগের সর্বপ্রথম পালাগানের প্রবক্তা গানের সম্রাট বাউল কামাল পাশা (কামাল উদ্দিন) কে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহবাণ জানান।
সাক্ষাৎকালে এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল বলেন,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবদ্ধশায় চন্ডিপুর নিবাসী নেজাবত আলী কে সভাপতি, আলহাজ্ব আব্দুল কদ্দুছ কে সহ-সভাপতি,আব্দুর রউফ সাধারন সম্পাদক, ক্ষিতিশ নাগ, রনদা প্রসাদ রায় চৌধুরী,নিশী চৌধুরী,আব্দুর রউফ, আব্দুল আউয়াল, আলতাব উদ্দিন ও
আমি এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল কে সর্বশেষ সদস্য করে দিরাই থানা আওয়ামীলীগের ১১ সদস্য বিশিষ্ট প্রথম কার্যকরী কমিটি অনুমোদন দিয়েছিলেন। এই কমিটির নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু দিরাই থানা সফর করেন। সেদিন ছিল ১৯৭০ সালের ৭ই অক্টোবর মোতাবেক ২০ শে আশি^ন রোজ বুধবার ঐদিন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এর শুভাগমন উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানা সদরে এক বিরাট ঐতিহাসিক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টায় দিরাই চরাবাজারে থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত এ সভায় অতিথির ভাষন দান করেন বঙ্গবন্ধু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। জাতির জনকের প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে হৃদয় মন্দিরে চির জাগরুক থাকা অমর কাব্যের কবি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিরাই থানা ইউনিট কমান্ডের প্রাক্তন ডেপুটি কমান্ডার জনাব এসএনএম মাহমুদুর রসুল জানান, ৭০ এর জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু বের হয়েছিলেন সাংগঠনিক সফরে। দিরাই থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি চন্ডিপুর নিবাসী জনাব নেজাবত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় মৎস্য বালু পাথর ধান আর আউল বাউল ফকিরের দেশ দিরাই থানায় বঙ্গবন্ধুর শুভাগমনকে স্বাগত জানিয়ে
বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে দিরাই শাল্লা জামালগঞ্জ ধর্মপাশা আসনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগের মনোনিত এম.এন.এ পদপ্রার্থী আব্দুস সামাদ আজাদ, সুনামগঞ্জ মহকুমা আওয়ামীলীগ নেতা
সাবেক মন্ত্রী দিরাই শাল্লা নির্বাচনী এলাকায় নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগ মনোনিত এমপিএ প্রার্থী বাবু অক্ষয় কুমার দাশ, সুনামগঞ্জ মহকুমা আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএনএ পদপ্রার্থী দেওয়ান ওবায়দুর রাজা চৌধুরী, এমপিএ পদপ্রার্থী এডভোকেট আব্দুর রইছ ও দিরাই থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক
আব্দুল কদ্দুছ প্রমুখ। মাহমুদুর রসুল বলেন,জনসভার পরে নদীতে লঞ্চের মধ্যে দলীয় কর্মীসভায় অক্ষয় কুমার দাশ আমার সাংগঠনিক কর্মকান্ডের প্রশংসা করে বঙ্গবন্ধুকে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং দেন। এসময় বঙ্গবন্ধু আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তৈরী হয়ে যাও যুবক। প্রাণ নিয়ে প্রতিজ্ঞা করো। ছেড়ে দাও মরণের ভয়। ওরা আমাদের অধিকার দিতে চাইবেনা। নির্বাচনের পরেই একদফা আন্দোলন করতে হবে”। কথাগুলো তখনকার আওয়ামীলীগ কর্মী, উদীয়মান তরুণ যুবক এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল ও তার সহকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন জাতির জনক কঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৪৯ বছর পূর্বের বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করতে গিয়ে ৭১ এ ট্যাকেরঘাট সাবসেক্টরের প্লাটুন পরবর্তীতে কোম্পানী কমান্ডার এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল (ময়না মাস্টার) বলেন, পাক ওয়াটার ওয়েজ নামক
লঞ্চযোগে ভৈরব শেরপুর ও আজমেরীগঞ্জ অতিক্রম করে পথিমধ্যে কয়েকটি পৃথক বিশাল জনসভায় ভাষন দান শেষে সকাল ১১টায় দিরাই ডাকবাংলায় এসে পৌছান বঙ্গবন্ধু। সেখানে ভাটি বাংলার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে তিনি এক মত বিনিময়
সভায় মিলিত হন। তাঁর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ডন পত্রিকাসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার ১২ জন সাংবাদিকও ছিলেন। ডিসেম্বরের প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ভবিষ্যত নিয়ে স্থানীয় সকল নেতাকর্মীরা সন্দেহভাজন ছিলেন। জনাব এসএনএম মাহমুদুর রসুল ও তার বড় ভাই ভরারগাঁও
নিবাসী আওয়ামীলীগের প্রবীণ সংগঠক ভাষা সৈনিক আব্দূন নূর চৌধুরী সন্ধ্যায় পাক ওয়াটার ওয়েজ লঞ্চের দুতালায় সমবেত নেতাকর্মীদের সম্মুখে বঙ্গবন্ধুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, আওয়ামীলীগ কয়টি আসন পাবে। বঙ্গবন্ধু স্বগর্বে বলেছিলেন, বাংলাদেশে ২২টি আসনের জন্য সন্দেহ হচ্ছে। তবে সবগুলো আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমরা জয়ী হবো। তুমুল প্রতিদ্ব›িদ্বতা হবে। ২২টি আসনে পিডিপি ও মুসলিম লীগের প্রার্থীদেরকে যেভাবেই হউক পরাজিত করতে হবে। এজন্য
আমাকে একটু পরিশ্রম করতে হবে। এসমস্ত প্রার্থীদের নাম জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু ২২ জনের নাম বললেন। এরা হচ্ছে চট্রগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরী,মৌলানা ফরিদ আহমদ, সুনামগঞ্জের মাহমুদ আলী, খুলনার সবুর খান, কুষ্টিয়ার শাহ আজিজুর রহমান,ফরিদপুরের ওয়াহিদুজ্জামান, আকমল ইবনে ইফসুফ, কাজী কাদের, জমীর উদ্দিন প্রধান, ঢাকার খাজা খয়ের উদ্দিন, নান্দাইলের নুরুল আমিন, বরিশালের আজিজুল হক,পীর মুসলেহ উদ্দিন, আনম ইউসুফ, আতাউর রহমান খান, এএসএম সুলায়মান, আব্দুল জব্বার খান, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, রিয়াজ উদ্দিন ভোলা মিয়া প্রমুখ। বাকী ৩ জনের নাম এস.এন.এম .মাহমুদুর রসুলের স্মরণ নেই। সত্যিকার অর্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন নৌকা ও আওয়ামীলীগের স্বপক্ষে ব্যাপক জনমত ও গণজোয়ার সৃষ্টি করেছিলেন। যে জোয়ারে পাকিস্তানে পিডিপি ও মুসলিম লীগের তাবেদার স্বৈরশাসকদের মসনদ কেঁপে উঠেছিল। নির্বাচনের ফলাফলে শুধু বঙ্গবন্ধু বা আব্দুস সামাদ আজাদ বিজয়ী হননি। প্রায় সব প্রার্থীরাই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন। সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামীলীগ ১৬৭টি আসন লাভ করে। মুসলীম লীগ পিডিপি পায় মাত্র দুটো আসন। ১৭ ই ডিসেম্বরের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মোট ৩০০ টি আসনের মধ্যে আওয়ামীলীগ ২৮৮ টি আসন পেয়ে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্টতা লাভ করে। যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর শুভাগমনে আব্দুস সামাদ আজাদের নেতৃত্বে শোসিত বাংলার অবহেলিত ভাটি এলাকার জনগনের পক্ষ থেকে আমরা আওয়াজ তুলেছিলাম, “বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। কালনী পৈন্দা কুশিয়ারাসহ সকল ভরাট নদীর খনন চাই। ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ কর করতে হবে। সহজলভ্য কৃষি ঋন ও চাষাবাদের জন্য যান্ত্রিক ব্যবস্থার বন্দোবস্ত কর। জলমহালে মৎস্যজীবিদের অধিকার দিতে হবে। আইয়্যুব গেছে যে পথে ইয়াহিয়া যাবে সে পথে। হৈ হৈ রৈ রৈ খান চোরারা গেল কই। তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা। দিরাই শাল্লার মাটি বঙ্গবন্ধুর ঘাটি। এক দফা এক দাবী ইয়াহিয়া তুই কবে যাবি। ডাক দিয়েছে মুজিব ভাই ইয়াহিয়া তোমার রক্ষা নাই। আইয়্যুব ইয়াহিয়া নিপাত যাক বাঙ্গালী মুক্তি পাক” শ্লোগান ধ্বনী। মাহমুদুর রসুল বলেন,বঙ্গবন্ধু দুবার দিরাই সফর করেন। ৭৩ এর ৩রা মার্চ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুস সামাদ আজাদের সমর্থনে সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভায়ও তিনি
এসেছিলেন। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, সামাদ আজাদ বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্টতম সহযোগী ছিলেন। জাতির জনকের ২ বারের আগমনে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বঙ্গবন্ধু,নৌকা ও আওয়ামীলীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গণসংগীত পরিবেশন করেন বাউল কামাল পাশা। যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল প্রতিবেদক লেখক সাংবাদিক আল-হেলালের পিতা। গত ২৮ মে ১৯৯৭ইং “বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করলেন এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল” শিরোনামে দৈনিক খবর পত্রিকার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও অনুরুপ কথা বলেন তিনি। সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক দিরাই সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা আল-হেলাল
প্রদত্ত এ স্মৃতিচারণমূলক লেখাটি দৈনিক খবর পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। অন্যদিকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত দিরাই থানার ভাটিপাড়া গ্রামের কৃতিসন্তান ডাঃ প্রপেসর এম.ইউ কবির চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩ ঘটিকায় বর্তমান দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের বাইবনিয়া গ্রামে ভাটিপাড়া নিবাসী আব্দুল মজিদ চৌধুরী মানিক কোম্পানীর সহকারী অধিনায়ক এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল পাক বাহিনীর সাথে
সম্মুখযুদ্ধে আহত ও জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলী শহীদ হওয়ার পর তাদেরকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী ভাটিপাড়া পৌছে। সেখানে ঝড়ের রাতের বেলা ৭ জন লোক কে নিয়ে আমি নামাজে জানাযা শেষে গ্রামের কবরস্থানে
শহীদ আরশ আলীর লাশ দাফন করি। ভয়ে কোন লোক সেদিন নামাজে জানাযায় শরীক হওয়ারও সাহস দেখাননি। আমি আমার আত্মীয় স্বজনদেরকে নিয়ে লাশের দাফন কাফন বলতে যতটুকু সম্ভব সবকিছুই করার চেষ্টা করেছি। আমার এখনও মনে আছে আহত
এস.এন.এম মাহমুদুর রসুলসহ ৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে চিকিৎসা দিয়েছিলাম। মাহমুদুর রসুল এর হাতেপায়ে গুলি লেগেছিল। আমি ভাটিপাড়ার আরো ২জন পল্লী চিকিৎসককে নিয়ে সকলের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করি। পরে তাদেরকে টেকেরঘাটে
সাবসেক্টর হাসপাতালে পূর্ণ চিকিৎসার জন্য পাঠাই। ঐদিন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের বাবনিয়া গ্রামে পাক হানাদার বাহিনীর প্রায় দেড়শ সৈন্য ঝাপিয়ে পড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর। এসময় কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল মজিদ চৌধুরী মানিকসহ সকলেই নৌকায় বিশ্রামে ঘুমিয়ে ছিলেন।
বিশ্রামরত অধিনায়কসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন মজিদ কোম্পানীর সহ অধিনায়ক দিরাই থানার ভরারগাঁও নিবাসী এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল ও তার সহযোদ্ধা আরশ আলী। এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ্য করে পাক বাহিনী অকস্মাৎ হামলা চালায়। কমান্ডার এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল ও
বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলী দুজনেই তাৎক্ষনিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর মোট ৪ ঘন্টা সম্মুখযুদ্ধ হয়। এক ঘন্টার ব্যবধানে আরো ৫ জন সহযোদ্ধা যোগ দেন তাদের সাহায্যার্থে। ৪ ঘন্টা যুদ্ধের পর শত্রæবাহিনী পলায়ন করে। কিন্তু পলায়নরত পাক বাহিনীর গুলিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলী শহীদ হন যুদ্ধের ময়দানেই। মুখোমুখি যুদ্ধের এক ঘন্টা পরে গুলি শেষ হয়ে গেলে সাতরিয়ে নৌকা থেকে গুলি আনতে গিয়ে বামহাতে গুলিবিদ্ধ হন এসএনএম মাহমুদুর রসুল। উঠার সাথে সাথে বাম হাতে ও পরে ডান পায়েও গুলি লাগে তার। ভাটিপাড়াতে দুজন পল্লী চিকিৎসক ও একজন মেডিকেলের ছাত্র হিসেবে আমি ডাঃ প্রপেসর এম.ইউ কবীর চৌধুরী তাদেরকে প্রাথমিক
চিকিৎসা দেই। পরবর্তীতে টেকেরঘাট সাবসেক্টর কোয়ার্টার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য আমি গুরুতর আহত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে রেফার্ড করি। সেখানে কর্তব্যরত ডাঃ হারিছ উদ্দিন,ডাঃ নজরুল হক ও ডাঃ জালাল উদ্দিন তাদেরকে
চিকিৎসা দেন। এর আগে আরশ আলী ও এস.এন.এম মাহমুদুর রসুলগং তাহিরপুর, বেহেলী, নোয়াগাঁও গ্রামে পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন বলে জানতে পেরেছি। যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলেও আরশ আলীর অসহায় পিতামাতা হারান তাদের
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী পুত্রকে। সন্তান শোকে কাতর পিতামাতা অকালেই মারা যান। ফলে অধিক শোকে কাতর শহীদ আরশ আলীর ২ সহোদর আব্দুল হাশিম ও লাল মিয়া এবং তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ীতে কোনরকমে মানবেতর দিন
কাটান। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীদের রোষানলে পড়ে ঐ শহীদ পরিবারটি আর গ্রামে ঠিকে থাকতে পারেননি। একপর্যায়ে গ্রামের বসতবাড়ী থেকে তাদেরকে জোর করে ভিটেবাড়ী ছাড়া করে প্রতিপক্ষরা। সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলী (গেজেট নং ৮৬/২৮৫৯) ১৯৫২ সালের ১২ মে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম ইদ্রিছ আলী মাতা ময়মানা বিবি। গেজেটে নাম থাকার পরও শহীদ আরশ আলীর পরিবারবর্গরা ভাতা পাচ্ছেনা বিষয়টি জেনে ডাঃ এমইউ কবীর চৌধুরী বলেন, শহীদ পরিবার ভাতা পাচ্ছেনা এটা
অত্যন্ত দু:খজনক। আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ জেলা
প্রশাসককে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। ফাতেমা নগর গ্রামের ডাঃ গোলাম কবির চৌধুরী আমার নামে আরেকজন মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসককেও নিজের জন্মভূমিতে মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হয়েছে। এই লজ্জায় তিনি দেশে আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। এটাও একজন চিকিৎসক সেবকের জন্য
দু:খজনক। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সর্বপ্রথম সংগীত পরিবেশনকারী সিলেট বিভাগের সর্বপ্রথম পালাগানের প্রবক্তা গানের সম্রাট বাউল কামাল পাশা (কামাল উদ্দিন) কে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহবাণ জানান।
উল্লেখ্য অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল কবীর চৌধুরী ১৯৫১ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাই-এর ভাটিপাড়া গ্রামের স¤্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম গোলাম কাদীর চৌধুরী ও মরহুমা রোকেয়া কাদীর চৌধুরীর তৃতীয় সন্তান। তাঁর বাবা প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। অধ্যাপক কবীর চৌধুরী সেরা ছাত্র হিসেবে স্কুলে ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তিসহ এস.এস.সি পাশ ও ১৯৬৮-৬৯ সালে জগন্নাথ কলেজ, ঢাকা থেকে এইচ.এস.সি.-তে ১ম
বিভাগে উত্তীর্ণ ও বোর্ড বৃত্তি লাভ করেন। উক্ত কলেজে পড়াকালীন সময়ে সরাসরি ছাত্রলীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জগন্নাথ কলেজ হল ছাত্র সংসদ ইলেকশনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, ১৯৬৫ সনে তাঁর অগ্রজ ফজলুল কাদীর চৌধুরী বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী কলেজে (তদানিন্তন
কায়েদে আজম কলেজ) ছাত্রলীগ থেকে ছাত্র সংসদের সমাজকল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অধ্যাপক কবীর চৌধুরী ১৯৬৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং উক্ত কলেজে একই ধারায় ছাত্রলীগ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং একজন
কর্মী হিসেবে প্রত্যেকটি দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়াকালীন সময়ে ৬৯ এর গণ আন্দোলন, ১১ দফা ছাত্র আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনের সাথে একাত্বতা ঘোষণার সময় প্রতিটি প্রোগ্রামে তিনি অংশগ্রহণ করেন। আগড়তলা মামলা চলাকালীন সময়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল
কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং সেই সময় সার্জেন্ট জহুরুল হক বন্দি থাকা অবস্থায় ১৫ ফেব্রæয়ারি ৬৯ সালে পাক বাহিনির গুলিতে নিহত হন। রাত ১২টায় উক্ত সংবাদ পাওয়ার পর তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেল থেকে ছাত্রদের একত্রিত করে
প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা হল, ফজলুল হক হল থেকে সকল ছাত্র মিলে শহীদ মিনারে এসে রাত ২ টায় একটি প্রতিবাদ সভায় তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সার্জেন্ট জহুরুল হকের লাশ মর্গে নিয়ে আসা হয় এবং পরবর্তীতে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করার জন্য নেওয়া হয়। উক্ত স্থানে
তিনি উপস্থিত থাকেন এবং তখন উক্ত বীর সেনানীকে কবরে নামানোর জন্য তিনি প্রথমেই কবরে নামেন এবং পরবর্তীতে আরও তিন জন নেমে দাফন কাজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তী পর্যায়ে আগড়তলা মামলা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেওয়ার পর
মহান নেতা যখন শহীদ মিনারে আসেন সেই সভায়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭০ সনে মেডিকেল ছাত্র হিসাবে বর্ষিয়ান জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদ-এর সাথে ভাটিপাড়া গমন করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে তখনকার ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ গঠন এবং ৭০ -এর
নির্বাচনে উক্ত নেতার নির্বাচন প্রচারে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। উক্ত নির্বাচনে জনাব আব্দুস সামাদ আজাদ নিরঙ্কুশ সংগরিষ্ঠতা নিয়ে এম.এন.এ নির্বাচিত হন। ৭০ সনে বঙ্গবন্ধু লাহোর ডাক-এর গোল টেবিল বৈঠক থেকে যখন ঢাকা ফেরেন তখন তিনি তেজগাঁও বিমান বন্দরে হাজার জনতার মধ্যে পি.আই.এ -এর জরুরী গেট দিয়ে বঙ্গবন্ধু বের হওয়ার সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি
উক্ত গাড়িবহরে নেতার সঙ্গে শহীদ মিনারে আসেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের রেসকোর্সের ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক জনসভায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগের বেশকিছু সংখ্যক ছাত্রসহ তিনি সেই সভায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে সব কিছু বন্ধ করার ঘোষণা শুনে তিনি ভাটিপাড়া নিজ গ্রামে গমণ করেন এবং সেখানে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভাটিপাড়া গ্রামের স্কুল কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে দেশ, জাতি এবং বাংলাদেশের
স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ করেন। ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি
সেনাদের বর্বরতার ঘটনা শোনার পর তিনি ২৬শে মার্চ তারিখ ভোরে ভাটিপাড়া গ্রামের ছাত্র জনতাকে নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল ও সভা করেন এবং ঐ রাতেই ভাটিপাড়ায় বাংলাদেশ স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন। যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন পাকিস্তান নৌবাহিনীর সদস্য জনাব আব্দুল মজিদ চৌধুরীর মানিক
মিয়ার নেতৃত্বে ভাটিপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে ভাটিপাড়া হাইস্কুলে একটি অস্থায়ী চলমান ক্যাম্প স্থাপন করা হয় এবং তখনকার চলমান মুক্তিযুদ্ধে এলাকার মেডিকেল স্টুডেন্ট হিসাবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ভার তিনি গ্রহণ করেন। তিনি তখনকার বিপদসংকুল পরিস্থিতিতেও নিজ গ্রামে অবস্থান করেন এবং তাঁর আত্মরক্ষার জন্য তিনি তাঁহার প্রয়াত পিতার
বন্ধুকটি সার্বক্ষণিক সঙ্গে রাখতেন। উক্ত বন্দুকটি নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের একটি অনন্য স্মারক হিসাবে তাঁর কাছে এখনও রক্ষিত আছে। যা মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরে দেওয়ার অভিপ্রায় আছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একজন সিনিয়র মেডিকেল শিক্ষার্থী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে ভাটিপাড়া ইউনিয়ন ও তৎসংলগ্ন এলাকা সম্পূর্ণ দখলদার মুক্ত রাখতে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা
করেন এবং উক্ত ইউনিয়নে প্রবেশের জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দুইটি অপারেশন পরিচালনা করলেও সফলকাম হতে পারেনি। ঐদিন ঝড়ের রাতে তিনি সাতজন গ্রামবাসী নিয়ে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলীর নামাজে জানাজা ও সমাহিত
করার ব্যবস্থা করেন এবং আহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। মেডিকেলের ছাত্র থাকার সুবাদে তিনি ভাটিপাড়া হাইস্কুলে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন পুরো নয় মাস সময় নিয়মিত অসুস্থ ও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দান করেন। ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার পর তাঁর নেতৃত্বে শরণার্থী প্রত্যাবর্তন শিবির স্থাপন করেন এবং এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে যার যার বাড়িতে পুনর্বাসন কাজে সহায়তা করেন। উক্ত
সময়ে মেডিকেল কলেজে ক্লাশ চালু হওয়ার পরও তিনি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য ১৯৭২ সালের ফেব্রæয়ারি মাস পর্যন্ত এলাকাতেই অবস্থান করেন এবং তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এমবিবিএস পরীক্ষায়
উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইন্টার্নি চিকিৎসক হিসাবে দায়িত্বরত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের আহত সদস্যদের জরুরি চিকিৎসা সেবায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রভাষক হিসাবে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি থেকে এক্সিলেন্ট গ্রেডে প্রথম স্থান অর্জন করে চর্ম ও যৌনরোগে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।
অতঃপর গøাসগো রয়েল কলেজ ফেলোশিপ সনদ এবং আমেরিকান কলেজ অব এনজিওলজি থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এ্যাসোসিয়েট ফেলো নির্বাচিত হন। ডা. কবীর চৌধুরী লন্ডনের
সেন্টথমাস হসপিটালে স্কিন প্যাথলজি, আমেরিকার হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে লেজার ও দিল্লির এইমস থেকে স্কিন সার্জারিসহ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কানাডার অটোয়া ইউনিভার্সিটি, আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি মেডিকেল সেন্টার এবং কলকাতার রিতা স্কিন ফাউন্ডেশনে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে পাঠদান করেন। বর্তমানে তিনি এম.এইচ. শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও, সিটি ইউনিভার্সিটির গভর্নিং বডির সম্মানিত সদস্য পদে অধিষ্ঠিত আছেন। ডা. কবীর চৌধুরী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ভিজিটিং প্রফেসর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিভাগে উত্তীর্ণ ও বোর্ড বৃত্তি লাভ করেন। উক্ত কলেজে পড়াকালীন সময়ে সরাসরি ছাত্রলীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জগন্নাথ কলেজ হল ছাত্র সংসদ ইলেকশনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, ১৯৬৫ সনে তাঁর অগ্রজ ফজলুল কাদীর চৌধুরী বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী কলেজে (তদানিন্তন
কায়েদে আজম কলেজ) ছাত্রলীগ থেকে ছাত্র সংসদের সমাজকল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অধ্যাপক কবীর চৌধুরী ১৯৬৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং উক্ত কলেজে একই ধারায় ছাত্রলীগ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং একজন
কর্মী হিসেবে প্রত্যেকটি দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়াকালীন সময়ে ৬৯ এর গণ আন্দোলন, ১১ দফা ছাত্র আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনের সাথে একাত্বতা ঘোষণার সময় প্রতিটি প্রোগ্রামে তিনি অংশগ্রহণ করেন। আগড়তলা মামলা চলাকালীন সময়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল
কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং সেই সময় সার্জেন্ট জহুরুল হক বন্দি থাকা অবস্থায় ১৫ ফেব্রæয়ারি ৬৯ সালে পাক বাহিনির গুলিতে নিহত হন। রাত ১২টায় উক্ত সংবাদ পাওয়ার পর তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেল থেকে ছাত্রদের একত্রিত করে
প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা হল, ফজলুল হক হল থেকে সকল ছাত্র মিলে শহীদ মিনারে এসে রাত ২ টায় একটি প্রতিবাদ সভায় তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সার্জেন্ট জহুরুল হকের লাশ মর্গে নিয়ে আসা হয় এবং পরবর্তীতে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করার জন্য নেওয়া হয়। উক্ত স্থানে
তিনি উপস্থিত থাকেন এবং তখন উক্ত বীর সেনানীকে কবরে নামানোর জন্য তিনি প্রথমেই কবরে নামেন এবং পরবর্তীতে আরও তিন জন নেমে দাফন কাজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তী পর্যায়ে আগড়তলা মামলা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেওয়ার পর
মহান নেতা যখন শহীদ মিনারে আসেন সেই সভায়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭০ সনে মেডিকেল ছাত্র হিসাবে বর্ষিয়ান জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদ-এর সাথে ভাটিপাড়া গমন করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে তখনকার ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ গঠন এবং ৭০ -এর
নির্বাচনে উক্ত নেতার নির্বাচন প্রচারে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। উক্ত নির্বাচনে জনাব আব্দুস সামাদ আজাদ নিরঙ্কুশ সংগরিষ্ঠতা নিয়ে এম.এন.এ নির্বাচিত হন। ৭০ সনে বঙ্গবন্ধু লাহোর ডাক-এর গোল টেবিল বৈঠক থেকে যখন ঢাকা ফেরেন তখন তিনি তেজগাঁও বিমান বন্দরে হাজার জনতার মধ্যে পি.আই.এ -এর জরুরী গেট দিয়ে বঙ্গবন্ধু বের হওয়ার সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি
উক্ত গাড়িবহরে নেতার সঙ্গে শহীদ মিনারে আসেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের রেসকোর্সের ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক জনসভায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগের বেশকিছু সংখ্যক ছাত্রসহ তিনি সেই সভায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে সব কিছু বন্ধ করার ঘোষণা শুনে তিনি ভাটিপাড়া নিজ গ্রামে গমণ করেন এবং সেখানে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভাটিপাড়া গ্রামের স্কুল কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে দেশ, জাতি এবং বাংলাদেশের
স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ করেন। ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি
সেনাদের বর্বরতার ঘটনা শোনার পর তিনি ২৬শে মার্চ তারিখ ভোরে ভাটিপাড়া গ্রামের ছাত্র জনতাকে নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল ও সভা করেন এবং ঐ রাতেই ভাটিপাড়ায় বাংলাদেশ স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন। যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন পাকিস্তান নৌবাহিনীর সদস্য জনাব আব্দুল মজিদ চৌধুরীর মানিক
মিয়ার নেতৃত্বে ভাটিপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে ভাটিপাড়া হাইস্কুলে একটি অস্থায়ী চলমান ক্যাম্প স্থাপন করা হয় এবং তখনকার চলমান মুক্তিযুদ্ধে এলাকার মেডিকেল স্টুডেন্ট হিসাবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ভার তিনি গ্রহণ করেন। তিনি তখনকার বিপদসংকুল পরিস্থিতিতেও নিজ গ্রামে অবস্থান করেন এবং তাঁর আত্মরক্ষার জন্য তিনি তাঁহার প্রয়াত পিতার
বন্ধুকটি সার্বক্ষণিক সঙ্গে রাখতেন। উক্ত বন্দুকটি নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের একটি অনন্য স্মারক হিসাবে তাঁর কাছে এখনও রক্ষিত আছে। যা মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরে দেওয়ার অভিপ্রায় আছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একজন সিনিয়র মেডিকেল শিক্ষার্থী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে ভাটিপাড়া ইউনিয়ন ও তৎসংলগ্ন এলাকা সম্পূর্ণ দখলদার মুক্ত রাখতে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা
করেন এবং উক্ত ইউনিয়নে প্রবেশের জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দুইটি অপারেশন পরিচালনা করলেও সফলকাম হতে পারেনি। ঐদিন ঝড়ের রাতে তিনি সাতজন গ্রামবাসী নিয়ে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলীর নামাজে জানাজা ও সমাহিত
করার ব্যবস্থা করেন এবং আহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। মেডিকেলের ছাত্র থাকার সুবাদে তিনি ভাটিপাড়া হাইস্কুলে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন পুরো নয় মাস সময় নিয়মিত অসুস্থ ও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দান করেন। ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার পর তাঁর নেতৃত্বে শরণার্থী প্রত্যাবর্তন শিবির স্থাপন করেন এবং এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে যার যার বাড়িতে পুনর্বাসন কাজে সহায়তা করেন। উক্ত
সময়ে মেডিকেল কলেজে ক্লাশ চালু হওয়ার পরও তিনি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য ১৯৭২ সালের ফেব্রæয়ারি মাস পর্যন্ত এলাকাতেই অবস্থান করেন এবং তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এমবিবিএস পরীক্ষায়
উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইন্টার্নি চিকিৎসক হিসাবে দায়িত্বরত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের আহত সদস্যদের জরুরি চিকিৎসা সেবায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রভাষক হিসাবে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি থেকে এক্সিলেন্ট গ্রেডে প্রথম স্থান অর্জন করে চর্ম ও যৌনরোগে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।
অতঃপর গøাসগো রয়েল কলেজ ফেলোশিপ সনদ এবং আমেরিকান কলেজ অব এনজিওলজি থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এ্যাসোসিয়েট ফেলো নির্বাচিত হন। ডা. কবীর চৌধুরী লন্ডনের
সেন্টথমাস হসপিটালে স্কিন প্যাথলজি, আমেরিকার হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে লেজার ও দিল্লির এইমস থেকে স্কিন সার্জারিসহ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কানাডার অটোয়া ইউনিভার্সিটি, আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি মেডিকেল সেন্টার এবং কলকাতার রিতা স্কিন ফাউন্ডেশনে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে পাঠদান করেন। বর্তমানে তিনি এম.এইচ. শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও, সিটি ইউনিভার্সিটির গভর্নিং বডির সম্মানিত সদস্য পদে অধিষ্ঠিত আছেন। ডা. কবীর চৌধুরী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ভিজিটিং প্রফেসর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, তিনি ২০০৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র চিকিৎসক হিসাবে কানাডার অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যোগদান করেন, যা ছিল এক বিরল
সম্মানের বিষয়। তিনি সারা বিশ্বে বিভিন্ন চর্মরোগ সম্মেলনে গবেষণামূলক প্রবন্ধ পাঠ করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি সিনোপসিস অব ডার্মাটোসার্জারী ও কবীর’স ডার্মাটোলজী ইন প্র্যাকটিস নামক দুইটি চিকিৎসা শাস্ত্রের বইয়ের লেখক এবং আন্তর্জাতিক ডাক্তারি পুস্তক এ ট্রিটাইজ অন টপিক্যাল করটিকসটেরইডস ইন ডার্মাটোলজী -এর সহযোগী লেখকসহ
অনেক প্রসিদ্ধ গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি সারাবিশ্বে বিভিন্ন সম্মেলনে
চর্মরোগের ওপর গবেষণামূলক প্রবন্ধপাঠ করেন। তিনি কসমেটিক ডার্মাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ -এর সভাপতি, আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি ও ইউরোপিয়ান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি -এর নিয়মিত সদস্য। ডা.
কবীর চৌধুরী দেশে-বিদেশে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে গেস্ট প্রফেসর হিসাবে বিনা সম্মানিতে নিয়মিত শিক্ষা প্রদান করে আসছেন। তিনি রোগীদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন চ্যানেলে সরাসরি প্রশ্নোত্তরসহ নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন। তাছাড়া বিভিন্ন দৈনিক
পত্রিকায় এবং সাময়িকিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রবন্ধ লিখে আসছেন। তিনি অসহায় রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে এম. এইচ. শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ -এ ফ্রি ভর্তির সুযোগ করে কোনো খরচ ছাড়াই চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন। তিনি ব্যক্তিগত চেম্বারে আগত গরীব রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধাপ্রদান সহ সকল প্রকার ঔষধ প্রদান করে আসছেন। তিনি বৃক্ষমানব খ্যাত আবুল বাজানদারসহ জটিলরোগের সফল চিকিৎসা করে বিশ্বখ্যাতি অর্জন করেন এবং তিনি উক্ত রোগীকে জমি দান করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদে অনুদান ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করছেন। তিনি ভাটিপাড়া গ্রামের প্রাইমারি ও হাই স্কুলে পিএসসি, জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতা করেন। তিনি ভাটিপাড়া ইউনিয়ন কাউন্সিলের অফিস এবং
পোস্ট অফিস করার জন্য জমি কিনে বাংলাদেশ সরকারকে হস্তান্তর করেন। তিনি গত ৪৯ বছর যাবত চিকিৎসা সেবার সাথে জড়িত থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রে এক অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। তিনি ওয়ান ইলেভেনের সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তখনকার অন্তরিন অবস্থায় তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অন্যতম সদস্য হিসেবে চিকিৎসা প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে, বর্তমানেও তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যার জনক। বর্তমানে তাঁর জৈষ্ঠ কন্যা ডা. মেহনাজ কবীর একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। সর্বোপরি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ উবায়দুল কবীর চৌধুরী চিকিৎসা শাস্ত্রে যে অসাধারণ অবদান রেখেছেন তা সর্বজন স্বীকৃত। তাঁকে চর্মরোগ
চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃত স্বরুপ বেস্ট ডার্মাটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ ২০০৩, চর্মরোগ এবং কসমেটোলজী চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃত স্বরুপ বেস্ট ডার্মাটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ ২০১০ প্রদান করার পাশাপাশি তাঁকে সিলেটের কৃতি সন্তান হিসাবে সিলেট রতœ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সর্বশেষ চিকিৎসাবিদ্যা ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক ডা. মো.
উবায়দুল কবীর চৌধুরীকে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২০-এর জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন করা হয় এবং গত ২৯ অক্টোবর ২০২০ইং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক এর মাধ্যমে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। রোববার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন হলে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় ভাষন দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভিতে।
সম্মানের বিষয়। তিনি সারা বিশ্বে বিভিন্ন চর্মরোগ সম্মেলনে গবেষণামূলক প্রবন্ধ পাঠ করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি সিনোপসিস অব ডার্মাটোসার্জারী ও কবীর’স ডার্মাটোলজী ইন প্র্যাকটিস নামক দুইটি চিকিৎসা শাস্ত্রের বইয়ের লেখক এবং আন্তর্জাতিক ডাক্তারি পুস্তক এ ট্রিটাইজ অন টপিক্যাল করটিকসটেরইডস ইন ডার্মাটোলজী -এর সহযোগী লেখকসহ
অনেক প্রসিদ্ধ গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি সারাবিশ্বে বিভিন্ন সম্মেলনে
চর্মরোগের ওপর গবেষণামূলক প্রবন্ধপাঠ করেন। তিনি কসমেটিক ডার্মাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ -এর সভাপতি, আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি ও ইউরোপিয়ান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি -এর নিয়মিত সদস্য। ডা.
কবীর চৌধুরী দেশে-বিদেশে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে গেস্ট প্রফেসর হিসাবে বিনা সম্মানিতে নিয়মিত শিক্ষা প্রদান করে আসছেন। তিনি রোগীদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন চ্যানেলে সরাসরি প্রশ্নোত্তরসহ নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন। তাছাড়া বিভিন্ন দৈনিক
পত্রিকায় এবং সাময়িকিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রবন্ধ লিখে আসছেন। তিনি অসহায় রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে এম. এইচ. শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ -এ ফ্রি ভর্তির সুযোগ করে কোনো খরচ ছাড়াই চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন। তিনি ব্যক্তিগত চেম্বারে আগত গরীব রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধাপ্রদান সহ সকল প্রকার ঔষধ প্রদান করে আসছেন। তিনি বৃক্ষমানব খ্যাত আবুল বাজানদারসহ জটিলরোগের সফল চিকিৎসা করে বিশ্বখ্যাতি অর্জন করেন এবং তিনি উক্ত রোগীকে জমি দান করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদে অনুদান ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করছেন। তিনি ভাটিপাড়া গ্রামের প্রাইমারি ও হাই স্কুলে পিএসসি, জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতা করেন। তিনি ভাটিপাড়া ইউনিয়ন কাউন্সিলের অফিস এবং
পোস্ট অফিস করার জন্য জমি কিনে বাংলাদেশ সরকারকে হস্তান্তর করেন। তিনি গত ৪৯ বছর যাবত চিকিৎসা সেবার সাথে জড়িত থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রে এক অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। তিনি ওয়ান ইলেভেনের সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তখনকার অন্তরিন অবস্থায় তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অন্যতম সদস্য হিসেবে চিকিৎসা প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে, বর্তমানেও তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যার জনক। বর্তমানে তাঁর জৈষ্ঠ কন্যা ডা. মেহনাজ কবীর একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। সর্বোপরি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ উবায়দুল কবীর চৌধুরী চিকিৎসা শাস্ত্রে যে অসাধারণ অবদান রেখেছেন তা সর্বজন স্বীকৃত। তাঁকে চর্মরোগ
চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃত স্বরুপ বেস্ট ডার্মাটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ ২০০৩, চর্মরোগ এবং কসমেটোলজী চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃত স্বরুপ বেস্ট ডার্মাটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ ২০১০ প্রদান করার পাশাপাশি তাঁকে সিলেটের কৃতি সন্তান হিসাবে সিলেট রতœ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সর্বশেষ চিকিৎসাবিদ্যা ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক ডা. মো.
উবায়দুল কবীর চৌধুরীকে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২০-এর জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন করা হয় এবং গত ২৯ অক্টোবর ২০২০ইং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক এর মাধ্যমে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। রোববার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন হলে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় ভাষন দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভিতে।







-
Last Update
















