০৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে লন্ডন প্রবাসী ড্রেন দখলে ৪০ পরিবার ভোগান্তিতে

  • Update Time : ০৪:১৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০১৯
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি লোকজনের যাতায়াতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণ করে পৌরসভা। অথচ সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘরের দাশপাড়া এলাকায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে পৌরসভার ড্রেন দখলের পাশাপাশি স্থানীয়দের চলাচলের পথ বন্ধ করে রেখেছেন এক লন্ডন প্রবাসী। এতে ভোগান্তি পড়েছেন ওই এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবারের লোকজন।

সরেজমিনে রোববার দাশপাড়া এলাকায় গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লন্ডন প্রবাসী মানিক মিয়া দাপট দেখিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে পৌরসভার ড্রেন দখল করেছেন। এতে জনসাধারণের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে ভুক্তভোগীরা বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে অনেক কষ্টে যাতায়াত করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, লন্ডন প্রবাসী মানিক মিয়া ড্রেন দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে আমরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছি। যে সময় দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছিল সে সময় এই ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন ফারুক আহমেদ। তাকে অনেকবার বলা হলেও তিনি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এখন আমরা পৌরসভার মেয়রের কাছে আমরা বার বার ধর্না দিচ্ছি অবৈধ দেয়ালটি ভেঙে ফেলার জন্য। আমরা চাই আমাদের এলাকাবাসীর সুবিধার্থে দেয়ালটি যেন শীঘ্রই ভেঙে ফেলা হয়।

তুহিন মিয়া বলেন, ড্রেনটা পৌরসভার। ড্রেন পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলের উদ্দেশ্যেও তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু প্রবাসী মানিক মিয়া তার দাপট দেখিয়ে ড্রেন দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। তাকে অনেকবার বলা হলেও তিনি আমাদের কথা শুনেননি।

সোনালী বেগম বলেন, ড্রেন তৈরির সময় আমরা এলাকাবাসী আমাদের সকলের প্রয়োজনেই নিজেদের জায়গা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখানে ড্রেন তৈরির পর আমাদের এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবারের মানুষের সহজ যাতায়াতের রাস্তা তৈরি হয়। কিন্তু মানিক মিয়া ড্রেনের উপর দেয়াল তুলে দিয়ে আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন।

এলাকার বাসিন্দা মিঠু দাশ বলেন, পৌরসভার ড্রেন দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এলাকাবাসী ভোগান্তির মধ্যে আছি। আমরা এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই। সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের কাছে আমাদের দাবি- ওই অবৈধ প্রাচীর ভেঙে ফেলে আমাদের চলাচলের পথ নির্বিঘœ করা হোক।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরো বলেন, ড্রেনের ওপর নির্মিত প্রাচীরটি অপসারণের জন্য আমরা বার বার পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছি। কিছুদিন আগেও আমরা এলাকাবাসী পৌর মেয়র নাদের বখতের কাছে প্রাচীরটি ভেঙে ফেলার জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু মেয়র নাদের বখত কার স্বার্থে প্রাচীরটি টিকিয়ে রেখেছেন -এটি এলাকাবাসীর প্রশ্ন। জনবান্ধব পৌরসভা গড়তে হলে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে জনদাবিকে প্রাধান্য দিতে হবে। পৌরসভার ড্রেন দখল করে গড়ে তোলা প্রাচীর যদি শীঘ্রই ভেঙে ফেলা না হয় তাহলে আমরা এলাকাবাসী কঠোর আন্দোলনে নামবো।

প্রবাসী মানিক মিয়া লন্ডনে থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার ভাই ছুরত মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, পৌরসভার অনুমতি নিয়েই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর সুজাতা রাণী রায় বলেন, এই ড্রেন যখন তৈরি হয় তখনও আমি কাউন্সিলরের দায়িত্বে ছিলাম। আমরা অনেকবার প্রবাসী মানিক মিয়াকে ড্রেনের ওপর দেয়াল তৈরি না করার জন্য বলেছি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শুনেননি। এনিয়ে ওই সময় পৌরসভায় সালিশ হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী ড্রেনের রাস্তা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা যায় না। পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলের উদ্দেশ্যেই ড্রেন নির্মাণ করে থাকে পৌরসভা। মানিক মিয়া যা করেছেন তা অনৈতিক, অবৈধ।

এ বিষয়ে জানতে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত-এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে, জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ড্রেনের ওপর নির্মিত প্রাচীর ভেঙে ফেলার জন্য সম্প্রতি সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বরাবর আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী। আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন লে. কর্নেল (অব.) ডা. মো. মকব্বীর আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ছালিক আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, বিজন সেন রায়, শিউলী কবীর, মামুন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবীর শাহীনুর, পৌর কাউন্সিলর সুজাতা রাণী রায়, জ্যোতিভূষণ তালুকদার, অনন্ত সেন, সন্তোষ চন্দ্র দাস, শ্যামল রায়, আব্দুল লতিফ, আব্দুল শরীফ, আলম, দিপু দাস, তুহিন মিয়া, ফাহিম আহমেদ, আবুল বাশার, আবুল কালাম, মালেক, সাইফুল, তাহের মিয়া, মুকিত, আ. মমিন, আব্দুল মালিক, আনোয়ার মিয়া, এনামুল হক জুবের, মো. আব্দুল মতিন, মান্না দাস, অ্যাড. অঞ্জন ভৌমিক, বিদ্যুৎ রায়, মিঠুন দাস, মো. মুহিবুর রহমান, মো. রুমেন আহমদ, রাজন দাস, সজল নন্দী প্রমুখ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সুনামগঞ্জে লন্ডন প্রবাসী ড্রেন দখলে ৪০ পরিবার ভোগান্তিতে

Update Time : ০৪:১৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :: পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি লোকজনের যাতায়াতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণ করে পৌরসভা। অথচ সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘরের দাশপাড়া এলাকায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে পৌরসভার ড্রেন দখলের পাশাপাশি স্থানীয়দের চলাচলের পথ বন্ধ করে রেখেছেন এক লন্ডন প্রবাসী। এতে ভোগান্তি পড়েছেন ওই এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবারের লোকজন।

সরেজমিনে রোববার দাশপাড়া এলাকায় গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লন্ডন প্রবাসী মানিক মিয়া দাপট দেখিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে পৌরসভার ড্রেন দখল করেছেন। এতে জনসাধারণের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে ভুক্তভোগীরা বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে অনেক কষ্টে যাতায়াত করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, লন্ডন প্রবাসী মানিক মিয়া ড্রেন দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে আমরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছি। যে সময় দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছিল সে সময় এই ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন ফারুক আহমেদ। তাকে অনেকবার বলা হলেও তিনি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এখন আমরা পৌরসভার মেয়রের কাছে আমরা বার বার ধর্না দিচ্ছি অবৈধ দেয়ালটি ভেঙে ফেলার জন্য। আমরা চাই আমাদের এলাকাবাসীর সুবিধার্থে দেয়ালটি যেন শীঘ্রই ভেঙে ফেলা হয়।

তুহিন মিয়া বলেন, ড্রেনটা পৌরসভার। ড্রেন পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলের উদ্দেশ্যেও তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু প্রবাসী মানিক মিয়া তার দাপট দেখিয়ে ড্রেন দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। তাকে অনেকবার বলা হলেও তিনি আমাদের কথা শুনেননি।

সোনালী বেগম বলেন, ড্রেন তৈরির সময় আমরা এলাকাবাসী আমাদের সকলের প্রয়োজনেই নিজেদের জায়গা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখানে ড্রেন তৈরির পর আমাদের এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবারের মানুষের সহজ যাতায়াতের রাস্তা তৈরি হয়। কিন্তু মানিক মিয়া ড্রেনের উপর দেয়াল তুলে দিয়ে আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন।

এলাকার বাসিন্দা মিঠু দাশ বলেন, পৌরসভার ড্রেন দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এলাকাবাসী ভোগান্তির মধ্যে আছি। আমরা এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই। সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের কাছে আমাদের দাবি- ওই অবৈধ প্রাচীর ভেঙে ফেলে আমাদের চলাচলের পথ নির্বিঘœ করা হোক।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরো বলেন, ড্রেনের ওপর নির্মিত প্রাচীরটি অপসারণের জন্য আমরা বার বার পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছি। কিছুদিন আগেও আমরা এলাকাবাসী পৌর মেয়র নাদের বখতের কাছে প্রাচীরটি ভেঙে ফেলার জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু মেয়র নাদের বখত কার স্বার্থে প্রাচীরটি টিকিয়ে রেখেছেন -এটি এলাকাবাসীর প্রশ্ন। জনবান্ধব পৌরসভা গড়তে হলে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে জনদাবিকে প্রাধান্য দিতে হবে। পৌরসভার ড্রেন দখল করে গড়ে তোলা প্রাচীর যদি শীঘ্রই ভেঙে ফেলা না হয় তাহলে আমরা এলাকাবাসী কঠোর আন্দোলনে নামবো।

প্রবাসী মানিক মিয়া লন্ডনে থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার ভাই ছুরত মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, পৌরসভার অনুমতি নিয়েই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর সুজাতা রাণী রায় বলেন, এই ড্রেন যখন তৈরি হয় তখনও আমি কাউন্সিলরের দায়িত্বে ছিলাম। আমরা অনেকবার প্রবাসী মানিক মিয়াকে ড্রেনের ওপর দেয়াল তৈরি না করার জন্য বলেছি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শুনেননি। এনিয়ে ওই সময় পৌরসভায় সালিশ হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী ড্রেনের রাস্তা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা যায় না। পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলের উদ্দেশ্যেই ড্রেন নির্মাণ করে থাকে পৌরসভা। মানিক মিয়া যা করেছেন তা অনৈতিক, অবৈধ।

এ বিষয়ে জানতে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত-এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে, জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ড্রেনের ওপর নির্মিত প্রাচীর ভেঙে ফেলার জন্য সম্প্রতি সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বরাবর আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী। আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন লে. কর্নেল (অব.) ডা. মো. মকব্বীর আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ছালিক আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, বিজন সেন রায়, শিউলী কবীর, মামুন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবীর শাহীনুর, পৌর কাউন্সিলর সুজাতা রাণী রায়, জ্যোতিভূষণ তালুকদার, অনন্ত সেন, সন্তোষ চন্দ্র দাস, শ্যামল রায়, আব্দুল লতিফ, আব্দুল শরীফ, আলম, দিপু দাস, তুহিন মিয়া, ফাহিম আহমেদ, আবুল বাশার, আবুল কালাম, মালেক, সাইফুল, তাহের মিয়া, মুকিত, আ. মমিন, আব্দুল মালিক, আনোয়ার মিয়া, এনামুল হক জুবের, মো. আব্দুল মতিন, মান্না দাস, অ্যাড. অঞ্জন ভৌমিক, বিদ্যুৎ রায়, মিঠুন দাস, মো. মুহিবুর রহমান, মো. রুমেন আহমদ, রাজন দাস, সজল নন্দী প্রমুখ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ