সুনামগঞ্জে প্রথমবারের মতো ৬ দিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন
- Update Time : ০৪:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
বিশেষ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগার মিলনায়তনে ছয় দিনব্যাপী বইমেলা’ শুরু হয়েছে। বুধবার বিকাল চারটায় প্রথমা প্রকাশন ও বেঙ্গল পাবলিকেশনসের যৌথ আয়োজন বইমেলার উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাজালা পারভিন রুহি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জের প্রবীন আইনজীবী ও লেখক হোসেন তওফিক চৌধুরী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ, অধ্যাপক চিত্ত রঞ্জন তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদক বিজন সেন রায়, কবি কুমার সৌরভ, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক পঙ্কজ কান্তি দে, জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরি ভট্টাচার্য, মুক্তিযোদ্ধা মালেক হোসেন পীর, সৃজন বিদ্যাপীঠের উপাধ্যক্ষ কানিজ সুলতানা, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাজালা পারভিন রুহি, জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী, জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক বিন্দু তালুকদার, আকরাম উদ্দিন ও এ আর জুয়েল, শিক্ষক রুহুল আমিন, প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রিংকু চৌধুরী, প্রথমা প্রকাশনের ডেপুটি ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক অ্যাডভোকেট খলিল রহমান।
বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জের মতো একটি প্রান্তিক জেলায় এ রকম একটি বইমেলার আয়োজন এই জেলার পাঠকদের জন্য সুখবর বলতে হবে। আলোকিত ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে বই পাঠ আবশ্যক। বই আমাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। আমাদের সমাজে এখন যে অবক্ষয়, নানা অস্থিরতা এর কারণ হলো আমরা বই থেকে দূরে সরে গেছি। বই পাঠের কোনো বয়স নেই। সব মানুষই বই পাঠে আনন্দ পান। কিন্তু এর জন্য অভ্যাস লাগে। বক্তরা সুনামগঞ্জে বইমেলা আয়াজনের জন্য প্রথমা প্রকাশন ও বেঙ্গল পাবলিকেশনসকে ধন্যবাদ জানান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, সৈয়দ মোজতবা আলী বলেছিলেন বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না। এখন আমরা ভাবি, বই কিনলে দেউলিয়া হয়ে যাব। আমাদের দুঃখ নতুন প্রজন্ম বই পড়ে না। তারা ইন্টানেটের দুনিয়ায় ডুবে আছে। এ কারণে নানা সামাজিক অব্যক্ষয় তাদের গ্রাস করছে। নতুন প্রজন্মকে বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনতে হবে। বই পড়ার যে আনন্দ সেটা তাদের বোঝাতে হবে। একটি আলোকিত প্রজন্ম গঠনের স্বার্থেই এটা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, সুনামগঞ্জের মতো একটি জেলায় দেশসেরা দুটি প্রতিষ্ঠান বই মেলার আয়োজন করেছে। তারা শুধু বই বিক্রির জন্য এটা করছেন, এমনটা আমি বিশ্বাস করি না। আমার মনে হয় এটা একটা সেবা। সেবার মানসিকতা থেকেই এই মেলার আয়োজন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, মেলা প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত (ছুটির দিনসহ) চলবে। মেলায় প্রথমা প্রকাশন, বেঙ্গল পাবলিকেশনসের বই ও দেশি-বিদেশি বই বিশেষ মূল্যছাড়ে বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া মেলায় একুশে বইমেলার নতুন বই পাওয়া যাবে। মেলায় প্রথমা প্রকাশনের বই ৩০ থেকে ৬০ভাগ ছাড়ে, বেঙ্গল পাবলিকেশনসের বই ২৫ থেকে ৫০ভাগ ছাড়ে এবং অন্যান্য প্রকাশনীর বই ২৫ভাগ ছাড়ে বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া ভারতীয় বই বিক্রির ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় রয়েছে।



















